খোলা চিঠি

রঙ্গন ঘরে ঢুকে যখন তোমাকে না দেখি বুকে তখন সাত সমুদ্র আছড়ে পরে। পাঁজরে কিলবিল করে কবিতার পঙতি। শিরা উপশিরায় তীব্র হয় একাকীত্বের হাহাকার, আর- গলার নিচে যেন আটকে আসে সম্পুর্ণ পাহাড়। পাখি, তোমাকে না দেখলে দম বন্ধ হয়ে আসে। পদ্মার মত গভীর দুঃখ আমাকে অন্ধ করে দেয়। তুমি নেই! আমি জ্বালাবো কাকে? তুমি নেই! [বিস্তারিত খোলা চিঠি]

সম্রাজ্ঞী (রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ হিসেবে লেখা)

আপনাকে বলছি লালায়িত সম্রাজ্ঞী — একদিন তাজা রক্তে মিলেমিশে একাকার হবে আপনার মুকুটের রক্তজবা, সাদা পালকের ফুরফুরে কেশাগ্রে মিশে যাবে জনতার ঘাম, আপনি হবেন সুখী কাঠুরিয়ার জামা সন্ধানকারী উদ্ভ্রান্ত মানবী। বুকের পচনধরা মাংসপিণ্ডের ঘা চেটে দেবে অভুক্ত নেড়ি কুকুর, কুড়ি দিনে গলা টিপে মেরে ফেলা শিশুর আত্মা ভর করবে ঐ বেঁকে যাওয়া মেরুদণ্ডে। নর্দমার হৃদয় [বিস্তারিত সম্রাজ্ঞী (রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ হিসেবে লেখা)]

গল্প যদি অল্প’টি হয়

আয়- রাতের চোখে ঘুম মেখে দেই পথের বুকে পথ এঁকে দেই গল্প যদি অল্পটি হয় নদীর বুকে জল ঢেলে দেই। অথবা চল শুনবো হাসি মেঘের দেশে পাখির নেশা ডানায় ডানায় খরের কুটো থমকে জীবন তিলকপরা আয়- তোর কপালে চাঁদ তুলে দেই। কাঠবিড়ালি আদরখেকো তোর দূ’চোখে ভাসবে যখন আসবে গোধুল্ পঙ্খীরাজে হাজার বিকেল নীল আয়োজন তার [বিস্তারিত গল্প যদি অল্প’টি হয়]

মানচিত্রে জৈবিক আর্তনাদ

অনেককাল আগে- আমি মানচিত্রে চুমুক দিয়ে স্বাধীনতা পান করতাম, ওরা আমায় বিপ্লবী বলত। আমি ছিলাম অরণ্য, ভ্রম ছিলাম বিমুর্ত জ্যোৎস্না, অগ্নিময় সন্ধ্যা, একা পথশিশুর হাসি-ছিলাম অশুভ অবক্ষয়, বিরল প্রণয় লবনজলের রাশি। ওরা আমায় উন্মাদ বলত। এতো সেই আমি – দেখেছি পদ্মা, কান পেতে শুনেছি আকাশের বুকে যমুনার গল্প দেখেছি অলস মায়ের বুক। আমি দেখিনি একাত্তর [বিস্তারিত মানচিত্রে জৈবিক আর্তনাদ]

আমি-প্রভু-সকিনা বেশ্যা

কাইল রাইতে প্রভু আইছিল মালের কি বেদম পিনিক আমার তো খেয়ালই নাই যে হে আমারে বানাইছে আমি ক্যাল ক্যাল কইরা হাসতাছি আর তিনারে মাল সাধতাছি। অনেকগুলান সাদা ইঁন্দুর হাতে নিয়া তিনি গইর্জা উঠলেন- ‘বেআদব, তোকে আমি মৃত্যুর পর নরকে পাঠাবো’ আমিও গর্জন দিয়া হাইসা উইঠা মুখে হাত চাপা দিলাম (মুখে তো মালের গন্ধ) তেনারে কইলাম- [বিস্তারিত আমি-প্রভু-সকিনা বেশ্যা]

সোনেলার উঠোনে

অবাধ্য অথবা অচেনা পথিকের মত অনেকদিন পর এলাম প্রিয় ব্লগ সোনেলায়। এক সময় গুবরে পোঁকার মত বিভিন্ন ব্লগে নিয়মিত লিখতাম, কালের বিবর্তনে আজকাল আর কোন ব্লগেই যাইনা কিন্তু যখনই কোথাও ‘সোনেলা’ নাম টা দেখি হৃদয় টা কেমন যেন একটা ধাক্কা খায়। যেন বহুকাল বাদে চাতকের চোখে মেঘের ঝিলিক প্রতিফলিত হয়। এই ব্লগের সবার অন্তর ছোঁয়া [বিস্তারিত সোনেলার উঠোনে]

‘শী’

উৎসর্গ : পুস্পিতা চৌধুরী কে চোখের সে নীলাবতী হারিয়েছে কবে মেঘের শাবকে। জলপাই রঙা কিছু ঘুড়িদের স্রোত, বলাকার চোখ সূর্যের কোল ঘেঁষে অচেনার ছকে। ক্যানভাসে অভিমানী অবুঝের কায়া কী ভীষণ মায়া, কোজাগরী প্রেমে গলে হৃদয়ের কোষ বুকের পাখ-পাখালী প্রনয় সরস, নীলাদ্রি হিমালয় ভেঙে- হাজার বছর বাদে ধানসিঁড়ি ছুঁয়ে আসা তোমার রূপ ধরা স্বর্গীয় ফিঙে।

মেগালোডান

আজ এতকাল পরে দু’টি কথা বলে গেলে হৃদয়ের ঘরে, যেন মোজান্মিক ছুঁয়ে গেল আরব সাগর ব্যাথা ঝর-ঝর ঝিঙের মাচায় গড়া ময়না’র ঘর। সে দোলায় দুলে যাই ভুল বুকের জমানো স্মৃতি প্রেমের মাশুল, এক আকাশ ভালবাসা কৃষ্ণ গহবরে উঁকি দেয় ফের আজ এতকাল পরে। জয় হোক ভালবাসা জয় হোক ক্ষোভ, প্রনয়ের লোভ, আমি যাব আলপথ ধরে, [বিস্তারিত মেগালোডান]

ফ্লুয়িড (লীলাবতী’র জন্মদিনে তাকে উৎসর্গ কৃত)

এই যে সুখের নদী বয়ে চলে সমান্তরালে, কাল-মহাকালে- অভিমানের নীলাবতী ছুটি- হালকা শীতের আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে, ছুঁয়ে যাওয়া মোহনার রঙ, বুকের বেহালা- আমিই কৃষ্ণ সয়ং। তুমি সহ যেন আজ পৃথিবী’র শেষ পাখি দু’টি। অরণ্য এখানেই গড়া, এখানেই মেহগনি হাসে- চাপা অবকাশে এখানেই থমকেছে ক্ষোভ। নীলাবতী প্রণয়ের পাশে- হার মানে জগতের বাকী সব লোভ। সে’কি উচ্ছ্বাসে! [বিস্তারিত ফ্লুয়িড (লীলাবতী’র জন্মদিনে তাকে উৎসর্গ কৃত)]

কন্টেম্পরারী

ডার্লিং অপেরায় ঘাপটি মেরে ছিল কায়দাবাজ শনিগ্রহ বাদ্যকর। বদনসিব লাবন্যকে অগ্রাহ্য করে বিধায় স্বীয় ভারে ভুতলে লুটায় আজ পূর্বেকার অপরাজিতা নার্গিস। অতঃপর দুচোখে জমে ওঠে ইংলিশ চ্যানেল। হা হা হা! ইহা এক নিদারুন এবস্ট্রাকট।

একটু ঘুম-হাজার চুমু

বুক পেতে দাও, রাখব মাথা, ঘুমের খাতা খুলবো গো ফের, হয় যদি ঢের প্রেমের তুফান, হাজার চুমুর অজস্র বান, ছুঁয়েই যাবে অধর তোমার ঘুম হবে কি? ঘুম হবে কি? দেখবে যদি, টলটলে এক প্রেমের নদী বইছে তোমার বুকের খাঁজে, নিটোল ভাঁজে আমি যখন- তোমার কোলের কাঠবিড়ালি আদর- খেকো। আদর-খেকো কাশফুলে যেই খেলবে হাওয়া, দুলবে বকুল, [বিস্তারিত একটু ঘুম-হাজার চুমু]

দেবী

উদার কিছু মন খুঁজে ফিরি নীলে- শাপলা বিহীন ঝিলে। পাইনি। হারিয়েছে সব বুকের চলন বিলে। গত রাতে কি করেছ বলতে পারো? নাড়িয়েছ আমার দৃঢ়তার ভিত হেসেছ স্মিত। তখন থেকেই সে হাসি ভাঙছে আমার হৃদয় অট্টালিকা। আগের যাত্রায় খুইয়েছি যত মৃত্যুর আগে তোমার ওই একটু স্মিত হাসি ফেরত দেবে তত।

জল

তুমি অঢেল জোছনার চাঁদ, সৃষ্টি’র বাঁক ছুঁয়ে ছুঁয়ে, ছুঁয়ে যাও মোহনার রঙ। আমি মহাপ্রলয়ের আঁকা ছবি- প্রজ্জ্বলিত পুরোহিত- গনগনে রবি। আমি আজ কৃষ্ণ সয়ং।

প্যাগোডা

আবার শুরু হচ্ছে পরাজিত সন্ধ্যা, রাজপথে একমনে পেছনের স্মৃতিচিহ্ন চাটে ধর্ষিত কুকুর। ডানা মেলছে আমন্ত্রিত কোথাও শকুন। এক প্রান্তে ধর্মের খুপরিতে চলুক গোপন অভিসার, অন্য প্রান্তে প্রকাশ্য নিলামে উলঙ্গ নাচুক ইতিহাসের হৃৎপিণ্ড । কড়া ঝালে গণতন্ত্রের সালাদ দিয়ে আমরা বসাব বুদ্ধিজীবী আসর। বেয়াল্লিশ বছর ব্যাপী কথা না রাখার দোহাই তখন সবার কলমে, মুচকি হেসে কেউ [বিস্তারিত প্যাগোডা]

আর জনমে- নীল পোট্রেট

বুক পকেটে সুখ জোছনা , সব দিয়েছি – চোখের তারায়, হাজার ফুলের নির্যাসে তোর ধিক্ִ কিনেছি – কি আসে যায় ? ধূপশিখা প্রেম ঢল দিয়েছি, পাইনি কিছুই – বাদল মনে, তোর ঠোঁটে প্রাণ, নীল হাসি গান দেখবো, থাকি – সংগোপনে। পঙতি বিলাস, সুর ছুড়েছি বিষুব রেখায় – নোনতা জলে, অবাক সকাল, রোদ, গোধূলি ভুল ঠিকানার [বিস্তারিত আর জনমে- নীল পোট্রেট]