আজব লীলা ( সোনেলা মেগাজিন ২০২২)

এ বড়ই আজব লীলে! চালিতেছ অহর নিশী, ধরা পরলেই কেল্লা ফতে। পার পায় না হোমরা চোমরা, এমন কি রাজা বাদশাহ। রেহাই পায় নি ব্রাম্মন চাড়াল কিংবা কোন মোল্লা মুন্সি।।   এইখানেতেই বসত করে পরকীয়া, বেহায়াপনা আর অনৈতিকতা। অসম প্রেমের কালজয়ী  ভালোবাসা—- এখান থেকেই। সৃষ্টি না কি এখান থেকেই! ধ্বংসও কি এখানেই! সবই দেখি তা না [বিস্তারিত আজব লীলা ( সোনেলা মেগাজিন ২০২২)]

সবচে’ নিকটতম দরদী!

ছোট বেলায় জামা প্যান্ট চেয়ে ঈদের আগে না পেলে ভীষণ রাগ করতাম বাবার উপর, ভাবতাম পকেটে অগণিত টাকা রেখেও বুঝি দিলো না। পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলে রকমারি দাবির অন্ত থাকতো না, শুনতে শুনতেই হাঁপিয়ে উঠতেন তিনি। তারচে’ বেশী জ্বালাতন করতাম মাকে – ”আর ক’টা দিন বাদেই জাম গ্রামের মেলা এবার কিন্তু তুই আঠারো [বিস্তারিত সবচে’ নিকটতম দরদী!]

যান্ত্রিক জীবন

ইট পাথর সিমেন্টে ঘেরা শহরে মানুষগুলি যন্ত্রের মতো করে অবিরাম ছুটে চলে। পাশে থাকা মানুষটার খোঁজ নেওয়ার সময় নেই তাঁর হাতে, দূরের স্বজনের খবর নিবে কিভাবে। সূর্যোদয় এর সাথে ছুটে চলে ঘড়ির কাঁটা। দিন শেষে সন্ধ্যায় কর্ম ক্লান্ত দেহে বাড়ি ফেরা, বাসায় প্রিয়জনের মন রক্ষা সময়ের প্রয়োজনে যায় না রাখা। মগজে বাসা বাঁধে আগামীর দাপ্তরিক [বিস্তারিত যান্ত্রিক জীবন]

অভিশাপ নয়

তুমি তো আঁধার দেখো বেশ! তোমার পা নেই তবু ছুটছো- বহুদূর; সৃষ্টি দেখো তোমরা নতুন কিছু আলোকিত কর বিশ্বময়- এ ধরণি সাদা মেঘ মুখ উজ্জ্বল কর; অসহায় নয় দৃষ্টান্তর রেখে যাও- ইতিহাস কিংবা এক বুক চির বিস্মরণ! তোমরা স্রষ্টার অভিশাপ নয় সর্বময় কল্যাণকর আশীর্বাদ। ২০ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৩ আগস্ট ’২২

চুলকানি (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

খাউজানি, চুলকানি, এলার্জি মহারোগ, কেউ কেউ নিজেরাই বাড়ায় এ দুর্ভোগ। কারো কারো চুলকায় শীত কিবা গরমে, কেউ কেউ চুলকায় গোপনে বা শরমে । অন্যের ভালো দেখে খাউজানি বাড়ে খুব, তাই কেউ চুলকিয়ে আন্ধারে দেয় ডুব। শয়তানী বুদ্ধিতে কেউ মাথা চুলকায়, কারো কারো চুলকানি জিহ্বা ও ফুলকায়। কারো কারো চুলকানি ব্রেন আর কলমে, এইসব চুলকানি যায় [বিস্তারিত চুলকানি (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

কল্পনাবিলাসী

মোবাইলের এলার্ম ৩ বার বন্ধ করে বিভোরে ঘুমাতেই লাগলাম, শয়তান পেয়ে বসেছে বলে নামাজটাও আজ গেল।  কানের কাছে ওঠো নামক বিরক্তিকর শব্দটি এমনভাবে বাঁজছে যে রাগে ২ টো বালিশ একসাথে কানের উপর দিয়ে এক হাত বালিশের নিচে অন্যহাত বালিশের উপরে দিয়ে স্বপ্নে ভাসতে লাগলাম। আমি প্রচন্ড কল্পনাবিলাসী মানুষ,দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুধুমাত্র কলেজে ক্লাস নেয়ার [বিস্তারিত কল্পনাবিলাসী]

পরিহাস

এই মধ্য দুপুরের বুকে ঝুঁকে শূরা পান হবেনা প্রিয়তম! জানি তুমি মহান! ঠুনকো অপ্রাপ্তিতে বিচলিত নও। আমি ও কান্নাকাটি হল্লাহাটি করিনি এক বিন্দু! ফুলদানিতে সাজবেনা আর! মিইয়ে গ্যাছে শৈল্পিক প্যাঁচকাটা গোলাপটির রুগ্ন মুখ! জিইয়ে রেখে স্বকরুণ সুখের অসুখ! ব্যাথার তড়পানি বলছে এ হচ্ছে নিষিদ্ধ ছায়াপথ! বুঝলে অভিব্যাক্তিময় চোখের যুবক! বড্ড নিষ্ঠুর বনবাসের এ একান্ত একাকীত্ব! [বিস্তারিত পরিহাস]

অভাগা।

আমার আর কিচ্ছু করার নেই হা করে গিলে ফেলা ছাড়া। বাদলা দিনে ঘর ছেড়েছে যারা বৃষ্টি তাদের দাঁত খিচিয়ে বলে – ওরে অধম, দাঁড়া একটু দাঁড়া।   বৃষ্টি জলে সাপ খেলেছে লুডু জীবন ঘোড়া ঘাস খাবেনা খাবে অন্যকিছু রশি গলায় বালতি নামে কুয়ায় হীরা দেখো কয়লা হলো এই অভাগার ছোঁয়ায়।   যেদিক তাকায়, যেই পথে [বিস্তারিত অভাগা।]

প্রণয় অপেক্ষা

  জৈষ্ঠের দাগ ললাট থেকে এখনো মুছে যায়নি দক্ষিণের মাঠের। নিয়মিত দেখা মিলছে সাথি হারা দাড় বককে তিলের দাড়ির বরইগাছের ডালে। আষাঢ়কে স্বাগত জানিয়েছে নেচে-গেয়ে বাড়ির পাশের ডোবার কোলাব্যাঙ দম্পতি। বর্ষার প্রথম কদম দেবার কথা ছিল তোমাকে, অথচ ঠিকানা জটিলতায় একে একে সব কদম ঝরে পড়ছে মাটিতে। অংশুর বিয়ের নিমন্ত্রণে বন্ধুদের জোরাজুরি পাশ কাটিয়ে আসলেও, [বিস্তারিত প্রণয় অপেক্ষা]

শেষ বেলা

হাসির দাঁতে- চাঁদ ঢেকেছে ঠোঁট; মাটির পরশ আর কতখানি দোসর সবই মাথার মুকুট ঝলসে উঠে- নদীর পার কিংবা নদের বালুচর হাসির কান্না এক অদ্ভুত গোধূলি বেলা সন্ধ্যা যেনো আনন্দ মুখর ভোরের প্রত্যাশা অথচ চোখ নুনের খনি সম্পদ; নীরবে দীর্ঘশ্বাস গোপনে হেঁটে চলা- কতদূর প্রণয়ের দোসর, সোনালি দেহের খেলা, সংসার শ্রাবণ প্রাসঙ্গিক শেষ বেলা। ১৭ শ্রাবণ [বিস্তারিত শেষ বেলা]

মন খারাপী প্রলাপ

এক পেয়ালা হেমলক দাও, হাসতে হাসতে পান করি ওয়াইন ভেবে, ঢলে পড়ি মৃত্যুর সরোবরে! সামনে থেকে সরবেনা কেউ , যতক্ষণ না চোখ বুঁজে আসে! সাধের জনম পরাধীন ছিল আজ তাকে মুক্ত করে দিলাম। হংসমিথুন হয়ে বাঁচতে না পারা মৃত্যুর চেয়ে নির্মম! আজ আর পরোয়া নেই, আপসোস নেই কোন আর, রপ্ত করা হয়নি বলে জীবনের  যত [বিস্তারিত মন খারাপী প্রলাপ]

দুই পেগ ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )

দু পেগই তো মেরেছি, ঠকবাজি তো করিনি, যত্নে গড়া সংসারের দুয়ারখানা বন্ধ হয়ে গেলো! একটু সুরা পান করেছি, নাফরমানি তো করিনি।, ধর্ম আমাকে অধর্ম বানিয়ে দিলো! পেয়ালাতে চুমু খেয়েছি, ধর্ষন তো করিনি, সাধু সমাজে আমি উচ্ছিষ্ট হয়ে গেলাম! একটু সরাবই তো পিলায়েছি, খুন তো করিনি, রাজনীতির রাজামশাই বলির পাঠা বানিয়ে, আমাকে কনডেমসেলে পাঠিয়ে দিলো! যা [বিস্তারিত দুই পেগ ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )]

শ্রাবণের বুকে (সনেট)

প্রণয়ে মেতেছে যতো আবডালে পাখি মাতাল লহরি হাসে লাজে রাঙা ঘাটে, মেঘের আঁচল তলে মেলে দু’টি আঁখি শ্রাবণ এসেছে শুনে এ গাঁয়ের বাটে। সোহাগে কাঁকালে চেপে ফুলে ভরা ডালা নাচনে জেগেছে শ্যামা তটিনীর কূল, সবুজ ফসল গেঁথে বরিষণে মালা খোপায় জড়াতে সেও করেছে কি ভুল! নাইওরে এসেছে আজি মেয়ে তার বাড়ি প্রবাহ এমনই এক জননীর [বিস্তারিত শ্রাবণের বুকে (সনেট)]

সঞ্চরণ

গহীন অরণ্য ছুঁয়েছে ম্যাগনোলিয়া নিভৃতে, নিশুতি বর্ষার জলে দিয়েছে আলতার ছাপ! রুপালি আলোয় কচি পাতাদের উচ্ছ্বাস, কাঁচপোকা জোছনায় মিলেমিশে হলো খাক! শরতের শস্যক্ষেতে এসে আহ্লাদী শিশির, আমাদেরো ডুবিয়ে দিল ময়ুরাক্ষীর জলে, এখন পূর্ণিমা রাতে সেলেনের প্রেম খুব স্থির! শেষ নদী মিসিসিপি ছুঁয়ে এলো প্রমত্ত পদ্মায়, জলের স্পন্দন শুনে অপেক্ষায় বৃদ্ধ পাকুড়, শুষে নিচ্ছে বুকে তার [বিস্তারিত সঞ্চরণ]

মোহ

মৃত্যু অনিবার্য ভুলে যাই তাকে সে থাকে আশপাশে দেখার দৃষ্টি নাই সাথে। জীবন ক্ষণস্থায়ী তাকে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করি। ক্ষণিক মোহে ভুলে আছি জীবন সে তো ছোট্ট এক তরী, দুনিয়া অস্থায়ী আবাস তবু প্রাসাদ গড়ার নিরলস প্রয়াস। মিথ্যার ফানুসে রেখে হাত চলেছি অবিরাম চলন্ত গাড়ি হঠাৎ যাবে থেমে ব্রেক কষার সময় নাহি দিবে।