তোমাকে চাই, রাইটার্স ব্লক

 

হোক-না সে আসক্তি বিষকাঁটালি মত,
স্পষ্ট-অস্পষ্ট ভাবে প্রতিশ্রুতিভঙ্গকারী রাইটার্স ব্লক,
সে আমার-চাই –ই;

আইসার ফেলে যাওয়া, চৌরাস্তায় খেলে-দেয়া
ঘন-গাঢ় গুমোট গরমে,
নিসর্গের কোন বিতরণীতে, শুয়ে-বসে-দাঁড়িয়ে
যে-কোন-ভাবে, যেখানে-ই হোক, চিৎকার-শীৎকারে,
ব্লক আমার চাই-ই;

স্তূপাকার শব্দ-জঞ্জাল সরিয়ে, নিভাঁজ পোশাকে
শব্দ-সময়ের সাহচর্য এড়িয়ে,একাকীর সারাদিনে
পেট-ফোলা (পোয়াতি) শব্দ-যুবতীর আদুরে রং-ঢং
সে আমি আর চাই-না;

স্ফটিক স্বচ্ছ প্রভাতের প্রাতরাশ টেবিলে,
বেহায়া বে-তমিজ শব্দদের হুড়োহুড়ি লুটোপুটি
দাহে-দোঁহে চিরচেনা পরম্পরার চুম্বন-চতুর ভ্রুকুটি
উষ্ণ তৃষ্ণা-নগ্ন খুলে দেয়া কর্ষিত-অকর্ষিত শব্দ-শরীরী ভাঁজ!
সে আর চাই-ই-না;

এই-ইইইইইই, রাইটার্স ব্লক এসো, ফুসে ওঠা নাগিন-ফণার
ছিনাল-বেশ দক্ষতায়, ছলে বলে চন্দ্রালোক তৃপ্ততায়,
রাহু-কেতুর মত একবার, একটিবার সমুলে গিলে ফেল;

স্বস্তির আধারে রচিত হোক ভেদ-অভেদ কাব্য,
নিভে যাক শব্দদের বৈদিক মন্ত্র,
অনুনাদিত পাগলপারা বৃষ্টি-ভেজা-উন্মাদনায়
দূরদূরান্তে মূর্ত হোক অসম্ভবের দীর্ঘশ্বাস,
আকাঙ্ক্ষার মোহন-মিলন দৃশ্যমান হোক যুদ্ধ-ক্লান্তির আলিঙ্গনে।

ছবি নেটের।

মোট পড়েছেনঃ ৮৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. আসলে কি জানেন কবি মশায়, রাইটার ব্লক-এর চেয়ে মারাত্বক রোগ ডিজিটাল রোগ।
    ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল, একটা করতে চাইলেই আরেকটা বিজ্ঞাপন হাজির অন্যমনস্ক, অন্য চিন্তা আসল কাজ গুল্লায়!
    ঘুম থেওকে জেগেয় টিভি
    ঘুম থেকে হন্তদন্ত মেইল চেক
    কারো কিছু হলে ফোনে খবর নেয়া,

    আপনি এনালগে যান,

    কেউ এসে খোজ করছে, পাশের ভাই ডাকছে, ভাতিজা চেচাচ্ছে, অন্তরে আলাদা অনুভুতি, কেউ এসে হাত বুলিয়ে ডাকছে এই উঠ,
    ঘুম থেকে উঠে ডাল থাকলে দাঁত ঘোষা না হলে ডাল ভেংগে দাঁত ঘোষা,
    নামাজ আদায়
    পেপার পড়া,
    বউয়ের লগে কথা বলা কি রানছ গো আজ
    বাড়ির পাশে কিছু হলেই ছুটে যাওয়া
    দূর হলে সাইকেল চালানো। ইত্যাদি।
    ভুলে ভুলে জীবন যাচ্ছে, অতীত মনে হচ্ছে
    আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।
    তাই চলেন কলম ধরেন ট্যাপ ল্যাপ কম্পিউটার আধুনিক ছাড়ুন অনেক অনেক ভালো লাগবে।

    সব হাতের ডগায় অভাব নাই কিন্তু আকাংখ্যা নাই।

    1. আপনি ভাগ্যবানদের একজন, ব্লক পেয়েছেন,
      এখানে লেখক হাপিত্যেশ করছেন যাতে তার রাইটার্স ব্লক হয়।
      ভাল থাকুন। আপনাকে এখানে কম কম দেখছি।

  2. আপনি চিৎকার করে ব্লক চাইছেন? আমি ধার দিতে চাই আপনারে। আমারে এত পায় ক্যা? যাক তবু আপনার চেয়ে আমি সম্পদশালী। ইহা ভাবিয়া আমি বিশাল সম্পদশালী এবং বেজায় গর্বিত খুশি।
    আপনার আর এ জীবনে ব্লক ফ্লকের টিকিটি দেখার সুযোগ হবে বলে মনে হচ্ছে না। না হলে মহারাজের খেতাব আর এমন নিদারুন শব্দগুচ্ছ আর পাই কোথা?

    1. ‘আপনার আর এ জীবনে ব্লক ফ্লকের টিকিটি দেখার সুযোগ হবে বলে মনে হচ্ছে না।’
      ইসসিরে!! আপনি আমার স্বজন হয়ে বদ-দুয়া দিচ্ছেন!!

      আপনি এত্ত এত্ত সম্পদ দিয়ে কী করেন/করবেন!! গর্ব করা ভালু-না।
      হিংসে করতে পারলে ভালো হতো, তবে আমাকে সামান্য অ-ফেরৎ যোগ্য
      ধার কিন্তু দিতেই পারেন, দেয়া উচিৎ-ও, ভাবতে বসুন দেয়ার মন নিয়ে।
      ধন্যবাদ, ভাল থাকুন। ধারের অভ্যাস তৈরি রাখুন/করুন।

      1. আমিও তো কই, এত সম্পদ রাখার জায়গা পাই কোথা! আপনারে ধার না, পুরা রেজিস্ট্রি করে দিয়া দিমু….. এহন চিন্তায় আছি দেয়ার পদ্ধতি নিয়া…..

      2. একছের আজিব মহারাজ!!
        এইরকম সম্পদশালীরা কী কখনো আওয়াজ দিয়া মরব নাকি? না ভাইব্বা যাই কই কন? আমি তো ধার দেনা রাখতেই চাইনা, একবারে দানছত্র করে দিবার চাই। মাথা মুথা ফাটাইয়া বইসা আছি, ব্লক দান করা হয়ে উঠছে না😓😓😓

  3. রাইটার্স ব্লক যেখান থেকে এসেছো, সেখানেই যাও। বর্ষা আসছে সামনে। আমাদের লেখকদের উপাদানের অভাব হবে না। এক আকাশই তো কতো ঢং এ সাজবে। বৃষ্টির রূপটা চোখ ভরে দেখবো। কবিতা, তুমি স্বপ্ন চারিণী হয়ে এসো। খবর নিয়ে যাও।
    শুভ কামনা

    1. আপনি তো দেখছি দাক্তার সুবিধের -না!! শুধু নিজের দিকেই চোখ রাখলেন,
      এত এত চিক্কুর দেখে কোন কিছুই সমাধান দিলেন না।
      ভাল থাকুন।

  4. আমার কাছে রাইটার্স ব্লক আছে। খুব প্রয়োজন হলে নিতে পারেন। তবে আপনাকে দিতে ইচ্ছুক নই। রাইটার্স ব্লক হলে এতো চমৎকার লেখা পাব কী করে। শুভকামনা। ভালো থাকবেন।

    1. ইমানে কন, আমি চমৎকার লিখি?
      আমি তো শুধু লেখা-জ্বালাতন করি।
      স্বহৃদয় নিয়ে উপকারের কথা আবার ভাবতে বসুন।
      ভাল থাকুন, আপনি কিন্তু লিখছেন না।

  5. আপনি যদি এমন করেন তাহলে আমরা কি করবো? রাইটার্স ব্লক চাইনা, পারলে সবাইকে কিছু কিছু দিয়ে দিন । তবুও এমনটা চাইনা। শুভ সকাল

  6. স্ফটিক স্বচ্ছ প্রভাতের প্রাতরাশ টেবিলে,
    বেহায়া বে-তমিজ শব্দদের হুড়োহুড়ি লুটোপুটি
    দাহে-দোঁহে চিরচেনা পরম্পরার চুম্বন-চতুর ভ্রুকুটি
    উষ্ণ তৃষ্ণা-নগ্ন খুলে দেয়া কর্ষিত-অকর্ষিত শব্দ-শরীরী ভাঁজ!
    সে আর চাই-ই-না;
    ———————কবিতায় এত অভিমান!

    1. আরে নাহ্‌,
      লেখা ভালুবাসাবাসির একটু রং ঢং;

      প্রিয় কবির সাথ আড়ি দিতে ইচ্ছে করে, কী করে ভুলে থাকেন!!
      আপনাকে দেখে সত্যি আনন্দিত হচ্ছি।
      ভাল থাকুন, একটু সময় কিন্তু আমারা পেতেই পারি।

  7. নিজেই ব্লক নিয়ে নিতে পারেন ক’দিনের জন্য। জীবনে লেখালিখির ক্ষেত্রে অভিমানের অনেক কারনই থাকে একজন লেখকের। আমরা কতজনাই তার খবর রাখি।

    শুভকামনা ভাই।

    1. না না, আসলে এখানে লেখা ব্লকের ইচ্ছে না, আসলে লেখার সাথে সম্পর্কের
      গভীরতা বোঝানো হয়েছে, ভিন্ন পথে ভিন্ন ভাবে।
      ভাল থাকুন।

মন্তব্য করুন