বিজয় যখন বিজিতের ঘরে

পর্ব ১.
যুদ্ধ জয়ে মিশেছিল ঐ হারামীর বাচ্চা
তার কাছে আজ যুদ্ধ জয়টা গল্প নাহয় কেচ্ছা।
মা-বোনকে লুটে নিয়ে ভাঙল আমার ঘর
গ্রাম বাংলায় আগুন দিয়ে বানিয়েছিল কবর।
ব্রীজ কালবার্ট উড়িয়ে দিয়ে বন্দর করে অচল
ব্যাংক বীমা লুটে নিয়ে রাস্ট্র যন্ত্র বিকল।

রিজার্ভ রাখে শুন্য করে খাদ্য গুদাম শুন্য
পোড়া মাটির নীতি নিয়ে কামান দাগে সৈন্য।
বুদ্ধিজীবি নিধন করে মেধা করে শুন্য
সোনার বাংলা শ্বশান করে নজীর অনন্য।
লাখো শহীদ জীবন দিয়ে দেশটা করে স্বাধীন
পোড়া মাটির গন্ধ নিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন।

পাক সেনারা পালিয়ে বাঁচে রোপন করে বীজ
তারাই হল মোটা তাজা সতেজ আর সজীব।।

পর্ব ২ .
যুদ্ধ জয়ে মিশেছিল ঐ হারামীর বাচ্চা
তার কাছে আজ যুদ্ধ জয়টা গল্প নাহয় কেচ্ছা।
অভয় দিয়ে বলেছিলাম দেশটা হবে সবার
সোনার বাংলা গড়ব মোরা অপার সম্ভাবনার।
কেউটে সাপের গর্তে লুকে ঐ হারামীর বাচ্ছা
সুযোগ বুঝে প্রমান দিল রাজাকার যে সাচ্ছা।

পাটের গুদামে আগুন দিল, ব্যাংক করেছে লুট
সব কিছুতে বলতো, ঝুট বলতাহু ঝুট।
বাসন্তিকে জাল পড়িয়ে গল্প তিনি ফাঁদে
খাদ্যজাহাজ ফিরিয়ে বলে, তুই হারামজাদে।
নেতার ডাকে সাড়া দিয়ে অস্ত্র দিলাম জমা
খুনীর অস্ত্র শান দিয়ে যায় লিখে আমলনামা।

খুনের নেশায় মেতে উঠে ঐ হারামীর বাচ্ছা
পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় রক্ত বন্যায় হিস্যা।
খুন করেছে পিতা আমার খুনের নেশায় মাতে
জেলখানা বানায় কবরখানা নেতা শুন্য রাতে।।

পর্ব ত.
যুদ্ধ জয়ে মিশেছিল ঐ হারামীর বাচ্চা
তার কাছে আজ যুদ্ধ জয়টা গল্প নাহয় কেচ্ছা।
নেতা হবার স্বাধ জাগে তার রক্ত গজ্ঞায় ভাসে
বিজয় আমার হাতছাড়া হয় হত্যাযজ্ঞের উল্লাসে।
ঐ খুনীদের পুরস্কার দেয় বিদেশ দুতাবাসে
রাত পোহালে মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির খবর আসে।

পতাকা আমার হাতছাড়া হয় ঐ খুনীদের মনজয়ে
ঐ পতাকা উড়তে দেখি রাজাকার্রের কনভয়ে।
তাইতো ওরা সুযোগ পেয়ে ব্যাংক করেছে দখল
টাকা পয়সা লুটে নিয়ে কারখানা করে অচল।
বীমার টাকা আত্নসাদে কারখানায় দেয় আগুন
বিশেষ ভবন গড়ে উঠে কমিশনের গুণ।

কালো টাকা সাদা করে বিশেষ সুযোগ নিয়ে
রাজপ্রাষাদে থাকেন ওরা বিদেশ বিভুঁয়ে।
ষড়যন্ত্রের জাল বুনে যায় সকাল বিকাল রাতে
বাংলা ভাইয়ের শাষন চলে পাড়া মহল্লাতে।
৬৪ জেলায় বোমা ফাটায় জংগী মহরাতে
মানুষ হত্যার নগ্ন উল্লাস গ্রেনেড হামলাতে।

বিজয় আমার হাতছাড়া হয় সাপ নেউলে হাসে
ঐ হারামীর কবর দিই স্বাধীন বাংলাদেশে।।

মোট পড়েছেনঃ ১,৬৬১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. বিজয়ের ঊষালগ্নে বাঙালীর
    মেধা-মনন-মনীষা হারানোর দিন
    সকল শহীদানের আত্নার প্রতি
    বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি

  2. পতাকা খামছে ধরা শকুনের দলেরা বিলুপ্ত হয়নি। একদিন নিশ্চয়ই তাদের থাবাগুলো নিস্তেজ হয়ে যাবে। সততার শক্তি ছাড়া সব শক্তিরই ক্ষয় আছে।

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকল শহীদের বিদেহী আত্মার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম। বিজয় মাসের শুভেচ্ছা আপনাকেও দাদা।

    শুভ কামনা 🌹🌹

  3. পাক সেনারা পালিয়ে বাঁচে রোপন করে বীজ
    তারাই হল মোটা তাজা সতেজ আর সজীব।।

    ……….এরাই আজ ফাঁসি হওয়া চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের শহীদ বলে।

  4. যুদ্ধ জয়ে মিশেছিল ঐ হারামীর বাচ্চা
    তার কাছে আজ যুদ্ধ জয়টা গল্প নাহয় কেচ্ছা।
    অভয় দিয়ে বলেছিলাম দেশটা হবে সবার
    সোনার বাংলা গড়ব মোরা অপার সম্ভাবনার।
    কেউটে সাপের গর্তে লুকে ঐ হারামীর বাচ্ছা
    সুযোগ বুঝে প্রমান দিল রাজাকার যে সাচ্ছা।

    নাম লিস্ট করে এসব রাজাকারের বাচ্চাদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করা দরকার ছিল। কিন্তু তা আর করা হয়নি। আমাদের জাতির পিতা করেছিল তাঁদের সাধারণ ক্ষমা।
    আপনার লেখনী পড়ে দেহের রক্ত গরম হয়ে উঠেছে। শুভকামনা থাকলো।

  5. যুদ্ধ জয়ে মিশেছিল ঐ হারামীর বাচ্চা
    তার কাছে আজ যুদ্ধ জয়টা গল্প নাহয় কেচ্ছা।
    নেতা হবার স্বাধ জাগে তার রক্ত গজ্ঞায় ভাসে
    বিজয় আমার হাতছাড়া হয় হত্যাযজ্ঞের উল্লাসে।

    শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় চমৎকার অনুভুতি পরিস্কার ভাষায় তুলে রেখে গেলেন। শিহরিত। হীম ধরা অনুভুতি।

    সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

  6. কবিতার মধ্যে পাকিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, রাজাকারদের ভুমিকা, স্বাধীনতার পরে, বিশেষ করে ৭৫ এর পরে রাজাকারদের উত্থান, মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি, হত্যা ইত্যাদি সবই আনলেন।
    অনেক ভাল হয়েছে কবিতা।

    শুভ কামনা।

    1. পাশে আছেন তাই আঁকা হয়ে যায়
      হৃদয়ে কবিতা খানি
      বিজয়ের মাসে সোনালের এ যাত্রায়
      জানাই বিজয়ী শ্রব্ধাঞ্জলী !
      ধন্যবাদ . শুভকামনা ।

    1. কবিতায় হোক প্রতিবাদ
      কবিতায় হোক যুদ্ধ
      কবিতা আমার ভালবাসা
      যুদ্ধ জয়ের আশা।

      ধন্যবাদ জানাই সাথে থাকার জন্য
      কৃতার্থ আমি প্রশংসা করার জন্য !

  7. পতাকা খামছে ধরা শকুনের দলেরা বিলুপ্ত হয়নি। একদিন নিশ্চয়ই তাদের থাবাগুলো নিস্তেজ হয়ে যাবে। সততার শক্তি ছাড়া সব শক্তিরই ক্ষয় আছে।
    কবিতায় তুলে আনলেন পুরো ইতিহাস।
    খুব সুন্দর লিখেছেন।

    1. লাখো শহীদের ত্যাগ
      ২ লক্ষ মা বোনের আত্ননাদ
      দুর্জয় দুনির্বার !
      বিজয় দিবস দিচ্ছে ডাক
      অপার সম্ভাবনার !
      সবাইকে রক্তিম শুভেচ্ছা
      বিজয়ী অভিনন্দন !
      ধন্যবাদ দাদা সাথে থাকার জন্য

  8. পতাকা আমার হাতছাড়া হয় ঐ খুনীদের মনজয়ে
    ঐ পতাকা উড়তে দেখি রাজাকার্রের কনভয়ে।
    তাইতো ওরা সুযোগ পেয়ে ব্যাংক করেছে দখল
    টাকা পয়সা লুটে নিয়ে কারখানা করে অচল।
    বীমার টাকা আত্নসাদে কারখানায় দেয় আগুন
    বিশেষ ভবন গড়ে উঠে কমিশনের গুণ।

    সত্যি খুব ভালো লিখেছেন।

    প্রতিটি লাইনেই মুগ্ধতা।।

মন্তব্য করুন