হৃদয়ের ঋতূচক্রে

দেখছিলাম-
অল্প কটা চুল, মিষ্টি হাওয়ায় দুলে দুনির্বার 
লুকুচুরি খেলে মুক্ত ললাটের সীমানা জুড়ে,
যেন কোন নব্য প্রবন্ধের সূচিপত্রে লেগেছে হাওয়া।
তুইতো শক্ত মলাটে মোড়ানো এক দ্রুপদী উপন্যাস,
আর,
আমার অপাঠ্য দুর্ভেদ্য কবিতার খাতা ॥

তখনো-
ক্ষণে ক্ষণে দুলাইন মিস্টি আবৃত্তির পর,
থমকে থেমে যায় সুরেলা আওয়াজ,
আমি খুঁজি এলোমেলো দুষ্টু চুলের ফাঁকে-
প্রেমময়ী সমষ্টি, কটা যুগল বর্ণের।
যেন ভরাট কন্ঠে উচ্চারিত হয়ে উঠে পংতি,
আর আমার গলায়-
ক’টা শব্দের ঝংকার, প্রিয়তম বন্দনায় ॥

হতবাক আমি, 
নিস্পলক দৃষ্টি ফেলি পুনশ্চ,
কোঁচকানো ভ্রুর নিচে, তোর তৃষ্ণার্ত চোখ;
ললাটের সমুদ্রতটে, হটাৎ জেগে উঠা চিকন ঢেউ’
ক্ষণ দুশ্চিন্তা, চকচকে ঘামের মুক্তুকণা,
আর তখনি,
নিয়তির নিঃশ্বাসের সাথে উড়ে যায় আমার প্রশ্নপত্র॥

হটাৎ মুড়ে গেলি তুই হৃদয়ের ৠতূচক্রে;
সূচনাতেই থেমে গেল আমার মন্ত্রপাঠ,
হয়নি পড়ে দেখা, অর্ধচন্দ্র দৃষ্টির তাৎপর্য,
হলোনা জানা, চিকন ঘামের ভাবার্থ,
গুনা হলোনা-
তোর আত্ম-উপন্যাসের পৃষ্ঠা সংখ্যা ॥

কি আর করবো সখি !
পিঠ পিছনে থেকে 
কি করে তোর চোখের শব্দার্থ শিখি !
তারচে,
মেঘলা বরণ কোঁকড়ানো চুলের ক্যানভাসে, 
আমি কালো রংয়ে আঁকি দুষ্প্রাপ্য যত বর্ণের-
ব্যাবচ্ছেদকৃত হৃদয়ের নিত্য শত প্রতিচ্ছবি।
ঋতূচক্রের নীলাভ পরিবর্তনের নতজানু- অবছাঁয়া,
আর,
আমার সম্মোহিত সময়ের অর্ধচন্দ্রাকৃতি ব্যাসার্ধ ॥

আজও অবসরে-
পরিত্যক্ত ঝুলি থেকে দুই একটি বর্ণ টেনে তুলি,
ডানে সাজাই উচ্চারণে, বামে সাজাই গানে,
অনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে লিখে যাচ্ছি-
তোর ললাটের অনাবৃত্ত অংশের কাল্পনিক তথ্য কণিকা ।
যার শিরোনামে;
আজও অলংকৃত তুই, 
        শুধু তুই !
        আমার ভালোলাগার সুরের প্রতিমা ॥

-০-
ছবি- নেট দুনিয়া
মোট পড়েছেনঃ ৮৬৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. প্রেমিকাকে আপনি আতসি কাঁচ দিয়ে দেখেছেন নিশ্চই না হকে এত এত উপমায় তাকে নিয়ে লেখা কি করে সম্ভব? হে প্রেমের কবি, আপনি স্বার্থক।

    লেখা ভালো লেগেছে।

    1. আতসি কাঁচ

      এ নিয়ে একটা লিখা আছে আমার । ভাবছি আজ সোনেলায় দিয়ে দিবো।

      তৌহিদ ভাই, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একরাশি শুভকামনা আপনার জন্য।
      দীর্ঘজীবী হউন।

  2. হটাৎ মুড়ে গেলি তুই হৃদয়ের ৠতূচক্রে;
    সূচনাতেই থেমে গেল আমার মন্ত্রপাঠ,,,,,আহা শুরুর আগেই শেষ!

    প্রেয়সী প্রিয়াকে না পাওয়ার বিরহ যেনো কবিতার কথা হয়ে ঝরছে। চমৎকার শব্দ চয়ন, অসাধারণ উপস্থাপন।হব মিলিয়ে দারুণ

    1. ভাবছি বাংলায় “বিরহ” শব্দটার কোন শব্দার্থ না থাকলে কেমন হতো !

      মুড়ে যেতে যেতে প্রয়সী’রা একটা করে দিয়া জ্বালিয়ে যায়। নিভু নিভু আলোর বর্ণছটা কি আর কবিতা হয় ?
      এ সবই ভুলে ভরা বানানে এলোমেলো কথোপকথন- ।

      অনেক শুভেচ্ছা রইলো আপু।

  3. তুইতো শক্ত মলাটে মোড়ানো এক দ্রুপদী উপন্যাস,
    আর,
    আমার অপাঠ্য দুর্ভেদ্য কবিতার খাতা ॥…

    কেন জানি দুভের্দ্য কবিতা তাকে মনে হচ্ছে না। আপনার তৃষিত মনের সামনে সে হয়ে গেছে এক নক্ষত্রের রাত। সে যেমনই হোক, আপনার ভাবনায়,ভালোবাসায় সে হয়েছে আরও উপমাহীন।
    এভাবেই ভালোবাসতে হয়,
    প্রিয়তমাকে এমন করেই ভাবতে হয়।

    শুভ কামনা 🌹🌹

    1. কি জানি হবে হয়ত!
      দুরের আকাশে সহস্রকোটি তারা রা যদি এক একটা পৃষ্ঠা হয়, তবে সে হয়ত মহাজাগতিক কোন উপন্যাস।

      একজীবনে কয়টা অধ্যায় পড়া যায়- !!

      চমৎকার মন্তব্যে আপ্লুত হলাম আপু।
      অশেষ শুভেচ্ছা আপনাকে।

মন্তব্য করুন