প্রণয় অপেক্ষা

  জৈষ্ঠের দাগ ললাট থেকে এখনো মুছে যায়নি দক্ষিণের মাঠের। নিয়মিত দেখা মিলছে সাথি হারা দাড় বককে তিলের দাড়ির বরইগাছের ডালে। আষাঢ়কে স্বাগত জানিয়েছে নেচে-গেয়ে বাড়ির পাশের ডোবার কোলাব্যাঙ দম্পতি। বর্ষার প্রথম কদম দেবার কথা ছিল তোমাকে, অথচ ঠিকানা জটিলতায় একে একে সব কদম ঝরে পড়ছে মাটিতে। অংশুর বিয়ের নিমন্ত্রণে বন্ধুদের জোরাজুরি পাশ কাটিয়ে আসলেও, [বিস্তারিত প্রণয় অপেক্ষা]

শেষ বেলা

হাসির দাঁতে- চাঁদ ঢেকেছে ঠোঁট; মাটির পরশ আর কতখানি দোসর সবই মাথার মুকুট ঝলসে উঠে- নদীর পার কিংবা নদের বালুচর হাসির কান্না এক অদ্ভুত গোধূলি বেলা সন্ধ্যা যেনো আনন্দ মুখর ভোরের প্রত্যাশা অথচ চোখ নুনের খনি সম্পদ; নীরবে দীর্ঘশ্বাস গোপনে হেঁটে চলা- কতদূর প্রণয়ের দোসর, সোনালি দেহের খেলা, সংসার শ্রাবণ প্রাসঙ্গিক শেষ বেলা। ১৭ শ্রাবণ [বিস্তারিত শেষ বেলা]

মন খারাপী প্রলাপ

এক পেয়ালা হেমলক দাও, হাসতে হাসতে পান করি ওয়াইন ভেবে, ঢলে পড়ি মৃত্যুর সরোবরে! সামনে থেকে সরবেনা কেউ , যতক্ষণ না চোখ বুঁজে আসে! সাধের জনম পরাধীন ছিল আজ তাকে মুক্ত করে দিলাম। হংসমিথুন হয়ে বাঁচতে না পারা মৃত্যুর চেয়ে নির্মম! আজ আর পরোয়া নেই, আপসোস নেই কোন আর, রপ্ত করা হয়নি বলে জীবনের  যত [বিস্তারিত মন খারাপী প্রলাপ]

দুই পেগ ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )

দু পেগই তো মেরেছি, ঠকবাজি তো করিনি, যত্নে গড়া সংসারের দুয়ারখানা বন্ধ হয়ে গেলো! একটু সুরা পান করেছি, নাফরমানি তো করিনি।, ধর্ম আমাকে অধর্ম বানিয়ে দিলো! পেয়ালাতে চুমু খেয়েছি, ধর্ষন তো করিনি, সাধু সমাজে আমি উচ্ছিষ্ট হয়ে গেলাম! একটু সরাবই তো পিলায়েছি, খুন তো করিনি, রাজনীতির রাজামশাই বলির পাঠা বানিয়ে, আমাকে কনডেমসেলে পাঠিয়ে দিলো! যা [বিস্তারিত দুই পেগ ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )]

শ্রাবণের বুকে (সনেট)

প্রণয়ে মেতেছে যতো আবডালে পাখি মাতাল লহরি হাসে লাজে রাঙা ঘাটে, মেঘের আঁচল তলে মেলে দু’টি আঁখি শ্রাবণ এসেছে শুনে এ গাঁয়ের বাটে। সোহাগে কাঁকালে চেপে ফুলে ভরা ডালা নাচনে জেগেছে শ্যামা তটিনীর কূল, সবুজ ফসল গেঁথে বরিষণে মালা খোপায় জড়াতে সেও করেছে কি ভুল! নাইওরে এসেছে আজি মেয়ে তার বাড়ি প্রবাহ এমনই এক জননীর [বিস্তারিত শ্রাবণের বুকে (সনেট)]

সঞ্চরণ

গহীন অরণ্য ছুঁয়েছে ম্যাগনোলিয়া নিভৃতে, নিশুতি বর্ষার জলে দিয়েছে আলতার ছাপ! রুপালি আলোয় কচি পাতাদের উচ্ছ্বাস, কাঁচপোকা জোছনায় মিলেমিশে হলো খাক! শরতের শস্যক্ষেতে এসে আহ্লাদী শিশির, আমাদেরো ডুবিয়ে দিল ময়ুরাক্ষীর জলে, এখন পূর্ণিমা রাতে সেলেনের প্রেম খুব স্থির! শেষ নদী মিসিসিপি ছুঁয়ে এলো প্রমত্ত পদ্মায়, জলের স্পন্দন শুনে অপেক্ষায় বৃদ্ধ পাকুড়, শুষে নিচ্ছে বুকে তার [বিস্তারিত সঞ্চরণ]

মোহ

মৃত্যু অনিবার্য ভুলে যাই তাকে সে থাকে আশপাশে দেখার দৃষ্টি নাই সাথে। জীবন ক্ষণস্থায়ী তাকে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করি। ক্ষণিক মোহে ভুলে আছি জীবন সে তো ছোট্ট এক তরী, দুনিয়া অস্থায়ী আবাস তবু প্রাসাদ গড়ার নিরলস প্রয়াস। মিথ্যার ফানুসে রেখে হাত চলেছি অবিরাম চলন্ত গাড়ি হঠাৎ যাবে থেমে ব্রেক কষার সময় নাহি দিবে।

আমাকে যারা যেভাবে ভেবেছে

আমাকে যারা চাক্ষুষ দেখেছেন, তারা জেনেছেন আমি কতোটা নিরেট অকর্মণ্য। আমাকে ভাঙলে দু’চার আনা বের হবেনা জেনে, ঝুপ করে নেমে পড়া বৃষ্টির মতো তারা নেমে গেল শহুরে গলি বেয়ে; ফেরেনি কখন। আমাকে যারা প্রেমিক ভেবেছিলো এতোদিন, তারা সবাই জেনে গ্যাছে আমি মূলত প্রেমিক নই। প্রেমের বাস্তবিক কম্পাসে আমাকে মাপতে গিয়ে বেশ ঝক্কি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে [বিস্তারিত আমাকে যারা যেভাবে ভেবেছে]

কবিতা হেঁটে যায়

মধ্য মাঠে কবিতার অসুখ নেই; কেবলি কবির অসুস্থতা প্রায় দুর্চিন্তার মাঝেও কবিতা হেঁটে যায় যেতে যে হবে মিষ্টি ভাবনায় এযে কবির সুনিশ্চিত প্রত্যয় ফুল; ওপারে ওশর কতটুকু বা গন্ধ ছড়াবে কবিতা ভাল করে জানেন- অথচ কবির অসুখের খবর রাখেন না মেঠো পথের ধূলি বালি কবিতার সৌন্দর্য মুখ! তবু দোয়ার মাঝে থাকেন কবিতার সুখ। ১১শ্রাবণ ১৪২৯, [বিস্তারিত কবিতা হেঁটে যায়]

নাগরিক ঈশ্বর (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

গলির মোড়ে রেনেসাঁ সমাবেশ, পৃথিবী গড়বার শপথ নেবেন ঈশ্বর, হাততালি দেবে কিছু দেবদূত-ইভ ও ইবলিশ । চল্ আমরাও গলিমুখো হই, সেখানে প্রতীক্ষমান রাত্রির রমনী। চল্ ‘দেশলাই’ খুঁজি। না হয় কিছুটা প্রেম শুঁকে নিস্ তুই, তারপর জপতে থাকিস্ সাম্যবাদী শ্লোগান। তলিয়ে যাওয়া পৃথিবী তুলতে উত্তপ্ত আগুনের প্রয়োজন। চল্ বারুদ খুঁজে নিই। আমরাও হয়ে যাই নাগরিক ঈশ্বর।

প্রিয় শহর ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

এই শহরে জমে আছে না বলা কথকতা। ব্যস্ত জীবনের পাওয়া না পাওয়া, বাঁধভাঙ্গা হাসি গান, কখনও অশ্রুসিক্ত রাতের আঁধার। মায়াবি এ শহরের দূ্র্ণিবার আকর্ষণ, ভোজবাজির মত উধাও হয় আবেগ। বিশ্বাস হয় খেলার সামগ্রী। ভালবাসা ফিকে হয় ক্রমে ক্রমে, এ যেন যন্ত্রমানবের শহর! এখানে স্বপ্নগুলো ধরা দেয় প্রতিবিম্বের মত। ঠিক যেমন,  শেষ বিকেলের আলো ঠিকরে পড়ে  [বিস্তারিত প্রিয় শহর ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

অবহেলায় রেখো

আমিতো ঝুম বৃষ্টি চাইনি যদি একটু মেঘলা আকাশ দিতে। চাইনিতো অধিকার হাত ধরে অনন্ত পথ চলার যদি একটু পাশাপাশি হাঁটতে দিতে।   তোমার পুরোটা আকাশ হবার সাধ্য আমার কই? যদি কিছুটা সময় ঘুড়ি হয়ে উড়তে দিতে। গৃহত্যাগী জোছনায় পোড়াতে পারতামনা জানি যদি জোনাকির আলোয় পুলকিত করেতে দিতে।   তোমার কাব্যগ্রন্থ জুড়ে থাকার সৌভাগ্য নেই তোমার [বিস্তারিত অবহেলায় রেখো]

তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

  তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার জেগে উঠি, নতুন কুঁড়িতে,  স্বপ্নের বিভোরে জীর্ণতাকে ভুলে,  পায়ে পায়ে পথ চলি, বিস্তৃত পরিসরে  ।   তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার ফুটে উঠি সুভাসিত বুকে, সজিব নির্যাসে মনোহর মন্ত্রের আবেশে৷।   তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার বয়ে চলি উদ্যাম মাঠে, হিমেল দোলে ভাটিয়ালী সুরে,  উত্তাল পালে [বিস্তারিত তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)

অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট – নবকুমার দাস অশ্বতর  প্রৌঢ় বাবা বলতেন : গাধা পিটিয়ে কখনো ঘোড়া হয়না । তবুও আমি গাধাদের সামনে থেকে ঘাসজল খাইয়ে গেছি যদি তাদের মধ্যে দুই একটা ডারউইন সাহেবের  ভক্ত  হয়ে ওঠে। অবাক হয়ে দেখলাম : অশ্ব নয়, বরং দিন দিন অশ্বতর হয়ে উঠছে মহান রাষভকুল ।।     কুম্ভীর ওঁত পেতে শুয়ে [বিস্তারিত অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)]

করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়!

জ্বালিস মা তুই কুপির আলো তাতেই আমি থাকবো ভালো যতোই আঁধার হোক জমে নির্দয় – করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়! স্নিগ্ধ ধারা যায় যদি আজ অনেক দূরে চলে, উঠবে জানি ভ্যাপসা গরম ভীষণ দাপে জ্বলে। তালপাখা তুই দিস এনে মা রুখবো ওদের দাপ দামামা চক্রহারে ছুঁড়তে বাতাস হোক কিছু বল ক্ষয় – করবো না [বিস্তারিত করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়!]