“মাংসখেকো মাদক”- সময় এসেছে সচেতন হওয়ার।

গত পরশু(১৪ অক্টোবর) শিকাগো সান-টাইম পত্রিকায় একই ধরণের একটা লেখা পড়ে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম । বাংলাদেশে মাদকের যে ভয়াবহতা তাতে যেকোন সময় এই “মাংসখেকো মাদক” বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আসঙ্কা সত্যি না হলেও বাংলানিউজে  এমনই একটা রিপোর্ট দেখলাম আজ । শিরোণাম “মাংসখেকো মাদক !”

এই মাদক গ্রহনের ফলে ব্যক্তির দেহের টিস্যু মরে গিয়ে মাংসে পচন ধরে। ধীরে ধীরে দেহের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। মাংসখেকো নতুন এক মাদকের নাম ক্রোকোডিল।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও ইলিনয় অঞ্চলের চিকি‍ৎসকরা কয়েকটি রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে নতুন এই মাদক আবিষ্কার করেন। আশংকা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত এই মাদকের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এটা মহামারী আকারও ধারণ করতে পারে।

ইহা হেরোইনের চেয়ে ৮০ ভাগ বেশি শক্তিশালী !!! এই মাদকের নাম ‘krokodil”

আসুন জেনে রাখি এই ড্রাগ (মাদক) – এর অল্প-স্বল্পঃ
– এই ড্রাগটি ২০০২ সালে রাশিয়া প্রথম বাজারে আনে।
– চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Desomorphine নামে পরিচিত। সাথে থাকে paint thinner, gasoline, hydrochloric acid, iodine and the red phosphorous
– এটা Codeine এর সাথে মিশিয়ে তৈরী করা হয় এবং মাথা ব্যাথার উপসমে প্রথম ব্যবহার করা হয়।
– এটা হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয় !!! এবং এটি একটি ইঞ্জেকটেবল ড্রাগ ।
– এটি হেরোইনের চেয়ে ৮০ গুণ বেশী ক্ষতিকর। শরীরের চামড়া পুড়ে / মাংস নষ্ট হয়ে কুমিরের শরীরের মত হয়ে যায়। সম্ভবত এই জন্যই এর নাম Krokodil (Crocodile) রাখা হয়েছে।

এভাবেই মাদকসেবীরা প্রস্তুত করে নতুন মাদক।
– আরও বিস্তারিত জানুনঃএখান থেকে

যদিও বাংলাদেশে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে তবুও সময় এসেছে সচেতন হওয়ার। এখন সচেতন না হলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আসুন সবাই মিলে এই ভয়ঙ্কর মাদকটিকে দেশের সীমানার বাইরেই রাখি। যেহেতু বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলো নতুন নতুন ড্রাগের পরীক্ষা ক্ষেত্র সেহেতু আমাদের ভয়টা একটু বেশিই। গিনিপিগ হওয়ার আগেই যেহেতু খবরটি কানে এসেছে সেহেতু ফার্মা সেক্টরের উচিৎ এই ড্রাগ বাংলাদেশে আমদানী বা পরীক্ষামূলক বাজারজাত করণ না করা।

এভাবেই ক্ষয়ে যায় চামড়া এবং মাংস।

 

সচেতন মহল এবং অভিভাবকদের উচিৎ তাদের সন্তানের সঠিক দেখভাল করা। তাদের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখা যাতে তাদের প্রিয় সন্তান মাদকের ভয়াবহতায় পা না বাড়ায়। আসুন মাদকমুক্ত সুন্দর একটি আগামীর স্বপ্ন দেখি আমরা সবাই।

~ নীলকন্ঠ জয়।
অক্টোবর ১৬,২০১৩ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ১,১৪৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৪টি মন্তব্য

    1. ঠিক বলেছেন । এটা আসলেই একটি পরিকল্পিত অভিশাপ।
      কোথাও ডুব দেই নি। অনেকদিন পর গ্রামের বাড়িতে গেলে যা হয় আর কি। আক্ষরিক অর্থে না হলেও এটাকে ডুব দেওয়াই বলা চলে।
      শুভ কামনা।

  1. ‘ হেরোইনের চেয়ে ৮০ ভাগ বেশি শক্তিশালী ‘ – আতংকগ্রস্থ হবার মত একটি মাদক।
    শরীরের মাংস ক্ষয়ে যায় !! ভয়ানক অবস্থা —
    অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে এই ড্রাগ থেকে–

    শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।

  2. ভালো একটি পোস্ট …মাদক যারা গ্রহন করে তাদের মধ্যে কিছু উপসর্গ দেখা যায়… এক একটি মাদকের উপসর্গ গুলোও আলাদা … তবে শুরু থেকে যদি এগুলো কিছুটা আমরা জানতে পারি তাহলে প্রিয়জনদের কে কিছুটা হলেও সেভ করতে পারি মনে হয়… নীলকণ্ঠের এই পোস্ট টা দেখে সেরকম কিছু লেখার আগ্রহ পেলাম।। লিখবো আশা করছি… নীলকণ্ঠের পোস্ট গুলো সবসময়ই আলাদা হয়… চালিয়ে যান… শুভেচ্ছা -{@

    1. কথা সত্য কিন্তু শুরুটা গিনিপিগদের দিয়ে হয়নি এবার। শুরুটা হয়েছে হস্তীদের দিয়ে। তাই আমাদের মত গিনিপিগ রাষ্ট্রের আগেই সচেতন হতে হবে।
      শুভেচ্ছা।

    1. আসলে এই প্রশ্নটা একজন মাদক সেবীর কাছে করলেও হয়তো সঠিক উত্তর পাবো না। কারণ সে ততক্ষণে বিকারগ্রস্থ। এটা সামাজিক ব্যাধি , দায় সমাজের -আমাদের।
      ধন্যবাদ যাযাবর।

মন্তব্য করুন