ভাটিফুলের সৌরভ

দিনকয়েক আগে ব্লগে পোস্ট করার বিষয়ে একটি ঘোষণা এসেছে। যেকোনও পোস্টের সাথে ছবি যোগ করা বাধ্যতামূলক। সুন্দর উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগ সুন্দর হলেই তো হল না , আমি যে দুনিয়ার আনাড়ি। ফেসবুকেও দেখি সবাই কত সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে গল্প, কবিতা পোস্ট করে। সেটাও করিনি কোনদিন। যাইহোক , বাধ্যতামূলক যখন, ছবি দেয়ার চেষ্টা করা যেতেই পারে। আগে আমার যে দু’তিনখানা পোস্টে ছবি সংযোজিত হয়েছে, তা একান্তই জিসান ভাইয়ার বদান্যতায়। কাজটা আমার কাছে ভীষণ কঠিন। কঠিন কাজ সহজ করতে বোনের দিকে ভাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত। কিন্তু সবসময় কি তাঁকে বিরক্ত করা সমীচীন? মোটেও না। চেষ্টা করে করে শিখে নিতে হবে নিজেকেই।

এদিকে আবার বসন্ত ঋতুর প্রথম মাস ফাগুন চলে গেল। তো কী হয়েছে , এসেছে চৈত্র মাস…. তোমার চোখে দেখে যাবো আমার সর্বনাশ! কবির কথা ধার করে ফেললাম আর কী!
ও হ্যাঁ, সর্বনাশের কথাই যখন এলো, তখন বলবো না বলবো না করেও করোনা ভাইরাসের কথাটা আর না বলে পারলাম না। ফাল্গুন থেকে শুরু হওয়া বিয়ের মৌসুম, চৈত্রেও কম রঙ ছড়ায় না। কিন্তু এবার? সবখানে যে সর্বনাশের হাহাকার! করোনা নামক সৃষ্টিছাড়া ভাইরাস একে একে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর আনাচে কানাচে। ফেসবুকে কমে গেছে গল্প কবিতা, শুধু ভেসে আসছে করোনা নিয়েই নানা পোস্ট। ব্লগেও একাধিক পোস্ট চলে এসেছে এর মধ্যেই। দেখছি আর না চাইলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। বিশ্বের ঝকঝকে তকতকে উন্নত দেশগুলোই যখন দিশেহারা, আমাদের মতো এত ঘনবসতিপূর্ণ আর অসচেতন একটা দেশ কেমন করে তার মোকাবেলা করবে? বন্ধ হয়নি প্রবাসীদের দেশে আসা, বন্ধ হয়নি জনসমাগম, বন্ধ হয়নি বাচ্চাদের স্কুল। বাজার থেকে ১০ টাকার মাস্ক কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা কিংবা আরও বেশি দামে, অথবা পাওয়াই যাচ্ছে না। সর্বনাশের ভাবনা না চাইতেও গ্রাস করে ফেলছে পুরোটা সময়। জানি না কী হয়!

ফাগুন শেষের তপ্ত বাতাস নেই, নেই খাঁ খাঁ রোদ্দুর, কথা নেই বার্তা নেই ঝিরঝির বৃষ্টি….. হিমেল হাওয়া।
কিন্তু আমার মন জুড়ে যে ফাগুন শেষের চৈত্রমাস। মস্তিষ্কের কোষে কোষে ছড়িয়ে আছে গাঁয়ের পথে পথে ফুটে থাকা ভাটিফুলের সৌরভ! সেই সৌরভ কি পারবে করোনার প্রভাব দূরে সরাতে? পারবে…. নিশ্চয়ই পারবে! করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক নয়, ভাটিফুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের মনের অলিগলিতে। হাহাকার ভুলে যেন বলতে পারি,

প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস
তোমার চোখে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ …..

মোট পড়েছেনঃ ৯৮৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৪টি মন্তব্য

  1. ছোটবেলায় এই ফুল অনেক দেখেছি। আপনার লেখা পড়ে আবারও মনে পরে গেল। আমরাও আশা রাখি ভাটিফুল/ভাট ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়বে আর করোনার আতঙ্ক দূর হবে খুব শীঘ্রই।

  2. মনভোলানো লেখনী দিদি।
    ভাটিফুলের সাথে এমন মুগ্ধকর লেখনী।
    ভাটিফুল হোক মানুষের বেঁচে থাকার প্রতিষেধক।

    শুভকামনা দিদি।

  3. সেই সৌরভ কি পারবে করোনার প্রভাব দূরে সরাতে? পারবে…. নিশ্চয়ই পারবে!

    পারবে দিদি, পারবে! নিশ্চয়ই পারবে বলে মনে হয়! কারণ, আপনার মনের জোর আছে, তাই।
    শুভকামনা থাকলো শ্রদ্ধেয় দিদি।

  4. ” ফিচার ছবি নির্বাচন ” এ ক্লিক করলেই খুব সহজে ফিচার ছবি যুক্ত করতে পারবেন।

    করোনা নিয়ে অত্যন্ত আতংকের মাঝে আছি।

    ভাটিফুলের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের মনের অলিগলিতে।
    শুভ কামনা।

  5. সোনেলায় প্রায় সব ব্লগারদের একমাত্র সাহায্যকারী তিনি। তার বদান্যতার জন্যে আমরাও তার প্রতি কৃতজ্ঞ 🙂

    শুভ কামনা রইলো 🌹🌹

মন্তব্য করুন