মোনাজাত

দু’ফোঁটা অশ্রু তোমারে দিলাম হে রহিম রহমান, ফিরাইওনা আজি শীর্ণ দু’হাত রেখো না গো অভিমান। কতো লোক শুয়ে আন্ধার গোরে বুঝি বড় অসহায়, অনুগত মেনে ঠাঁই দাও প্রভু পবিত্র চরণায়। দুনিয়ার পথে চলতে যা পাপ করেছিলো ভাঁড়ে জমা, শুধু গুনে ভরা নামের শানেই করে দাও তুমি ক্ষমা। সকলের হৃদে স্বর্গের সুখ কৃপায় করো গো দান, [বিস্তারিত মোনাজাত]

একটুখানি ঘুম

আজ কেন যেন ঘুম এলোনা, কারুর আসার কথা ছিল সে-ও এলোনা। দুঃখ সুখের মুহূর্তরা না বলেই চলে যায়, রেখে যায় রেশ, চাঁদের পশরা না সাজলেও মেঘের আড়ালে রয়ে যায় জোছনার টিমটিমে আবেশ! জেনে গেছে আমার আকাশ, কোথাও চুটিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে বেশ! কানেকানে সেকথা গুনগুনিয়ে বলেছে ঠান্ডা জলীয় বাষ্প! অকারণে আজ ঘুম পালাল, রাত তার পুরনো [বিস্তারিত একটুখানি ঘুম]

পুণ্যতোয়া

ভালোবাসা ঝরা পাতা অঘ্রাণে ঝরে যায়, ইতিউতি ফড়িঙেরা উড়ায় পুরোটা দিন শৌখিন ঘুড়ি, দিন শেষে ল্যাম্পপোস্টে নিকোটিন ছাই হয়, বসে থাকে রাজপথ নিঃস্ব একাকী, অথচ আরব্য রজনী তখনো অনেক বাকি!   সহস্র রাত জুড়ে ফুটে থাকে যে ক্যামেলিয়া, হয়ত তুমি সেই হারানো অফেলিয়া! ভালোবাসা হেমিংওয়ে ও ক্লান্ত বৃদ্ধলোক, গোধুলি বেলাতে আসে ধীর পায়ে হেঁটে, মাড়িয়ে [বিস্তারিত পুণ্যতোয়া]

চৈতন্যের আত্মবিস্মরণে (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

আমরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পৃথিবীর দুই প্রান্তে। দেশ ভাগের মত আমরাও কাঁটাতারের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি। অভিমানের বয়স বাড়ে জটাধারী বটবৃক্ষের মত। অভিযোগেরা কি তরুণ তোমার পানের ডিব্বায়! যেন ঈশ্বর শলাকা, লিকলিকে – ভাষা ভেদে তোমাকে পাঠ করছে মহাজাগতিক অপরিমেয় শূণ্যতায়। তবুও তুমি পুঞ্জবিশেষ। আচ্ছা! তুমি – এখনও কি কাঁদো লুকিয়ে লুকিয়ে? যা আমাকে আড়াল করতে [বিস্তারিত চৈতন্যের আত্মবিস্মরণে (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

আম্মার চোখে যে ইদ লেগে আছে।

চারদিক থেকে মুয়াজ্জিন ডাকছেন উচ্চস্বরে আসসালাতু খাইরুম মিনান্ নাঊম… আম্মা উঠে পড়েছেন বহু আগে রান্না ঘর থেকে কেমন যেনো ইদ ইদ গন্ধ ভেসে আসে আম্মার শরীর থেকেই সেই গন্ধ মৌ মৌ করে ভেসে আসে ঘরে, মিশে যায় বাতাসে বাতাসে।    আমি বসে আছি, অবশ চোখে দেখছি সেই মধুর দৃশ্য।আম্মার চোখে ইদের তুমুল ব্যস্ততা, আহা কি [বিস্তারিত আম্মার চোখে যে ইদ লেগে আছে।]

ঈদ মোবারক (গীতিকাব্য)

কিসের এতো গোসসা রে ভাই কও ভুলে আজ জিদ – ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ! কালের সেরা রূপ হতে ভাই আস্থা রেখে বেশ, বুকের সাথে বুক মিলিয়ে যাও ভুলে সব দ্বেষ। দু’দিনের নয় কে অতিথি? এক গলে গাও সুখের গীতি ঢালতে চোখে নিদ – ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ মোবারক ঈদ! ভাগ করে [বিস্তারিত ঈদ মোবারক (গীতিকাব্য)]

জীবন উপাখ্যান

জীবনের রঙ কী বহুপদী জীবনের রস কী টক, ঝাল, মিষ্টি। জীবন কী বুকে জমে থাকা সফেদ ফেনিল সাদা উত্তাল ঢেউ। জীবন কী চোখের কোণে জমানো না দেখা অশ্রু বিন্দু। জীবন কী কনে দেখা আলোয় প্রতীক্ষারত ঘোমটা টানা লাজুক বধু। জীবন কী যোগ বিয়োগের হিসাব মিলানো বছর শেষে বদলানো নতুন হালখাতা। জীবন মানে কী শুধু আক্ষেপ [বিস্তারিত জীবন উপাখ্যান]

নীলাম্বরী

উতলা মেঘের দিন ডাকছে প্রলয়, শস্যক্ষেতে কুয়াশায় ঢাকা গুচ্ছ গুচ্ছ মাশরুম, প্রাচীন প্রেমের সাথে উড়ে আসে বোধিবৃক্ষে ঘুম! এই বৃক্ষতলে হেঁটেছিল চাঁদ বুকে নিয়ে হারানোর ভয়, নির্লিপ্ত প্রহরে নেমেছিল পৃথিবীর বুকে তীব্র রক্তক্ষয়! বারান্দায় দেবদূত উঁকি দিয়ে খোঁজে কারো নামধাম, জানেন ঈশ্বর, মৃত নদীরা মূলত হয়ে যায় নিলাম! নক্ষত্রের ছায়া মেখে অতল জলে নাচছে সে [বিস্তারিত নীলাম্বরী]

জ্ঞান দাও প্রভু! (গীতিকাব্য)

জ্ঞান প্রভু দাও আমায় তুমি আপন ভেবে অন্তরে – কান্দি আমি ধুলায় শুয়ে ভুল করে! বিষম কাতরে – কান্দি আমি ধুলায় শুয়ে ভুল করে! দেহ ফেলে দাম দিয়েছি কিনে রঙিন জামা, সোনা বিনে আজ বুঝি তাই ভান্ডে শুধুই তামা। না যদি পাপ করলে ক্ষমা তুলবে কে কও হাত ধরে – কান্দি আমি ধুলায় শুয়ে ভুল [বিস্তারিত জ্ঞান দাও প্রভু! (গীতিকাব্য)]

আমি কি তোমায় ছুঁতে পারি না?

তুমি প্রেম ছুঁয়ে দেখো নি বলে আমি কি তোমায় ছুঁতে পারি না? দুচোখ ভরে দেখব বলে, তোমার দিকে নির্নিমেষে কি চেয়ে থাকতে পারি না? তোমার চুলে যখন রাঙামাটির ফুল গুঁজে থাকে তখন ভীষণ ঈর্ষা হয় তোমার প্রতি। নদী যখন তোমায় ডাকে আমি তখন তোমায় মধুমাধবী রাগে থামিয়ে রাখি! তা কি তুমি জানো? আজ বৈশাখের প্রথম [বিস্তারিত আমি কি তোমায় ছুঁতে পারি না?]

ব্যাথাভরা একদিন

আজ বুকটায় বড় যন্ত্রণা! এই মাত্র পেলাম বহুল কাঙ্খিত একটি সফল বেদনা, বাম স্কন্ধে সুখের মত রিনরিনে ব্যাথার আনাগোনা! এ ব্যাথা হৃদযন্ত্র টের পায়না, টের পায়না মনের গোপন আয়না! তোমার আধেক ব্যাথা শুষে নেয় নিকোটিন, আধেক নেয় আকাশের নীল। আমি যে বন্দিনী! কুৎসা জুগুপ্সার ভয়ে সূর্য দেখা হয়নি কোনদিন। আমার ব্যাথার কথা বলা বারণ, হৃদয়টাই বারংবার [বিস্তারিত ব্যাথাভরা একদিন]

এখানে।

এখানে জেগে থাকে চাঁদ নাগরিক কোলাহলে বুকের মলাট খুলে এগিয়ে যায় শব্দের সহস্র মিছিল ধীর পায়ে, প্রভাত ফেরির মৌন বেদনায় কুলুপে আটা থাকে মুখ – নিশ্চুপ স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে। তারপর নেমে আসে রাত,আর্তনাদ সামুদ্রের নীল জলে। এখানে কবুতর উড়ে গেলে আরেকটা কবিতা লেখা হয়, এখানে আত্মহত্যা গোপনে বৈধ হয়।   এখানে বিকেল হলে ঝুপঝাপ নেমে পড়ে [বিস্তারিত এখানে।]

ডায়রি ৭১ এবং টর্চার সেল

ডায়রী’৭১ ———— সেই শকুন, সেই কালো শকুন আবারো ধারালো নখ নিয়ে লোভী চোখের নজর দিয়েছে লাল সবুজের পতাকায়। সেই কালো কুকুরটা যে ছোট শিশুর কঁচি শরীরের কাঁচা মাংস খেয়েছিল একদিন উদরপুর্তি করে, সে আবারো ঘুরছে পুরনো দিনের ছবি নতুন করে দেখছে বলে। সেই মুক্তিসেনা যে বস্তা ভরা বাঙ্গালীর চোঁখ পেয়েছিল কনসেন্ট্রেশন ক্যম্পে, যাদের হত্যা করা [বিস্তারিত ডায়রি ৭১ এবং টর্চার সেল]

শূন্যতা

শূন্যতা,,   তোমার শূন্যতা থেকেই গেলো বাস্তবতার আড়ালে জমে থাকা স্মৃতির দেয়ালে, উষ্ম উত্তাপে, বিবর্ণ শব্দের আকারে! তুমি অকারণে পঞ্চচূড়া নিয়েও চিন্তামগ্ন।   আমি নৈমিত্তিক মরণের সুর – শূন্যতার কাছে এসে পারে থাকি ঝুলন্ত ফ্রেমে, স্বপনের সাজসজ্জা লুকিয়ে থাকি কান্তি মায়া নির্ঘুম চোখে জল গভীরে নিঃসঙ্গ এক পাখি।   তব তোমার স্নিগ্ধ মায়া, মধুর আলিঙ্গন [বিস্তারিত শূন্যতা]

অর্ধেক জীবন

।। অর্ধেক জীবন ।।   সূর্য এখন মাঝ আকাশে ভাস্বর।   স্নিগ্ধ সকালের আবেশ আর নেই, বরং খরতাপে জর্জর চৌদিক সংসার ঘর বসত ।   এবার উতরাই । ক্রমশ নীচের দিকে নামা । মাটির কাছাকাছি। ফসল গোছানোর পালা । গর্জনশীল চল্লিশার পর শান্ত সমুদ্দুরে এখন অশ্ব-বিসর্জনের পালা । ভারী জাহাজের কাপ্তানের হালকা হওয়ার সন্তর্পন অভিলাষ। [বিস্তারিত অর্ধেক জীবন]