কৈশোরের তালশাস বা প্রচন্ড ঝড়ে আমগাছের নিচে দাড়িয়ে আম কুড়ানোর মত ভয়ঙ্কর আনন্দ যাদের জীবনে নেই তাদের জীবনটা মেশিনের মতই নিরস ও নিরানন্দ। দশ্যিপনার বয়সটি ছিল বাঙ্গালী নদীর অবয়বে, ভয়াল করতোয়া পাড়ি দেওয়া। আবার টিএন্ডটির সামনে তৎকালীন নয়ার পুকুর নামে পরিচিত, আজকের শেরপুরের সবচেয়ে বড় নর্দমাটিতে ঝাপাঝাপি ছিল নিত্যদিনকার। পিতার চোখরাঙ্গানী সত্তেও বতর্মান আহলে হাদিস… [বিস্তারিত]
বিভাগ: একান্ত অনুভূতি
তারপর হঠাৎ একদিন তোমার আমার দূরত্বটা বাড়তে থাকবে। দেখা আর কথা হওয়ার অভাবে বা না হওয়ার প্রভাবে ভুল বোঝাবুঝিটাও চরম সীমায় গিয়ে ঠেকবে বলে রাগ ভাঙ্গানোর সুযোগটাও নষ্ট হয়ে যাবে। রাগগুলো জমতে থাকবে। তা থেকে জন্ম নেবে ঘৃণার। আর ঘৃণাটা পুষতে গিয়ে নির্লুপ্ত হয়ে যাবো দুজনেই। আর সব কিছুর মতই চোখে চোখ পড়ার, হাত ধরার… [বিস্তারিত]
ফাগুন দিনে/দিনান্তে চুপটি করে বারান্দায় বসে আকাশের সাথে কথা কয়, লাচ্চির সুবাসে, পাখিদের-সমারোহে, গোলাপ নির্যাস চোখে ঢেলে, অপলকে তাকিয়ে রয়; মায়াবী সকাল ডেকে তোলে, চল হেঁটে যাই ঐ দূর গায়ে, শিশির ডোবানো আল-পথে পা-ডুবিয়ে ইচ্ছে পাখিদের ঝাঁক উড়িয়ে; অ-কবির ইটের ভাটায় ইচ্ছে ধোয়া উড়ে যায় ঐ নীলাকাশে; অ-কবিতার অহংকারগুলো সাঁতারে বেড়ায় নদী-জলে বাতাসি-চিরকুট বাসা বাঁধে… [বিস্তারিত]
আমি একটি চিঠি লিখে পোস্ট করেছিলাম একবার, তবে প্রাপকের ঠিকানা দেইনি। ডাকপিয়ন ফেরত চিঠি নিয়ে এসে বলে- প্রাপক কই? উত্তরে বলেছিলাম - কেন ঐ আকাশ। ডাকপিয়ন মুচকি হেসে বলেছিলো - ও আপনার প্রেমিকার নাম বুঝি আকাশ? এরপর অনেকদিন কেটে গেছে, ডাকপিয়ন আর আসেনি। পরে জেনেছিলাম সে নাকি চিঠিখানি হাতে নিয়ে আকাশের ঠিকানা খুঁজে বেড়ায় রাত… [বিস্তারিত]
জ্যোৎস্নার চাঁদ-রাতে ঘুমন্ত বন জেগে ওঠে আজ সে হাসবে অট্টের হাসিতে যা সে লুকিয়ে রেখেছিল বনের জলজ উঠনে সেই কত কাল আগে; কত জল বয়ে গেল কত জল ঢেউয়ে হারালো দুকুল উপচে, কত চাঁদ মুখ লুকালো তেষ্টা-তপ্ত হৃদয়ের আহ্নিক-বার্ষিক ধাঁধার গোলকে; সুদীর্ঘ ফেরারি বৃষ্টি অতর্কিতে নেমে এসে বুনে দিয়েছে প্রাণে লীলা বীজ তুঙ্গ-হাসির কোলাহলে। [বিস্তারিত]
তবুও ভোর ঘুম থেকে জাগে পাখির মিস্টি কলতানে। ঘুমের মধু আমেজ তখনো, আলো আঁধারের সন্ধিক্ষনে অগোছালো বিছানায় দেহ এপাশ ওপাশ। আবার তন্দ্রাচ্ছন্ন ভোর। * জিসান তোকে কি চা দেবো? - না আম্মা আমি আসছি খাবার রুমে। এপথে প্রতিদিন যাই আবার ফিরে আসি। ছোট্ট শান্ত, হালকা বাতাসে অবিরাম ছোট ছোট অনুত্তাল ঢেউ এর স্নিগ্ধ নদীর পার… [বিস্তারিত]
পাঁজরের/ব্যাকপেইনের চিনচিনে ব্যথায় কেউ বালিশ এগিয়ে দেবে উত্তুঙ্গ হয়ে আছড়ে পড়া হৃদয়ে, বিনা হোঁচটে হামাগুড়ি দেবে, বেঁচে থেকে বেঁচে যাওয়ার প্রশান্তি থেকে, নিরীহ কিন্তু নির্মম অপেক্ষার হাত বাড়িয়ে দেবে; ধর্মঘটী পিকেটারের মত পুলিশের দৌঁড়ানিতে গলি পথ খুঁজতে হবে না; অমঙ্গলের উত্থিত আস্ফালন ধুলোয় লুটাবে নতজানুর বেশে, দিনান্তের অচঞ্চল অ-বিষণ্নতা স্থাণু হবে, ফাগুন-দুপুরগুলো হয়ে উঠবে লাচ্চি… [বিস্তারিত]
আমাকে ভালোবাসলে আপনি অনেক কিছু হারাবেন। আপনার ভেতর আপনি। আপনার বুকের ভেতর ভোর পাঁচটার মেঘ জমতে থাকবে। দুপুরগুলো হবে আপনার এক একটি না লেখা কবিতা, শাওয়ারে মনে আসতেই যেই লাইনগুলো লিখবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন। এভাবে পার হতে হতে আপনি রবীন্দ্রের দুপুরই দেখবেন না। পাখিগুলো কাছে এলেও তাদের ঠোঁটের ফাঁকে আপনি বিড়বিড় ছাড়া কিছুই শুনবেন না।… [বিস্তারিত]
কোকিল আজ দূর-বসন্তে, ফিরে আর আসবে না সে, যতি চিহ্নের মত স্ফুরিত বাকস্ফুর্তি নিয়ে অসবর্ণ সিড়ির সাড়িতে দাঁড়িয়ে, বন্ধন-যাতনার প্রতিধ্বনি এড়িয়ে; হয়ত আসবে বেমালুম ভুলে, ফেলে যাওয়া প্রাণ-উদ্দীপক এন্টিক মুদ্রাগুলোর টানে, যা প্রায়-ই অচল উভয় পাড়ে, উত্তরে, দক্ষিণে, পূর্ব, পশ্চিমে; বিমাতার খরঋতুতে; হয়ত আসবে ঘুর পথে বেহিশেবির পথ ধরে, তুঙ্গ-পুলকে বসন্ত বিহারের তারা-নেভা-রাতে তারা-জ্বলা-রাতে, সোনা-জ্বরে… [বিস্তারিত]
সময়ানুবর্তীতার গ্যাঁড়াকল (চাইলে ঘেরাটোপ পড়তে পারেন) পাশ কাটিয়ে এক এক করে পৌঁছে গেলাম শিল্পকলার ছাঁদন তলায়!! কী না কী লিখে ফেলি !!তালে বেতালে!! আসলে জিসান সাহেব আগেই রেকি করে এ স্থানটি মিনিআড্ডাস্থল হিশেবে চিহ্নিত করে নিয়েছিলেন। আমরা সবাই উন্মুক্ত মঞ্চ-মত জায়গায় বসে পড়লাম, কিন্তু গোল বাঁধালো বসার প্লাস্টিক চেয়ার গুলো, সংখ্যা পর্যাপ্ততায় এ যাত্রা রক্ষা,… [বিস্তারিত]
এমনি করেই একদিন মানুষ পালাতে শিখে যায়...দুপুরের অলস সময়টায় চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে না আর চেনা অভ্যাসের অপ্রাপ্তিতে... শূন্যস্থানগুলো অপরিচিত কাজে-অকাজে-বাস্তবতার যোগানে ভরাট হয়ে যায়...ভাঙা হাড়ের ক্যালসিয়ামের কঠিন পড়তের মত প্রায় ইস্পাত কঠিন খোলসে মুড়ে অতীত পালিয়ে যায়। মানুষ বাঁচতে শিখে যায়! মানুষ পালাতে শেখে - নিঃশূন্য চরাচর পরে থাকে একা, শূণ্য বোতামঘরের একাকীত্ব… [বিস্তারিত]
নদী ছিলো কোকিলের অপেক্ষায়, অনন্তকাল পাড়ি দিয়ে সময়-ঢেউয়ের হিসেব কষেছে, সেকেন্ড–মিনিট–ঘন্টা–দিন, দিন–মাস–বছর–যুগ। কোকিলের বেশে এসেছিলো কাক দলবদ্ধ হয়ে, বিরক্ত–তটস্থ হয়ে তাড়িয়েছে কখনো তাড়া দিয়ে, কখনো সাদা ভাতে। ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয়না জেনেছিলো নদী, কোকিল প্রতিক্ষার অবসরে। এসেছিলো ঝুটি বাঁধা কাকাতুয়া মনের কথা বলতে/শুনতে, ক্ষণকাল বিরতি নিয়ে সেও পালিয়েছে, নদীর গহীনে থাকা ঘুমন্ত কুমিরের খোলা… [বিস্তারিত]
বিকেল-আলোর শেষ রং-ঝুড়িটুকু চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে, নিভে যেতে যেতে প্রাণপণে কী-জানি কিছু একটা জানান দিচ্ছে, বুঝছি-না-তো কিছুই, হাজারো শোনার ভিড়ে; নামাজ-জানলায় হয়রান কোকিল ডেকে ডেকে অস্থির, কী-জানি! কাকে কী বলে! বলতে চায়; আলো আর আধারের এই আবছায়ায় ঝাঁপিয়ে পড়া অভিজাত হুল্লোড় লুকোচুরি, নিয়ত নিত্তের তোলপাড় রূপের এক জলছবি অভিনব এক ফিউশন ফেরারি । ডিগবাজি খেয়ে… [বিস্তারিত]
আয়োজনটা ভালোই ছিল। গভীর রাত, নিস্তব্ধ পরিবেশ, কক্ষের সমস্ত দেয়ালবাতি নেভানো। কেবল মাত্র ল্যাপটপের সাথে খুব অল্প পাওয়ারের লাইট জ্বলছে, যেন কক্ষের অন্য কোন বস্তুর উপর দৃষ্টি না পরে। অন্য কিছুতে দৃষ্টি দেয়া মানে সেদিকে কিছুটা হলেও মনোযোগ চলে যাওয়া। গভীর মনোযোগ কেবল ল্যাপটপ এর দিকে, লিখতে হবে কিছু একটা। তবে কি লিখবো? লেখার বিষয়বস্তু… [বিস্তারিত]
নদী বসে আছে ফাগুন-প্রতীক্ষায় এক বুক জল-সাতারে, অপেক্ষার স্পন্দনীয়তার শোভন সৌন্দর্যে বিশ্বাসের নহবত বাজিয়ে, ভালোবাসার চকচকে চাঁদ-জ্যোৎস্না নিয়ে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের হীন-ক্ষীণ শব্দ এ তল্লাটে পৌঁছে না, তপ্ত-তৃষ্ণার্ত-ক্ষুধার্ত নদী ব্যাধ-প্রতীক্ষায় কুড়ানো বুদ-স্বপ্নকে বুকে পুড়ে; ফাগুন ঝাঁপাচ্ছে কুহুতানে অন্য বনে, অন্য ভুবনে, তছনছ করার তাচ্ছিলানন্দের পৈশাচিকতার উগ্র আস্ফালনে। নদীর শিরায় শিরায় আজ বিষ-গ্লানি আগুন-উত্তাপের চ্যালেঞ্জ ধ্বনি; [বিস্তারিত]








