মধ্যে রাতে, এক শূন্য ঘরে, তামাক পাতা পুড়তে পুড়তে ছাইপাঁশ। তোমার স্মৃতির ধোয়াই পরিপূর্ণ চারপাশ। মাঝ দুপুরে, এক শূন্য থালে, হৃদয় পোড়া অশ্রু শিশিরের গড়াগড়ি। তোমার চুড়ির ঝাঁকুনি বাজে এলোপাতাড়ি। সন্ধ্যে ক্ষণে, এক শূন্য বাড়িতে, কেরোসিনের সংকটে দেহপিঞ্জর নিবুনিবু জ্বলে। তোমার নামাজরূপী ছবিখানা জায়নামাজে দোলে।
ভালোবাসাবাসি! ভরে দিও প্রেমপত্রের ঠোঙায়। খানিকটা জমে থাকুক মুঠোফোনের ছোঁয়ায়। আদরটুকু! মিশে থাকুক শরীর ভেজা ঘামে। ঠোঁট রসের গন্ধ পাই পুরোনো চিঠির খামে। প্রতিচ্ছবি! ভেসে উঠুক গোটা দেহের পর্দায়। চাহনিটুকু বন্দী হোক শরীরের উষ্ণতায়। প্রতিরূপ! গেঁথে থাকুক আয়না কাঁচের ফ্রেমে। চুল দাঁড়িতে গিটঠু লাগুক একটু মরমে। ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া।
হিমু নতুন একটি চিঠি লিখতে বসেছে – প্রিয় কান্তগীতি, পরপর কয়েকবছর তোমার পিছুপিছু ঘুরঘুর করে আমার কোমরের হাড্ডি-গুড্ডিতে কিছু ক্ষয় দেখা দিয়েছে। যার নিদারুণ নিষ্ঠুর বর্বরতা আমাকে তোমার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করে। পুরুষ হিসেবে এরচেয়ে লজ্জিত সময়ের মুখোমুখি মুখপানে মুখপোড়া আবেগে দাঁড়িয়ে থাকাটা আমার কাছে অসহ্য জ্বালাতনের। অবশ্য ডাক্তার বলেছে – [বিস্তারিত হিমুর আরেকটি চিঠি]
কিছু কথা ছিলো। হিমু – হুমম, বলুন। রুপা – সিগারেট? হিমু – প্রতিদিন এক প্যাকেট। রুপা – অন্য কোন নেশা আছে? মানে… হিমু – হুমম, একদম ঠিক ধরেছেন। সপ্তাহে দু-তিনবার হিরোইন, মদ আর গাঁজা…। রুপা – আর কিছু আছে? হিমু – নেশা উঠলে মাথা ঠিক থাকে না। রুপা – প্রেমটেম করেন নাকি? হিমু – করতাম। [বিস্তারিত হিমু-রুপার কথোপকথন]
‘কারা কানন’ নামের বাড়ী থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। সেই বাড়ীর উনিশ বছর বয়সী মেয়ে যে রোজ সকালে ছাদে উঠে হারমোনিয়ামে গলা সাধতেন। ছাদের চিলেকোঠায় আশ্রিত থাকতেন বি.এ পাস চাকরি প্রার্থী আজহার হোসেন। গোপনে মনে মনে পছন্দ করতেন ছাদে তালিম নেওয়া মেয়েটিকে। হয়তো অনেক ভালোবাসতেন আর নিজের করে চাইতেন বলেই একদিন তিনি পেয়ে যান স্বপ্ন-কন্যা শিরিন সুলতানাকে। [বিস্তারিত শঙ্খনীল কারাগার… এই প্রথম।]
কয়েকজন বন্ধু পাত্রী দেখে এসে বলাবলি করছিলো – কার কেমন লেগেছে? ১ম বন্ধুঃ ভালোই। তবে আরেকটু ফর্সা হলে ভালো লাগতো। ২য় বন্ধুঃ শ্যামলা বর্ণের হলেও মেয়েটি দেখতে বেশ। আমার ভালো লেগেছে। ৩য় বন্ধুঃ কেমন যেন একটু বেঁটে বেঁটে লাগলো। আর বাড়ির পরিবেশটাও ভালো না। ৪র্থ বন্ধুঃ এখানে বিয়ে করা যাবে না। যা খাওয়াদাওয়ার অবস্থা। ইতিমধ্যে [বিস্তারিত ১০০০ টাকার নোট]
অঝোরে কেঁদে কেঁদে মুখে মাখা ফর্সা করা পার্লারের রুপগুলো ধুয়েমুছে যাচ্ছে। বান্ধবীরা বারবার বলছে এতো বেশি কাঁদিস না মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? – এই মেঘলা শুনতো। মেঘলা – কি বলবি বল? আমার একটি কাজ করে দিবি? মেঘলা – কি কাজ বল? না, তেমন কিছু না। তুই একটু রুমিকে ডেকে দে। [বিস্তারিত প্রিয়তমেষু..অন্তরে আত্মার ঠাঁই]
ভাবির মা-বাবা এখনো রাজি হয়নি। হঠাৎ কোন মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করলে পরিবার কি তৎক্ষনাৎই মেনে নেয়? কখনোই মেনে নেয় না। ভাবির বড় মামা আমাদের বাড়িতে এসেছে। শুনেছি তিনিও নাকি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন। এজন্যই তিনি ভাগিনীকে সাহস দিতে এসেছে। সাহস দিতে এসেছে ভালো কথা। ভাগিনীকে সাহস দিয়ে খাওয়াদাওয়া করে চলে যাক। কিন্তু না তিনি আমাকে [বিস্তারিত নীতিকথা]
ইদানীং ভাবনার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের দেহটি বিষন্ন ভগ্নহৃদয়ে ভুগছে। জোড়াতালি দিয়ে কাপড়চোপড় কিংবা জুতা শিলাই করা গেলেও হৃদয়ের কোণে জমে থাকা একরাশ নিরুত্তর প্রশ্নগুলো ধসে ধসে মৃত্যুর কবলে পরে। আর শূন্য দশমিক পনের পরিমাণ সমভূমির হৃদয়ের হালচাল নিয়ে বেঁচে থাকাটা আরও বেশি কষ্টকর ও জরাজীর্ণ হয়ে ওঠে। হঠাৎই কলিং বেল বেজে উঠলো। হিমু [বিস্তারিত হিমুর হাতে চারটি শব্দ]
সেদিন অতনু তার গার্লফ্রেন্ডের সাথে মোবাইলে কথা বলছে – হ্যালো – জানু, তুমি কোথায়? গার্লফ্রেন্ড – বাবু! আমিতো রেডি হচ্ছি। তুমি কোথায় বাবুসোনা? অতনুঃ আমিতো বের হয়েছি লক্ষীটি। আমার লক্ষীটি কি খেয়েছে? গার্লফ্রেন্ড – না সোনা। এখনো খায়নি। অতনুঃ খাওনি কেন? না খেলেতো তোমার কষ্ট হবে। প্লিজ, ময়নাপাখি তুমি কিছু খেয়ে নাও। গার্লফ্রেন্ড – আচ্ছা [বিস্তারিত ন্যাকামি]
দরজার বাইরে হিমুর জুতো দেখে পরপর তিনবার কলিং বেল বাজালাম। কিন্তু ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না। দরজাটাও ভিতর থেকে লক করা। মনের মধ্যে তখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাতের ছোঁয়ার টেপাটেপিতে বুক ধড়ফড় করছিলো। চিন্তার ভিড়ে কপালের মোড়ে অযথাই ঘাম এসে ঠেলাঠেলি করছিলো। আর বুকের ভেতরটা হাহাকারের দাবানলে পুড়ে ঠোঁটের চৌকাঠ অবধি শুকিয়ে যাচ্ছিলো নিমেষেই। হিমুকে [বিস্তারিত হিমুর হাতে ভূতের বাক্স]
খুবই ভোরে হিমুর ফোন বেজে উঠলো। আচমকাই ঘুম ভেঙে গেলো আমার। তখনও বিছানায় বিভোর হয়ে ঘুমাচ্ছে হিমু। হিমুকে ডাকবো ডাকবো করছি ইতিমধ্যেই রিংটোন বন্ধ হয়ে গেলো। আমি আবার ঘুমানোর দাওয়াতে যাবো যাবো করছি ঠিক তখনই আবার হিমুর ফোন বেজে উঠলো। এবার হিমুকে না ডেকে সরাসরি আমি নিজেই ফোন রিসিভ করলাম। আমি পুরোপুরি শুকনো পাতার মতো [বিস্তারিত হিমুর হাতে কাফনের কাপড়]
ঘুমাতে পারছি না কোনমতে। একটু পরপর জেগে উঠছি। একরকম বিস্ময়কর নেশার পেশায় জড়িত হয়নি কোনদিন। কিন্তু আজ হঠাৎ করে কেন যে দীর্ঘ রাতটাকে পাহারা দিতে বসেছি তারও কোন সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুনেছি প্রেমে ছ্যাঁকা খেলে প্রেমিকদের ঘুম আসে না। প্রেমিকেরা সারারাত বাতি জ্বালিয়ে বিড়ির ধোঁয়া আর ছাইপাঁশে রাত্রিযাপন করে। কিন্তু আমিতো সবেমাত্র প্রেমের [বিস্তারিত হিমুর হাতে নীল রুমাল]
হিমু চিরকুট লিখছে… প্রিয় প্রিয়তমেষু রুপা, তোমার অতশত রূপ দেখে আমি বিমুগ্ধ। তোমার গাঢ় লাল লিপস্টিকের ভিড়ের নেশায় মত্ত। কি যে রূপের সুধা! কি যে ঠোঁটের উষ্ণতার রস, আহা! দেখে দেখে বুকের ভেতরটায় তৃষ্ণার চড় ভেসে উঠেছে। আর সে তৃষ্ণায় জব্দ হয়ে ডুবে ভাসি রোজরোজ। তোমার ফর্সা দু গালের নরম মাংসপেশিতে আমার ঠোঁটের উষ্ণ আবরণ [বিস্তারিত হিমুর হাতে চিরকুট]
হিমু বেশ কয়েকদিন হলো গ্রামের বাড়ি গিয়েছে। আর ধুলিমাখা শহরটার পুরোটাই আমার কাছে অতৃপ্ত লাগছে। চায়ের টোংঘর থেকে শুরু করে বিলাসী রেস্টুরেন্টের খাবার আরও বেশি অসহ্যকর লাগছে। সময়গুলো যেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাতরাচ্ছে। আর দিনের বাকি অংশটুকু সামরিক চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত। গতরাতে হিমু কল দিয়েছিল। বললো – পরশু ঢাকায় চলে আসবে। অবশ্য তখন মনটা স্বাচ্ছন্দ্যে [বিস্তারিত হিমুর হাতে রেশমি চুড়ি]