নিমজ্জনের আমন্ত্রণ চিঠির চিঠিতে

  কল্পনা-ক্লান্ততায় ভর করে আছে কসমিক কান্না, কাঁপতে থাকা খর-তাপ চলছে এঁকে-বেঁকে, পথে ঘাটে, বাজারে, লঞ্চে, নৌকায়, গলি পথে, শুধুই মানুশ আর মানুশ! কিছু কী ঘটেছে? চিঠিকে চিঠি দেয়ার কথা ভাবছি চিঠি নেয়ার-ও; কোন মহাজাগতিক প্রশান্ত/প্রশস্ত অপরাধ উত্তাল-উল্লাস ফুসফুসে! মৌনী হয়ে ভাবতে বসি, ক্যামনে কী? আদিগন্ত জুড়ে হুল্লোড়-মাতম! চিঠি চাই; পা টিপে টিপে ফোঁটা কয়েক [বিস্তারিত নিমজ্জনের আমন্ত্রণ চিঠির চিঠিতে]

ছুটি ছুটে ছুটে যায়

  কর্মব্যস্ত জীবনে ছুটি যেন সোনার হরিণ প্রতি সপ্তাহে হিসেব গোনা, শুক্রবার কত দূরে লাগামহীন গতিতে চলা জীবন ছুটির প্রতীক্ষায় কান পেতে রই। শুক্র-শনির সাথে যদি বাড়তি ছুটি জুটে যায় তখন মনে হয় প্রজাপতির রঙিন ডানায় ভর করে ছুটে যাই কোন অজানার প্রান্তে। ছুটির দিন নিয়ে কত পরিকল্পনা ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে তাই ছুটির হিসাব [বিস্তারিত ছুটি ছুটে ছুটে যায়]

বাতাসের ঘ্রাণে ঘ্রাণে

  পিলপিল করে ধেয়ে আসছে দুর্যোগ-দুর্বিপাক দলে দলে, চিনচিনে স্যাঁতসেঁতে ভয়ের সর্বস্বতায়, বিফল যখন নির্জন অশ্রুপাত, নির্বিকার সূত্রহীন ভ্যাবাচ্যাকা অন্তরের অভ্যন্তরে শুধুই স্মৃতির যন্ত্রণা; নিরেট ইউরেকা ইউরেকা শুধুই ধড়ফড়ে দুঃস্বপ্ন, ক্ষতযুক্ত ম্লান প্রাণে শুধুই খুঁজে ফেরা একটুখানি উদ্ধার চিহ্ন; অন্তহীন হিবিজিবি হৃৎপিণ্ডে দিনের পর দিন স্পন্দমান হৃদয়ের খোঁজ,সামান্যের উত্তাল প্রশান্তিতে, হইহুল্লোড়ের সাক্ষী-সাবুদ লুকিয়ে; যেখানে এখন [বিস্তারিত বাতাসের ঘ্রাণে ঘ্রাণে]

আর্ত প্রতিধ্বনি

  ঐ কার কান্না শুনতে পাচ্ছি মুহুর্মুহু ? চূর্ণ হৃদয়ের কম্প তুলে, ছিন্নমূল বৃক্ষ নাকি দেব শিশু! পুড়তে থাকা উত্তাল উন্মাদনায় সূর্যাস্তের তাপ জুড়ালেও ক্রুশবিদ্ধতার হাহাকার মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে-ই গড়ায়। আগুন এখন মরন্ত, তবুও নির্নিমেষ বুকফাটা আর্ত-প্রতিধ্বনি লাগামহীন অশ্বারোহী; বৈধব্যের কয়লা রাঙা দিগন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে, কষ্ট এখন অর্থহীনের বাঙময়তায় শুধুই উচ্ছিষ্টের জটলা, নালায় বয়ে যাওয়া [বিস্তারিত আর্ত প্রতিধ্বনি]

স্থিত শীত

কবে থেকে রাত দিন সমান হয়ে গেছে! গুণে রাখিনি। সকাল হবার আগেই বেমক্কা সোজা দুপুর গড়িয়ে আসে!  লোকে যারে নিশি রাত বলে! প্রহরী হয়ে থাকি তারে সাথে। মাঝরাতেও কাকেদের কান্না ভেসে আসে জানলার ওপাশে… নাকি কোকিলের ডিম চিনতে পারেনি বলে, ওই মাঝরাতে কোকিলের প্রতারণায় চিৎকার চেঁচামেচি  করে? হতেও পারে! আমি শুধু কালো কাঁচের এপারে চুপচাপ [বিস্তারিত স্থিত শীত]

বেঁচে থাকা

সহজাত সংগ্রাম আপ্রাণ অভিলাষ যতকষ্ট, আঘাত, বেদনা-বিধুর ও বন্ধুর পথ অটল দিতে হবে পাড়ি করিতে হবে জয় নিশ্চিত। বাঁচার জন্যই যে স্পৃহা তাহা নিশ্চিত মৃত্যু বরঞ্চ হাগ মৃত্যুরে যে না দেবে ফিরায়ে। বরং নশ্বর ধরায় মানব সেবায় বেঁচে থাকার হাতিয়ার জনে জনে সকলের! অন্ন বস্ত্র নিবারণ সাথে মনুসত্য লাগে আর কি বল? গ্রাম বাংলার সবুজাভা [বিস্তারিত বেঁচে থাকা]

কথা ছিল নির্বাণ হওয়ার

আমি ও স্বার্থপর। রোজ ঘুমুতে যাওয়ার আগে ভাবি, কাউকে কষ্ট দিবোনা, কেউ কষ্ট দিলে নিবোনা। সকাল হলেই দিতে যদি ও কার্পণ্য করি, নিতে দু’হাত পেতে রাখি। রোজ ভাবি ক্ষমা নিব এবং দিব, তা-ও হয়না, আত্মঅহম এসে বাধ সাধে। রোজ ভাবি, ভালোবাসার ভালোবাসাকে ভালোবাসব,কিন্তু ঈর্ষা দলা পাকায়, কষ্টের মেঘ জমে বুকের বাঁ পাশে। আমি আর স্বচ্ছ [বিস্তারিত কথা ছিল নির্বাণ হওয়ার]

কতটুকু পারলাম

কতটুকু পারলাম! জীবনে কত কিছুর হিসাব করি। হিসেবের সরল খাতায় কখনো যোগ-বিয়োগ মিলে, কখনো মিলে না। তবু পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষেই চলেছি। জাবেদা, রেওয়ামিল, আসল , মুনাফা কতো হিসাব। জীবনের যোজন বিয়োজনে কখনো প্লাস, কখনো মাইনাস। শ্রেষ্ঠ মাস রমজান। প্রতি বছরই রমজান আসার আগে মনে মনে কত পরিকল্পনা হয়ে যায়। অন্তত এ বছর রমজান [বিস্তারিত কতটুকু পারলাম]

একদিন ক্যান্সারের সাথে

আমিও প্রচন্ড বইপোকা ছিলাম। ব্যস্ততার ফাঁকে বইয়ের মলাটে হাত বুলানোটা সেই স্কুল জীবনের অভ্যাস। আজ অসহ্যহীন ক্যান্সারে হসপিটালের বেডে শুয়ে আছি। ইচ্ছে করছে একটা ভালোবাসার উপন্যাস পড়ি। কিন্তু মাথায় ডাক্তার অক্সিজেনের মত যে যন্ত্র লাগিয়ে দিয়েছে। সেটা নাকে নিয়ে বই পড়া সম্ভব হবেনা। কিন্তু পরিচয়ের আগে শুনেছিলাম ;তুমিও বইপোকা। বইপড়া বড্ড নেশা তোমার! আজ জীবন-মরণ [বিস্তারিত একদিন ক্যান্সারের সাথে]

‘বয়স বাড়লে বন্ধু হারিয়ে যায়’

বয়স বিশ পেরিয়ে গেলেই মানুষ একা হয়ে যায়। একটা সময় ছিল বয়স নিয়ে চিন্তাই হতনা। স্কুল জীবন, কলেজ জীবন এসব নিয়ে খুব বোরিং ফিল করতাম। মাঝে মধ্যে পড়ার টেবিলে অংক বইটা খুলে পাঠিগণিত যখন মগজে ঢুকতোনা। তখন ভাবতাম পড়ালেখার হাত থেকে কবে মুক্তি পাব! কবে বড় হব আর কবে এই লেখাপড়ার বুঝাটা মাথা থেকে নামবে। [বিস্তারিত ‘বয়স বাড়লে বন্ধু হারিয়ে যায়’]

এই বলে গেলুম

পাড়হীন সাদা থান জড়িয়ে এক দিন- ক্ষন গুনে নিয়ে হাঁটতে থাকব। সাড়ে তিনহাত ছেড়ে হাঁটতে  থাকব।  মাটি ছেড়ে, বরই পাতার স্নান সেড়ে, কর্পূর আর লোবানের গন্ধ রেখে, খালি পায়ে হাঁটতে শুরু করব। পায়ের তালু ফেটে রক্তাক্ত চিহ্ন রেখে – যেতে যেতে যেতে– শুকনো মরা পাতাগুলোও উঁকি দিয়ে দেখবে….বৈধব্যের বেশে কে যায় অবশেষে! ধুলিকণা ভিজে কঁকিয়ে [বিস্তারিত এই বলে গেলুম]

মন এবং মগজ

কখনো এমন হয়েছে ;আপনি দীর্ঘক্ষণ ফেসবুকে এক্টিভ। কখনো ফেসবুক ভিডিও দেখছেন। কখনো বা নিউজফিল্ড এসে নিচে স্ক্রল করে সবার পোস্টে চোখ হাঁটাচ্ছেন! বাট কারো পোস্টে লাইক কিংবা কমেন্ট করছেন নাহ। কখনো কী এমন হয়েছে ;পরিচিত অনেকেই চ্যাট লিস্টে এক্টিভ। কিন্তু কাউকেই নিজ থেকে ম্যাসেজ দিতে ইচ্ছে করছেনা। অন্য কেউ ম্যাসেজ দিচ্ছে কি নাহ সেটাও নোটিশ [বিস্তারিত মন এবং মগজ]

সতীনের সং-সার

গত কয়েক বছর ধরে শীতলি করন যন্ত্র (ফ্রিজ বলে পরিচিত যা) আমার সাথে সতীনের আচরন করে যাচ্ছে নির্বিকারে। একে একে অনেকগুলো বছর আমি ঝগড়া,চেঁচামেচি,  যাচ্ছেতাই মেজাজের বারোটা/তেরোটা বাজিয়ে বাজিয়ে সেই সতীন নিয়াই ওপার বাংলা’র সিনেমার সন্ধ্যা রানী অথবা আমাদের দেশিয় সিনেমার শাবানা ম্যাডামের মত মহা ধৈর্যের সাথে সংসার করে যাচ্ছি। রমজান মাস এলেই আমার সতীনের [বিস্তারিত সতীনের সং-সার]

শিরোনামহীন

আমার শেকল পরা হাত জানে, একটা শিশির ভেজা সকাল কখনো লেখা হয়নি। একটা দুপুর জানে, আমার কাছ থেকে কি করে কেড়ে নেয়া হয়েছে নিস্তব্ধ প্রহরের গুনগুনানী। পেরেক ফোঁটা পায়ের তালু জানে, সীমানা লঙ্ঘন করে কি করে রেখে এসেছে চিন্হ কাঁটাতারের ওপারে! একটা ঝড়ের বিকেল জানে,  কি করে ঝড় আসার আগেই লিখে নিয়েছে আমার সমস্ত অনুভূতির [বিস্তারিত শিরোনামহীন]

সেহেরি-স্মৃতি বর্তমান

ছোটবেলায় রোজার মাসে আমি নিয়মিত ইফতার খেলেও প্রায় সময়ে সেহেরি খেতে পারতাম না। ঘুম ভাঙতো না। মা, বাবা, নানা নানী, খালা মামা, এমনকি বাড়ির পোষা মোরগ-মুরগিদেরকেও অনুরোধ করতাম যেন ঠিক সময়মতো আমাকে ডেকে দেয়। মা অনেক ডাকতো,কিন্তু সেহেরির বেশিরভাগ সময়েই আমাকে জাগাতে ব্যর্থ হতেন। আমি অনেক দেরিতে রোজা রাখতে শুরু করেছিলাম। ক্ষিদে সহ্য করতে পারতাম [বিস্তারিত সেহেরি-স্মৃতি বর্তমান]