হে প্রণয়ী (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)

বিরহী মহুয়ার মাতাল গন্ধে আকাশ কাঁদে ঐ চাঁদটাও নুয়ে ছুঁয়ে যায় রক্তরাঙা মহুয়ার সারা অঙ্গ। বাতাসে বনলতা সাঁওতালি সুর তোলে! জংলার বুকে সর্পিলাকার নদীর উদ্দামতা ছড়ায় পাহাড়ী-কন্যা। প্রণয়ের আবেশে সাগরের লোনা বুকে আঁধফোটা ঝিনুকের আত্মাহুতি; নিঃসঙ্গ গাংচিল ক্ষয়িষ্ণু আবেগে উড়ছে হাওয়ায় রাতের শৈল্পিক বাসনায় কাঁচপোকা পুড়ছে অবিরত। হাওড়ের বুক চিরে নিশিপদ্মে ধ্যানমগ্ন- উন্মনা তরঙ্গিনী! হে [বিস্তারিত হে প্রণয়ী (সোনেলা ম্যাগাজিন-২০২২)]

ঘর ডিঙ্গে উড়ে যায়

পাখি দেখও- পাখি ধরও লালসায় স্বপ্ন দেখা ভাব করও’; মন পাখির লীলা খেলা বুঝও না- কোন দিন যে উড়ে যাবে-সে কথা ভাবও না; সময়ের গণ্ডি হিসাবের খাতায় পুণ্য সাজ নাই- নাই- জ্ঞান বুদ্ধি শূন্য মেঘে সূর্য ডুবে সন্ধ্যা তারায়- কি আর চাই; ফোন নাই- ঠিকানাও না কোন কিছুই আর পেলাম না তবু পাখি ঘর ডিঙ্গে [বিস্তারিত ঘর ডিঙ্গে উড়ে যায়]

গল্পঃ আঁধারে বন্দিনী ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )

(১) লাবনীর সাথে ব্রেকআপের পর আমি এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে, কোন মেয়েকে কিছুতেই আর বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলাম না। অনেক চেষ্টা স্বত্ত্বেও ট্রমা থেকে বের হতে পারছিলাম না। বিষণ্ণতা প্রতি মুহুর্তে আমাকে গ্রাস করছিল একটু একটু করে।আমি যেন অনন্ত নরকের পথে হেটে চলেছিলাম উদ্দেশ্যহীনভাবে। মনের দিক থেকে এতটাই বিক্ষিপ্ত ছিলাম যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার হাত [বিস্তারিত গল্পঃ আঁধারে বন্দিনী ( সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২ )]

প্রেমিকেরা কসাই।

প্রেমিকেরা কসাই হতে পেরেছে বলে প্রেমিকারা ফুল হয়ে ঘুমতে পেরেছে। প্রেমে পড়ার আগে প্রেমিকও ছিলো মাটির মতো সহজ সরল। দুই যোগ দুই চার হয় এই সহজ হিসেবেটাও প্রেমিক ভুল করতো। প্রেমে পড়ার পর দুই যোগ দুই যে পাঁচ হতে পারে সেটা প্রেমিক খুব সহজেই মিলাতে পারে। প্রেমিকার জন্য আরেকটা ‘এক’ কেড়ে নিয়ে আসতে পারে হাসতে [বিস্তারিত প্রেমিকেরা কসাই।]

তুমি গেলে মহুয়ার ফুল ফুটবে।

সাতসকালে যদি মহুয়ার ফুল ফুটে তবে আমি তোমায় নিয়ে যাব সুকৃতি গ্রামে। এখানকার মাটি লাল। নদী বহতা। আছে গোয়ালভরা গরু। আছে মাঠভরা শস্য। সে গ্রামের নরত্তোম ঘোষ ভরদুপুরে দইয়ের ভার কাঁধে নিয়ে এ পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ছুটে বেড়ায়! মনু মাঝি নদীর কলকল ধ্বনিতে ভাটিয়ালি গান ধরে। দূরের শালবন থেকে ভেসে আসে রাখালিয়া বাঁশির ভৈরবীরাগ। [বিস্তারিত তুমি গেলে মহুয়ার ফুল ফুটবে।]

ষড়রিপু (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

অভিযোগগুলো বিষুবরেখায় মিশে গেছে, কান্নাগুলো চৈত্রের খরতাপে বাষ্পায়িত; ‘তুমি ছিলে’ সত্যিটা স্মৃতিভ্রষ্ট আজ। সংলাপময় দিনগুলো নির্বাক হয়েছে বেলাশেষে; পরাবাস্তবতা হার মেনেছে মাইথোলজির দূর্গম পাহাড়ে আছড়ে পড়ে। অস্তিত্ব রক্ষায় কৌশলী হতে পারিনি আজো; তবুও দিনশেষে কি পেলাম, পেলাম না তাই নিয়ে চলে সংসদীয় বাকবিতন্ডা। হাজারো চলমান সংকটে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে ‘মনের ষড়রিপু’। ছবি-নেট থেকে

চানমিয়ার কাব্য (সোনেলা মেগাজিন ২০২২)

ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে নি তার,তবুও শান্তিতেই আছে চান মিয়া। সুখেরও লাগিয়া ভাগ্যের পরিবর্তন চায় মর্জিনা। পদ্য পাড়ার শান্তির ঝর্না ছাড়িয়া, গদ্য পাড়ার সুখের সাগরে ভাসিয়া—- ডুবিবার চায় মর্জিনা। গদ্য পদ্যের জীবন বেদীতে ভাগ্য করিয়া যায় খেলা। সুখেরও আশায় শান্তি(মর্জিনা) তাই, ছাড়িয়া যায় কারো(চানমিয়ার) ডেরা। পদ্যে শান্তি, গদ্যে সুখ,——- পদ্য গদ্যের সুখশান্তিতেই ভাসছে মানবকুল। মর্জিনা আজ [বিস্তারিত চানমিয়ার কাব্য (সোনেলা মেগাজিন ২০২২)]

ঘুড়ি লাটাইয়ের বাড়ি

ও গাঁয়ের শ্যামা মেয়ে ছটফটে নূরী, সকলে চিনতো তারে উড়াতাে যে ঘুড়ি! আজ গেলে ওই বাটে কাল ধু ধু মাঠে, কখনও লাটাই হাতে ছুটতো সে পাটে। একদিন ঝড়ো বাও কেটে নিলো সুতো, ছিলো যে অদূরে ষাঁড়? সেও দিলো গুঁতো। মানলো সে ব্যথা পেয়ে আর নেই কাম, তারচেয়ে ঢের ভালো গৃহে ফেলি ঘাম। তক্খনি বাড়ি ফিরে [বিস্তারিত ঘুড়ি লাটাইয়ের বাড়ি]

গাঙফুলের গন্ধ (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)

কৈশরে গাঙ আর মেওয়া গাছের প্রিয় বন্ধু আমি– ফুল ও পাখিদের মতো নিমন্ত্রিত ছিলাম অষ্টপ্রহর।   রৌদ্রপ্লাবনশেষে চোখে সে কি আষাঢ়ের ঘ্রাণ! উর্বরা ফসলী মাঠে নেচে ওঠা মাতৃকোল। আহ! কি দারুণ সবুজের ঢেউ! থোকা থোকা ফুল। নিশ্বাসে মায়াবী গন্ধ! প্রসূতি বাজনা। কি সঞ্জিবনী সুধা!   জৈষ্ঠ্যেস্নানশেষে এখনো শুঁকি গাঙফুলের গন্ধ।   অমাবস্যার বানে ভেসে গেছে [বিস্তারিত গাঙফুলের গন্ধ (সোনেলা ম্যাগাজিন ২০২২)]

অভাব

কোন সময় এসে যাচ্ছে রে ভাই যুদ্ধ- যুদ্ধ খেলা, বাঁচার ইচ্ছা নাই; ভগে যাচ্ছে শুধু দেশ মাটির প্রেম! তবু ঈশ্বর নেই- তাদের মনে শুধু রক্তচক্ষু খেলার ফ্রেম; অথচ বংশের মধ্যে দেখেনি কখন বড় অপারেশন চলে গেলো বুকের মধ্যভাগে দিয়ে; ভবিষ্য বুঝি ভয়ঙ্কর- তবু সাবধানতার দোসর খুব ভাবছি অভাব! অতঃপর শেষ হোক যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার অভিশাপ। ২৩ [বিস্তারিত অভাব]

পরন্ত বেলার ঈশ্বর (সোনেলা মেগাজিন ২০২২)

প্রথম পৃথিবীতে এসেই মাকে পেলাম, মা’ই আমার সব আমার হাসি আমার কান্না। একটু বড় হয়েই যখন বুঝলাম বাবার কষ্টার্জিত  রোজগারেই সব। বাবাকে পেলাম আমার আনন্দে, বাবাকে পেলাম আমার বেদনায়। বাবাকেই পেলাম আমার সমস্ত সত্তায়। কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পন, হঠাৎই এক ফালগুনীর মিষ্টি হাসি হৃদয়ে ঝড় তুলে আমাকে সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সবকিছুর মাঝেই [বিস্তারিত পরন্ত বেলার ঈশ্বর (সোনেলা মেগাজিন ২০২২)]

একটা পুকুর চেয়েছিলাম!

একটা পুকুর চেয়েছিলাম আমি – যার বুকে প্রাচুর্যের ঝলকানি না থাকলেও জ্বলবে না অভাবের বহ্নিমান শ্বাসে ঝরা ভীরু বাতাসের কার্পণ্য। শ্যামলা ষোড়শীর হাস্যজ্জ্বল বদনের মতো স্বচ্ছ টলটলে জলের উপর ভাসবে লকলকে কিছু কলমি ফুলের খলবলে আশা। দূর্বা ঘাসের সবুজ আস্তরণে জাগা বিশ্বাসী পাড়ে থাকবে মায়ের আঁচলের মতো গভীর মমতা মাখা ছায়া দানকারী ক’টা বৃক্ষ। ঘর্মাক্ত [বিস্তারিত একটা পুকুর চেয়েছিলাম!]

এই নগরে

  এই নগরে কথায় কথা গুলি ছুঁড়ে এই নগরে রক্ত ঝরা বুলি উড়ে এই নগর এখন ইট পাথরে ঘেরা এই নগর নিয়েই কি বুকে স্বপ্ন ছিলো ভরা ? এই নগরের নিঃশ্বাস এখন ভারী এই নগরেই স্বপ্নভুক লক্ষ পথচারী এই নগরের দৃষ্টি এখন  আকাশ ছোঁয়া এই নগরের বায়ু দোষণ, মেঘের মত ধোয়া  ।   এই নগরের  [বিস্তারিত এই নগরে]

ফুলজোর(সোনেলা মেগাজিন -২০২২)

ফুলজোরের সাথে হঠাৎ দেখা, সিরাজগঞ্জ অববাহিকায়…. নুপূরে ছন্দ তুলে বয়ে বেড়ায় সে….ক্লান্তি শেষে যমুনায় গিয়ে মিশে। ভরা যৌবনে রূপ যেন তার উথলিয়ে পরে। রূপে মাতোয়ারা বিন্দু তখন থমকে দাড়ায়।রুটি রুজি কাজের দৌরাত্ম্যেকে কিঞ্চিত থামিয়ে দিয়ে…..বিন্দু তখন রূপ নদীতে ঝাপিয়ে পরে। সিনান করে সাঁতার কেটে রূপের সুধা মিটিয়ে শেষে……প্রেম যমুনায় হারাতে গিয়ে……চরমে যখন মরমও উধাও। হারিয়ে [বিস্তারিত ফুলজোর(সোনেলা মেগাজিন -২০২২)]

আমার প্রেমে পড়ার পর।

  আমার প্রেমে পড়ার পর তুমি দিনদিন আরো সুন্দর হয়ে যাবে। চোখে কাজল কিংবা ম্যাচিং লিপস্টিপ দিতে হবে না। বারবার আয়নায় দাঁড়িয়ে দেখতে হবেনা নিজেকে, মাপতে হবে না সৌন্দর্য। কারন,আমার প্রেমে পড়ার পর,পৃথিবীর সব সুন্দর তোমার তাঁবেদারি করে মেনে নিবে দাসী জীবন।   আমার প্রেমে পড়ার পর তুমি আরো, আরো… নীরব হয়ে যাবে,যেমনটা নীরব হয়ে [বিস্তারিত আমার প্রেমে পড়ার পর।]