অ-কবিতা- দীর্ঘশ্বাস

কখনো খেয়াল করেছো?
নিঃশ্বাস নেয়ার প্রাক্কালে,
অক্সিজেনের সাথে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে যাওয়া কিছু কষ্ট,
চট করে ঢুকে পরে ফুসফুসের একদম গভীরে..

আটকে রয়, লুকিয়ে থাকতে চায়
অনন্তকালের এক প্রাসাদ-গড়ার প্রয়াসে,
নিঃশ্বাসে আর শীতল-বাতাস থাকে-না,
কষ্টের রঙে রঙ্গীন হয়ে পরিনত হয় বিষাক্ত বায়ুকণায়,

জমতে থাকে, জমতেই থাকে;
তারপর হঠাৎ সবটুকু স্থান পূর্ণ হয়ে হাঁসফাঁস করে উঠা হৃদ-যন্ত্রটি গর্জে উঠে,
এক সময়ের প্রবল আশ্বাসে টেনে নেয়া নিঃশ্বাসকে,
খুব নির্মমতায় প্রত্যাখ্যান করে দেয়,
প্রশ্বাসের ধুলায় মরে যায় অক্সিজেন।

নিরাকার ব্যথায় রঙ্গীন কষ্টের নামটুকু দীর্ঘশ্বাসে মুছে যায়…

মোট পড়েছেনঃ ১,৪৪১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৮টি মন্তব্য

  1. মাঝেমাঝে অনেক চাপের মধ্যে থাকলে এরকম হয় আমার। মনে হয় সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে চলে যাই। ক’টাদিন সতেজ নিঃশ্বাস নিয়ে আসি।

    শুভকামনা রইলো আপু।

    1. ধন্যবাদ তৌহিদ ভাই। যাপিত জীবন অনেক সময় আসলেই ক্লান্তিকর হয়ে উঠে। নিঃশ্বাসের সতেজতাকে গ্রাস করে নেয় উৎকণ্ঠার মুহুর্ত গুলো। কোথাও চলে যেতে চাইলেও যাওয়া হয়ে উঠেনা। তখন দীর্ঘশ্বাসটাই একান্ত আপন হয়ে যায়।

      শুভ কামনা 🌹 🌹

  2. অক্সিজেনের সাথে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে যাওয়া কিছু কষ্ট,
    চট করে ঢুকে পরে ফুসফুসের একদম গভীরে..

    এভাবেই চলতে হবে। হতাশায় আরও বিপদ হতে পারে।

  3. কার্বন-ডাই- অক্সাইডের সাথে কষ্ট গুলোকে ছেড়ে দিতে হবে। নির্মল বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহন করতে হবে।
    ভালো লিখেছেন আপু। ভালো লাগলো।

    1. পড়তে লেগে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো ।

      ” জমতে থাকে, জমতেই থাকে;
      তারপর হঠাৎ সবটুকু স্থান পূর্ণ হয়ে হাঁসফাঁস করে উঠা হৃদ-যন্ত্রটি গর্জে উঠে,
      এক সময়ের প্রবল আশ্বাসে টেনে নেয়া নিঃশ্বাসকে,
      খুব নির্মমতায় প্রত্যাখ্যান করে দেয়,
      প্রশ্বাসের ধুলায় মরে যায় অক্সিজেন। ”

      খুব ভালো লেগেছে । আপু

    2. বেঁচে থাকার অবলম্বন অক্সিজেন আর কার্বন ডাই অক্সাইড। একটা নিতে হয়, আরেকটা ছেড়ে দিতে হয়। কি আর করা? এভাবেই যে বাঁচতে হয় আমাদের।

      অনেক ভালো থেকো শবনম। তোমার লেখা যে কবে পড়বো, তুমিই জানো। শুভ কামনা, ভালোবাসা 🌹❤

  4. কি মন্তব্য করা যায় এমন লেখায়? আটকে যায় নিঃশ্বাসের আসাযাওয়া। তারপরও টেনে নেই আপ্রাণ প্রাণের ভেতর প্রয়োজনীয় বাঁচার চলমান দীর্ঘশ্বাস!
    সবসময় ভালোইতো প্রার্থনা করি! ভালোবাসায় ভালো থাকো ❤❤❤

    1. আচ্ছা থাকবো। এমন করে বললে কি আমি আর লিখতে পারবো! আমাকে তুমি কমেন্ট দিয়ে অনুপ্রেরণা না দিলে লেখা সব গোল্লায় যাবে 🙁

    1. এখন এই কমেন্ট এর অনুবাদ করতে আমি কই যাবো? খেশ-কুটুম মানে কি? খাস-কুটুম হয় জানি, খেশ হয় ক্যামনে? নাকি ঘাস-কুটুম লিখতে চেয়েছিলেন?

      1. যা লিখতে চেয়েছি তা তো ঝেরেই দিয়েছি।
        ঘাস কাটা বা আঁটি বাঁধা কঠিন কাজ, তা পারিনি/পারিনা বলে হেলাফেলা বাঁধলেন!

      2. হেলায় ফেললাম কোথায়! আটকে রেখে জানতে চাওয়া হচ্ছে। অজ্ঞানকে জ্ঞান দেয়া পূণ্যের কাজ। আরেকটু জ্ঞান ঝাড়ুন মহারাজ। ডালা রেডি রেখেছি.

  5. গ্রামে নিরমল খাওয়া, সতেজ হাওয়া, আরো আছে মানুসের মায়াবি আন্তরিকতা ও ভালবাসা অভাব ইনকামের পথ। আর অক্সিজেন সেতো গাছ তলা, বায়াগান্ততায় নগন্য নয় আছে ভরি ভরি যত পার নিসশ্বাস নাও আর ছাড় ত্রিপ্তিভরে।

    1. হু, গ্রামেই যাওয়া লাগবে বুক ভরে অক্সিজেন নিতে। তারপর শহরের হট্টগোলে সব ছেড়ে দিবো 😀😀

      কেমন আছেন মজিবর ভাই? এতদিন পরপর আসেন, আমাদের ভুলে থাকেন কিভাবে?

    1. কস্ট যেমন চট করে বিনা অনুমতিতে ঢুকে পড়ে, তেমনি তাকে প্রত্যাখ্যান করতে হয় প্রবল ভাবেই। ছোট্ট এক হৃৎপিন্ডে যেকোনো একটাকেই স্থান দিতে হয়। হয় কস্ট নয় ভালোবাসা।

      মন্তব্যে বুঝিয়ে দিলেন আপনার নাম কতখানি সার্থক। 🙂

  6. কেন জানি মনে হচ্ছে, এটি আমারই কথা। আপনি কবিতায় তা প্রকাশ করলেন।
    আপনার অ- কবিতাই আমার মন্তব্য।

    ভাল থাকবেন,
    শুভ কামনা সব সময়ের জন্য।

মন্তব্য করুন