আমাকে যারা চাক্ষুষ দেখেছেন, তারা জেনেছেন আমি কতোটা নিরেট অকর্মণ্য। আমাকে ভাঙলে দু’চার আনা বের হবেনা জেনে, ঝুপ করে নেমে পড়া বৃষ্টির মতো তারা নেমে গেল শহুরে গলি বেয়ে; ফেরেনি কখন। আমাকে যারা প্রেমিক ভেবেছিলো এতোদিন, তারা সবাই জেনে গ্যাছে আমি মূলত প্রেমিক নই। প্রেমের বাস্তবিক কম্পাসে আমাকে মাপতে গিয়ে বেশ ঝক্কি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে [বিস্তারিত আমাকে যারা যেভাবে ভেবেছে]
ক্যাটাগরি সাহিত্য
এক জীবনের গল্প লেখিকা সুরাইয়া নার্গিস। রণি বিছানা ছেড়ে ওঠে বসল। তখনও পুরোপুরি সকাল হয়নি। পূর্ব আকাশে সূর্যটা উঁকি মারার চেষ্টা করছে। দু’ একটা পাখি কিচির মিচির শব্দও শোনা যাচ্ছে। বালিশের নিচ থেকে বাটন মোবাইলটা বের করে রণি চোখ বুলিয়ে দেখল মাত্র সাড়ে ছয়টা বাজে। এতো সকাল সকাল রণি খুব কমেই ঘুম থেকে ওঠে। না। [বিস্তারিত এক জীবনের গল্প (সোনেলা ম্যাগজিন ২০২২)]
স্বপ্ন কে না দেখে? স্বপ্ন দেখে আর স্বপ্ন নিয়েই তো মানুষ বেঁচে থাকে। নিজেও বেঁচে আছি স্বপ্ন দেখে! মানুষের মুখেও অনেক শুনেছি ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখার কথা। অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি, “রাতে স্বপ্ন দেখলাম, আমেরিকা গিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করছি। সেই স্বপ্ন আমার ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই শেষ”! আবার কেউ বলছিল, “রাতে স্বপ্নে দেখলাম, রাশিয়ার সাবমেরিনে [বিস্তারিত ঘুমের ঘোরে চাঁদের বুড়ির সাথে সাক্ষাৎ (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]
ডায়েরিভর্তি দীর্ঘশ্বাস সন্ধ্যার আঁধারের সঙ্গে দুঃখের কোনো যোগসূত্র আছে হয়ত। নইলে রোজ সন্ধ্যায় আমার মনের আকাশে এমন ঘন কালো মেঘ নেমে আসে কেনো? একমাত্র পুত্র অয়নকে রাতের খাবার শেষে বিছানায় শুইয়ে আমি যখন লিখতে বসি, আমায় শুধুই দীর্ঘশ্বাস তাড়া করে ফেরে। কত কী মনে পড়ে! বাবার কথা, মার কথা, ভাইবোনের কথা, আমাদের যে সুখী একটি পরিবার [বিস্তারিত ডায়েরীভর্তি দীর্ঘশ্বাস (সোনেলা ম্যগাজিন ২০২২)]
মধ্য মাঠে কবিতার অসুখ নেই; কেবলি কবির অসুস্থতা প্রায় দুর্চিন্তার মাঝেও কবিতা হেঁটে যায় যেতে যে হবে মিষ্টি ভাবনায় এযে কবির সুনিশ্চিত প্রত্যয় ফুল; ওপারে ওশর কতটুকু বা গন্ধ ছড়াবে কবিতা ভাল করে জানেন- অথচ কবির অসুখের খবর রাখেন না মেঠো পথের ধূলি বালি কবিতার সৌন্দর্য মুখ! তবু দোয়ার মাঝে থাকেন কবিতার সুখ। ১১শ্রাবণ ১৪২৯, [বিস্তারিত কবিতা হেঁটে যায়]
গলির মোড়ে রেনেসাঁ সমাবেশ, পৃথিবী গড়বার শপথ নেবেন ঈশ্বর, হাততালি দেবে কিছু দেবদূত-ইভ ও ইবলিশ । চল্ আমরাও গলিমুখো হই, সেখানে প্রতীক্ষমান রাত্রির রমনী। চল্ ‘দেশলাই’ খুঁজি। না হয় কিছুটা প্রেম শুঁকে নিস্ তুই, তারপর জপতে থাকিস্ সাম্যবাদী শ্লোগান। তলিয়ে যাওয়া পৃথিবী তুলতে উত্তপ্ত আগুনের প্রয়োজন। চল্ বারুদ খুঁজে নিই। আমরাও হয়ে যাই নাগরিক ঈশ্বর।
এই শহরে জমে আছে না বলা কথকতা। ব্যস্ত জীবনের পাওয়া না পাওয়া, বাঁধভাঙ্গা হাসি গান, কখনও অশ্রুসিক্ত রাতের আঁধার। মায়াবি এ শহরের দূ্র্ণিবার আকর্ষণ, ভোজবাজির মত উধাও হয় আবেগ। বিশ্বাস হয় খেলার সামগ্রী। ভালবাসা ফিকে হয় ক্রমে ক্রমে, এ যেন যন্ত্রমানবের শহর! এখানে স্বপ্নগুলো ধরা দেয় প্রতিবিম্বের মত। ঠিক যেমন, শেষ বিকেলের আলো ঠিকরে পড়ে [বিস্তারিত প্রিয় শহর ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]
নিদ্রা হইতে জাগিয়া দাঁত মাজিতে মাজিতে মস্তিষ্কে এক দুষ্ট বুদ্ধি উদিত হইলো।বাজারের যে দিনকাল তাহাতে ‘সস্তা’ শব্দখানা এখন দুর্লভ হইয়া পড়িয়াছে।তাহার পর ও আজকের দিনখানা বিনা খরচে পার করিবার বুদ্ধিখানা মস্তিষ্কে ধারণ করিয়া বাসা হইতে বাহির হইলাম। সকাল ১০.০০ টা বাজিয়াছে। দিবসের প্রথম আহার করা হইয়া উঠে নাই অদ্যবধি। এক বন্ধুর বাসগৃহকে টার্গেট করিলাম আহার [বিস্তারিত আমার খরচহীন দিবস এবং…. (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]
আমিতো ঝুম বৃষ্টি চাইনি যদি একটু মেঘলা আকাশ দিতে। চাইনিতো অধিকার হাত ধরে অনন্ত পথ চলার যদি একটু পাশাপাশি হাঁটতে দিতে। তোমার পুরোটা আকাশ হবার সাধ্য আমার কই? যদি কিছুটা সময় ঘুড়ি হয়ে উড়তে দিতে। গৃহত্যাগী জোছনায় পোড়াতে পারতামনা জানি যদি জোনাকির আলোয় পুলকিত করেতে দিতে। তোমার কাব্যগ্রন্থ জুড়ে থাকার সৌভাগ্য নেই তোমার [বিস্তারিত অবহেলায় রেখো]
ছোটবেলা থেকেই রমেশের খুব শখ, কুকুর-বিড়াল পোষার। কিন্তু নিজের পৈতৃক ভিটেমাটি না থাকার কারণে এসব মনের শখ তার ভেস্তে যায়। তবুও রাস্তা-ঘাটে কোনও কুকুর-বিড়াল দেখলে রমেশ কাছে গিয়ে নিজ হাতে হাত বুলিয়ে আদর করে। রমেশ ছোটখাটো একটা চাকরি করে। বেতন যৎসামান্য! তবুও সবসময়ই ওদের কাছে ডাকে, খাবার কিনে দেয়, খাওয়ায়। এভাবেই রাস্তা-ঘাটে অযত্নে-অবহেলায় থাকা বেওয়ারিশ [বিস্তারিত কুকুরের নাম ধলু ও তার ভালোবাসার গল্প (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]
তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার জেগে উঠি, নতুন কুঁড়িতে, স্বপ্নের বিভোরে জীর্ণতাকে ভুলে, পায়ে পায়ে পথ চলি, বিস্তৃত পরিসরে । তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার ফুটে উঠি সুভাসিত বুকে, সজিব নির্যাসে মনোহর মন্ত্রের আবেশে৷। তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও আমি আবার বয়ে চলি উদ্যাম মাঠে, হিমেল দোলে ভাটিয়ালী সুরে, উত্তাল পালে [বিস্তারিত তুমি আমাকে ছুঁয়ে দাও ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]
অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট – নবকুমার দাস অশ্বতর প্রৌঢ় বাবা বলতেন : গাধা পিটিয়ে কখনো ঘোড়া হয়না । তবুও আমি গাধাদের সামনে থেকে ঘাসজল খাইয়ে গেছি যদি তাদের মধ্যে দুই একটা ডারউইন সাহেবের ভক্ত হয়ে ওঠে। অবাক হয়ে দেখলাম : অশ্ব নয়, বরং দিন দিন অশ্বতর হয়ে উঠছে মহান রাষভকুল ।। কুম্ভীর ওঁত পেতে শুয়ে [বিস্তারিত অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)]
জ্বালিস মা তুই কুপির আলো তাতেই আমি থাকবো ভালো যতোই আঁধার হোক জমে নির্দয় – করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়! স্নিগ্ধ ধারা যায় যদি আজ অনেক দূরে চলে, উঠবে জানি ভ্যাপসা গরম ভীষণ দাপে জ্বলে। তালপাখা তুই দিস এনে মা রুখবো ওদের দাপ দামামা চক্রহারে ছুঁড়তে বাতাস হোক কিছু বল ক্ষয় – করবো না [বিস্তারিত করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়!]
ট্রেনটা যখন কিছু সময়ের জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে, তখন আমি জানালার বাইরে মুখ করে একটা মেয়েকে দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গেছি। তাড়াহুড়ো করে মেয়েটার হুলস্থুল অবস্থা আর চোখের কোটরে ভীষণভাবে ফুলে লাল হয়ে আছে! কি আশ্চর্য; মেয়েটা নিশ্চয়ই কেঁদেছে? এই ধরুন, কোনো উজ্জ্বল রং দেখলেই যেমন আমাদের সবার চোখে পড়ে ঠিক সে রকম। তবে, মেয়েটার পরিহিত [বিস্তারিত মায়াবী ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )]
খাস ভূমিতে নাঙ্গল ফেলেছে সবে কৃষাণ, আরো গভীরে গুপ্তধন। তপ্ত দুপুরের ঘর্মাক্ত শরীর দেখেছ ক্ষেতের, দেওয়া হয়নি আত্মপরিচয়, জানোনিকো নামধাম! ছুঁতে পারোনি আজো আলতো করে, কোমলতায় লুকানো পুতুলের মখমলি পশম! নার্সিসাস দ্রোহে দূরত্বের পরিধি বাড়িয়েছে মরুঝড়, অলিন্দে ফোয়ারা বয় সবুজের শীর্ষে সোনালী হাসির! চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যাওয়া টাইটানের অনাচারের মুখে; ভালোবাসার স্বকীয় পৃথিবীতে তুমিই সেই [বিস্তারিত অপেক্ষার উড়ালসেতু (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)]