মায়াবী ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )

ট্রেনটা যখন কিছু সময়ের জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে, তখন আমি জানালার বাইরে মুখ করে একটা মেয়েকে দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গেছি। তাড়াহুড়ো করে মেয়েটার হুলস্থুল অবস্থা আর চোখের কোটরে ভীষণভাবে ফুলে লাল হয়ে আছে! কি আশ্চর্য; মেয়েটা নিশ্চয়ই কেঁদেছে? এই ধরুন, কোনো উজ্জ্বল রং দেখলেই যেমন আমাদের সবার চোখে পড়ে ঠিক সে রকম। তবে, মেয়েটার পরিহিত [বিস্তারিত মায়াবী ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )]

অপেক্ষার উড়ালসেতু (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)

খাস ভূমিতে নাঙ্গল ফেলেছে সবে কৃষাণ, আরো গভীরে গুপ্তধন। তপ্ত দুপুরের ঘর্মাক্ত শরীর দেখেছ ক্ষেতের, দেওয়া হয়নি আত্মপরিচয়, জানোনিকো নামধাম! ছুঁতে পারোনি আজো আলতো করে, কোমলতায়  লুকানো পুতুলের মখমলি পশম! নার্সিসাস দ্রোহে দূরত্বের পরিধি বাড়িয়েছে মরুঝড়, অলিন্দে ফোয়ারা বয় সবুজের শীর্ষে সোনালী হাসির! চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যাওয়া টাইটানের অনাচারের মুখে; ভালোবাসার স্বকীয় পৃথিবীতে তুমিই সেই [বিস্তারিত অপেক্ষার উড়ালসেতু (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)]

কেউ জানে না।( ম্যাগাজিন ২০২২)

সাগর জানে না মুক্তা থাকে ঝিনুকে চাঁদও জানে না কলঙ্ক যে তার গায়ে; ঝর্ণা জানে না তার রূপের বাহার আকাশও জানে না তার নীলের সমাহার; স্বর্ণকার না জেনেই বানায় কত অলঙ্কার কারিগর না চিনেই নারী পড়ছে গলায় মনিহার; কানন জানে না হাজারো ফুলের কদর পথিক বুঝে না মালীর কষ্টের দরদ; প্রেম মানে না বাঁধা বিপত্তি [বিস্তারিত কেউ জানে না।( ম্যাগাজিন ২০২২)]

কবির মন (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

কবির মন, শুধু ভাবে কী যে লিখি এখন কারণে আর অকারণ, রাতদিন যখন-তখন, বিচলিত কবির মন, কী লিখবে যে কখন ঘুমহীন চোখে, কবি ভাবে বসে সর্বক্ষণ! কবির মন, স্রষ্টার সৃষ্টি নিয়ে ভাবে কীভাবে হয়েছিল শুরু, শেষ হবে কীভাবে, কী কথা ছিলো, আর কী করছি ভবে যখন যাবো চলে, তখন কী হবে? কবির মন, ভাবে সুন্দর [বিস্তারিত কবির মন (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

আফিম (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

শুনেছি হয়ত ঘোরের মাঝে বিসর্জনের ঢেউ, মনের মধ্যে ছলাত ছলাত! ভাঙ্গছে দুপার অকস্মাৎ, শুনতে পায়না কেউ! চায়ের কাপে হাসির চুমুক, টেবিল পুড়েছে প্রেমে, দেয়াল ঘেঁষে সূর্যমুখীরা হাসছে থেমে থেমে, তারপরো মাটি খুব পাথুরে, আগুনে লাভায় ভরা, চাঁদের বুকে জমিন চাইলে দাম দিতে হয় চড়া! ফানুসে গিয়েছে বুঝি উবে প্রসন্ন পাষাণে বিষাদ, এখন আমি দুপুরের রোদ; [বিস্তারিত আফিম (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

চিরবন্দী (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

সামনে আঁধারের কথা শুনলে মেনে নেয়া কষ্ট সাধ্য হয়- তবু কখন যে আঁধার আসে কেউ কি বলতেও পারে না; সবাই কেমন করে অপেক্ষায় থাকে! এক নদীর নোনা জল খুব বুঝি অথচ এতটাই সত্য ঘটনা ঘটে- কিছুক্ষণ আরাধনায় বসি; তারপর দূরের চাঁদ কাছে নিয়ে আসি আলপনা জল্পনা এই শেষ- প্রভাতফেরি শিশির সিক্ত আর দেখি না এভাবেই [বিস্তারিত চিরবন্দী (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

শূন্যতার আযান (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

ছেলেবেলায় আব্বা যখন বাড়ি ফিরতেন সন্ধ্যাকালে, হাতে থাকতো বাজারের ব্যাগ। আমরা তখন অপেক্ষায় থাকতাম কি এনেছেন! জিজ্ঞেস করলেই আব্বা বলতেন- দেখ্, খুলে দেখ্! ব্যাগের ভেতর পেয়ে যেতাম কিছু না কিছু। আমাদের চোখগুলো রাত্রিকালীন লঞ্চের মতো জ্বলে উঠতো, উজ্বল সে আলো। অনেক বছর পর যখন শিশু মনের বুক ছিঁড়ে বড় হতে লাগলাম – আব্বা এখনো বাজারে [বিস্তারিত শূন্যতার আযান (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

আজ আমার মন ভালো নেই (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

আজ আমার মন ভালো নেই শৈশবে নিশ্চিন্তে; ভালোই ছিলাম, কৈশোরে সবার সাথে মজা; নিতাম যৌবনে হেলায় ফেলায় জীবন কাটালাম, পড়ন্ত বেলায় ভাবি, একি করিলাম ! তাই আজ আমার মন ভালো নেই। আজ আমার মন ভালো নেই গিন্নী বলে,খাবে কি! বাজারে যাও, বাজারে আমি ঠিকই গেলাম- শূন্য পকেটে ফিরেও এলাম, তবু গিন্নীর হুংকার- কি এনেছো ? [বিস্তারিত আজ আমার মন ভালো নেই (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

স্বাধীন মানুষের পরাধীন মন

সেই তো তুমি এলে, যখন ঘনিয়ে আসছে মেঘমেদুর সন্ধ্যা! অনুভূতিরা স্বেচ্ছা বন্ধ্যাত্ব নিয়ে ঝাড়া হাতপা। গোধূলির কাছে ছিল কিছু পুরনো ঋণ, চুকিয়ে দিয়ে এখন আমি অন্ধকারে অবনতা মৌণ! পিছুডাক শুনে দুরুদুরু বুকে জাগে শিহরণ! একই সঙ্গে পায়ের বেড়ি বেজে ওঠে ঝনঝন। দেখা হলো আমাদের সমরখন্দের তীরে, সভ্যতার পরিখা মধ্যিখানে। বেওকুফ হরমোন যখন দক্ষ তীরন্দাজ। ছেয়ে [বিস্তারিত স্বাধীন মানুষের পরাধীন মন]

বাস্তুহারা এক ঘাস ফড়িং এর আশা!

উত্তাল তরঙ্গের বুক চিরে গুড় নদীর চেনা ঘাটে আজও চলে খেয়ার তরী, তবে তা মেশিন অ’লা। দু’কূলে বুক চেতিয়ে আশাতীত রঙ করা দালান দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রকৃতির স্নিগ্ধতা যথেষ্টই বিবর্ণ। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হরেক দোকানের সমাহারে সগৌরবে বসে মেলা, লোকও জমে প্রচুর কিন্তু মিলে না যেন সেই সুঘ্রাণ। কি জানি সত্যি কিনা সব! নাকি বয়সের ভারে [বিস্তারিত বাস্তুহারা এক ঘাস ফড়িং এর আশা!]

খামু ফল শইল্লে বাড়ামু বল(সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

আম খামু, জাম খামু খামু মাল্টা পানিফল, পেয়ারা বাঙ্গি আনারস খামু শইল্লে বাড়ামু বল! তাল খামু বেতফল খামু খামু বুটিজাম কৎবেল, ডালিম আতা বাদাম খামু শইল্লে বাড়ামু তেল। জলপাই খামু বেল খামু খামু গোলাপজাম তেঁতুল, আমড়া লেবু নাইরকেল খামু করতাম নাতো ভুল! আমরুজ খামু তরমুজ খামু খামু পেঁপে কাঠবাদাম, কলা লিচু কামরাঙা খামু না থাউক [বিস্তারিত খামু ফল শইল্লে বাড়ামু বল(সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

সৌরনিনাদ

আকাশ যখন ছুঁয়ে দেয় বিকালের ছাদ, শব্দেরা ধীরগতি শামুকের মতো নুয়ে পড়ে হাতে! আমি তখনো খুঁজেছি তোমাকে! চুপ ছিল কোলাহলে তীব্র সন্ধ্যাকাল, হাসি হাসি মুখে বিজ্ঞাপনে ব্যস্ত ছিল চাঁদ, খুঁজেছি জলোচ্ছাসের উন্মত্ত দিনে, তীব্র বেগে মার্বেল গুলি অন্ধ গর্তে হারালে! এখানে তোমার ভাষা বাতাসের ফিসফাস, মরণোন্মুখ খরগোশের উড়ছে লোম সাদা, পায়ের তলার কূপে মৃত্যুর ফাঁদ [বিস্তারিত সৌরনিনাদ]

কবিগুরুর খোঁজে

গতকাল পতিসর নেমেছি গো যেই, দেখি আছে ঘাট-বাট তালগাছ নেই। কোথা সে খেলার মাঠ দোকানের সারি! তবে বেশ ছিমছাম গুরুজীর বাড়ি। কিঞ্চিতও নেই জেগে দেয়ালের ক্ষত, ফটকে সিংহ দু’টি পাহারায় রত। পাশে যে পুকুর ছিলো ঘোলা কাদা জলে, আজ বুকে খেলা করে মৎসরা দলে। পাশেই গুরুজী দেখি বসে আছে টুলে, বাতাস দিতেছে তারে হরতকি দুলে। [বিস্তারিত কবিগুরুর খোঁজে]

ধ্বংসস্তূপ।

আমাকে ভেঙেচূড়ে নতুন ইমারত গড়ে দিয়েছো তুমি। এখন এই শহরে বর্ষা আসেনা, কাঁদা জলে কৃষাণী ইশারায় হাসে না। এখন শহরে যুদ্ধ যুদ্ধ গন্ধ করে, কুকুরকে ছুঁড়ে দেয়া বাসি রুটি হয়ে গেছে বুলেট, লোডেড পিস্তল মুখরিত স্বরে তাড়া করে সুবোধ’কে সুবোধ পালিয়ে গেলে দাঁতালো কুকুরগুলো আবারো নেমে পড়ে রাস্তায়, বাসি রুটি বুলেট হয়ে যায় বুলেট – [বিস্তারিত ধ্বংসস্তূপ।]

ড্যাফোডিল এঁকে দিও (সোনেলা ম্যাগাজিন – ২০২২)

একবুক যন্ত্রণা আমার চোখে জল এনে দিতে পারেনা। তোমাদের দোষ কি? ভেতরের দহন অর্বাচীন,খালি চোখে দেখা যায়না ; চাই হৃদয়ের স্বচ্ছ দূরবীন! একাধিক বার পুড়েছে যে হৃদয়,সে কাঠ কয়লার পুড়বার ভয় কি? প্রত্যুষে সূর্য পোড়ায়, রাতে দুঃখের তুষে! অহর্নিশ ভাঙা-গড়া, রূপ-প্রতিরূপের আপোষে পোড়ায় কথার বিষে! আজকাল বুঝে গেছি, লাভ কিছু নেই অভিশাপ পুষে। শাপ-শাপান্ত ঈশ্বরের [বিস্তারিত ড্যাফোডিল এঁকে দিও (সোনেলা ম্যাগাজিন – ২০২২)]