মেঘমল্লার

যার অপেক্ষায় ছিলাম এতোটা দিন
অবশেষে সে এলো,
ভিঁজতে, ভিঁজিয়ে দিতে আমায় এবং আমার শহর।
অগোছালো হয়ে ছিলো সব,
বরফ ভেঙ্গে গুটিয়ে নিচ্ছে ঋতুর তাবু
মেঘ তার আলখেল্লা খুলে উল্লাস করে উঠেছে আজ
কিন্নরী আলোড়ন, নীরব পথঘাট
একটা পাখী রাতের অন্ধকারকে জানান দিয়ে বাতাসে ঝাপটালো তার দীর্ঘ ডানা
পরিত্যক্ত সন্ধ্যেটা শুষ্ক, রুক্ষ, ধূলোময়লায় হচ্ছিলো জর্জরিত;
যে বৃষ্টিকে এতো এতো বার ডেকে ডেকে গেছি
তানপুরায় সুর তুলেছি মধ্যরাতের টোড়ী’তে
অবশেষে মেঘমল্লার বাজলো, আকাশ থেকে নেমে এলো লহরী মনকে রাঙাতে।

হ্যামিল্টন, কানাডা
২০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং।

মোট পড়েছেনঃ ১,৫৫৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

      1. আমাদের বাংলাদেশে এক সময় টানা সাতদিন বৃষ্টি হত। অনেকে অনেক বিরক্ত হতো কিন্তু আমার কাছে অনেক ভালো লাগতো। অনেক ভালো লাগা এক সময় যা পার করে এসেছি ফিরে পাবার আশায়, ফিরে পাই ঠিকই গল্প, উপন্যাস বা কবিতায়, যা একান্ত নিজের মত করে। ধন্যবাদ আপু, এত সুন্দর একটা লেখা দেওয়ার জন্য।

  1. বৃষ্টি আমারও খুব পছন্দের। কিন্তু সমস্যা হলো বৃষ্টির শব্দে আমার প্রচন্ড ঘুম পায়, আবেশি রোমান্টিক ঘুম।

    ভালো থাকবেন আপু।🌹

  2. বৃষ্টি এসে তোমাকেই তো শুধু গোছালো না, এই দেখো ব্লগ নেচে উঠলো কিন্নরী সুরে তোমার লেখার মতো করেই।
    ভেজো মনের মতো করেই, তবেই না পাবো আরো ভেজানো পথঘাট, সাদা কাগজে কালির বৃষ্টি।

      1. এখানে বৃষ্টি ভালো লাগেনা আমার। সারা শীতকাল বৃষ্টি থাকে, ঠান্ডায় বিশ্রি অবস্থা। দেশের মতো ঝুম বৃষ্টি এখানে কম হয়। এই বৃষ্টিতে প্রেমিকের গুষ্টিউদ্ধার টাইপের কবিতা ভালো হবে। 🙂

  3. মেঘ-মাল্লারে আমরাও ভিজে যাচ্ছি
    ভেজা ভেজা হয়ে, অপেক্ষার বৃষ্টিতে,
    ধুলোহীন সতেজ বাতাস বুকে টেনে নিচ্ছি
    নিরিবিলিতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে।
    বৃষ্টি সে তো এলে!! কেন এত্ত দেরিতে?

  4. শেষবার যখন দেশে গিয়েছিলাম, রাঙ্গামাটি যাবার পথে দেখলাম, পথের ধারে যে সবুজ গাছপালা, লতাপাতাগুলো ছিলো সব যেন রাস্তার ধূলো ময়লায় ঢেকে গিয়েছিল। প্রতিটা সবজু পাতা ধূসরতায় রূপ নিয়েছিল। মর্মাহত হয়েছিলাম। এর দুদিন পর রাতে খুব বৃষ্টি হলো, সকালে আবার চট্টগ্রাম ফেরার পথে দেখলাম বৃষ্টি এসে ধুয়ে দেয়ার সব ধূলোময়লা সবুজগুলো সব মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। সবুজকে যেরূপে দেখতে চাই ঠিক সেরূপে। এত বকবক করলাম কারণ হলো ছবি আর লেখার কম্বিনেশন সেই বৃষ্টি আর সবুজের মিতালীর কথা মনে করিয়ে দিলো। আপনার ছবিগুলোকে যেন লেখাটা বৃষ্টি হয়ে ধুয়ে গেলো। সুন্দর।

    ” বরফ ভেঙ্গে গুটিয়ে নিচ্ছে ঋতুর তাবু”
    এই লাইনটির জন্য স্পেশাল ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    1. এই যে বৃষ্টির গল্প শোনালেন, তাতেই মন সবুজ হয়ে গেলো। চোখে ভাসছে কীভাবে পাতাগুলো নেচে উঠছে জলের ছোঁয়ায়।
      দেশের বাইরে কোথায় থাকেন ভাইয়া? জানতে পারি কি?

    1. ডেকে যায় সে, যখন তার সময় হয়
      জানান দিয়েই আসে,
      গোপনীয়তায় নিজেকে রাখেনা বৃষ্টি।

      নানা তোমার লেখার কাছে এটা কিছুই নয়। অনেক ভালো থেকো।

মন্তব্য করুন