মূল লেখায় যান

শিরোনামহীন

রোকসানা খন্দকার রুকুসমসাময়িক১টি মন্তব্য

মাননীয় মহাজন,

আমাদের আর কি কি গেলে ভালো হয় বলবেন কি?
পাট গেছে, চিনি গেছে, চা গেছে, চামড়া গেছে। বিশ বছর আগে একটি চামড়া বিক্রি হতো তিন হাজার টাকায় গত কয়েক বছরে সেই চামড়ার মূল্য হয়েছে তিন থেকে পাঁচশত টাকা।

আর আমরা একজোড়া জুতা কিংবা স্যান্ডেল কিনছি কতো টাকায়??

কৃষিপন্যে গম গেছে। আটা এই দেশে দূর্ভিক্ষ বা গরীবের খাবার ছিল। সেই আটার দাম হু হু করে বাড়ছে। গত দুবছর ধরে আলু, পেয়াজের দাম না পেয়ে কৃষক এবছর আলু,পেয়াজ তেমন একটা করছে না।
ধানবিক্রি হয়েছে ৭০০-৯০০ টাকায়। চালের দাম কি কমেছে? আপনারা মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দমাতে পেরেছেন??

খোলা বাজারে সার নেই? অথচ ডিলারকে আলাপ করতে শুনি, বীজ কিনতে টাকা লাগবে। বিএস এর কথা না শুনে গোডাউনে যতো সার আছে বিক্রি করে দে।

কৃষক ধ্বংস হলে,কৃষি ধ্বংস হলে পাশের দেশ থেকে চাল,পেয়াজ এনে কি পারবেন সামলাতে? হয়তো পাশের দেশ লাভবান হচ্ছে। এতে তাদের যতটুকু না দোষ -তারচেয়ে বেশি আমরা নিজেরা দায়ী। আমরাই অপরাজনীতি করে তাদের সুবিধা করে দিচ্ছি। এদেশ থেকে অপরাজনীতি কখন বিদায় নিবে? কতোটাকা,কতোসুবিধা হলে একজন রাজনীতিবিদের জীবন চলে বলবেন কি??

দেশে জেলা পর্যায়ে কুটির শিল্প একসময় জমজমাট ছিল। সেগুলো একটা একটা করে শেষ। এই এক গার্মেন্টস শিল্পের উপর ভর করে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে ছিল। আপনারা আমলাদের খুশি করতে পে স্কেল দিলেন। তিনমাসে গ্যাসের দাম বাড়লো তিনবার, তেলের দাম বাড়লো, বাকি সকল নিত্যপন্যের দাম বাড়লো। খেটে খাওয়া মানুষ এখন রাস্তায়। গাড়ি ভাঙছে, পুলিশের সাথে মারামারি করে নিজেরা মরছে। দেশে একদিনে মরে ৮০-৮৫ জন। আমলারা লাশের উপর বসে আছে, রাজনীতি লাশের উপর বসে আছে। আর কতো লাশ হলে আপনাদের গদি পোক্ত আর উঁচু হয়?

মানুষ যাকেই আশা নিয়ে আনে সেই বানের জলের মতো ভাসায় দেয়। আমরা সাধারণ, আমাদের কথাও ভাবুন। দুবেলা দুমুঠো ভাতের আশ্বাসবাণী দিয়ে গতিতে বসেন তারপর আমরা ভাত পাই না।

এখন এই পোশাকশিল্পের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেনীর আয়ের সবচে বড় অংশ, এটাকেও গিলতে চাচ্ছে এক বা একাধিক মহল।

তারপর কি হবে আমাদের ??

সস্তা রাজনীতি আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। আর কতদিন এভাবে চলবে ??

মোট পড়েছেনঃ ৮জনআজ পড়েছেনঃ ৮জন

১টি মন্তব্য