প্রগলভ হতে ইচ্ছে করে

  বাদলের অঝোর ধারায় অদৃশ্যেরা দৃশ্যমান হয়, কাছে আসে, উচ্ছ্বাসের পালে হাওয়ারা নেচে ওঠে প্রমত্ত ওপারের নদী আর কতদূর! স্রোতের টান উপেক্ষা করে কলহাস্য ভেসে আসে, কোলাহল ভেদ করে; দূষণ দুঃস্বপ্নের দুর্ভেদ্য চাটিবাটি গুটিয়েছে এবারে। এমন দুর্যোগের দুর্বিপাক পেড়িয়ে এসে শাসন না-মানা স্মৃতিরা, পিছু টানে রীতিবিরুদ্ধতায়, এখানের এই ফেরিঘাটের কত শত শত রাতে-বিরাতের! বয়ে যাওয়া [বিস্তারিত প্রগলভ হতে ইচ্ছে করে]

অর্থের নয় অপচয়, অতিরিক্ত কেনা নয়

ভাই কাঁঠাল বিচী কত করে ? দোকানী দাম বলল। আড়াইশো গ্রাম দেন তো। দোকানী অনেকটা বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বলল, আড়াইশো গ্রাম দিয়ে কী করবেন। কী করবো সেটা আমার ব্যাপার। কিছুটা নমিত স্বরে বলল। না কেউ আড়াইশো গ্রাম চায় না, আপনি চাইলেন। কারো কম দরকার হয় না, আমার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই নিব। দোকানীর চোখে মুখে আবারো [বিস্তারিত অর্থের নয় অপচয়, অতিরিক্ত কেনা নয়]

মেঘেদের দস্যুতা

  সর্বস্বান্তের ক্ষতবিক্ষততাই এখন একান্ত জ্বলজ্বলে সত্য, এই দুর্যোগময় মুহূর্তে, নেমে আসছে প্যারাসুটে করে ঝাকঝাক বৃষ্টি, নিপাট উড়াল ভঙ্গিতে; গাল ফুলিয়ে এঁকে-বেঁকে বইছে দুর্ধর্ষ নদী সুইং মুড এখন জলদস্যুতাতে, নির্বিকারের স্বতঃস্ফুর্তিতে মিশিয়ে দেবে মিশে যাবে ঐ দূর সমুদ্রের উত্তালে; নিরাশ্রয়ের মাধুকরী! হা হতোস্মি! ধূসর, ঝানু ধুরন্ধর মেঘেদের সারি গুটি বাজিতে মত্ত/ব্যস্ত, ফুঁসে ওঠা নদীদের ঢেউ-জলে। [বিস্তারিত মেঘেদের দস্যুতা]

শব্দগত

  ইটের পর ইট গেঁথে মাঠের এ ধানি জমিতে কঙ্ক্রীট-মিক্সারের এক আবাসস্থল গড়ে উঠছে। এইতো বছর দুয়েক আগেও আমি যখন এদিকে চোখের ট্রিটমেন্টএ আসতাম তখন যতোদূর দৃষ্টি যেতো শুধু ফসলি জমিই চোখে পড়তো। খুব করে চেয়েছিলাম মানে নিজের সাথে নিজের এক পণ ছিলো আমি কখনো ফসলি জমি নষ্ট করব না। তার বুকে গড়ে উঠবে না [বিস্তারিত শব্দগত]

তোমার অপেক্ষায়

– ম্যাম কি কি রান্না? – আজ গরুর ভূড়ি রান্না হবে। বাকি বলা যাবে না। – আমাকে ছাড়া খেলে পেট খারাপ হবে? আমি আসি তারপর! তারপর আর খাওয়া হয় না। তুলে রাখি তার জন্য। সামনে সমস্ত দিয়ে শুধু বসে থাকা। কারও জন্য রান্নার পর সে যখন তৃপ্তি করে খায় এ দৃশ্য অনেক মধুর! তোমাকে খেতে [বিস্তারিত তোমার অপেক্ষায়]

প্লাবনে প্লাবনে

  এই থমকে যাওয়া ক্লান্ত রাত যখন দারুণ মায়াময় বিষণ্ণতায় হেঁটে হেঁটে যায়, ঋতুর কান্না নিয়ে, শুনে শুনে, নিঃস্পৃহ প্লাবনে প্লাবনে, বৃষ্টির উদ্দাম নাচনে বিষে বিষ ঢেলে; খাটো হয়ে আসা প্রাণ-চঞ্চলতা হাসপাতাল মৃত্যুর মত ক্রমান্বয়ে গ্রাস করতে থাকে, ডুবিয়ে দেয়া বর্ষারা ঝাঁপিয়ে পড়ে জানান দিয়ে দিয়ে, ডুববে ডুবাবে এমন পণ নিয়ে; দিশেহারার মত সবাই মিশে [বিস্তারিত প্লাবনে প্লাবনে]

নিশুতি নিবন্ধন

নদী তুমি আমায় ভুলেছো? -কই! নাতো, তুমিই ভুলে গেছো সত্যি?  তোমার চোখ ছুঁয়ে বলো – কাব্যিকতা ছাড়, চোখ ছোঁয়া যাবে না। কেন এসেছো ঝটপট বলে ফেলো। আজ আবেদন নিয়ে এসেছি, একটা নির্ঘুম আলাপন চাই -কিন্তু..আজ ভীষণ ক্লান্ত দেখো, রাতেরও নিবেদন থাকে, ক্লান্তি ছেড়ে উঠে বসো। প্রিয় কোন গান শুনে নিতে পারো, চুমুক দিতে পারো চায়ের [বিস্তারিত নিশুতি নিবন্ধন]

ভূখা অক্ষর

শুধু নির্বোধ কিছু অক্ষর থেকে বিচ্ছুরিত হতেই থাকে অস্ফুট ছুটে চলার নিঃশর্ত দাবি-দাওয়া। নিঘুম  মন;  রাত চড়ে বেড়ায় আরশোলা পায়ের ছাপে। স্বপ্নভূখ  অমাবশ্যার পেট কেটে নেমে আসে ভোরের জীবন; যে জীবনে হতচ্ছারা সব সময়ের কাটাকুটি চলতেই থাকে, ভাগ-গুণ-আর ঐকিক নিয়মের ভুলে ভরা ফলাফল। বাস্পীয় জলের রূপ  জমে থাকে ঘাসের শরীরে । সেও যেন প্রাচীন সেইসব [বিস্তারিত ভূখা অক্ষর]

বৃষ্টি বন্দনা

  ছুটির দিন। ঘুমটা বেশ আয়েশে হয়। প্রতিদিনের মতো তাড়া থাকে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশ কালো হয়ে আছে। আকাশের মুখ ভার তাতে আমার কি। আজ তো ছুটি। অবশ্য ছুটির দিন না হলে আকাশের মুখ ভার দেখে খুব কষ্ট পেতাম। বৃষ্টি কাদা মাড়িয়ে অফিসে যাওয়া। বৃষ্টির দিনে আগুন ছোঁয়া রিকশা ভাড়া। ওসকল ভোগান্তি [বিস্তারিত বৃষ্টি বন্দনা]

কথোপকথোন ২

মেয়েঃ এত দেরী হলো কেন? সেই কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি তোমার জন্য। ছেলেঃ আর বলো না। এত জ্যাম রাস্তায়…. মেয়েঃ থাক, হয়েছে। সবসময় অজুহাত দেয়াটাই তোমার কাজ। তোমার মাঝে বিন্দুমাত্র সময়ানুবর্তিতা নেই। ছেলেঃ দুঃখিত বলা ছাড়া আমার আর কোন কিছু বলার নেই। মেয়েঃ আর কি বলার আছে শুনি? যুগ যুগ ধরে মেয়েরাই তো অপেক্ষায় থাকে। [বিস্তারিত কথোপকথোন ২]

হাসি মুখ স্বপ্ন

  আমার অ-ঘুমন্ত হৃদয়-মন টানটান এখানে নৈশ-কালীন পরিপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে, কেড়ে নেয়া ঘুম-চোখ মেতে আছে রং-উল্লাসের তীব্রতায়; মৃত সন্ধ্যা ক্রমশ গাঢ় হতে হতে গোপন আস্তানা ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছে; আমি শুধু একটু নিঃসঙ্গ পাখির ছবি হাসতে হাসতে এঁকে দিতে চাই, গভীর কালো আকাশের গায়ে; এই রাত্তিরটা কেটে গেলে ভোর হবে, ভোর আসবে, কলি ফোঁটার শব্দ নিয়ে, [বিস্তারিত হাসি মুখ স্বপ্ন]

আক্ষেপহীন

  আজকাল আমাকে খুব করে খুঁজি, খুঁজছি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছি অবসর কাগজে প্রতি পাতায় পাতায় শিরোনামসহ দগদগে লাল অক্ষরে, তবু কারো চোখে পড়ে না। আমার পাওয়ারই চশমাও আজকাল ঝাঁপসা বড়, নেই, আমার কোনো হদিস নেই কোথাও। শুধু টের পাই, দিন শেষে এক রাত্রি নামে উদ্দেশ্যহীন, গন্তব্যহীন। দীর্ঘ সন্ধ্যাজুড়ে যে কুমারি মুহূর্ত তাতেও আমার হৃদস্পন্দনের কোনো [বিস্তারিত আক্ষেপহীন]

বিস্মরণের তিন

  রোদ্দুর ছুঁতে চেয়ে/ একটা অনাড়ম্বর দিন জেগে উঠেছিলো দোয়েলের ঠোঁটে শিষ দিয়ে। জানালার কার্নিশে ভর করা রোদ্দুর ছুঁয়ে নেমে এসে বলে গিয়েছিলো….গতকাল বিদায় নিয়ে চলে গ্যাছে…… আজকের আলোটুকু ধার করে নিয়ে এসে বলে যাই…. আগামীকাল ও এমনি করে আসব কিনা জানি না; আজ তুমি ধার করা আলোয় হয়ে ওঠো ঋনী…. এটুকুই তোমার জন্য দামী। [বিস্তারিত বিস্মরণের তিন]

আলাপন

  অনুকথনঃ মস্তপাহাড় ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ে আছে এক পাথরখণ্ড,, তা এখন অবাঞ্ছিত অপ্রয়োজনীয় নিদর্শন চিন্হিত অতি ক্ষৃদ্র ভাষ্কর্য মোহোকালের এক ভারি বস্তু যেনো। তাতে অপলক দৃষ্টি ফেলে যে অবয়ব ফোটে তা নিজেরই প্রতিচ্ছবি। যে দৃষ্টিতে পলক নেই,, নির্বাক স্থির ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা। তার মতো আমার অন্তরআত্মার সকল আবেগ ক্ষয়ে গেছে একটু একটু। পার্থক্য শুধু আমায় [বিস্তারিত আলাপন]

শব্দ স্মরণের দিনে

  অনেক অনেকানেক-দিন আমার সাথে আমার দেখা হয়-না, ঝুঁকে পড়ে স্থির চোখে তাকিয়ে-ও ভাবনাগুলোর দেখা পাওয়া যায়-ই-না; আলোয় সাঁতরে বেড়ানো ঝক্‌ঝকে কারুকাজময় শব্দগুলো রূপ-রঙের ডানায় ভর করে পাল্টে যাচ্ছে কী না কে জানে! অপ্রতিরোধ্য ভাবে ভয়ানক চুপচাপ/চুপিসারে অন্য কোথাও উঁকিঝুঁকি দিয়ে কী না কী ভাবছে! স্থির আবেগের মালভূমিতে, কিরণ সূর্যের লালচে আভায়, জানি না, জানতেও [বিস্তারিত শব্দ স্মরণের দিনে]