বুড়ো বয়সী যৌবন

জিগ্যেস করলাম, ‘হিন্দু না মুসলিম।’ জবাব পেলাম, ‘বাবু, আমি ক্ষুদার্ত।’ বললাম, ভয় না ভূত? বললো, ভূত। জিজ্ঞেস করলাম, ‘ধনী না উচ্চবংশীয়।’ জবাব পেলাম, ‘বাবু, আমি মানুষ।’ বললাম, পৃথিবী না অট্টালিকা? বললো, মৃত্যু।

রাঁড়ি আত্মার বাড়ি

  ‘খালাম্মা, আপনি!’ ‘হ, আমি। হাঁটতে হাঁটতে চলে আইলাম’ ‘ভালো করছেন। আইজকা গরীবের ঘরে খাইয়া তারপর যাইবেন’ মধ্যরাত থেকেই পেটের ক্ষুধায় ভুগছে শেষ বয়সী বৃদ্ধা। ভেবেছিলেন সকাল হলেই ছোট ছেলের বউ খাবার দিয়ে যাবে। কিন্তু…। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে দুপুর অবধি পানি খেয়েই ছিলেন। শেষমেশ কোন কুল-কিনারা না দেখে বাড়ির বুয়ার বাসায় যাওয়া। বৃদ্ধার দুই ছেলে। [বিস্তারিত রাঁড়ি আত্মার বাড়ি]

কমলা রঙের রোদ

লম্বা চাদর মুড়িয়ে ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন বাতির আলোয় সিগারেটের বিবর্ণ ধোঁয়ার জালে ফেঁসে উশখুশ রূপে বসে আছে। উসকোখুসকো চুল দাঁড়ি, হাতে রংবেরঙের ব্রেসলেট, ময়লা জরাজীর্ণ জীর্ণশীর্ণ জিন্স প্যান্ট ফতুয়ায় চেনার উপায় নেই। বিদঘুটে অবস্থা। কি রে! কি হয়েছে তোর? বিকেল থেকে কোন খোঁজখবর নেই। হাঁড়িতেও দেখলাম ভাত রয়েছে। – আর খোঁজখবর। খোঁজখবর দিয়ে কি হবে? আবার [বিস্তারিত কমলা রঙের রোদ]

লোনা পানির মধু

– কতটুকু ভালোবাস? প্রিয়তম – যতটুকু কলিজা। – সত্যি করে বল। প্রিয়তম – সত্যি বলছি। যতক্ষণ দেহে আত্মা আছে। – আমাকে ছুঁয়ে বল। প্রিয়তম – যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্বাসের পথ খোলা। – কতটুকু বিশ্বাস কর। প্রিয়তম – যতটুকু রক্তকণিকা শিরা-উপশিরায়। – কতটুকু মিস কর। প্রিয়তম – তোমাকে এতো মিস করি যে মাঝেমধ্যে মনে হয় থানায় গিয়ে [বিস্তারিত লোনা পানির মধু]

মিঠাই রোদচশমা চোখে

“শত শব্দের শত গল্প” কাপড়চোপড় ছাঁদের রশ্মিতে টাঙিয়ে রোদের সাথে মশকারি করছি আর গান গাইছি – নিথুয়া পাথারে নেমেছি বন্ধুরে…। পাশের ফ্লাটের আন্টি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকাতেই লজ্জায় চোখ আঁচলে ঢেকে চলে গেলো। ‘সব দিয়ে যার সব কেড়ে নাও তারতো প্রাণে সয়না…।’ বেলকনিতে আন্টির মেয়ে এসেই চোখ মুখ ওড়নায় পেঁচিয়ে দৌড়ে চলে গেলো। হাঁটিতেছিলাম [বিস্তারিত মিঠাই রোদচশমা চোখে]

বরফ মিশ্রিত পানি

  সকালে ঘুম থেকে উঠে হাই নিতেই দেখি মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভয়ে কলিজা শুকিয়ে নড়বড়ে হয়ে গেলো। তাহলে কি পেটের ভিতর দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে? সন্দেহের বেড়াজালে পেঁচিয়ে ঘোলাটে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের ভাবনায় তবুও বাথরুমে ঢুকে গেলাম। বাথরুমের ট্যাব ছাড়তেই দ্রুত গতিতে পানি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেলো। সাথে সাথেই প্রসাবের জ্বালা যন্ত্রণার হা-হুতাশে খুব [বিস্তারিত বরফ মিশ্রিত পানি]

নুপুরের বিছানা

  হাউমাউ করে কান্নার শব্দ কানে এসে ভিড় করলো। ততক্ষণে কলিজা শুকিয়ে তেঁতুল পাতা হয়ে গেছে। যার চির চির শব্দ বুকের মধ্যিখানে ধুকপুক ধুকপুক ঢোলের কম্বিনেশনে আহাজারি পায়চারি করছে। বেশকিছু দূরে কেউ একজন কথা বলছে। মুখটা মিষ্টিমুখ, মিষ্টি হাসিতে ভরা। যেন নিয়ন আলোর বাতির ঝলকানি চোখেমুখে লেগে রঙিন হয়ে গেছে। আকাশে ফানুস উৎসব আয়োজনের মতো। [বিস্তারিত নুপুরের বিছানা]

প্রিয়তমার পিছুপিছু প্রেম

  প্রেমের রশ্মি ধরে বেয়ে বেয়ে উঠতে গিয়ে কাঠগোলাপের কাঁটায় বুকের বাঁ পাশের কুঁড়েঘরের ছাউনি ভিটায় ক্ষত-বিক্ষত কিছু আঘাতের চিহ্নে এখনো প্রিয়তমার স্মৃতি ভেসে ওঠে। আর স্মৃতির খামখেয়ালি পদচারণে প্রায়শই অজ্ঞান অবচেতনে সূর্য স্নানের স্নিগ্ধতায়ও নিজেকে লুকিয়ে লুকিয়ে মগ্ন নেশায় ছোবল দিতেও কুণ্ঠিত বোধ হয় না। ব্রেকআপের বেতের আঘাতে ব্যথিত হৃদয়াকৃতি ডিম্বাকৃতির রূপে পথভ্রষ্ট হলেও [বিস্তারিত প্রিয়তমার পিছুপিছু প্রেম]

বিজয়ের হাতছানি

ধূলিকণার প্রহর শেষ হয়েছে, বিজয় মিছিলে রক্তমাখা শহীদদের প্রতিবিম্ব, ছায়া হয়ে যোগ দিয়েছে শ্লোগানে, মুমূর্ষু দেহ খন্ডিত পরিচিত চেনা মুখ, ভোরের রক্তিম সূর্য লাল রক্তের গান গাইছে, চারদিকে দেশের গান, কখনো গোলাবারুদের শব্দ, আজ ১৬ ডিসেম্বর। মাকে খুব মনে পড়ছে, কতদিন দেখিনা মায়ের মুখ, নিশ্চয়ই খুব চিন্তায় প্রহর গুনছে একাকী, বাতাসে বিজয়ের গন্ধ, মৃত্যুর খবর [বিস্তারিত বিজয়ের হাতছানি]

মানচিত্র

বিজয় তুমি লক্ষ লক্ষ শহীদদের খন্ডিত দেহ প্রাণ। বিজয় তুমি ১৬ কোটি বাংলার বিজয়ের জয়গান। বিজয় তুমি রাখাল বাঁশি শষ্য ফুলের রং। বিজয় তুমি রাঙা বৌয়ের নতুন নতুন ঢং। বিজয় তুমি ময়না টিয়া ঘাস ফড়িঙের দৌড়। বিজয় তুমি মেঠো পথে এলোপাথাড়ি মোড়। বিজয় তুমি হাসনাহেনা শাপলা মোড়ক জবা। বিজয় তুমি লাল সূর্যের তীর ধনুকের আভা। [বিস্তারিত মানচিত্র]

বিজয় তুমি

বিজয় তুমি মাঝির হাতে বেঁয়ে যাওয়া বৈঠা। বিজয় তুমি শীতের সকালে খেজুর গুড়ের পিঠা। বিজয় তুমি রৌদ্র পুড়া কৃষকের মাথাল ও লাঙল। বিজয় তুমি গৃহ বধুর ধান উড়ানো কুলা ও আঁচল। বিজয় তুমি কাছাড়ি বাড়ি রবীন্দ্রনাথের গান। বিজয় তুমি সমাধিস্হ কাজী নজরুলের প্রাণ। বিজয় তুমি শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ। বিজয় তুমি শহীদ জিয়ার ধানের [বিস্তারিত বিজয় তুমি]

হিমুর উপদেশমূলক কিছু কথা

বেশকিছু দিন হলো সময়গুলো নেতিয়ে পরেছে। আগের মতো করে আর সঙ্গী হয়ে সঙ্গ দেয়না। হয়তোবা নিজেকে নিজের মতো করে গুটিয়ে নিয়েছে নতুবা আমি নিজেই সে পথের সন্ধানে বিরতির সময়ে ভুগে ভুগে আরও বেশি ভগ্নদশায় পরিনত হচ্ছি। আর এজন্যই হয়তো সম্পর্কের ভরাডুবি নেশার ঘোরে বসত করেও ভিটেমাটির সন্ধান না পাওয়াটা আমার জন্য আসলেই অযোগ্যের। হিমুর সাথে [বিস্তারিত হিমুর উপদেশমূলক কিছু কথা]

কাছারি বাড়ি – রবীন্দ্রনাথের বসত-ভিটার গল্প

  বাংলা সাহিত্যের দিকপাল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে। শাহজাদপুরের একটি বিখ্যাত পুরাকীর্তি হচ্ছে বিশ্বকবির কাছারি বাড়ি। এটি রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক জমিদারি তত্ত্বাবধানের কাছারি ছিল। তারও পূর্বে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি নীলকরদের নীলকুঠি ছিল বলে অনেকই বাড়িটিকে কুঠিবাড়ী বলে। পরে রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এটি মাত্র তের টাকা দশ আনায় নিলামে কিনে নেন। [বিস্তারিত কাছারি বাড়ি – রবীন্দ্রনাথের বসত-ভিটার গল্প]

প্রতীক্ষার নোনাজলে

হঠাৎ কখনো দেখা হয়ে গেলে। কয়েক বছর, দুই যুগ পরে। হতে পারে, কাঠফাটা দুপুর, ক্লান্ত বিকেল অথবা বৃষ্টিমুখর কোনো সন্ধ্যায়। অপরিচিতের মত হেঁটে চলে যাবে? হৃদপিন্ড? সে-তো চুপ থাকে না। কতকিছু বলে! কতকিছু! দেহপিঞ্জর? ছায়ায় ছন্দপতন অবশিষ্ট ধোঁকা। শ্বাসনালী সংগ্রহ পরভৃৎ বোকা।

হৃদয় পোড়া ছাইপাঁশ

এ প্রস্থান হবে নিভৃতে, প্রস্থানের উৎসবে মেতে উঠবে ক্ষুদার্ত শকুনেরা। আপেক্ষিক সুন্দর হয়ে উঠবে শহরের বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যারা। এ সম্পর্ক হবে ঘোলাটে, মানুষ অদলবদলে আপনি তুমি হবে আর তুমি আপনি। রংবেরঙের রুমালের আড়ালে পাকাপোক্ত সম্পর্কের গাঁথুনি। এ বিষন্নতা হবে একাকীত্বে, স্মৃতির জোনাকি পোকাগুলো দম ফুরিয়ে মরবে। একজন হাসবে আর একজন আঁচলের আড়ালে কাঁদবে। এ অপেক্ষা হবে [বিস্তারিত হৃদয় পোড়া ছাইপাঁশ]