ঘুণপোকা

ঘুণপোকায় নাচে রক্তের মেঝেতে, নীরবে উড়ছে মগজের ধূলিতে। জং ধরা হাড়ে ঘুণপোকা নড়ছে, নড়ছে নিয়তির আমন্ত্রণে। আমি ভাঙছি ক্রমশই, মনের দেহে ঘুণপোকায় খেয়ে যাচ্ছে নীরবে। সহস্র প্রতিবাদের চিৎকার, ঘুণপোকায় খাচ্ছে নির্বিচার। ঘুণপোকা! তুই থাক না বেঁচে, আমার সারারাত সারাদিন গোধূলী হয়ে। মগজের মেঝেতে চিন্তার খোরাক; ঘুণপোকা তুই এ নিয়েই বেঁচে থাক। দিনের আলোয় সুতীক্ষ্ণ আঁধারে [বিস্তারিত ঘুণপোকা]

গন্ধহীন আগুন ও ধুম্রশলাকা

তোমাদের কারো কাছে কি গন্ধহীন আগুন হবে? যে আগুনে তেলের গন্ধ নেই, গ্যাসের গন্ধ নেই, নেই কাঠ কিম্বা মন ও শরীর পোড়ার গন্ধ… তোমাদের কারো কাছে কি সেই আগুন হবে? যে আগুন হবে মেদহীন, নির্লোভ এক আগুন, আমায় সে আগুনের খোঁজ দাও, সেই আগুনে এক কাঠি বিষ জ্বালিয়ে আমি বিষাক্ত হতে চাই…

বিচ্ছিন্নতার যোগসূত্র

যে কাঁদছে তাকে কাঁদতে দাও যেমন কাঁদে সূর্য; যে জয় করছে তাকে ছড়িয়ে যেতে দাও যেমন সেই খন্ডকালীন জোছনা, যে দেখছে তাকে ভার বইতে দাও যেমন আছে আমার পৃথিবী। সময়কে গুনতে থাকো ঢেউয়ের মতো; শান্ত দিঘীতেও সময় বয়ে যায় দন্ডপ্রাপ্ত ঝরা পাতার মতো, থমকে আছে সব কিছুই ঝড়ো বাদলে দিগন্ত। হরিণী হয়ে গ্রহণ হয় ঠিক [বিস্তারিত বিচ্ছিন্নতার যোগসূত্র]

গল্পের ভিতরে গল্প

দিদিমণির গানের ক্লাশ শেষ করেই একে একে বের হলো অর্পা, অনিন্দিতা, তূর্য, সিদ্ধু। দিদিমণিঃ সবাই সাবধানে যেয়ো আর ঠিকঠাক থেকো, পথে যেন কোন দেরী না হয়। অর্পাঃ ঠিক আছে দিদি! (এত্তো কড়া কেনো উনি, গানই তো শিখি কিন্তু যেনো সাক্ষাৎ জন্মদাত্রী মা!!) একসাথে হেঁটে সদর রাস্তায় উঠেই- তূর্যঃ এই সিদ্ধু চল যাই, অর্পা-অনি গেলামরে… সিদ্ধুঃ [বিস্তারিত গল্পের ভিতরে গল্প]

ধূলিকণা

এক মুঠো ভালবাসা এনেছিলাম দেশমাতাকে দেখাবো বলে, মুঠো খুলতেই দেখি পড়ে আছে ধূলোকণা! মরিচীকা ভেবে দেশমাতার সেই প্রিয় ধূলোকণাকেও তাচ্ছিল্যে ঝেড়ে ফেলে, ছুটলাম আবারো মুঠ ভর্তি করতে। হায় সন্তান! চিনলি না তুই ‘ভালবাসা কারে কয়’ আর দেশমাতা কিসে রয়!!

নষ্টের নষ্টা ও তাঁর গাঁদা ফুল

প্রতিটি বিদ্রোহী মনের এক কোণায় আঁকা থাকে প্রেয়সীর দু’চোখ কিংবা কোন প্রিয় স্পর্শ। প্রতিবার বিদ্রোহের স্লোগানের ঠিক ঊষা লগ্নেই মনে মনে ভেবে নেয় প্রেয়সী কিংবা অন্য কাউকে। বিদ্রোহী সে, তবুও মানুষ। প্রতিটি বিদ্রোহই ছিনিয়ে নেয় কোন প্রেয়সী কিংবা প্রিয় কারো প্রিয়কেই। বিদ্রোহের রণাঙ্গণে কিংবা দূর প্রবাসে দু’চোখ অথবা সেই স্পর্শ আজো খুঁজে ফিরে বিদ্রোহীকে। বিদ্রোহী [বিস্তারিত নষ্টের নষ্টা ও তাঁর গাঁদা ফুল]

নূর হোসেন তুমি ফিরে এসো

নূর হোসেন কবরে নয়; এবার রাজপথে চলে এসো, রাজপথ আবার মুখরিত। হুকুমের চাকর নব্য রাজাকারের দলেরা আবার হুঙ্কার দিয়েছে! আত্মাহুতি নয়; বোধ মুক্তিতে তুমি বেরিয়ে এসো। নূর হোসেন তুমি একাত্তর নও; নও সেই নব্বই! তুমি এবার একাত্ম হও; আমরা তোমার স্মরণ লই! কতোটা বেপরোয়া হলে তোমায় ডাকি তুমি কি তা বুঝতে পারো! যারা মারছে আর [বিস্তারিত নূর হোসেন তুমি ফিরে এসো]

ছোবল

অশরীরী ছোঁয়ায় ……শরীর কাঁপে! বুকের পাঁজর ক্ষত বিক্ষত, অশরীরী আঁচড়ে! অশরীরীরা আসে অস্তিত্ব কাঁপিয়ে! ছায়ার দেয়ালে ধোঁয়াটে রক্তিম চাহনিতে! চাতালে পাতালে অশরীরী পদচারণ, অশরীরী আলোড়নে আতঙ্কিত শ্বাপদ; আলোর মরণ! পঁচা, বীভৎস অনুভূতিরা নাচে অশরীরীয় উল্লাসে, মৃত আত্মার অবৈধ অনুপ্রবেশ খুবলে খাওয়া শারীরীক অভিলাষে! চোখ ঠিকড়ে অন্ধকারের আলোড়নে অশরীরী তীব্রতা ছিঁড়ে ফেলে সুতীক্ষ্ণ মৌনতার বৃথা আস্ফালনে! [বিস্তারিত ছোবল]

_শাচ ধ্বনি

বুকের ভিতরের ঐ রক্তলাল হৃদপিণ্ড টেনে ছিঁড়ে এনে আমি স্নান করব ঐ ফিনকী দিয়ে ছুটে আসা রক্তের ধারায়… নিঃশব্দের বিষাক্ত সাদাটে ছোবলে কুঁচকে ছোট করে দেব সাড়ে তিন হাত আকৃতি; নীলচে কালো করে মিশিয়ে দেব পঁচা পানিতে… হায়েনার চিৎকার আর শেয়ালের দাঁতের আঘাতে ঠুকরো ঠুকরো করে গোলানো হবে নধর দেহটি, ডুবে ডুবে ভেসে ছড়াবে; নগ্ন [বিস্তারিত _শাচ ধ্বনি]

অশরীরী-নমঃ

আলোর স্পন্দন থামে অন্ধকারে, অশরীরী নামে দেহের মিলনে!   দেহের ভালবাসায় যৌনাচার, দেহের উদ্গীরণে অশরীরী সুতীব্র হাহা…………কার!   অশরীরী! যৌনতার সূচীকাগার, দেহের কাঁপনে ভালোবাসার বলৎকার, অশরীরীয় কুৎসিত আ……চার!   অশরীরী আসে অন্ধকারে, দেহ নামের খাদ্যের সন্ধানে।   অশরীরীয় দেহ হাসে অম্লানে; অন্ধকারে সংগোপনে, অশরীরীয় জঙ্গার গোপন অভিলাষে, স্তনযুগলে একি তবে অশরীরীয় শীৎকার!   অশরীরী আসে [বিস্তারিত অশরীরী-নমঃ]

অশরীরী-ক্রম

আমি সেই কোন এক অশরীরী হব যার দ্বিখণ্ডিত জ্বিবে পুড়ে যাবে শব, লেলিহান ক্রোধে মিছিল হবে আত্মা ছুঁয়ে শুধু প্রেতাত্মা রবে, দিকে দিকে ছড়িয়ে যাবে আমিই এক সেই অশরীরী; আমিইই সব। আমার অস্তিত্ব অলিন্দের অলিগলিতে কালো রক্তের ফিস্‌ফিসানিতে, ফিন্‌কি দিয়ে ছুটবে স্নায়ু লহমায় কেড়ে নেবো ধরফরে আয়ু, ঝিলিকে ঝিলিকে হবে আত্মাহুতি আমিই সেই অশরীরী; বজ্রগাঁথুনি। [বিস্তারিত অশরীরী-ক্রম]

অনুলিপি-৩

সময়ের সাথে তাল রেখে স্বনামে ফেরে সবাই, নতুন নাম নিয়ে ফেরে এরই মাঝে অনেকেই। আর অনু?   হ্যাঁ, আজ অনুর কথাই বলতে এসেছি আবার- অনুর শুরুটা ছিল নিতান্তই আর আট-দশটা বাঙালী/বাংলাদেশীদের মতই। সেই ছোট্ট বেলায় শুনেছিল তার জন্ম হয়েছিল চিকিৎসকের মাধ্যমে। সাধারণভাবে নয়, একেবারে ছুরির তলায় যেতে হয়েছিল অনুর মাকে-অনুকে জন্ম দিতে। সতর্ক বাণী শুনতে [বিস্তারিত অনুলিপি-৩]

অরাজনৈতিক

‘রাজাকার’ কখনই আমাদের বাংলাদেশের রাজনীতির অংশ নয়, এ হল বর্বর পাকিস্থানীদের গড়া কিছু ভন্ড ধর্মান্ধ মানুষরুপী হায়েনার নাম। এই ‘রাজাকার’দের ফাঁসীর দাবি কোনদিন সময়েই ছিলনা রাজনৈতিক দাবী এবং আজও এটাকে রাজনৈতিক দাবী বলা যাবে না। একাত্তরের পরে আমাদের সবচাইতে বড় ভুল ছিল রাজাকার এবং তাদের দোসরদের এই স্বাধীন বাংলার সংসদে বসে দেশ পরিচালনার সুযোগ করে [বিস্তারিত অরাজনৈতিক]

অনুলিপি-২

একজন সফল মানুষ হতে কি লাগে? অর্থ, বাড়ি, গাড়ি, পরিবার আর নাম… বাড়ি, গাড়ি না থাকলে অর্থ যা ছিলো তা দিয়ে ভালোই চলছিলো অনু। আর নাম?? সে অর্জনের পথেই ছিল। দুইটি গান লিখেছে, চার-চারটি কাব্য সংকলনে কবিতা প্রকাশ হয়েছে বই মেলায়, আধুনিক গঠনে কবিতা লেখায়ও সুনাম কুড়িয়েছে। এই নামের সাথে আরো জুঠেছিলো সমালোচক তকমা। পরিবার বলতে বাবা, [বিস্তারিত অনুলিপি-২]

সম্মুখে

সবচাইতে তুখোড় ছেলেটিও মজে যায় মদের বোতলে, দেবদাস যেমন মজেছিলো চন্দ্রমুখীর আঁচলে, সবচাইতে সহজ বালক্টিও ক্ষুর হাতে নেমে যায় খুনের দায়ে ক্ষুদিরাম যেমন এসেছিলো বিপ্লবের ডাকে, এমনি হয়…সূর্য ডুবলেই মানুষ আদিতে নিজেকে খুঁজে পায়। কেনো এমন হয়? প্রতিটি ভালো মানুষের মুখে থাকে আপন স্বার্থের ছায়া প্রতিটি সরল মন খুঁজতে থাকে বারেবারে ঠকে যাওয়ার আশা! কেনো [বিস্তারিত সম্মুখে]