যখন থাকবো না আর

এই নির্ঘুম রাত আমার আদিগন্ত সজ্জিত ব্যথার অলঙ্কার,
যখন পূঞ্জীভূত গুঞ্জরণে জীবনে বিষাদ ছুঁয়ে যায়
আমি দেখি নির্মিলিত জোসনা, ডাহুকের গান
নিভু নিভু জোনাকির মতো –
আমি বয়ে বেড়াই মহাকালের পথে এক মৃতপ্রায় প্রাণ।

যখন রাত্রি নিঝুম,
সহস্র যন্ত্রনার আর্তচিৎকারে বিদীর্ণ হৃদয় খানি
বুকের পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে আসে-
অমাবস্যার অন্ধকার নিয়ে আমার পৃথিবী জুড়ে
একা আমি আর আমার কষ্টের অষ্টপ্রহর
আমি বিচলিত হইনি কভু, পরাভূত সে তো বহুদূর।

আমি অন্ধকারের বুক চিরে লিখে যাই অনাহুত
প্রণয়ের গান,
বসন্তের শেষ বিকেলের রোদ্দুর মেখে,
উদীয়মান নক্ষত্রের বুকে বাসা বাঁধে ভীরু সন্যাস
কলঙ্কের সবটুকু কালিমা ললাটে মেখে
তোমাদের প্রশস্ত পথের যোগান দিয়ে যাই।

নিয়ম করে রোজ রাতে ঘুম বদলাই –
বিনিময়ে চেয়ে নিই একগুচ্ছ বেদনার উত্তাল ঢেউ
উপচে পড়া অশ্রুর প্রতিটি ফোঁটাই তার কাল স্বাক্ষী
আমি রাত্রির দেয়ালে দেয়ালে ছাপি নীল পোস্টার
তোমার শিউলীর পাপড়ির মতো দুটি চোখের তারায়
কিছু অশ্রু আমিও যে জমা রেখে যাই।

জানি একদিন হয়তো এই রাত ফিরে যাবে –
স্বপ্নের ভাঙ্গা তরী বেয়ে, তোমার আঙ্গিনায়
এই নির্জলা প্রণয়ের আকুতি আমার
তোমাকে শোনাবে কিছু অভিযোগের সুর,
ততোদিনে হয়তো আমি মিশে যাবো –
গাঙচিল পাখিদের ভীড়ে, পেরিয়ে শ্বেত সমুদ্দুর।

সময় করে একদিন খুলে দেখো ডায়েরীর প্রথম পাতায়,
নিজ হাতে লিখেছিলে বিন্দু অশ্রু জলে
আমার প্রয়াণ পরে আমায় স্মরণ করে –
অঙ্গীকারের খাতা তুমি খুলবে যতন করে
শেষের পাতায় ও দেখো, তব অন্তঃপুরে
পাবে গো আমারে ।

উত্তরা, ঢাকা

মোট পড়েছেনঃ ১,০১৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৭টি মন্তব্য

  1. চলে যাবার পর এটুকুতেই মন ভরবে? চলে যাবার পর সব আগের মতোই রয়ে যাবে শুধু আমিই থাকবো না। থাকবে অন্য কেউ , নতুন পথিক। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    1. চলে যাওয়া মানেই যদি নিজেকে নিশ্চিহ্ন করার পথ সুগম করে দেওয়া হয় তাহলে বুঝতে হবে আমি কখনো ছিলামই না সেই মঞ্জিলে। ধন্যবাদ প্রিয়।

  2. গতিময় সময়ের গতিহীন রাত্রি-অবদান
    বিদীর্ণ হয় পোস্টারে,
    পলেস্তারা বিহীন হৃদ-দেয়ালে আটকে রাখি
    আঠালো অশ্রু-কণায়!
    বদলে যাওয়া ঘুম, মেনে নেয়া অনিয়ম
    সবই করেছি আপন,
    তুমি কি সরব হবে?
    সেদিন হয়তো স্বরণে আসবে স্বরণীয় কাল-ক্ষণ…

    এতো সুন্দর করে কিভাবে লেখেন? এমন করে?
    এক নদী মুগ্ধতা দিয়ে গেলাম।

    শুভ কামনা নিরন্তর 🌹🌹

  3. জানি একদিন হয়তো এই রাত ফিরে যাবে –
    স্বপ্নের ভাঙ্গা তরী বেয়ে, তোমার আঙ্গিনায়
    এই নির্জলা প্রণয়ের আকুতি আমার
    তোমাকে শোনাবে কিছু অভিযোগের সুরে
    ততোদিনে হয়তো আমি মিশে যাবো গাঙচিল
    পাখিদের ভীড়ে।

    অসাধারণ অসাধারণ। নামটা খুবই ভালো লেগেছে ভাই।
    ভালো থাকবেন “

  4. ………..ততোদিনে হয়তো আমি মিশে যাবো –
    গাঙচিল পাখিদের ভীড়ে, পেরিয়ে শ্বেত সমুদ্দুর। দারুন ভাই ।

    অঙ্গীকারের খাতা তুমি খুলবে যতন করে
    শেষের পাতায় ও দেখো, তব অন্তঃপুরে
    পাবে গো আমারে । কি হবে কবি অন্তের অন্তে যা দেখার শুনার কেউ নেউ শুধুই বাড়ে কষ্ট।

      1. উফ ! দারুন । সুখ তো কেবল উলম্ব প্রচ্ছায়া।
        আসলেই তাই কষ্ট আর জীবন একই অঙ্গে বসতভিটা। অঙ্গাঙ্গী থাস্কে কাউকে বাদ দেওয়া যাবেনা।

  5. “আমার প্রয়াণ পরে আমায় স্মরণ করে –
    অঙ্গীকারের খাতা তুমি খুলবে যতন করে
    শেষের পাতায় ও দেখো, তব অন্তঃপুরে
    পাবে গো আমারে ।“

    বিদায়ের করুণ সুর
    আজ বাজে অন্তরে।
    বন্ধু আজ বসে আছে
    বিরহে কাতরে।

  6. জানি একদিন হয়তো এই রাত ফিরে যাবে –
    স্বপ্নের ভাঙ্গা তরী বেয়ে, তোমার আঙ্গিনায়
    এই নির্জলা প্রণয়ের আকুতি আমার
    তোমাকে শোনাবে কিছু অভিযোগের সুর,
    ততোদিনে হয়তো আমি মিশে যাবো –
    গাঙচিল পাখিদের ভীড়ে, পেরিয়ে শ্বেত সমুদ্দুর।

    অনন্য অসাধারণ লিখেছেন ভাই।

    1. কবিতা আমার কভু পরিচায়ক নয় তবু
      ভালো আছি এই আমি বেশ
      ভাই বন্ধু স্বজন হয়ে থেকো পাশে শেষ বলয়ে
      কবিত্বে আমার কভু ছিলো না আবেশ ।

      ধন্যবাদ প্রিয় ভাই।

    1. আসলে আমার কবিতা বলে কথা নয়, যেখানে আপনার মুগ্ধতার পটভূমি ওটা ছিলো ভালোবাসা। পৃথিবীতে ভালোবাসাই একমাত্র মানুষকে মুগ্ধ করতে পারে। আমার লেখাগুলো থেকে যদি ভালোবাসা কে শর্ট আউট করে সরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে মুগ্ধ হওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তখন এই অর্ণব চৌধুরী নিতান্তই পথের ধূলোয় বালিকণা মাত্র। ধন্যবাদ আপু।

  7. স্যামুয়েল হানাজিদের কারাগার কবিতাকে একটু পাল্টে যদি বলি

    মানুষের কাছে এই পৃথিবীটা সারা জীবনের কারাগার।
    অতএব আমি বোকাদের প্রতি এই সত্যটাই বলি;
    যে-দিকেই তুমি ছোটাছুটি করো, ভুলে যাওয়া
    চারিদিক থেকে তোমাকে র‍য়েছে ঘিরে;
    পারলে বেরিয়ে আস।

    1. আমি মহাশূণ্যের পরিধি ভেদ করে ছুটে এসেছি
      এই অমৃত সুধা অমিয়ের স্রোতস্বিনী পারে
      আমি আজন্ম মৃত্যুর ক্ষুদা অতিক্রম করে লভিয়াছি সঞ্জীবনী
      কেন তবে ফিরে যেতে বলিছ আমারে ?

      1. কল্প-বিলাসী কেন আসে এই ধুলোর ধরণীতে
        পণ্ড-শ্রমে ভর করে! সেথায় অপ্সরীদের বেগার খেটে
        কাটুক সময় আলগা দাঁতের বর্ণমালা গুনে গুনে!!

  8. যখন রাত্রি নিঝুম,
    সহস্র যন্ত্রনার আর্তচিৎকারে বিদীর্ণ হৃদয় খানি
    বুকের পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে আসে-
    অমাবস্যার অন্ধকার নিয়ে আমার পৃথিবী জুড়ে
    একা আমি আর আমার কষ্টের অষ্টপ্রহর
    আমি বিচলিত হইনি কভু, পরাভূত সে তো বহুদূর।

    সাহসী উচ্চারণ। চমৎকার কবিতা।

    1. অন্ধকার !!! একদিন এই মহাবিশ্বের নিতম্ব ঘেঁষে আঘাত হানবে উদ্বাস্তু বলয়- তারপর কৃষ্ণগহ্বরের দৈত্যাকার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হবে আমাদের শেষ আশ্রয়। ধন্যবাদ দাদাভাই 😍

মন্তব্য করুন