কে যাস রে

সোনেলা রোদ্দুর ২০ জুন ২০১৫, শনিবার, ০৮:০৩:১৬অপরাহ্ন সঙ্গীত ৪১ মন্তব্য

আমাদের এই বাংলায় যোগাযোগ এর মাধ্যম ছিল একসময় নৌকা। সড়ক যোগাযোগ বলতে গেলে ছিলই না।গরুর গাড়ির প্রচলনের যুগ খুব বেশী দিন পুর্বের নয়। শরৎচন্দ্রের দেবদাস পারু চন্দ্রমুখীর যুগ ছিল তা। জমিদারগণ বজরায় চলাচল করতেন। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন কুঠিবাড়িতে গেলেই এমন বজরা নৌকার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।

গ্রাম বাংলার নিত্য প্রয়োজনীয় চলাচল,হাট বাজার,দূরে যাতায়াত সব কিছুই নৌপথে।
এটি একটি গানের পোষ্ট। ” গানটি শুনলেই বুকটা কেমন আনচান করে উঠে। একটা সময় এমনই ছিলো। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেয়েরা বাপের বাড়ির মানুষের দেখা পাওয়ার জন্য এমনই পথের দিকে চেয়ে থাকতো। সে সময়কার অসহায় নারীকুলের অনেক আবেগ লুকিয়ে আছে গানটিতে। তখনকার সময়ে এমন নারীও নাকি ছিলো, যে কিনা বিয়ে হয়ে আসার পর সন্তান বড় হলে তাকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছে।
এই একটি গান, যে গানে বিবাহিত মেয়েদের মনের গহীনের কান্না ফুটে উঠে। জন্ম থেকে মা-বাবা, ভাইদের মাঝে বেড়ে উঠার পর তাঁকে স্বামীর হাত ধরে আরেকবাড়িতে চলে যেতে হয়। যেখানে সম্পূর্ণ অচেনা একটা পরিবেশে তাঁকে তাল সামলিয়ে চলতে হয়, তাও আবার সকলের মন জয় করে। একটু এদিক অদিক হলেই কথা না শুনালেও, বাঁকা নজর তো পড়বেই। তখনই সে ফিল করে আপনজনদের। কবে ভাইটি তাঁর আসবে, আর সে তাঁকে দেখে প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। ভাইয়ের হাত ধরে মায়ের কোলে যেতে পারবে নিরন্তর তাঁর সে অপেক্ষা চলে। ” – রুবা আপুর কমেন্ট থেকে।

বিয়ের পরে নব বধু তাকিয়ে থাকতো নদীর পানে দিনের পর দিন,কখন তার বাবার বাড়ি হতে ছোট ভাই তাঁকে নিয়ে যেতে আসবে।ভাইকে দেখার জন্য কত কান্না থাকে বোনদের!! এমনি অপেক্ষার একটি ভাটিয়ালি গান নিয়ে আজকের পোষ্ট।
Lilabati2
কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।

বছর খানি ঘুইরা গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না
কইলজা আমার পুইড়া গেল, গেল রে
ভাইয়ের দেখা পাইলাম না, পাইলাম না

ছিলাম রে কতই আশা লইয়া
ভাই না আইলো গেল গেল, রথের মেলা চইলা
তোরা কে যাস কে যাস।

প্রাণ কান্দে , কান্দে
প্রান কান্দে কান্দে প্রান কান্দে রে, প্রান কান্দে
নয়ন ঝরে ঝরে নয়ন ঝরে রে, নয়ন ঝরে
পোড়া মনরে বুঝাইলে বুঝে না
কান্দে কান্দে প্রান কান্দে।

সুজন মাঝিরে ভাইরে কইয়ো গিয়া
না আসিলে স্বপনেতে দেখা দিত বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।

সিঁন্দুরিয়া মেঘ উইড়া আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না
ভাটির চরে নৌকা ফিরা আইলো রে
ভাইয়ের খবর আনলো না, আনলো না।

নির্দয় বিধি রে তুমিই সদয় হইয়া
ভাইরে আইনো নইলে আমার পরান যাবে জ্বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।

কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইয়ো, নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।।
Lilabati 1

গানটির আবেগ এবং ভংগিটি শাহনাজ বেলীর কন্ঠে চমৎকার ভাবে এসেছে।

চন্দনার কন্ঠে এই গানটিই অন্য রকম লাগে

ইন্দ্রানী সেন এর কন্ঠে আছে শহুরে ভাব

মুল গানটি সচীন দেব বর্মন এর। সচীন দেব বর্মনের পরিচয় আর দিলাম না, বাংলা গানের লিজেন্ড বলা যেতে পারে সচীন দেব বর্মনকে।
আসুন সচীন দেব বর্মন এর কন্ঠে শুনি এই আবেগময় গানটি। 

২৩৫৬জন ২৩৫৪জন
0 Shares

৪১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ