ফানুসি কবিতা

কবিতার মিথ্যে ফানুস উড়িয়ে
ভঙ্গুর রেখায় ‘কোবি’ হাসি-হাসে আড়ালে,
জুজুৎসুর প্যাঁচ কষে ওষ্ঠাগত করে দেব পাঠক-প্রাণ,
মন্ত্রপূত হুল ফুটিয়ে আত্মরতি সেরে নেব, রমণীয় ব্যাঘ্রতায়;
সূচি-মুখে চিঁ-চিঁ করে রস-প্রীতি ঢেলে দেব
প্রণয়ের রীতিনীতি না-মেনে!

পাঠকের চতুর-শ্লেষ সর্পিল-মোচড়ে বেসুরো করে দেব;
দিনান্তে মেকি আনন্দ-সৌরভের অম্লান প্রীতি-পিদিম
জ্বেলে রাখবো গৃহকোণে;

নিঃশব্দ নিঃশঙ্ক চিত্তে দুর্নিবার গতিতে নিদ্রালু-হৃদয়ে জপে যাব
ওম শান্তি, ওম শান্তি, ময়ূর পঙ্খির নাও দুলিয়ে;
কবিতা হতে থাকবে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, প্রস্তর-স্তব্ধতায়,
কাঁথার ওমে ক্ষমাহীন-ঈশ্বর হাসেন হৃদয়হীনতায়।

ভাবনা-চোখে আজ স্বর্ণরেণুর নিবিড় আকাশ,ধোঁয়া-কুয়াশার ভীড়ে
সোঁদা-গন্ধে গেঁথে আছে শেকড়ের জোড়া-স্মৃতিতে,
রাত্রি-জাগা সিক্ত-স্নিগ্ধ পরিপাটি জ্যোৎস্না জড়িয়ে আছে হুটোপুটিতে,
পালকের মত গায়ে গায়ে, অস্ফুট খুনসুটির ঠোঁটে ঠোঁটে;
আ-তীব্র শিউলি-ঘ্রাণ ব্যাকুলতা, নকশি-কাঁথার স্মৃতিতে।

ছবি…নেটের।

মোট পড়েছেনঃ ১,৩৯০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৬টি মন্তব্য

  1. নিঃশব্দ নিঃশঙ্ক চিত্তে দুর্নিবার গতিতে নিদ্রালু-হৃদয়ে জপে যাব
    ওম শান্তি,ওম শান্তি,ময়ূর পঙ্খির নাও দুলিয়ে;
    কবিতা হতে থাকবে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর, প্রস্তর-স্তব্ধতায়,
    কাঁথার ওমে ক্ষমাহীন-ঈশ্বর হাসেন হৃদয়হীনতায়।

    সত্যিই অসাধারণ। মুগ্ধতা অনিমেষ প্রিয় হেলাল ভাই।

  2. ওহহো এটা যে পাঁচশততম পোষ্ট জানতামই না, পাঁচ হাজারতম পোষ্টের জন্য দিন গোনা শুরু করলাম বড় ভাই 😀

    তাহলে এবার তো ফানুস উড়ানো যায়ই…………

  3. অসাধারণ একটি কবিতার জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো ৫০০ তম পোষ্টের জন্য। শব্দার্থ বুঝলেও সারমর্ম বোঝা হলোনা। তাই একটু কষ্ট পেলাম। ভালো থাকুন সবসময়

    1. আহা আহা! এভাবে কষ্ট পেতে নেই! আসুন এই লেখকের ‘খ্যাতা পুড়ি’; কী না কী লেখে-টেখে কে জানে!
      আমরা পাঠকের জায়গায় বসে নিরিবিলিতে সামান্য ভাবাভাবি করি।
      এখানে লেখক নিজেকে নিয়ে নিজে ব্যঙ্গ করেছে নির্দয় ভাবে, এন্তার পেঁচিয়েছেন, পাঠক ঠকিয়েছেন বাউলি কেটে,
      কবিতার মত কিছু একটা লিখেছেন সবাইকে ধোঁকা দিয়ে……………… এ ভাবে চলছিল।

      শেষ এসে এই কৃত্রিম ভঙ্গুরতা আর ধরে রাখতে পারেন নি। স্বরূপে এসেছেন, নস্টালজিক হয়ে। ক্লু দিচ্ছি।
      জোড়া স্মৃতিতে (সোনেলা আর সে) আতকে পরেছেন, ভাবতে বসেছেন এখানে এই দীর্ঘ লেখা-জীবনের স্মৃতি নিয়ে,
      আনন্দ-বেদনায়। শেষ অব্দি আনন্দ-ঘ্রাণ নিয়েই সমাপ্তি টেনেছেন।
      এবার আর একবার কষ্ট সয়ে পড়ুন, যদি সম্ভব হয়।
      পাঠককে ধন্যবাদ দিতে ভুল যেন না হয়।

  4. পাঠক হৃদয়ে হুল ফোটাতে চাওয়া কোবি! আপনিতো আচ্ছা লোক দেখছি? আপনার কাছে এত প্যাঁচ আছে বুঝতেই পারিনি!

    কবিতা যেমনই হোক পাঠক হিসেবে লেখককে আমরাও প্যাঁচিয়ে ধরবো কিন্তু।

    পাঁচশত পোস্টের অভিনন্দন মহারাজ।

    1. ঠিক ধরেছেন, কোবি হলে যা হয় আর কী!
      লেখক-পাঠকের এই প্যাঁচাপেচিটুকুই লেখকের এক মাত্র সম্বল।
      আপনাকেও শুভেচ্ছা নূতন বছরের।

    1. পাগল তো হওয়াই, তা না হলে ৫০০ আবজাব কেমনে লেখে!
      আর ঐ মরার চৌক্ষের জন্য ই পুরা পাগল হতে পারলাম না।

      বছরান্তে পাঠকের জন্য কিছু লেখা-ব্যবস্থা করলে শান্তি পাইতাম।
      শুভ নববর্ষ আপনাদের সবাইকে।

  5. সবাই কবি নয় কেউ কেউ কবি- এই “চি-চি” শব্দটা বোধগম্য নয়। ওটা কি চিঁ-চিঁ হবে কিনা, মহারাজ যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।

    1. অনেক ধন্যবাদ, ফিরে এসে মন দিয়ে পড়ার জন্য; আপনি ঠিক বলেছেন,
      ভূল লিখেছি, চিঁ-চিঁ হবে, ঠিক করে নিলাম।
      আর, কবি আর কবিতা আমার কাছে গোলক-ধাঁধার মত, যার কিনার পাইনি আজও।

মন্তব্য করুন