অলিখিত কড়চা//

  ঘুমহারা দিশাহীন বোধ নিয়ে ফানুস ওড়াই কালো আকাশে! বারান্দার গ্রিলে চিবুক রেখে নক্ষত্র গুণে গুণে পিছলে সরে যাচ্ছে পূব থেকে পশ্চিমে শুকতারা’র শরীর। ঘাড়-বাঁকিয়ে ঝুলে থাকে হাত পায়ের ঝুলন্ত কাঠামো। ভোর আসবে পূবে! মাথা হেলে আছে পশ্চিমে। সুর বেজে ওঠে বিউগলে আচমকা! কেউ বুঝি অলক্ষ্যে চলে গেলো। বিউগলের আওয়াজ ঢাকার চেষ্টায়, থালা বাটি পেটানো [বিস্তারিত অলিখিত কড়চা//]

তোমার জানালায় অনেক শব্দ রেখে যাবো//

: তোমার জানালায় অনেক শব্দ রেখে যাবো। -আমি কালো কাঁচের শার্শি খুলে দিয়ে তুলে নেবো শব্দের বৈচীদানা। একটার পর একটা সুতোয় গেঁথে নেবো ভাষা কাব্যের মালা। :তোমার চুলে রেখে যাবো হাত। – এলো চুলে নির্বাক শব্দে থির হয়ে দেখবো দূরের আকাশ। ভুলে যাবো কোথাও কখনো আগেও বেজেছে সারেঙ্গীর সুরতাল! : হাতে রেখে যাবো আমার আঙুল। [বিস্তারিত তোমার জানালায় অনেক শব্দ রেখে যাবো//]

ও কার বোন চিনিস তো? //

সক্কাল সক্কাল মেজাজটা বিগড়ে বকর বকর করেই যাচ্ছে মা। সবজিগুলো চটের থলে থেকে বেসিনের পাশে রাখতে রাখতে দীপার সাথে গরম গরম বাক্যব্যায়ে ব্যস্ত হাত চালাচ্ছে। দীপা ও মধ্যম গলায় জবাব দিয়ে যাচ্ছে আর মায়ের কাজে হাত লাগাচ্ছে। : দীপা : ও সুতপা দি! এসো না, বসো! : নারে, কাল যে আচার দিয়েছিলি! বাটি টা দিতে [বিস্তারিত ও কার বোন চিনিস তো? //]

অণুকাব্য

১: আহুতির মতো জ্বলছে নিরবধি জ্বলে জ্বলে অবশিষ্টতার ছাই উড়ছে অদৃশ্য হাওয়ার ভাঁজে। বেনামী অসংখ্য প্রশ্নের চিতায় সুগন্ধি রেখে কেটে যাচ্ছে নির্বোধ বোধের আহুতি! সজনেপাতায় ঘর বাঁধা মুনিয়া পালক হারানো দুঃখ নিয়েছে কিনে। হারানো বিজ্ঞপ্তির নোটিশ টানানো ভুলেই বসে আছে অভিশাপের তাড়নায়। ২: কথারা খুঁজে চলে হাওরের বিলে বৈঠার মাঝি। শাপলা ফোটা জলজজীবনে খেলছে রঙিন [বিস্তারিত অণুকাব্য]

মা…পর্ব-৪

হঠাৎ করেই একদিন আবিষ্কার করতে হয়, আমি আমার অঙ্গনে বৃন্তছাড়া হয়ে পড়েছি! কষ্ট হয়! ভীষণ কষ্ট হয় মানতে তখন। আমার ঘর, পড়ার টেবিল, আমার বিছানা, গোছানো বইগুলো, নিজ হাতে সাজানো দেয়ালে টাঙানো ছবির ফ্রেম……   একদিন যখন লাল বেনারশী পড়ে এ বাড়ির চৌকাঠ ছেড়ে যেতে হয়েছিলো অন্যঘর সাজাতে হবে বলে! তারপর থেকে বাবার বাড়ির নিজের [বিস্তারিত মা…পর্ব-৪]

বিভাজন….//

অতি ক্ষুদ্র অংশে তার সন্মানের চিরনির্বাসনে সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে’ মূল ভাবঃ সন্মান বঞ্চিত ব্রাত্যজনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাজের উচ্চ মঞ্চে কবি আসন গ্রহন করেছেন। তাই সেখানকার সংকীর্ণ জানালা দিয়ে বৃহত্তর সমাজ ও জীবনকে তিনি দেখতে পারেন নি। উপরের লাইনদুটো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। কবি এই কবিতাটি লিখে গিয়েছেন তাঁর মৃত্যুর চারমাস আগে ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের [বিস্তারিত বিভাজন….//]

গুচ্ছানুভূতি

নির্ভরতা# প্রতি সেকেন্ডের হিসেব যদি পেতে চাই; তবে বন্ধ হবে জবাবের দরজা। নয়তো নাটুকেপনার চারিত্রিক কসরৎ। যুগান্তর রইলো পরে যোজন যোজন দূর অজানার গন্তব্যে। বিশ্বাসের দেয়ালে ঠেস্ দিয়ে শীতল পাটি দাঁড়িয়ে থাকার মতো অপেক্ষা। কখন বিছানো হবে নির্ভরতার পাটি?   বোধ# না চাইতেই পেয়ে যাই অফুরন্ত চাইলাম বলেই… কোষাগার শুন্য! এপিঠ ওপিঠ উল্টে দেখি যোগ-বিয়োগের [বিস্তারিত গুচ্ছানুভূতি]

অস্থির সময় ক্ষমা করছে না কেন?//

নালিশ শুনতে শুনতে আমি যেন ডিব্বা হয়ে গেছি আজ। কিসের যে ডিব্বা? সেটাই গুনে বেছে আলাদা করতে পারছি না। ক’মাস হলো কোভিড-১৯ বদ্বিপ খ্যাত বাংলা ভূখন্ডের আকাশে-বাতাসে দোর্দন্ড প্রতাপে চড়ে বেড়াচ্ছে? অনেকেই চট করে কড়ে আঙুলের হিসাবিজ্ঞানের সহজ সমাধান দিয়ে কষে দেবেন দিন-ক্ষন- মাস-তারিখ। মজার ব্যাপার হলো, লকডাউন ঘোষনার আগ পর্যন্ত কারো হুঁশ ছিলোনা পরিস্থিতী [বিস্তারিত অস্থির সময় ক্ষমা করছে না কেন?//]

আমাদের কথাকাব্য// বন্যা-শিরিণ

শিরিণ/ আছো? বন্যা/ এলাম, বলো আজ কেমন আছো? শিরিণ/ আছি…. বন্যা/ কেমন সে থাকা? শিরিণ/ অস্থির বেদুঈন কি তা জানে? বন্যা/ বেদুঈন নয় চোরা গলির পথিক। অবারিত মরুপ্রান্তর চষে ফেলে ক্ষমতার অধিক। শিরিণ/ দৈণ্য মনে করছে বিরাজ- কি লিখবো আর শাদা কাগজে! মগজ বেজায় ঢিলে। তোমার সাথে তাল কি হবে বলো! ঘুম নেই চোখে সেই [বিস্তারিত আমাদের কথাকাব্য// বন্যা-শিরিণ]

মিতা- কি দিবো জবাব!

মিতা/ শিরিন– জানিনা কেমন করে তোমার জবাব লিখি। আজ আর কেমন আছো জানতেও ভয় পাই। প্রতিটি ঘরেরই তো একই চিত্র, একই ইজেলের গায়ে সাঁটানো চিত্রকল্প! আমরা চেয়েছিলাম কবিতা, কাব্যের মোহে  করতে রচনা সোনালী দিনের আশার শব্দমালা বুনতে। তোমাকে বলার পরে নিজেই ভুলে আছি। কতটা দিন পেরিয়ে গেছে….  তবু হয়নি কিছুই সৃষ্টি! একেকটা বন্দীজীবন দেখছি…. শুনছি, [বিস্তারিত মিতা- কি দিবো জবাব!]

শিরোনামহীন //

মাঝবরাবর পুকুর থেকে বুদবুদ ওঠে। ১০/১২ বছরের দু’ বেনী ঝোলানো ফ্রকপরা মেয়োটা নানা বাড়ির ভেতরবাড়ির শানবাঁধানো ঘাটলায় দাঁড়িয়ে দেখছে। পুকুরের চারদিক ঘন গাছপালা ঢাকা। এ সময়টা বড্ড সুনসান নিরবতা বিরাজ করে চারদিক। ছমছম করা এক ভয় কাজ করে অযথাই। কি এক অজানা আকর্ষণ আছে এই পুকুরঘাটে! মাটির ছোটো চুলায় ছোটো ছোটো হাড়িপাতিলে রান্নাবাটি খেলা ছেড়ে [বিস্তারিত শিরোনামহীন //]

ঘুড়ি – লকডাউন শহরে

ওকে আমি বাসুলিয়ার গায়েন বলে ডাকি। ওর একটা নাম আছে।থাকুক।ওকে আমি ভূত বলেও ডাকি। মাঝে মাঝে ভূতের মতো আচরন করে বলে। আমাকে অনেক কিছু ডাকে।যখন যেমন মনে চায়! পেঁচী, পেত্নী, বোঁচা, কানি, শালিক, চড়ুই,বাবুই, কত্ত নাম! আসল নামটাই ভুলে যাই আমার মাঝে মাঝে।আমারো একটা নাম আছে। ঝুমুর। রেগে গেলেই বলে…….” আমার যা খুশি ডাকুম, তাতে [বিস্তারিত ঘুড়ি – লকডাউন শহরে]

সহজে সহজ নয়…

  প্রাপ্য যা কিছু; সহজে নয় সহজলভ্য : ইচ্ছেগুলো ফানুস হলে যাচনা’রং ঠুঁকরে খাবে। এমনতরো বায়না সকল শীতলপাটির তলে ঘুমপাড়ানী গানের সুরে কেবল স্বপ্ন দেখে। মনখারাপের এনভেলাপে হলদে গোলাপ ফোটে, কালবোশেখি ধুলোর ঝড়ে চোখের কাজল ভাসে। আধেক চাঁদের আলো দিয়ে ঘর ভরেছি আলোয় নিকষ কালো দূরেই রাখি ভয় কেন আর কালোয়! বেদুঈন নয় চোরাগলির পথিক [বিস্তারিত সহজে সহজ নয়…]

মা……পর্ব–৩//

মা…..// নিজ ভাবনা থেকে–পর্ব(৩) আমার ওপরে খাবার দাবারে বিধিনিষেধ আরোপ শুরু হয়েছিলো সম্ভবনার শুরু থেকেই।কন্যা ভূমিষ্ঠ হবার পরে বেড়ে গেলো আরো বহুগুণ। আম্মা’র কাছে থাকাকালীন সময়ে ত্রাহি অবস্থা করে ছেড়েছেন।এমনকিছু খাওয়া যাবে না, যা কিনা বেবির ওপর এফেক্ট করে।মা যা খাবে তাই প্রভাব পড়বে বাচ্চা’র যেহেতু বাচ্চা দুগ্ধজাত নবজাতক। ২৪ দিন বয়সে মেয়ের দাদা ইন্তেকাল [বিস্তারিত মা……পর্ব–৩//]

মা…….পর্ব-২ //

মা….. নিজ ভাবনা থেকে–পর্ব ২// নজর লাগে কেমন করে বা নজর লাগলে কি ক্ষতি হয় জানার আগ্রহের চেয়ে, নজর ফিরিয়ে নেই বিনাবাক্যব্যয়ে। সন্তানের মঙ্গল কামনায়। আঙুল ছুঁয়ে থাকি, পায়ের দিকে তাকাই, লেপ্টানো ঘনকালো চুলগুলোর তাকিয়ে থাকি, পিট পিট করা চোখদুটোর কাঁপন দেখে অসম্ভব রকম অনুভূতির প্রকাশে ঠোঁটের কোনে হাসি ঝুলিয়ে মহান স্রষ্টার দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাই। [বিস্তারিত মা…….পর্ব-২ //]