প্রতি শব্দে

একটা জলরংয়ের প্রতিচ্ছবিকে ভালবাসি আমি, এক কৈশরের দুর্দান্ত দুরন্তপনায়। একান্তে নিরবতায়, বা পছন্দের কোন ঝংকারে। যেন ঝড়, মেঘ, ঝর্ণা, আকাশ আর ঢেউ- এক রাশি শুভ্রতার মাঝে অশান্ত মায়াবী প্রকৃতি ॥ সবটুকু দৃশ্যপটে সে নিরব দৃস্টি আমায় মোহিত করে- দুনিয়ার সব আকর্ষণ দিয়ে যেন কেউ আঁকে চোখ- সাদায় আর কালোয়- কি নিদারুন সৃস্টি শিল্পীর ॥ কখনো [বিস্তারিত প্রতি শব্দে]

পাগলীটা হাসে

কথাটা মুখে মুখে আজকাল- ঝাঁলর মোড়ানো বাঁশের ডগায় লেগে গেছে তিরপাল, আজকের সন্ধ্যেটা বর্ণিল, উজ্জলতায় কেটে গেছে রাত্রীর নিরবতা, বদলে গেছে এ বাড়ির হালচাল । আল্পনায় সেজেছে ঘরের মেঝে, সিড়িগুলিও সেজেছে রঙ্গীন সাজে। মুহুর্মুহু সারাবাড়ি, লেগে গেছে ঝাড় বাতি; এই তো সময়- শুরু হবে ক্ষণ, “গায়ে হলুদের আরোতি” প্রিয়ন্তী হাসে- এমন লগন জীবনে কি আর, [বিস্তারিত পাগলীটা হাসে]

ঐকতান

হৃদয় বন্ধনে বেঁধে নিও কটা বর্ণ মাদুলীর সুরের মুর্ছনায় করো পূর্ণ বীণার তারে মিষ্টি করে ছুঁয়ে দিও কিছু শব্দ ছন্দে মিলিয়ে নিও একটা সুর তুলে দিও আনমনে স্বরলিপিটা সাজিও তেমনি টানে তালে আর লয়ে জুড়ে নিও ঐকতান আমার কবিতা তোমার কন্ঠে হবে গান – ০৫/১২/২০১৮

আলতা

মা ! বাবা কি আসবে ? থমকে গিয়েও উচ্ছাসে ভিজে উঠে আলেয়ার চোখ- কেঁপে কেঁপে উঠে থেমে যায় নিরব অন্তর্দহন- গাল গড়িয়ে ঠোটের কোনায় লেগে থাকা অশ্রু কনার সাথে নিস্পাপ হাসিতে উদ্ভাসিত ভেজা মুখ- সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেও পরক্ষনেই মিলিয়ে যায় উচ্ছাস, ভয়ার্ত চোখের ভাষায় শব্দহীন নিরব দৃষ্টি ফেলে তিথীর চোখে- আড়াই বছরের মেয়েটা বুঝতে পারেনা [বিস্তারিত আলতা]

আতসি কাঁচের বেড়া

তোমার আমার মাঝে এই এক আতসি কাঁচের বেড়া, তুমি দেখ আমায় অতি ক্ষীনকায় আমি দেখি তুমিই সেরা। তুমি উত্তলে- বিশালতম ভিষন আমার খোলা দৃষ্টি সীমান্তে, আমি অবতলে- ক্ষুদ্র পরমানু সম, তোমার অদেখায় অজান্তে। শ্রেয়া! আমি দেখি আমার হৃদয়ের চোখে তুমি দেখো আয়নার আড়ালে, আমি ভাবি আমার অস্তিত্ব জুড়ে; তোমার ভাবনায় আমি- বেখেয়ালে। জড়তায় জড়ানো ইতিহাসের [বিস্তারিত আতসি কাঁচের বেড়া]

ভাল.বাসা

নীল পোষাকের দারোয়ান কলাপসিবল গেট একখন্ড সবুজ ঘাসের বিছানায় সর্পিল ঢংয়ের পাথুরে কালো পথ । সদর দরজার পর প্রসস্ত সিড়ি পার্কিং এ ধবধবে সাদা ল্যান্ড ক্রুইজার 24/7 জেনারেটর সহ লিফট ছুঁয়েছে ডুপ্লেক্সের প্রথম ধাপ। ওক কাঠের মেঝেতে 400 sq feet ড্রইং রক্তজবা রংয়ে অর্ধেকটায় গালিচা পূবের খোলামেলা জানালায়, পরিচ্ছন্ন কিচেন। তিনটি লিভিং উইথ এটাচ্ড বাথ [বিস্তারিত ভাল.বাসা]

গ্রহান্তরে

দিনভর আষাঢ়ের গল্প শেষে, অগোছালো সন্ধ্যায়, কলমী ঝোঁপের আড়ালে সদা জাগ্রত কোলাব্যাঙ- যতটা অধ্যাবসায়ে অপেক্ষায় থাকে; পঁচা ডোবার জলে, চাঁদের প্রতিচ্ছবির উজ্জলতায় উড়ে আসা- ঘাসফড়িং শিকারের নেশায়, ঠিক ততটা আগ্রহে চারপাশের প্রকৃতির নেশাক্ত চোখ, ডান কোনের পলকহীন দৃষ্টিতে আজও নিদ্রা যায়, তোমার আনাগোনার অপেক্ষায়- । দেখা পেলেই গ্রহন লাগবে চাঁদে, যেন নতুন করে কেউ পড়েনা, [বিস্তারিত গ্রহান্তরে]

আলতা পায়

যাসনে যেন একলা নদীর ঘাটে এইতো সবে উঁকি দিলো ভোর , সূর্য্যি মামার নিদ্রা ভাঙ্গতে দে পাড়া পড়শী খোলুক কয়েক দোর । শিমুল গাছে হুতুম প্যাঁচা বসে দাঁত দেখিয়ে যদি ভেচকী মারে , উল্টো ঝুলে বাদুর তেঁতুল গাছে ডাল ভেঙ্গে সে ছিটকে যদি পড়ে ! ভয় পেয়ে তুই ছুটবি উল্টা দৌড় পিছন ফিরে পথের কিনারায় [বিস্তারিত আলতা পায়]

অপরাধের একাল- সেকাল

১৮ বছরে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা কমেছে ৯৮.৩৮% ২০০২ সালে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা- ৪৯৪ ২০১৯ সালে এসিড সন্ত্রাসের ঘটনা মাত্র- ০৮ এটাকে অবশ্যই এসিডবিরোধী যুদ্ধে বড় জয় বলা যায়। “আর একটি মুখও যেন এসিডে ঝলসে না যায়” ( ০৩ নভেম্বর’১৯- প্রথম আলো ) একটি মেয়ের পরিবারের সুখের নিদ্রার জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর কি হতে [বিস্তারিত অপরাধের একাল- সেকাল]

ঘুম বুঝি আর হলো না

শশায় কি আর পেট ভরে! থাক্ – ৮০ টাকায় কিনবো না, ফুলকপিটাও দেখতে দারুন, সীমটা ও তেমন মন্দ নাহ । মাছের বাজেট তিনশো হলো, চারশো হলে কাতলা ছিলো; ডালটা ও শেষ বলেই দিলো, মাছটা কিনলে বলতে হবে, ওগো- ডাল মশলা আর হলোনা, গেল পঞ্জিকায় মাছের ব্যাগে, বোয়াল কাতলা উঠলো না ! নিম্নবিত্তের টানাপোড়ন, আর এক [বিস্তারিত ঘুম বুঝি আর হলো না]

নীল টি শার্ট

টানা ৪০ জন লোকের সরগম আর ঢোলের বাঁজনার মধ্যে কি করে ঘুমাতে হয়, এই টেকনিক সম্ভবত একজন প্রবাসি ছাড়া কেউ ভালো জানেনা। বিশেষ করে ইউরুপের মতো নামী-দামী দেশগুলির ব্যাচেলর মেসে যারা থাকে, তাদের শব্দদুষন আর পলিউশানে নিশ্চিন্তে ঘুম দেয়ার জন্য শুধু মানষিক ইচ্ছেটাই যথেস্ট্য। অরণ্য তেমন একটা ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০০ বছর পুরুনো ভিসুভিয়ানো আগ্নেয়গিরীর [বিস্তারিত নীল টি শার্ট]

ক্রাশ

কাঁত হয়ে নুঁয়ে পড়া গাছ থেকে পুকুরের ঠিক মধ্যিখানে, টুপ করে ঝড়ে পড়া তালের ডুবে যাওয়ায় সৃষ্ট; মিষ্টি জলের বুকের উপর দিয়ে যে কিশোরী ঢেউ গুলি ছুটে গিয়ে আছড়ে পড়ে পুকুর পাড়ে- তেমনি চনমনে দুরন্ত ঢেউ খেলানো ছন্দে ভরা কোন মায়াবী জলপরী; হটাৎ চোখে পড়ে ঘুমন্ত শহরের ছিটকে পড়া আধো আলোয়- চলন্ত ইন্টারসিটি ট্রেনের দুই [বিস্তারিত ক্রাশ]

জল

সামনে খেলে এক সমুদ্র জল আর সৈকতে তৃষ্ণার্ত ! ঢেউয়ের বুকে ভাসমান নাবিক ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, আর পিপাসার্ত । মরুদ্যানে লুটিয়ে মুসাফির দুই ঢোক জলের তৃষ্ণায়, ডুবে মরে কেউ সাগর জলে ক’ফোটা বর্ষনের অপেক্ষায় । চামড়ার থলে বাতাসে উড়ে ফুড়াইলে অমৃত জীবনের, সাহারায় দিকভ্রান্ত পথিক অপেক্ষায় ক’ফোটা বর্ষনের ॥ – ৩০/১০/২০১৯ ছবি- নেট

শুভ্র সমুদ্র সফেন

সিক্ত ভোরে- বাসন্তি সব ফুলেদের রাজ্যে মিশে থাক তুমি, অজানায় অতর্কিত ভেজা কম্পনে, কিঞ্চিত স্পর্শীত আমি। সকালের তেজোদ্ধীপ্ত আলোর ঝলকানিতে তোমার রং ! নীলাকাশে মেঘেদের নিয়ে, কত কত সাজে, কত ক..ত ঢং। ঔই যে দুরে- ব্যাস্ততার নিরবতায়, সারথীর শুভ্র বারতায়, ডেকে উঠে একেলা কোকিল, আর, আমি শুনি দীর্ঘ্যশ্বাস ! যত্ন করে থরে থরে সাজিয়ে রাখা [বিস্তারিত শুভ্র সমুদ্র সফেন]

হৃদয়ের ঋতূচক্রে

দেখছিলাম- অল্প কটা চুল, মিষ্টি হাওয়ায় দুলে দুনির্বার  লুকুচুরি খেলে মুক্ত ললাটের সীমানা জুড়ে, যেন কোন নব্য প্রবন্ধের সূচিপত্রে লেগেছে হাওয়া। তুইতো শক্ত মলাটে মোড়ানো এক দ্রুপদী উপন্যাস, আর, আমার অপাঠ্য দুর্ভেদ্য কবিতার খাতা ॥ তখনো- ক্ষণে ক্ষণে দুলাইন মিস্টি আবৃত্তির পর, থমকে থেমে যায় সুরেলা আওয়াজ, আমি খুঁজি এলোমেলো দুষ্টু চুলের ফাঁকে- প্রেমময়ী সমষ্টি, [বিস্তারিত হৃদয়ের ঋতূচক্রে]