অভিমানী শব্দ//

নিয়মের অধরা নিয়নে ছায়া হাতরে ফিরি। প্রবঞ্চনার শরীর বড্ড বাড় বাড়ন্ত। নিয়মের শেকল হোক..
হোক সে বিনি সুতোর মালা!!
সেখানে নেই আত্মসত্তার ছায়া।
স্ব-ইচ্ছায় চলুক তীক্ষ্ণ অসি সম মসির আপন গতি। বক্র বাক্যের শীতল অথবা অগ্নি ধোঁয়ায় ভরা থাকুক আপন পৃষ্ঠার পাদপীঠ। তবু নিয়মের ছায়ায় যাবোনা খুঁজতে মনি রত্নের ভীত।

আপন বোধের রাজ্য এখানে।
রাজাও আপন ছায়া।
প্রহরীর নিমিত্তে জেগে থাকা একা।
হয়তো ফুল নয়তো কাঁটা।

স্ব-ইচ্ছায় চলুক তীক্ষ্ণ ফলার অসি সম মসির গতি।
পাওয়া কিংবা না পাওয়ার প্রাপ্তি -প্রাপ্যের চালুনি ফুটো থাকুক আপন খেয়ালে।

নিয়মের ছাঁচে উধাও হোক বরাবরই
অধরা নিয়নের বাতি।
তবু নিয়মের ছায়ায় চাইনা খুঁজতে
মনি রত্নের ভীত।

মোট পড়েছেনঃ ১,২৭৪জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২১টি মন্তব্য

  1. নিজের রাজ্যে সবাই রাজা। যত প্রবঞ্চনাই আসুক,নিয়মে অনিয়মে তার ছায়াই হোক কিংবা শরীরবৃত্তীয় কাজ যেমন লেখালিখি। কিছু প্রাপ্তির আশায় নয় লিখুন নিজের মনের প্রশান্তির জন্য। ফুলের কাঁটার আঘাত লাগবে বলে ফুলকে ছুঁয়ে দেখবোনা তাই কি হয়?

    অসি অপেক্ষা মসির ক্ষমতা নগণ্য মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা সত্য নয়। কারণ, মসির ক্ষমতা সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী। বিশ্বের
    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- চেঙ্গিস খান, নাদির শাহ, হিটলার প্রমুখ তাদের মরণাস্ত্রের আঘাতে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে দিগ্বজয়ী বীরের আখ্যায় আখ্যায়িত হলেও ইতিহাসে অক্ষয় আসন লাভ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষণিকের জন্য তারা প্রভাব বিস্তার করলেও, তাদের কার্যক্রম নৃশংস ও কলঙ্কিত হওয়ায় মৃত্যুর পর নিন্দিত হয়েছে, ধিক্কৃত হয়েছে এবং চিরতরে হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতল অন্ধকারে। পক্ষান্তরে, মসি বা লেখনীরূপী অস্ত্রের মাধ্যমে অনেক মনীষী তাঁদের জ্ঞানগর্ভ দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস, চিকিৎসাশাস্ত্র, রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে বিশ্ব মানবতার কল্যাণে তাদের চিন্তাধারা লিপিবদ্ধ করে গেছেন, তারা মানবসভ্যতার ইতিহাসে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন। তাদের অবদানের কথা মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

    ইংরেজীতে বলা হয়, Pen is mightier than the sword. অর্থাৎ পার্থিব জীবনে যা কিছু শক্তি বা বল দিয়ে জয় করা যায় না, তা জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে খুব সহজেই জয় করা যায়।

    তাই অসির চিন্তা না করে মসি দিয়েই হৃদয় জয় করা অধিকতর বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। নিয়ন আলোর নিয়মেই হোক কিংবা অমাবস্যার অনিয়মে, মনের ভাব প্রকাশের জন্য লেখাটাই আসল।

    লেখা ভালো লেগেছে আপু।

    1. যখন যা চিন্তার দোলায় উঠে আসে…. তা নিয়েই না ভেবেই লিখে যাই গটগট করে।লেখায় নিয়ম অনিয়মের ডিকশনারী আমার নেই। কোনো নিয়মের ছাঁচ নেই আমার কাছে। কি কতটা এবং কেন? প্রশ্নগুলোর জবাবও নেই আমার কাছে। সে লেখা মনি মুক্তো হীরা হলো না নিছক অগছালো বর্ণমালার এলোপাতারী ইটপাটকেল হলো…. সে বিচারিক ক্ষমতাও নেই।
      আমার আছে কেবল কলম আর কাগজ ইচ্ছেমতো লেখার রাজ্যে আমিই আমার রাজা। অন্তমিল বা ব্যাকরনে আমি বড্ড শিশু।
      তৌহিদ ভাই, আপনার অসম্ভব সুন্দর ব্যাখ্যা মূলক মন্তব্যে আমি আপ্লুত। যথার্থ ভাবার্থে আমাকে ঋৃদ্ধ করলেন । আপনার প্রতি সহস্র কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা,শুভকামনা। 🌷🌷🌷🌷🌷🌷🌷

      1. ইচ্ছেমত লেখার পক্ষপাতী আমি নিজেও আপু। আমার খ্যাতি দরকার নেই। মনের কথা লিখে প্রকাশ করাই আমার উদ্দেশ্য।

        শুভেচ্ছা রইলো আপু।

  2. প্রাপ্য-প্রাপ্তির চালুনি কেবল ফুটোই থাকে। তাইতো চালুনিতে ভরসা নেই আমার। চলছে, চলুক এভাবে জীবন। অভিমানের খোলোসে আটকে রাখবো প্রত্যাশিত প্রহর-রাশি।

    1. ঠিক বলেছো। প্রাপ্তি -প্রাপ্যের চালুনি ফুটোই থাকুক, আমারো চাওয়ার কিছু নেই। আমার ইচ্ছেটুকুই বেঁচে থাকুক বাঁচার জন্যে। ভালবাসা তোমায় ❤❤

  3. আপনি দেখছি বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন!
    নিজেকে প্রকাশে নিয়মনীতির তোয়াক্কা!
    সে তো মহা বিড়ম্বনা! শিকেয় থাকুক অটুটের কানুন।
    প্রকাশ আনন্দের সেই তো মহা গুণ।

    1. কিছু জায়গায় দেখলাম নিয়ম ছকের লম্বা চওড়া বিধিনিষেধ। বিদ্রোহটা তখনই মনে এলো। নিয়ম নিতীতে আমি বড় খাটো।
      ইচ্ছেরা জানে ইচ্ছের মর্যাদা….. ব্যাস্ এই তো!!

মন্তব্য করুন