১)  সম্ভবত বছর দুয়েক আগে একটা আর্জেন্টাইন সিনেমা দেখেছিলাম, সিনেমার নাম ওয়াইল্ড টেলস বা বাংলায় বন্য গল্প।  ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি  সে সময় বিশ্ব  চলচ্চিত্রে বেশ আলোড়ন তুলেছিল।  পেয়েছিল বিদেশী ভাষার সেরা  চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার মনোনয়ন।  সিনেমাটায় একক  কোন গল্প নেই।  ছয়টা আলাদা আলাদা গল্প নিয়ে নির্মিত, দৈর্ঘ্য  ১২২ মিনিট। প্রতিটা গল্পের একটা কমন থিম আছে, সেটা হচ্ছে ওয়াইল্ডনেস বা বুদ্ধি  বিবেচনার বদলে মানুষের নিজ প্রবৃত্তি দ্বারা চালিত হওয়া।  আমরা জানি যে মানুষের সাথে অন্য জীব জন্তর একটা প্রধান পার্থক্য হচ্ছে অন্য সব জীব জন্ত পরিচালিত হয় নিজ ইন্সটিংক্ট বা প্রবৃত্তি দ্বারা আর মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে চাইলেও নিজের  প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না। একটা শিশুকে তার  জন্মের পরপরই  মুল্যবোধ  শেখানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়  এবং সেটা হয় তার পরিবারের মাধ্যমে।  এর পর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রক্রিয়ার নানা ধাপের মধ্য দিয়ে  সে সামাজিক বিভিন্ন নিয়ম কানুন শেখে, তৈরী  হয় তার চিন্তা চেতনার  দক্ষতা। শেখানো এই সব নিয়ম কানুন আর চিন্তার দক্ষতা দিয়ে সে প্রতিটা কাজের কার্যকরণ খোঁজে,  যাচাই করতে শেখে প্রতিটা কাজের ভাল মন্দ।   সমাজ থেকে অর্জিত মুল্যবোধের আলোকে এক সময় সে অর্জন করে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। সমাজ বদ্ধ প্রতিটা মানুষ তাই নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, করতে হয়।  তারপরও মানূষের জীবনে কখনো কখনো এমন সিচুয়েশন তৈরী হতে পারে যখন সে যাবতীয় চিন্তা চেতনার  ঊর্ধ্বে উঠে নিজের প্রবৃত্তি দ্বারা চালিত হয় , তখন আসলে কি ঘটে এমন ছয়টি গল্প নিয়েই নির্মিত সিনেমাটি।

আধুনিক বাঙালি সমাজের একটা প্রধান  বৈশিষ্ট্যে হচ্ছে এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিদ্যমান নানা রকম  চাপ ও ক্ষোভ। অনেকে অবশ্য বলতে পারেন তৃতীয় বিশ্বের দুর্বল গণতান্ত্রিক সমাজে চাপ ও ক্ষোভ একটা  খুবই কমন বিষয়।  যাই হোক, নানা রকম চাপে পড়ে চিড়ে  চ্যাপ্টা আজ ব্যস্ত  নাগরিক মানুষের জীবন। যাদের চাকরী নেই তাদের জন্য আছে বেকারত্ব থেকে মুক্তির চাপ, যাদের চাকরী আছে তাদের জন্য অফিসে বসের চাপ, জ্যাম ঠেলে ঠিক টাইমে অফিসে কিংবা ঘরে ফেরার চাপ,  বউয়ের কাছ থেকে “পাশের বাসার ভাবী ডায়মন্ড সেট কিনছে আমারে কবে দিবা” টাইপের চাপ,  যাদের বউ নেই তাদের জন্য বউ জোগাড়ের চাপ, বাজারে মুল্যস্ফীতির চাপ, সর্বোপরি সমাজে চলমান নানা রকম প্রতিদ্বন্দিতায় যেন পিছিয়ে না পড়ি টাইপের চাপ। নানা রকম চাপে বিদ্ধ ক্লান্ত মানুষ  থাকে নানা ভাবে বিক্ষুব্ধ।  তার ক্ষোভ সরকারের প্রতি, জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত শহরের মেয়রের প্রতি, সুন্দরী বউয়ের অধিকারী পাশের ফ্লাটের প্রতিবেশী কিংবা অফিসের কলিগটির প্রতি,  ওজনে কম দেওয়া  দোকানদারের প্রতি , দুই টাকা বেশি চাওয়া বাস কন্ডাক্টরের প্রতি ইত্যাদি।  মানুষ  আজকাল এত ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হলেও  সে তার নিজের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে পারছে না কারন তাকে একই সঙ্গে  সমাজ থেকে অর্জিত মূল্যবোধের আলোকে একটা ভদ্রতার মুখোশ পড়ে চলতে হচ্ছে, করতে হচ্ছে তাকে নিজের প্রবৃত্তির সঙ্গে আপোষ। এই আপোষকামী  আধুনিক মানুষের সমাজে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে ফেইসবুক তথা অনলাইন মাধ্যম। সেখানকার  নীল  রঙ্গমঞ্চে একদিন সেফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার আবির্ভাব  তারপর বাকিটা ইতিহাস। সেফুদার দ্রুত জনপ্রিয়তার প্রধান কারন হচ্ছে সেফুদা যা বলে সেটা আসলে আমাদের  সচেতন কিংবা অবচেতন মনের ভাবনা। পার্থক্য হচ্ছে আমরা সেটা ভদ্রতার কারনে প্রকাশ করতে পারি না , সেফুদা সেটা প্রকাশ করছে অবলীলায়।  সেফুদা  যখন যা তা ভাষায় সরকারের মন্ত্রী এমপিদের গালি দেয় আমরা তখন বিনোদিত হই  কারন নানা কারনে বিক্ষুব্ধ আমরাও তাদেরকে  ঠিক এভাবেই গালি দিতে চাই। দেশের  সমসাময়িক যে কোন বিষয় নিয়ে আমরা সেফুদার কাছে সেই সব মতামত আশা করি যা আমরা ভয় কিংবা ভদ্রতার খাতিরে প্রকাশ্যে বলতে পারি না। সেফাত উল্লাহর কন্ঠে কচি কচি সুন্দরী মেয়ের প্রতি আকাংখা আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙ্গালী পুরুষের কনশাস কিংবা সাবকনশাস সেক্সচুয়াল ফ্যান্টাসি। এভাবেই সেফাত উল্লাহ  ওরফে সেফুদা হয়ে উঠেছে সমাজের আয়নায় দাঁড়ানো আমাদের প্রতিবিম্ব, ঠিক আমাদের মত, কিন্ত আমরা নই কিংবা নিদেন পক্ষে আমরা সেটা দাবী করি না। তবে সেফুদার সার্থকতা  এখানেই যে তিনি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আমাদেরও একটা প্রবৃত্তি  আছে আর আমাদের চোখের সামনে থাকা ভদ্রতার পর্দা আসলে কতটা ঠুনকো!

সেফুদার ভিডিও দেখে জীবন ধন্য করার লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=9lhyWzUNn40

ওয়াইল্ড টেলস ট্রেলার লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=Utq0aDEp084 

২) মানুষের পেটে যখন ভাত জুটে তখন তার মধ্যে বিনোদনের চাহিদা তৈরী হয়। যার পেটে ভাত নেই, তার কাছে ভাতই বিনোদন। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল ভোগ করে শহরাঞ্চলে একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরী হয়েছে। এই শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিনোদন প্রয়োজন। দিবস কেন্দ্রীক উৎসব মানব সমাজে প্রচলিত একটা পুরনো ও জনপ্রিয় বিনোদন মাধ্যম।  কর্পোরেটরা যেহেতু মানুষের মৌলিক চাহিদা ও বিনোদনের ক্ষেত্রগুলোকে ব্যবসার উপকরণ বানিয়ে ফেলে, কর্পোরেটদের ব্যবসার স্বার্থেই তাই নুতুন নুতুন বিনোদনের ক্ষেত্র তথা নুতুন নুতুন উৎসব দিবস উদ্ভাবন প্রয়োজন।  উৎসব হিসেবে পহেলা বৈশাখের  উদযাপন এদেশে নুতুন না হলেও গত এক দশকে উৎসব হিসেবে এর ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের কাছে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রীক  অর্থনীতির অবস্থান  এখন দুই ঈদের পরেই তৃতীয় অবস্থানে। মনে রাখবেন পহেলা  বৈশাখকে একই সঙ্গে লড়তে হচ্ছে  মৌলবাদীদের বিপক্ষেও। মুলত নব্বই দশক থেকে এদেশে “পহেলা বৈশাখ হারাম” মতবাদের জন্ম হয়। এই মতবাদীরা যে বর্তমান সমাজে দুর্বল অবস্থানে আছে এমনটা ভাবার কোন কারন নেই।  তবে এই মতবাদীদের জন্য দুঃসংবাদ এই যে, মানুষ এখন কর্পোরেট প্রচার প্রচারণার  সুবাদে  কালচারের সাথে রিলিজিওনের কোঅর্ডিনেশন ঘটাচ্ছে অর্থাৎ ধর্মের সাথে সাথে পহেলা বৈশাখের বিরোধ নেই, দুটোকে কোঅর্ডিনেট করা যায় বলে দাবী করছে। বিশ্বাস না হলে আজ একবার টিএসসিতে যান, দেখবেন সাদা-লাল পাড়ের শাড়ী আর কালো হিজাবের এক অদ্ভুত লাল-সাদা-কালো কম্বিনেশন!    

৩) বাসটা এসে  দাঁড়াল বাসস্টপে। কানায়  কানায় পূর্ণ,  তিল ধারনের জায়গা নেই। চোখে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে  বাদুরের মত ঝুলন্ত এক দল ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষ। বাসটা ছেড়ে দেবার ঠিক আগ মুহূর্তে এক মধ্য বয়সী মহিলা তার দুই সন্তান সহ রাস্তার ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়ালেন। তার একটাই দাবী  তিনি এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন কিন্ত কোনমতেই বাসে উঠতে পারছেন না তাই তাকে বাসে উঠার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে তিনি কিছুতেই ঐ বাসকে এখান থেকে যেতে দেবেন না। মুহূর্তেই তৈরী হয়ে গেল জটলা, তাকে পাগল বলে সম্বোধন করে কিছু লোকের হাসাহাসি এবং লম্বা ট্রাফিক জ্যাম। নানা ভাবে তাকে বোঝানোয় ব্যস্ত দেখা গেল দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবলটিকে। এক পর্যায়ে  ভদ্র মহিলা রাস্তার মাঝখানে দুই শিশু সন্তান সহ শুয়ে পড়লেন। এই পর্যায়ে এসে তার দাবী খানিকটা পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি এখন প্রধান মন্ত্রীর সঙ্গে এই সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চান, তাকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে, তা  না হলে তিনি রাস্তা ছাড়বেন না।

ঘটনাটা বাস্তব। এই ভদ্র মহিলাও নিজের ইন্সটিংক্ট দ্বারা চালিত হলেও তার শেষ দাবীটা আসলে ইদানীংকার বাঙ্গালী সমাজে একটা জনপ্রিয় ধারণা থেকেই তৈরী হয়েছে। সাম্প্রতিক সমাজে  একটা ধারণা প্রবল ভাবে তৈরী হয়েছে যে, যে  কোন সমস্যার দ্রুত সমাধান আসলে প্রধান মন্ত্রীর কাছে।  সমস্যাটা তাই যে কোন উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌছাতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে  পৌঁছালেই সমাধান নিশ্চিত।  এটা গণতান্ত্রিক কোন দেশের জন্য মোটেও কোন ভাল লক্ষণ নয়, ভাল নয় আওয়ামী লীগের জন্যও।

৪) তখন লং মার্চের সময়,

মাওসেতুং তার বিপ্লবী সঙ্গীদের নিয়ে পাড়ি দিচ্ছিলেন দীর্ঘ পথ।

দীর্ঘ পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে একটা গাছের নিচে থামলেন তারা –  বিশ্রাম নেবেন বলে,

দেখলেন একটু দূরে নদীর ধারে গাছের নিচে এক যুবক যুবতী পরষ্পরকে গভীর আলিঙ্গনে বেঁধে রেখেছে।

মাওসেতুং এর  বিপ্লবী সঙ্গীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন -আমরা কিনা দেশের জন্য প্রাণপণ  সংগ্রাম করছি  আর ওরা গাছের নিচে নদীর হাওয়াতে প্রেমে মশগুল হয়ে  বসে আছে। এ কিছুতেই হতে পারে না, ওদেরকেও আমাদের সঙ্গে লং মার্চে যেতে হবে।

মাও সেতুং মৃদু হাসলেন, বললেন- না ওরা ওখানেই থাকুক, আমাদের যা কিছু সংগ্রাম সে তো ওদের জন্যই।

পাদটীকাঃ সামনে ভারতে লোকসভা  নির্বাচন। পত্রিকায় একদিন পড়লাম ক্ষমতাসীন বিজেপির একটা মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের মাটিতে আন্তঃ ধর্মীয় বিয়ে (তাদের ভাষায় লাভ জিহাদ) ঠেকানো!

 

১৮৬৭জন ১৫৭৩জন
0 Shares

৩৫টি মন্তব্য

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    অন্য জীব জন্তুরা নিজ প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হলেও মানুষের ক্ষেত্রে এটা করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না, কারণ মানুষের প্রবৃত্তি থাকার পাশাপাশি নিজস্ব বিবেক বুদ্ধিকেও কাজে লাগাতে হয়। অনেক সময় মুখোশের আড়ালে আয়নার সামনে দাঁড়ায় হয়তো, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ সারাক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

    ফেইসবুকের কল্যাণে সেফুদা সাহেবের পরিচিতি আগেই লাভ করেছি। তার বহুল আলোচিত/ সমালোচিত ভিডিও দেখে চোখ সার্থক না হলেও কানের কালার পরিবর্তন হয়ে গেছে। শ্রবনেও যে কোন ইন্দ্রিয় বিকল হওয়ার চাপে থাকে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেতে হলে পরীক্ষামূলক ভাবে তার ভিডিও দেখা যেতে পারে। তবে কাউকে চাপ দিয়ে দেখানো ঠিক হবেনা।

    অনেক গুলো বিষয়কে নানা ভাগে ভাগ উপস্থাপন করেছেন অপার্থিব। প্রতিটি বিষয়ের জন্যে আলাদা আলাদা মতামত নিয়ে আসবো। আশা করছি এই লেখাটির আলোচনা চালিয়ে যেতে পারবো। ততোক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকুন, শুভ কামনা। বাঙলা নব বর্ষের শুভেচ্ছা রইলো 🌹🌹

    • অপার্থিব

      জানাতে একটু দেরী হলেও আপনাকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা।

      //তার বহুল আলোচিত/ সমালোচিত ভিডিও দেখে চোখ সার্থক না হলেও কানের কালার পরিবর্তন হয়ে গেছে।//

      রিয়েলি? সেফুদা তো দেখি একেবারে পীরের পর্যায়ে চলে গেছে!!! আপনার কানের কালার পরিবর্তনের কথা ওনাকে জানাতে পারেন, উনিতো সর্বরোগের সমাধান, আশা করা যায় যে উনি ওনার দ্বীনি, কামেলী , মারেফতী দক্ষতায় আপনার কানের কালার আবার স্বাভাবিক জায়গায় নিয়ে আসবেন।

      মতামতের জন্য সব সময় স্বাগত। অপেক্ষা শুরু করলাম…

  • জিসান শা ইকরাম

    *ওয়াইল্ড টেলস মুভির কাহিনীটির সার সংক্ষেপ সুন্দর ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। যদিও মুভিটি দেখিনি। দেখবো আশাকরি। জন্তু পরিচালিত হয় তার প্রবৃত্তি দিয়ে আর মানুষ প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়না। যে মানুষ প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয় সে আর মানুষ থাকেনা, জন্তুর পর্যায়েই চলে যায়। যার অসংখ্য উদাহরন আমরা দেখতে পাই আমাদের আশেপাশের মানুষের মাঝে।

    * চাপ আমাদের থাকেই, সাথে ভদ্রতার একটি মুখোশ এটে দেই আমাদের বহিঃপ্রকাশে। সেফুদার জনপ্রিয়তা দিয়ে আমাদের ভিতরকার অবদমিত চাপের প্রকাশ ঘটাই, এই ব্যাখা এবং উদাহরন ভালো ভাবেই দিয়েছেন।

    * উৎসব হিসেবে পহেলা বৈশাখের উদযাপন এদেশে নুতুন না। আমরা আমাদের ছোট বেলায় অবশ্য ভিন্ন ভাবে এটি উদযাপন করতাম। সকালে বসতো মেলা, দলবেধে আমরা সেই মেলায় যেতাম। রকমারী মাটির, প্লাস্টিকের খেলনা, বাঁশি , ছোট ছোট ঢোল, বাতাসা, সন্দেশ, মুরালী ভাজা, বেলুনের পসরা ছিল সে মেলায়। চরক গাছ, দোলনা, বাক্সের মধ্যে বায়োস্কোপ ইত্যাদি থাকতো সে মেলায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতো। সন্ধ্যার পরে আশে পাশের বাড়িতে গিয়ে মোয়া, নাড়কেলের নাড়ু, লুচি খেতাম। পরিচিত দোকান যেখানে বড় বড় লাল হিসেবের খাতা খুলে নতুন বছরের তারিখ লিখে হালখাতা করা হতো, সেসব দোকানে গিয়ে মিষ্টি খেতাম। দোকান সমূহে বাংলা তারিখ কিন্তু এখনো প্রথমেই লেখা হয় হিসেবের খাতায়। তখন আন্তরিকতা ছিল অনেক বেশী।
    বর্তমানে অনেক জাকজমক ভাবে পহেলা বৈশাখ পালিত হলেও তাতে সেই আগের আন্তরিকতা দেখতে পাইনা। কর্পোরেট বাণিজ্যের ফলেই হয়ত বা। তবে যেভাবেই বর্ষবরণ পালিত হোক না কেন, এতে জয় বাঙালীপনার, যা অত্যন্ত জরুরী। গত কয়েকবছর যাবত একটি প্রচার ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে, পহেলা বৈশাখ পালন ইসলাম ধর্ম বিরোধী। এই ধরনের অপ প্রচার এবং এর পিছনের শক্তিকে স্তব্দ করে দিতে পারে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য প্রসারে।

    * যে কোন সমস্যা প্রধানমন্ত্রী সমাধান করে দিবেন এই বিষয়ে আমি একটি লেখা প্রায় লিখে ফেলেছি। আপনার লেখার মাঝে তা পেলাম। এই ধারণাটি দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নেতৃত্বের বিকাশে এটি প্রধান অন্তরায়।

    * মাও সেতুং ঠিকই বলেছেন। বিপ্লব, সংগ্রাম, যুদ্ধ জনগনের জন্যই। তাদের সুখ, আনন্দ বজায় রাখার জন্য।
    ছোট পরিসরে একটি পরিবারের কর্তা তার আনন্দকে জলাঞ্জলি দেন পরিবারের অন্য সবার মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। যেমন সোনেলার দু একজন মডারেটর সোনেলার সমস্ত ব্লগার যাতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আনন্দ নিয়ে ব্লগিং করতে পারে তার জন্য অবিরাম খেটে যান। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তারা লিখতে পারেন না, মন্তব্য করতে পারেন না 🙂

    অনেক ভালো একটি পোষ্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ অপার্থিব।
    লেখুন নিয়মিত।
    শুভ কামনা।

    • অপার্থিব

      শৈশব ঢাকাতে কাটানোয় ছোটবেলায় এই সব বৈশাখী মেলায় খুব একটা যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। গ্রামীন সমাজে ধর্মের প্রভাব বাড়ায় পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রীক উৎসব এখন প্রায় নেই বললেই চলে, যেটা আছে সেটা মুলত শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মধ্যে। যেহেতু মধ্যবিত্ত শ্রেনী অর্থনীতি্র বিকাশে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখে তাই এই পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রীক অর্থনীতির আকার দিন দিন বাড়ছে। ঠিকই বলেছেন, এখনকার উৎসবে অর্থনীতি সচল থাকলেও হয়তো সেই আগের আন্তরিকতা নেই। বলা যায় যে কর্পোরেটরা জীবনে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে “পহেলা বৈশাখ হারাম” মতবাদীদের কাউন্টার করতে কর্পোরেট প্রচার প্রচারনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা আছে।

      মুভিটা দেখলে কেমন লাগলো তার একটা রিভিউ দিয়েন।

      //ছোট পরিসরে একটি পরিবারের কর্তা তার আনন্দকে জলাঞ্জলি দেন পরিবারের অন্য সবার মুখে হাসি ফোটাবার জন্য। যেমন সোনেলার দু একজন মডারেটর সোনেলার সমস্ত ব্লগার যাতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আনন্দ নিয়ে ব্লগিং করতে পারে তার জন্য অবিরাম খেটে যান। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তারা লিখতে পারেন না, মন্তব্য করতে পারেন না //

      হ্যাটস অফ।

      মন্তব্যের জন্য ধব্যবাদ।

  • নীরা সাদীয়া

    এত সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন, যা পড়ে মনে হলো জ্ঞানের একটা উৎস থেকে কিছু আলোকরশ্মি যেন বিকিরন ঘটাচ্ছে। সত্যি বলেছেন, মনে অনেক পাগল পাগল টাইপ চিন্তা ভাবনা,হতাশা, ক্ষোভ জমা হয়; যা আমরা প্রকাশ করতে পারি না। সেফুদা সেগুলোই প্রকাশ করছেন। সেফুদাকে নিয়ে এভাবে কখনো ভাবিনি। নতুন করে ভাবালেন আপনি।

    মেয়েদের মনেও অনেক প্রকার ক্ষোভ জমে। নানা কারনে হতাশা জমে। তারা না পারে সেসব ঝেড়ে ফেলতে, না পারে সেফুদার মত…
    তাই এরকম একজন দিদিরও খুব দরকার।

    মুভিটা দেখা হয়নি। তবে আপনি যে সারমর্ম দিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে মুভিটা দেখে ফেলতে হবে। অনেকদিন কোন মুভি দেখি না।

    আমারো মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, এই ছকবাঁধা সমাজ থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যাই, যেখানে কোন মানুষজন নাই। একদম নিজের মত থাকা যাবে, চলা যাবে। কেউ বাঁকা চোখে তিকাবে না, কেউ হাসবে না। নিয়ম ভাঙার অপরাধে কোন শাস্তি হবে না।
    আপনার লেখা ঐ “প্রবৃত্তি ” শব্দটি আবারো নতুন করে যেন উষ্কানী দিলো।

    আগে থেকেই অপার্থিবর লেখার প্রতি প্রত্যাশা অনেক।আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না। নিয়মিত লিখুন, আর আমাদের তরে নতুন নতুন ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দিন।

    শুভ নববর্ষ।

    • অপার্থিব

      আপনাকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা।

      আমরা যেহেতু সমাজ বদ্ধ হয়ে বাস করি তাই চাইলেও আসলে সব সময় নিজের প্রবৃত্তি অনুযায়ী সব কিছু বলা বা করা সম্ভব না তবে আমার কাছে যেটা মনে হয় মাঝে মধ্যে নিজের ইন্সটিংক্টের কথা শোনা উচিত। কুখনো কখনো সেটা কাজে লাগে।

      সমাজ প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হয়, নিয়ম ভাঙ্গার মধ্য দিয়ে এক সময় নুতুন নিয়মের জন্ম হয় কাজেই বাঁকা চোখের দৃষ্টি, হাসি এসবকে খুব একটা পাত্তা না দেওয়াই বেটার।

      মন্তব্যে অনুপ্রেরণার জন্য ধন্যবাদ।

  • মনির হোসেন মমি

    চমৎকার একটি লেখা পড়লাম।সত্যি বলতে কি ধর্মান্ধ যারা তারাই বৈশাখকে বিতর্কীত করছে।তবে তাদের মনোবাসনা পূরণ হবে না কারন ব্যাবসায়ীক ধান্দা ছাড়াও এ উৎসবটি আমাদের বাংলা বর্ষ বরণ ও আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতি উৎসব এটা আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে।

  • ছাইরাছ হেলাল

    আপনি অনেক বিষয় একসাথে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন,
    আমি শুধু একটি বিষয়-ই বলতে চাই, সব সব বিষয়ে প্রধান মন্ত্রীকে টেনে আনতে হবে কেন!!
    সব কিছু নিয়মানুযায়ী হবে/চলবে সীমাবদ্ধতা নিয়েই, তারপর ও তিনি নিজ গুনে কোন কিছু তার গোচরে আনলে সেটি তার বদান্যতা।
    আর আমাদের বাড়তি পাওনা!! এটি তো নিয়মে দাঁড়াবে না, কিছুতেই।

    • মোঃ মজিবর রহমান

      আমি শুধু একটি বিষয়-ই বলতে চাই, সব সব বিষয়ে প্রধান মন্ত্রীকে টেনে আনতে হবে কেন!! বস।
      সব কিছু প্রধান্মন্ত্রীকেই করতে হয় কারণ, অন্য মন্ত্রীরা কাজ করতে বা মিমাংশা করতে ব্যারথ। আর এই সব কারনেই প্রধান্মন্ত্রীকে নাক গলাতে হয়।
      আজ দেখুন এইতো নুসরাত মেয়েটির ঘটনা কেন স্বরাষ্ট্র ও অন্য সিনিয়র কোন মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করতে পারত না। পারত কিন্তু তাদের ক্ষমতার বড়ায় সাধারন জনতাকে পিটানোতে তাদের সেবাই না। এখানে উভয় সংকট। রাজনৈতিক ও দলীয় ও সরকারীয় বিভিন্ন সিরধান্তের বিসয় থাকে। জটিল সমীকরণ কাজ করে।

    • অপার্থিব

      সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আসে এর পিছনে দুটো কারণ আছে, এক দুর্বল গণতন্ত্র আর দুই তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে জন প্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোতে বিরাজমান পরিবার তন্ত্র। যেমনঃ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ কখনোই বঙ্গবন্ধু পরিবারের বাইরে যাবে না ফলে স্বভাবতই সেই পরিবারের লোকজনের উপর এক ধরনের মনস্তাত্বিক নির্ভরশীলতা তৈরী হয়। দেশে দুর্নীতি ও আইনের শাসন দুর্বল হওয়াও (দুর্বল গণতন্ত্রের সাইড ইফেক্ট) সব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীলতা তৈরী হওয়ার অন্য্যতম প্রধান কারণ।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    মানুষ আজকাল এত ক্ষোভে বিক্ষুব্ধ হলেও সে তার নিজের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটাতে পারছে না কারন তাকে একই সঙ্গে সমাজ থেকে অর্জিত মূল্যবোধের আলোকে একটা ভদ্রতার মুখোশ পড়ে চলতে হচ্ছে, করতে হচ্ছে তাকে নিজের প্রবৃত্তির সঙ্গে আপোষ। এই আপোষকামী আধুনিক মানুষের সমাজে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে ফেইসবুক তথা অনলাইন মাধ্যম। —অতিব বাস্তব কথন।
    বাস্তবতায় ভরপুর দাদা। সুন্দর পরিপাটি করে লিখেছেন।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই শ্লোগানটি এখন মুখে প্রচারিত হয়। কেউ বলে সহজ করে কেউ বলে কটাক্ষ করে। আমাদের দেশ ক্রমেই উৎসবমনা হয়ে পড়ছে। যেটা বলেছেন, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষের মাঝে এই উৎসব প্রথা গেথে গেছে। বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবস, রাষ্ট্র নায়কদের মৃত্যু দিবস কি নেই এই উৎসবের লিস্টে! আমাদের দেশে যতরকম ভাবে বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয় বিশ্বের অন্য কোনো দেশে পালন করা হয় কি না আমার জানা নেই।

    ব্যবসায়ী বা মৌলবাদীদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। তারা দুই পক্ষই চায় নিজেদের উদ্দ্যেশ্যে পূরণ করতে। ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য মুনাফা অর্জন আর মৌলবাদীদের লক্ষ্য হলো নিজেদের বিচার ব্যবস্থা সহ নিজেদের ধ্যান ধারণা অন্যের উপর প্রতিষ্ঠা করা। এরা বৈশাখ উদযাপনের বিপক্ষে থাকে আবার ইলিশ কিনতে ভুলে না।

    উৎসব প্রিয় মানুষদের কাজ হলো সব কিছুতে উৎসব খুঁজে নেয়া। সব কিছুতে ক্লান্ত হলেও যত্রতত্র বিনোদন খুঁজে নিতে এদের কখনো ক্লান্তি আসে না।

    • অপার্থিব

      রাষ্ট্র ও সমাজের সাম্প্রদায়ীকরন ঘটেছে ফলে ধর্ম যার যার উৎসব সবার কথাটা এখন শুধুই কথার কথা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি ঠিকই বলেছেন এদেশে এখন যে কোন ছুটির দিনই উৎসব, সেটা শহীদ দিবস, বিজয় দিবস, শোক দিবস যাই হোক না কেন। আসলে যাপিত জীবনের ব্যস্ততায় আর জীবনের নানা প্রতিদ্বন্দীতার চাপে মানুষ এখন অনেক ক্লান্ত, তাদের কাছে যে কোন ছুটি এখন বিনোদন মাধ্যম, ছুটি কি নিয়ে সেটা ভাবার সময় তাদের নেই। একবার এ নিয়ে নিম্নমানের একটা স্যাটায়ার লিখেছিলাম- https://sonelablog.com/%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/

      ঠিকই বলেছেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে যেমন মৌলবাদীদের ব্যবহার করে, মৌলবাদীরাও প্রয়োজনে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীদের দারস্থ হয়।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভরশীলতার কারন অনেকগুলো হতে পারে। তার মধ্যে কিছু কারন অন্যান্য ব্লগাররা আপনার এই লেখার কমেন্টে দিয়েছেন আর আপনিও প্রতি মন্তব্যতে বলেছেন। ঐগুলো সামনে রেখে আরো কিছু কারন থাকতে পারে। যেমন, একটি গৃহে একাধিক পরিবার থাকবস্থায় কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিবারের লিডিং রোল প্লে করেন। হতে পারে সে সবার পছন্দের তালিকায় থাকেন না, কিন্তু ব্যক্তিটি নিজের যোগ্যতায় ঐ অবস্থানে পৌছে যান। অবস্থানগত যোগ্যতার কারনে তার সক্ষমতা গুলো সবার নজরে থাকে। পরিবারের অন্যান্য কম ক্ষমতাবান বা স্বল্প যোগ্যতা পূর্ন মানুষ গুলো যখন নিজেদের দায়-দায়িত্ব ঠিকমতো পালনে অপরাগ হয়, তখন নিতান্ত সাধারন মানুষরা সব কিছুতে আস্থা হারিয়ে ফেলে। তারা ঐ স্বল্প ক্ষমতাবানের কাছে কিছু আশা/ প্রত্যাশা করতে পারে না, আবার সমস্যার দ্রুত সমাধানে উদগ্রিব হয়ে পড়ে। ফলে সাধারনেরা সরাসরি পরিবার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করে। পরিবার প্রধানের দায়িত্ব হলো সবার ইচ্ছাকে বিবেচনায় রাখা। সেও তার সেরাটা দিয়ে নিজের যোগ্যতার আসন সুনিশ্চিত করতে থাকে।

    এর রেজাল্ট যাইহোক, এই মনোভাবের ব্যাখ্যা দুটো আসে। ১-পরিবারের সাধারন সদস্যরা কর্তাব্যক্তির যোগ্যতার উপর খুবই সন্তুষ্ট থাকে, তাই তার কাছে সরাসরি যায়। ২-কর্তাব্যক্তিকে তার অধিনস্তদের সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত করার প্রয়াস। দেশকে যদি একটি বড়ো পরিবার হিসেবে দেখা হয় তবে, প্রধানমন্ত্রী সেই পরিবারের কর্তাব্যাক্তির ভূমিকায় থাকেন। বাকিগুলো এভাবেই মেলানো যাবে। সব কথায় প্রধানমন্ত্রীকে ডাকার অর্থ হলো মশা মারতে কামান ব্যবহার করা।

    • অপার্থিব

      মানুষ আসলে আজকাল অনেক ক্লান্ত, তাদের ধৈর্য কমে গেছে অনেক। তারা এখন যে কোন সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়, যে কোন অপরাধের বিচার হিসেবে চায় ফাঁসি। প্রধান মন্ত্রী ছাড়া আর কেউ সমস্যার দ্রুত সমাধান দিতে পারবে না এমন একটা বিশ্বাস গভীর ভাবে তৈরী হয়েছে। এখানে কর্তা ব্যক্তির যোগ্যতার চেয়ে বেশি শক্তিশালী হচ্ছে কর্তাব্যক্তির প্রতি আস্থা। যে কোন ভাবেই হোক (দুর্বল গণতন্ত্র, আইনের শাসনের অভাব) মানুষের এক ধরনের আস্থা তৈরী হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এবং সেটারই প্রতিক্রিয়া এই প্রধানমন্ত্রী নির্ভরতা।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ