এই মেয়ে

তুমি যাচ্ছো মেয়ে কোন পথে?
মেনে নিতে হবে সবকিছুই, যেখানেই যাওনা কেন!

তোমার জন্যে নিত্য-নতুন নিয়ম
ঘাড় গুঁজে মেনে নিতে হবে সব—
পথে হেঁটে যাচ্ছো,
তোমাকে কেউ জড়িয়ে নিতে পারে আলগোছে
অথবা ভীড়ের মধ্যে তোমার গোপনীয়তা ছুঁয়ে ফেলতে পারে
তোমাকে চুপ করে সয়ে যেতে হবে।
যদি প্রতিবাদ করো, বাজে মেয়েমানুষ আখ্যা পাবে।

চাকুরীতে উন্নতি চাও?
বসের কাছে উন্মুক্ত করো নিজেকে।
লক্ষ্মী মেয়ে হতে চাও? কোনোদিকে দেখোনা, কিছু চেয়োনা, ঘাড় গুঁজে, মাথা নুয়ে সবকিছু মেনে নাও।
ভালো বৌ হতে চাও? তাহলে মুখ বুজে থাকো,
শরীর খুলে দাও রাতে, মন না চাইলেও।

তোমার জন্যেই কেবল নিয়ম মেয়ে
পোষাকে, চলাফেরায়, আচার-আচরণে, ধর্মে সবকিছুতেই।
সমাজপতিদের তথাকথিত নিয়ম মেনে নিয়েও পেয়েছো কি ভালো চরিত্রের তকমা?
তোমাকে তোমার বিরুদ্ধে উসকে দিয়েছে,
মেয়েমানুষ হিসেবে পরিচিত করেছে এই অসভ্য সমাজে।
এতোকিছুর পরেও কিভাবে তুমি চুপ করে আছো?

শোনো মেয়ে, অনেক তো সয়েছো;
শরীর-মন দুটোকেই ধর্ষিত করেছো
বালিশে মুখ চেপে কেঁদেছো কতো কতো রাত,
কতো কতো দিন!
কে দেখেছে তোমার চোখের জল?
কেউ কি মুঁছিয়ে দিয়েছে আদর করে নিঃস্বার্থভাবে?
তিলে তিলে যে যন্ত্রণা প্রতিটি ক্ষণ তোমাকে দগ্ধ করেছে,
তোমার হৃদয় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত তৈরী করেছে
তোমার মৃত শরীরকেও ছাড় দেয়নি যারা
আজ তাদেরকে পোড়াও।

এই মেয়ে অনেক তো মুখ বুঁজে রইলে,
এবার একটু বদল করো নিজেকে।
এ সমাজ বদলাবে না কোনোদিনও, অন্তত তুমি পাল্টাও নিজেকে।

এন্টিগোনিশ , কানাডা
১২ এপ্রিল , ২০১১ ইং

মোট পড়েছেনঃ ১,৮৪১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২২টি মন্তব্য

  1. নারীদের রুখে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের আমরা মুক্ত করতে না পারলে আসছে এর থেকেও ভয়াবহ বিপর্যয়।

    তবে ধর্মান্ধ সমাজ কতটুকু এটা মেনে নেবে তা ভাবনার বিষয়।

    1. যেদিন নারী-পুরুষ নয়, মানুষ হিসেবে সকলেএ মধ্যে একইরকম নিয়মনীতি পালিত হবে, সেদিন ই বদলাবে এ সমাজ। আর এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ ধর্ম নামক রাজনীতির শেকলে আটকে আছে আমাদের মন।

      সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. আপনার স্বচ্ছ মন-ভাবনা বেশ বুঝতে পারছি। আমরা এমন এক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি
    সেখানে সম্মানজনক অবস্থানটি কিছুতেই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
    এক অদ্ভুত উটের পিঠে চলছি আমরা।
    দুদিন পরে না আবার সব কিছু আগের মত হয়ে যায়।

    1. আমরা মেরুদন্ডহীন এটা জানি। বোধহীনও কি নই? কবে যে সত্যিকারের মানুষ হবে আমাদের এই সমাজটা!

      এমন মন্তব্য পেলে মন খুলে লিখতে পারা যায়। জানেন তো!

  3. মেয়েরা এমনই হয়, তাকে আমরা এমন বানিয়ে রাখি৷
    হাজার সজারুর কাটা শরীরে বিদ্ধ করলে মেয়েদের মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।
    প্রতিবাদটা শুরু করতে হবে মেয়েদেরকেই!
    পুরুষদের কোনো দায় নেই?

    1. এ সমাজে পুরুষদের দায় আর কিসের! পুরুষরা মানুষ, আর নারীরা মেয়েমানুষ/মেয়েছেলে।

      নানা তোমার মন্তব্যকে কুর্ণিশ জানাচ্ছি। 🙏

  4. আমাদের জন্য সমাজ বদলাবে না , নিজেকে/ নিজেদেরকে বদলাতে হবে। শুরু না করলে গতি আসবে না। নিজের হাতগুলোকে শুধু চোখের পানি মোছার যন্ত্র না ভেবে শক্তির আধার রূপে ভাবতে হবে। যে হাতে গড়তে শেখা হয়, সে হাতে ভাঙার ক্ষমতাও অর্জন করা শিখতে হবে। মুক্তির আস্বাদ পেতে হলে নিয়মের নামে গড়া অনিয়মের জাল ছেড়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

    শুভ কামনা নীলা আপু ❤❤

  5. আট বছরের পালাবদলে কী বিপর্যয় টাই না নেমে এসেছে আরো আরো বেশী করে। সহ্যের লিমিট থাকে, এরপর মেয়েরা ভয়ংকর হলে সত্যিই কেউ পালাবার পথ পাবেনা।
    তোমার লেখার তুলনা তুমিই।

    1. দশে মিলে দাঁড়িয়ে গেলেই এ সমাজের বিকৃত নীতি নিয়ম দৌঁড়ে পালাবে। একটা প্রবাদ আছে না এমন, দুর্বলরা যদি একজোট হয়, তখন ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্রও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

      কেমন আছো আপু? শুভ নববর্ষ। 💐💐

    1. আপুনি জানিনা আদৌ বদলাতে পারবে কিনা! মেয়েরা বিভিন্ন পোষাক পরে নিজেকে বদলায়। তাদের উন্নত মনের মৃত্যু ঘটে যাচ্ছে নীরবে। আর তার জন্য দায়ী আমাদের এই ধর্মান্ধ সমাজ।

      শুভ নববর্ষ আপুনি।
      অনেক ভালো থেকো।

মন্তব্য করুন