রাষ্ট্রের হৃৎপিন্ড//

ন্যানো সেকেন্ড হাতে পেয়ে তুই থমকে গেলি!
তোর চোখের সামনে এসে দাঁড়ালো
তোর গোপন রাখা প্রিয়তমার কাঠামো।

দুর্দান্ত বক্তৃতার মাঝখানে
আচমকা বুকের বা’পাশ স্পন্দন পরে গেলো ট্রাফিকের বাঁশির লাল সিগনাল!
মঞ্চে উপবিষ্ট সভার প্রধান অতিথি তোকে দেখে ভড়কে গেলেন, চোখে তোর জোনাক জ্বলছে।

ডায়াসে পরে থাকা স্ক্রিপ্টের বানান গুলো আচমকা নেচে বেড়াচ্ছে প্রজাপতির পাখায় ভর করে।
তোর সামনে তোর গোপন প্রিয়তমা এসে দাঁড়িয়েছে তোকে সাহসী দেখতে।
অথচ তুই ভুলে গেলি- বক্তৃতার শ্লোক।

প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলি;
ক্ষুধা, জরা, অধিকার ছিনিয়ে এনে দিবি।
তোর অবসাদ তুই ফেরি করিস না কারো দুয়ারে।
রাত্রির অন্ধকারে শুকাতে দিস কাপড় ঝোলানো রশিতে দুঃখের রুমাল।

শূন্য বিছানায় ঝরতেই থাকে তোর হৃৎপিণ্ডের তাজা লাল রক্ত।
তোর কাছে সময়ের কাছে নিজেই হয়ে উঠিস এক ব্যর্থ প্রেমিক।
বুক কাঁদে তোর না খেতে পাওয়া পেটের কান্নার শব্দে!

পকেটের কপর্দক খালি করে দিস যখন তখন-
তবু তোকে অজ্ঞ ভেবে অন্ধকার নিয়েছে মুখ ফিরিয়ে।
আগুনপোকা তোকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় রাত্রিদিন।
মুষ্ঠিতে বজ্র রেখে সোচ্চার হোস আক্রোশে-আপনমনে;

ন্যানো সেকেন্ড হাতে পেলে
তুই ভুলে যাস কেউ তোর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে- কবে তুই সেঁটে দিবি রাষ্ট্রের দেয়ালে ভালবাসার পোস্টার।

মোট পড়েছেনঃ ১,০৫৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৩টি মন্তব্য

  1. অক্ষম রাষ্ট্রের ব্যর্থতা গুলো দেখিয়ে দিয়েছো তার চোখে আঙুল দিয়ে, উহু আসলে চোখে নয় খামছে ধরেছো নির্লিপ্ত রাষ্ট্রের হৃৎপিণ্ডটা!

    অসাধারণ লিখেছো বন্যা। এমন ভিন্ন ধারার লেখা আমি তোমার লেখনীতে এই প্রথম পেলাম। এই লেখায় বিস্তারিত কমেন্ট দিতে আমার অক্ষমতা প্রকাশ করছি।

    শুনেছি কিছু লেখা পড়লে মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়,
    এটা তোমার তেমনই এক কবিতা 🙂

    ভালো থেকো নিরন্তর ভালোবাসায় ❤❤❤❤

    1. কখনো কখনো আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে কতশত মানুষের সাথে পরিচয় হয়, সেখান থেকেও যোগাড় হয়েই যায় বিচিত্রানুভূতি। এ লেখা তেমনই বিচিত্রানুভূতির ফসল।
      লেখাটা লিখেছি বেশকিছুদিন আগে। তোমার মন্তব্যে আমি উজ্জিবিত হলেম।
      ভালবাসা নিরন্তর❤❤❤

    1. আমি কখনোই কবি হতে চাইনা ভাই। আমার লেখা কবিতার পর্যায়ে পরে কিনা তাও জানিনা। লেখাগুলো আপনাদের ভালো লাগে বলে লিখতে উৎসাহ পাই।
      আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন।

  2. জীবনের কোন মুল্য নেই, একসেকেন্ডেই কত কিছু হতে পারে!

    আসলে কত কত পরিকল্পনা করে রাখি আমরা, কত আশা, কত উচ্ছ্বাস কিন্তু কই? কতজনারই পূরণ হয় সেসব। গুনী মানুষকে চিনতে না পারার বেদনায় কত মানুষ নীভৃতে কুঁড়ে কুঁড়ে মরছে নীরবেই তার খবর আমরা জানিই না হয়তো।

    আপনার আরো একটি চমৎকার লেখা পড়লাম। শুভকামনা রইলো আপু।

    1. আমরা দায়িত্বে থেকেও দায়িত্বের বোঝা বহন করতে পারিনা নানা প্রতিবন্ধকতায়।হৃৎপিন্ডে রক্তক্ষরন হয় নিয়তঃ। সময় বয়ে যায় সময়ের গতিতে।
      আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত।
      ভালো থাকবেন সবসময়।

  3. আপু অসংখ্য ধন্যবাদ এমন একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য। দেশ, রাষ্ট্রের অসুস্থতা, ব্যর্থতা এমন ভাবে তুলে ধরলেন যার কোন জবাব নেই। হৃৎপিণ্ডের বারোটা বেজে গেল আপনার কথার ধারে। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

    1. আহ্……ছোটদি আপনার মন্তব্যে আমার হৃদপিন্ডে বাতাস বয়ে গেলো।
      আপনার হৃদয়ে বারোটা বেজে গেলো😊??
      খুব উৎসাহ পেলাম, মনে হচ্ছে লেখাটা সার্থক!
      ভালবাসা ছোটদি💚💚

  4. মানুষের মুল্যটাই যেন
    সামান্য করোনায় পর্যুদস্থ।
    রাস্ট্র নামক বিকল যন্ত্র হয়
    রাস্ট্রের প্রাণ মানুষ গুলোর মুল্যহীন অনুভুতি থেকে।
    ভাল লাগলো আপু। শুভ কামনা।

    1. করোনায় করনীয় হাতগুলোগে পঙ্গু করে রেখেছে দাদা। রাষ্ট্র, রাষ্ট্র নায়ক থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মী সব আজ বেঠিক সিদ্ধান্তে জবুথবু।
      তবু সুদিনের আশায় চেয়ে থাকি নিরন্তর।
      ভালো থাকুন সবসময়।

  5. রাস্ট্র যন্ত্রের যদি বোধ থাকত তবে এমন আক্ষেপময় কবিতা লিখতে হতো না। আমাদের সবার বোধ জাগ্রত হোক।

    কবিতাটি একটু নয়, অনেক বেশিই ভালো লেগেছে।
    শুভ কামনা।

    1. অসহনীয় হয়ে উঠছে চারদিক ক্রমশঃ। সামনে আরো কি কি আছে আল্লাহই জানেন ভালো। আমাদের বোধ জাগ্রত হোক।
      ভালো থাকবেন। নিরাপদে থাকবেন সাবধানে থাকবেন সবসময়।

    1. নতুন প্রজন্মের ধারকবাহক যখন নিতে চায় দায় সংস্কারের, তখন তাঁরাও হোঁচট খায় অগোছালো নিয়মের জঞ্জালে। একজন তৃণমূল যুবার কথা ভাবুন তো! লেখাটাতে তেমন কাউকে খুঁজলে দোষের কিছু আছে বলে মনে হয় না।

  6. এ যাবৎ কালের লেখার মধ্যে এ লেখাটিকে সেরা লেখা মানছি।
    পাঠক এর থেকে কম আর নিতে রাজি হবে বলে মনে করছি না, এর পর থেকে ।

    বনাম কিন্তু ঠিক করে দিছি !

    1. পাঠকের কথা মাথায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চলবে নিজ দায়িত্বে।
      অধিকার প্রয়োগ করবো বারবার। মনে রাখতেই হবে।( ওই বানামের ব্যাপারে বলছিলাম আর কি!)
      অশেষ কৃতজ্ঞতা।

  7. পকেটের কপর্দক খালি করে দিস যখন তখন-
    তবু তোকে অজ্ঞ ভেবে অন্ধকার নিয়েছে মুখ ফিরিয়ে।
    আগুনপোকা তোকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায় রাত্রিদিন।
    মুষ্ঠিতে বজ্র রেখে সোচ্চার হোস আক্রোশে-আপনমনে;

    অনবদ্য, লেখাটি মনের গভীরে গেঁথে থাকবে অনেকদিন।

মন্তব্য করুন