কয়দিন পর ঈদ। নয়নার বর নয়নাকে নিয়ে শপিং এ গেলো। শাড়ি কিনবে নয়নার জন্য। শোরুমে ঢুকে নয়না কে বললো একটা শাড়ি পছন্দ করতে। নয়নার পছন্দের রঙ কালো। নয়নার প্রথম এবং একমাত্র পছন্দ কালো রঙ। নয়না নিজেও জানে না এতো রঙ থাকতে কালোর প্রতি এতো দুর্বলতা কেনো? কালো রঙের প্রতি এতোটাই দুর্বল যে নয়না সবসময় বলতো যদি [বিস্তারিত জীবনের গল্প_৫]
‘আমার তোমাকে চাইবার অজস্র কারণ থাকলেও তোমার আমাকে চাইবার কোনো কারণ নেই’ এটা জেনেও বারংবার তোমাকে চেয়ে কেবল নিজেকেই ছোট করেছি। নিচে নামাতে নামাতে এতোটাই নিচে নামিয়েছি নিজেকে যে ইচ্ছে করলেই আর নিচু মাথা উঁচু করার জ্যো নেই আমার। নির্লজ্জতার সব সীমা অতিক্রম করে একদিন বলেছিলাম ভালোবাসি। আমি ভালোবাসি বলার আগে তোমার জীবনে কেউ আছে [বিস্তারিত সংসার সংসার খেলা]
নয়না তখনও জানে না ওর বর কী কাজ করে ,কতো টাকা রোজগার করে? নয়নাকে কখনো বলেনি বা নয়নাও কখনো জানতে চায়নি। নয়নাকে তখন হাত খরচ বাবদ দশ টাকা, না এটা ঠিক হাত খরচ নয় কলেজে যাওয়ার জন্য দিতো টাকাটা। নয়নার কলেজে যেতে চারটাকা লাগতো আর আসতেও চারটাকা। নয়নার হাতে থাকতো দুই টাকা। চারদিন পর ঐ [বিস্তারিত জীবনের গল্প_৪]
ছোট্ট নয়না প্রচণ্ড ক্লান্তি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে গেলো । সারারাত জেগে বর নামক মানুষটার সাথে গল্প করার ধৈর্য্য বা বয়স কিছুই ছিলো না নয়নার। দেখতে দেখতে ছয়দিন কেটে গেলো। সাত দিনের দিন নয়নার এস এস সি রেজাল্ট বের হলো। নয়না তার স্কুল থেকে প্রথম হলো। নয়নার এমন দুর্দান্ত রেজাল্টের খবর পেয়ে নয়নার শ্বশুর [বিস্তারিত জীবনের গল্প_৩]
ম্যাগনেসিয়াম বিহীন উদ্ভিদের পাতার মতোই, নিষ্প্রাণ মলিন হয়ে গেছে আমার জীবনের সমস্ত হাসি। লৌহ বিহীন উদ্ভিদের পাতার মতোই, বির্বণ হয়ে গেছে আমার জীবনের সমস্ত খুশি। নাইট্রোজেন বিহীন উদ্ভিদের পাতার মতোই, হলদে হয়ে গেছে আমার জীবনের সমস্ত আনন্দ। ফসফরাস বিহীন উদ্ভিদের পাতার মতো, ঝরে গেছে আমার জীবনের সমস্ত সাধ। পটাশিয়াম বিহীন উদ্ভিদের পাতার মতোই, মরে গেছে [বিস্তারিত মৃতপ্রায় মানবী]
সদ্য কৈশোরে পা রাখা নয়না নববধূ সেজে( বধূর সাজ বলতে কলাপাড়া রঙের একটা শাড়ি আর ঐ রঙের একটা উড়না। নয়নার দুর্ভাগ্য দেখুন একটা লাল শাড়িও জোটেনি বিয়েতে) নিজের পরিবার, পরিজন, নিজের পৃথিবী ছেড়ে চলে এলো। সেই মেয়েটা যখন দেখলো এমন তুলোর মতো ধবধবে ফর্সা শাশুড়ির অমন মেঘাচ্ছন্ন মুখ। ভয়ে কুঁকড়ে গেলো নয়না। ভয়ে ধুকপুক করছে [বিস্তারিত জীবনের গল্প_২]
প্রত্যেকটি মেয়ের জীবনে আজন্ম লালিত কিছু স্বপ্ন থাকে। সদ্য কৈশোরে পা রাখা নয়নার জীবনেও ছিলো আজন্ম লালিত কিছু স্বপ্ন। নয়নার বিয়ে হবে, ঘর হবে,বর হবে, সুখের সংসার হবে। নয়না তার বরকে পাগলের মতো ভালবাসবে। শ্বাশুড়ি মা’কে সে নিজের মায়ের মতো ভালোবাসবে, সেবা যত্ন করবে। মোদ্দা কথা সে একটা সুখের স্বর্গ রচনা করবে তার স্বামীর ঘরে। [বিস্তারিত জীবনের গল্প_১]
মধ্যরাতে নির্জনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে- সমুদ্রের গর্জন শোনা হবে না কোনোদিন, তা জেনেও আমি তোমাকে ভালোবাসি। চাঁদনী রাতে মুখোমুখি বসে- চাঁদের আলোয় ভিজা হবে না কোনোদিন, তা জেনেও আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে শিশির সিক্ত – দূর্বাঘাসে পা রাখা হবে না কোনোদিন, তা জেনেও আমি তোকে ভালোবাসি। মৃদু শিহরণ জাগা প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের- সৌন্দর্য্য অবলোকন করা [বিস্তারিত তোমাকে ভালোবাসি]
তুমি এসো প্রিয় কোনো এক গ্রীষ্মের দুপুরে , প্ররণ্ড খরতাপে পোড়া ক্লান্ত-শ্রান্ত তৃষ্ণার্ত পথিকের বেশে। আমি প্রেমের আবেশে সুশীতল করবো! গ্রীষ্মের তাপদাহে চৌচির তোমার হৃদয় ভূমি। তুমি এসো প্রিয় কোনো এক বর্ষার সকালে, তুমুল জলে স্রোতে সব হারা আশ্রয়হীন বানভাসির বেশে। আমি নিরাপদ আশ্রয় হবো, ঘর বানিয়ে দেবো বুকের জমিনে। তুমি এসো প্রিয় কোনো এক [বিস্তারিত তুমি এসো প্রিয়]
কেনো যে তার উপর রাগ করে থাকা যায় না? আর কথা বলবো না বলে অভিমান করেও দুমিনিটের বেশি দূরে সরে থাকা যায় না। রাগী জেদি অহংকারী দুরন্তপনায় মত্ত আমি এখন শান্ত স্নিগ্ধ শুদ্ধ পেয়ে তার সংস্পর্শ। প্রচণ্ড অহংকারী আমি কখনোই কাউকে বলিনি সরি অথচ সেই আমি সেকেন্ডে চৌষট্টি বার বলি তারে সরি। কেনো যে তারে [বিস্তারিত পরিচিত আমি’র অন্তরালে অপরিচিত আমি]
নিয়তি নির্ধারিত নিয়মের বাইরে যেতে পারি না বলেই হয়তো পেয়েও হারানো যন্ত্রণা গুলো কেবল কথা হয়ে বেরিয়ে পড়ে মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়তে। একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে। কিন্তু সত্যিই কী শান্তি মেলে এতে? যন্ত্রণাগুলোকে কথা হয়ে ঝরাতে পারে বলেই কী কথকরা নিজেদের ভুলে থাকতে পারে? ভালো থাকতে পারে শ্রোতাদের আত্মার তৃপ্তি জুগিয়ে? সেদিন নিয়নবাতির ঝাঁপসা [বিস্তারিত নিঃসঙ্গ বেদুইন রাতের শূন্য প্রেমিক]
কফির কাপে শেষ চুমুক দেবার- আগেই থেমে যায় আমার ওষ্ঠদ্বয়। মনে পড়ে যায় শেষ চুমুকের অপেক্ষায়, রয়েছে কোনো এক মাতাল প্রেমিক। প্রেয়সীর ফেলে রাখা অবশিষ্ট কফি, চেটেপুটে খাবে কোনো এক তৃষ্ণার্ত প্রেমিক। জানি না অবশিষ্ট কফির নেশায় নাকি- কাপের গায়ে লেগে থাকা প্রেয়সীর ওষ্ঠের ছোঁয়ায়! কিসের মাদকতায় আসক্ত সে প্রেমিক? উন্মত্ত প্রেমিকের অধীর আগ্রহে এই [বিস্তারিত শেষ চুমুক]
পৌষের এই হাড় কাঁপানো শীতের শীতলতায় নয়, প্রিয়তম তোমার শূন্যতার উত্তাপে কাঁপছি প্রতিনিয়ত । আগ্নেয়গিরির লাভার উত্তপ্ত দাবানল যেমন করে পোড়াচ্ছে- অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, তোমার শূন্যতাও ঠিক তেমনি করে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করছে আমাকে। অথচ কথা ছিলো প্রিয় পৌষের কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে, নগ্ন পায়ে শিশির সিক্ত দুর্বা ঘাসের উপর হাঁটবো দুজনে। শুভ্র [বিস্তারিত পৌষ সংক্রান্তি উৎসব (রসালো পিঠেপুলির আবেশে মিষ্টি প্রেমের মাদকতায় যাবো ভেসে)]
দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙ্গে গেলো; দেখলাম তুমি ভালো নেই, নেই, তুমি ভালো নেই, তাই তো মধ্যরাতে হন্যে হয়ে খুঁজছি তোমাকে। উদ্ভ্রান্ত পাগলের মতো খুঁজছি, উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম চারদিক খুঁজছি, খুঁজছি কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি ভালো নেই ভেবে; দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছি! পুরো পৃথিবী তোলপাড় করে খুঁজছি। আর তুমি প্রিয়সীকে নিয়ে, স্বপ্নীল সুখের রাতের [বিস্তারিত বৈধ ও ঘোষিত প্রিয়সী।]
আমাদের পাড়ায় প্রথম আমাদের ঘরে টিভি এসেছিলো। ঐ টিভিটা সাদাকালো ছিলো আর ব্যাটারি দিয়ে চালাতে হতো। কারণ তখনও আমাদের পাড়ায় বিদ্যুৎ ছিলো না। আমাদের টিভিতে দুটো চ্যানেল ছিলো। একটা বিটিভি আর একটা কলিকাতা বাংলা। আমার মা খুব সৌখিন আর বিনোদন প্রিয় মানুষ। আমি তখন ১০/১২ বছরের কিশোরী। টিভির অনুষ্ঠান নিয়ে আমার মাথা ব্যথা ছিলো না। [বিস্তারিত শূণ্যতার সুখে ভুগতে]