আমৃত্যু অপেক্ষা

  একটা পুরোনো পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ প্রাসাদ, বিবর্ণ ধূলো ধুসরিত পলেস্তরা ছড়ানো ছিটানো ঘরময়। একটা নৈঃশব্দ্যিক নির্জন নিরব নিকোনো উঠান, শুনসান নৈস্বর্গিক নিস্তব্ধতা বিরাজমান চতুর্দিক। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হওয়া এক বৃদ্ধা নারী পরোনে তার গেরুয়া রঙের শাড়ি, ধূলোমাখা দাওয়ায় বসা শূন্যে রয়েছে দৃষ্টি, চোখ দুটো তার উত্তপ্ত ধূসর মরুভূমি, অপেক্ষায় থাকা দু’চোখে পড়েছে ছানি অস্পষ্ট ঝাপসা [বিস্তারিত আমৃত্যু অপেক্ষা]

হঠাৎ ই দেখা হয়েছিল

সেদিন হঠাৎ ই দেখা হয়েছিলো, যদিও সেদিনই প্রথম দেখা ছিলো না। আধো আলো ছায়ায় সন্ধ্যাটা ছিলো অন্যরকম, অন্যরকম এক শিহরণ ছুঁয়েছিলো সেদিন। লজ্জাবতী লতার ন্যায় গুটিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে। লাজুক লাজুক অনুুুুভবে আঁচল তুলেছিলাম মাথায়। প্রায় হাত দশেক দূরত্বে থেকেও কেঁপেছিলাম খুব। বুঝছে পারছিলাম না কেনো এই পরিবর্তন? তারপর প্রায় সারারাত ধরে কথা হতে লাগলো, ভীষণ [বিস্তারিত হঠাৎ ই দেখা হয়েছিল]

সুদিনের অপেক্ষা

  জীবন জুড়ে লেগে থাকা, অমানিশার ঘোর অন্ধকার কেটে- মৃত্যুঞ্জয়ী সঞ্জীবনী শক্তি উদিত হবে একদিন। সেই শক্তির প্রভাবে পৃথিবীর সমস্ত- মরণঘাতী মহামারী ধূলিসাৎ হবে। ধরিত্রীর কোলে আশ্রয় নেওয়া সমস্ত সৃষ্টি, নব উদ্যমে ফিরে পাবে তাদের প্রাণ। অচল বসুন্ধরা আবার সচল হবে, কোলাহল মুখর জনাকীর্ণে ভরে উঠবে বসুমতী। কবে আসবে সেদিন? কবে আসবে সে সময়? কবে [বিস্তারিত সুদিনের অপেক্ষা]

প্রিয় শহর (কেমন আছো তুমি)

প্রিয় শহর, কেমন আছো তুমি? আজ তোমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। খুব ইচ্ছে করছে তোমায় নিয়ে লিখতে। বলতে পারো তোমাকে ঘিরে থাকা স্মৃতি রোমন্থন করতে ইচ্ছে করছে। কতদিন হলো। কতদিন হলো দুচোখ ভরে তোমায় দেখিনি, হাঁটিনি তোমার অলিগলি পথে। তোমার ধূলোমাখা হাওয়ায় প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেইনি কতদিন। খুব মিস করছি তোমাকে। মিস করছি তোমার [বিস্তারিত প্রিয় শহর (কেমন আছো তুমি)]

আমারও ইচ্ছে করে (আবল তাবল ভাবনা)

আমারও ইচ্ছে করে পাখি হতে প্রজাপতি হতে ঘাসফড়িং হতে শুভ্রমেঘ হতে রামধনু হতে পরী হতে   আমারও ইচ্ছে করে উড়তে ছুটতে লাফাতে ভাসতে দুলতে বসতে   আমারও ইচ্ছে করে পাখির মতন দূরাকাশে উড়তে প্রজাপতির মতন ফুলে ফুলে ছুটতে ঘাসফড়িং এর মতন লাফাতে শুভ্র মেঘেদের মতন ভাসতে রামধনুর মতন হাওয়ায় দুলতে পরীর মতন গাছের ডালে বসতে [বিস্তারিত আমারও ইচ্ছে করে (আবল তাবল ভাবনা)]

রহস্য সিরিজ_৪(ছায়া বিড়ম্বনা)

ইদানিং ভয় পেয়ে বসেছে আমার। প্রচণ্ড ভয়ে বুক কেঁপে ওঠে, শিউরে উঠি। পুরো শরীর শিরশির করে উঠে। গা ঝাঁকি দিয়ে উঠে। অকারণেই ছমছম করে আমার চারপাশ। এর কোনো যথার্থ কারণ আবিষ্কার করতে পারিনি। আবার মাঝে মাঝে মনে হয় কেউ আছে, হ্যাঁ আছে। আমি তাকে অনুভব করতে পারি। যখন নিস্তব্ধতা বিরাজ করে তখন মনে এই তো [বিস্তারিত রহস্য সিরিজ_৪(ছায়া বিড়ম্বনা)]

করোনা কালের বৃষ্টি

  আমার ধূসর/ছাইরঙা আকাশেও পড়েছে কালো মেঘের আস্তরণ। এই তো এখনই তা বৃষ্টি হয়ে ঝরবে, আমার শুষ্ক রুক্ষ পৃথিবীকে ভিজাবে, ধূলোমাখা উতপ্ত পথকে করবে সু-শীতল। পড়ি পড়ছি পড়বো করেও কেনো যে পড়ছে না এখনও? হয়তো এখনও সময় হয়নি বৃষ্টির স্রোতে- ভাসাতে পৃথিবীর বুক। এই পড়ছে…. পড়ছে…… ইয়াহু পড়েছে…! গুরুম গুরুম শব্দে মেঘের নূপুর বাজছে টুপুর [বিস্তারিত করোনা কালের বৃষ্টি]

আঁধারেই রয়ে যাবে তমসার জীবন

একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। পৃথিবীর অসুখ সেরে যাবে।সবুজ সমারোহে ভরে উঠবে প্রকৃতি। বিষাদিত বসন্ত বিষন্নতার সুর ছেড়ে আবার মেতে উঠবে কোকিলের মিষ্টি মধুর কহুতানে। হঠাৎ বুড়িয়ে যাওয়া বসন্ত আবার ফুলে ফুলে সেজে সেজে হয়ে উঠবে পূর্ণ যৌবনা। বৈশাখের আগমনে আম্রকাননে আবার শুরু হবে ভোমরের গুঞ্জরণ। পাকা ফলের মিষ্টি ঘ্রাণে আবার মৌ মৌ করবে মধুমাস। [বিস্তারিত আঁধারেই রয়ে যাবে তমসার জীবন]

জীবন যখন চা কফিময় (কথোপকথন)

-ঐ তুই কি শুরু করেছিস বলতো? =কেনো রে, আমি আবার কি শুরু করলাম? – তুই ঠিকই করে নিয়েছিস এভাবেই চলবে? = আহা! বলবি তো কী করলাম? – এই তুই কি কোনদিন শোধরাবি না! =যাহ্ বাবা! বলবি তো কি হয়েছে? -ফাজলামী পেয়েছিস না? =ধুর ছাতা! বলছে না কিছু শুধু শুধু বকা দিচ্ছে -কাল রাতে কখন ঘুমিয়েছিস? [বিস্তারিত জীবন যখন চা কফিময় (কথোপকথন)]

করোনা কালের চাঁদ

  করোনা কালের মধ্যরাত; আঁধারের দাপট হটিয়ে, চাঁদের আলোর দখলদাড়ি- একটু একটু করে বাড়ছে। গগন জুড়ে যেনো উছলে পড়ছে, স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার রূপোলী আলো। দুধ সাদা চাঁদের আলোয়- আলোয় ছয়লাব চতুর্দিক। রূপে রঙে মন মাতানো শুভ্র আলো! চাঁদনী রাত তো এমনই! মধ্যগগনে চাঁদের রূপোলী আলোয় বন্যা বইছে, আর তার চারপাশে তারারা মিটিমিটি জ্বলছে।

না পাঠানো চিঠি

প্রিয় অনিমেষ, স্বপ্নে হোক বা দুঃস্বপ্নে আমি তোমাকে পেয়েছি। আমি তোমাকে ততোটুকুই পেয়েছি যতোটুকু তুমি আমার নিয়তিতে ছিলে। ঈশ্বর আমার ললাটে যতোটুকু তোমাকে লিখে রেখেছিল সেই ততোটুকু তোমাকে নিয়ে একটা জীবন অনায়াসে কেটে দিতে পারবো আমি। তাই আমাকে নিয়ে ভেবো না। আমি কেমন আছি একলা একা? যদি এমন প্রশ্ন করো উত্থান তবে শুনে রেখো আমি [বিস্তারিত না পাঠানো চিঠি]

ফোন কলের অপেক্ষা

  তোমার একটা ফোন কলের অপেক্ষায়- কেটে গেলো আমার ধূসর বিষণ্ণ প্রহর। তবুও মোবাইলের স্কিনে ভেসে উঠলো না- তোমার নম্বর। মানছি অনেক ব্যস্ত তুমি, অথবা ব্যস্ততার যাঁতাকলে পড়ে পিষ্ট রীতিমতো। হয়তো তাই তুমি খোঁজ নিতে পারোনি। শুনেছি মানুষের ইচ্ছের অসাধ্য নাকি কিছুই নেই! তবে তুমি কেনো পারলে না একটু সময় বের করতে? হয়তো তোমার মনেই [বিস্তারিত ফোন কলের অপেক্ষা]

মায়াটা এখনও রয়েছে (কথোপকথন)

দূরত্ব তৈরি হবার পরে… বিষণ্ন সময়ে কেন মনে পড়ে তোমাকে? ভালোবাসার বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিও আমাকে… -এখন যে বৃষ্টি ঝরছে তা ভালোবাসার নয়। এ বৃষ্টিতে ভিজানো যাবে না তোমায়। -কিসের বৃষ্টি ঝরে এখন? -কি লাভ আর কারণ খুঁজে? মূল্যবান সময়ের অপচয় হবে শুধু‌। তার চেয়ে এই ভালো যা ঝরছে ঝরতে দাও। -ভালোবাসতেই চেয়েছিলাম তোমাকে কেবল দু’চোখে [বিস্তারিত মায়াটা এখনও রয়েছে (কথোপকথন)]

মধ্যদুপুরে পরীর হাতছানি

জনি আর রনি ওরা দুই কাজিন। জনির থেকে রনি প্রায় তিন বছরের ছোট। তবুও তাদের মধ্যে দারুণ মিল। অনেকটা সময় ওরা একসাথে থাকে। জনি একটু শান্তশিষ্ট হলেও রনি প্রচণ্ড দুরন্ত। রনি সারাক্ষণ গাছে গাছে থাকে।  আম, জাম, তেঁতুল, বরই, পেঁপে, পেয়ারা আরো যতো যা আছে তা রনি জোগাড় করে গাছ থেকে। আর জনি শুধু শুধু [বিস্তারিত মধ্যদুপুরে পরীর হাতছানি]

বিষফল

  আমার হৃদয় উঠোনে; বিষবৃক্ষের একটা বীজ বুনেছি, আর তাতে খাদ্য হিসেবে রোজ দিচ্ছি, কিছুটা কষ্ট নিঃসৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কিছুটা হতাশা মিশ্রিত দীর্ঘশ্বাস, আর বিষণ্ণ বিষাদময় কয়েক ফোঁটা অশ্রু। একদিন বীজ চারাতে পরিণত হবে, তারপর চারা বৃক্ষ হয়ে বেড়ে উঠবে, আর তারপর সেই বৃক্ষে ফলবে- অনেক কাঙ্ক্ষিত একটা বিষফল। আজন্ম তৃষিত আত্মার তৃষ্ণা মিটবে, অমরত্ব লাভে [বিস্তারিত বিষফল]