আলোকের এই ঝর্ণাধারায়

img_20160417_073534
আলোর জন্য ছুটে চলা, আলোর বন্যায় ভেসে যাবার ইচ্ছে সবার মত আমারও। ভোরের স্নিগ্ধ সুর্যোদয়, চকচকে জল, পথের পাশে সবুজ ঘাসে শিশির কনা, শরতের আকাশ, মেঘের ফাঁক গলে কিরণ, রক্তিম সূর্যাস্ত, গাছের পাতা গলে আলোর ঝর্ণা এসবে আন্দোলিত হই।

ঘুটঘুটে আঁধারে আধিপত্য বিস্তার করা অন্ধকার কক্ষের জানালা হতে আসা আলোকরশ্মি যেমন নতুন জীবন প্রাপ্তি। আলো চাই, আরো আলো চাই বলে ছুটন্ত জীবন নৌকা দীর্ঘ যাত্রায় যেন থমকে যাওয়া। হঠাৎ হোঁচটে ঝলমলে ভুবন, বারংবার ভূমিকম্পের আঘাতে যেন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হই। এক সোনালী ভোরে হঠাৎ অনুভব করি আলোর দিকে তাকাতে পারি না। চোখ যতটা না ভাংচুর হয়, তার চেয়ে কয়েকশত গুন ভাংচুর হয় ভিতরে। আলোয় তাকালে প্রচন্ড ব্যথায় চোখ বুজে যায়। চোখের কপাট বন্ধ করে আলোর ভুবন হতে আঁধার ভুবনের বাসিন্দা বনে যাই যেন।

হাহাকার তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। প্রিয় মুখ গুলোর হাসি, শিশুর ফোকলা দাঁত, আধো আধো কথা বলা শিশু, হাঁটতে শিখে ধুমধাম পরে যাওয়া, উরে যাওয়া গাঙচিল, সাজের বেলায় সারি সারি পাখিদের দল বেঁধে নীড়ে ফেরা, নদীর শান্ত ঢেউ, ফসলের ভারে নুয়ে পড়া সোনালী ধানের ছড়া, বাঁশের খুঁটির মাথায় ধ্যানমগ্ন মাছরাঙ্গা, রঙ ধনু, বকুল কামিনি ফুল, কুয়াশায় জড়ানো গ্রামীন পথ মাঠে হেঁটে যাওয়া কৃষান কৃষাণী, সর্বত্রই যে আমার মুগ্ধতা, সব সব কিছু হতে নির্বাসিত হবার আতংকে অস্থির এই আমি।

আলো হতে দূরে থাকার কারণে প্রিয় সোনেলায় আসতে না পারার যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছি প্রতি মূহুর্তে। ল্যাপটপ, মোবাইলের স্ক্রিনও হয়ে যায় দৃষ্টির শত্রু। প্রিয় সোনেলার এক প্রিয় মুখের দেশে আগমন উপলক্ষে সোনেলার সোনাদের মিলন মেলা সব কিছু দেখতে পাবো তো? এমন সংশয় ছিল আমার, যথেষ্ঠ ভাগ্য ভালো যে তীব্র আলোকছটা ছিল না সোনাদের মেলায়। থাকলে চোখ বন্ধ করেই দেখতে হতো সব। অনেক দিন পরে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে চেয়ে উপভোগ করেছি সবার আনন্দে চকচক করা মুখগুলো, সবার হুটোপুটি, হুল্লোড়।

দীর্ঘ প্রায় তিন মাস যাবত চোখের অসুখে ভুগছি। সঠিক ডাক্তারের সঠিক চিকিৎসায় চোখ বর্তমানে ৮০% সুস্থ। আরো দুই তিন মাস লেগে যাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে। সামনের কোন একদিন আমার চোখের সমস্যা, আমার চিকিৎসক নিয়ে লিখব কিছু একটা। সোনেলার সোনাদের থেকে দূরে থেকে ভাল ছিলাম না মোটেই। সবাইকে প্রতি মূহুর্তে মিস করেছি। আগের মত হয়ত আসতে পারব না সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত। তবে এসেই যখন গিয়েছি, চেষ্টার ত্রুটি হবে না।

এতদিন পরে সোনেলায় এসে নিজকে কেমন অতিথির মত লাগছে। লিখতে পারতাম না তেমন কোন সময়েই। আজ বুঝলাম যাও লিখতে পারতাম তাও ভুলে গিয়েছি। কিভাবে লেখে সবাই তা শিখতে হবে আবার।
সবার জন্য ভালবাসা আর শুভ কামনা রাশি রাশি -{@

মোট পড়েছেনঃ ৭৭৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৪২টি মন্তব্য

  1. উত্থান পতন সুস্হ-অসুস্হতা এই নিয়েই আমাদের জিবন। হতাশ হবেন না। ইনশাআল্লাহ পুরোপুরি সুস্হ হয়ে যাবেন।
    আপনাকে ছাডা সোনেলাও ভাল ছিল না।
    খুব মিস করেছি আপনাকে।
    এত সুন্দর করে লেখার পর ও বলছেন লিখতে ভুলে গেছেন ?
    এরকম লেখা হলেই চলবে আমাদের।
    😀
    আপনার জন্য ও শুভকামনা । ভাল থাকবেন

    1. আলোর জন্য কতটা হাহাকার মানুষের এবার বুঝতে পেরেছি।
      আমিও মিস করেছি সোনেলার সোনাদের।
      এরকম লেখায় চললে তো চলবে লেখা বিরক্তির একশেষ করে ছাড়বো।

  2. চোখ বিহীন দুনিয়া আন্ধার।
    চোখ আছে বলেই আলোর এত মূল্য।
    আপনার চোখের অসুখের কথা জেনে খারাপ লাগছে।
    দোওয়া করি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন।
    সোনেলায় স্বাগতম জানাচ্ছি।
    সেই সাথে শুভকামনা।
    ভাল থাকবেন সবসময়। -{@

  3. আপনার চোখের অসুস্থতার আরোগ্য লাভের কামনা করছি।
    অন্তত সোনেলা পরিবারের ভালোবাসার দিকে তাকিয়ে হলেও সৃষ্টিকর্তা আপনার চোখের এমন অসুস্থতাকে দূর করে দিক, এমন প্রার্থনাই থাকবে।

  4. এতোদিন পরে এসে এমন সিরিয়াস লেখা দিলে কী বলি বলুন তো! আপনার যন্ত্রণার একাংশ বোঝাবার জন্য এমন লেখাই যথেষ্ট। বকতেও পারছিনা, সারাদিন ল্যাপটপ আর মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকলে এমনই হয়!! 🙁
    আলোর জগতেও মানুষরা কখনই অন্ধকারাচ্ছন্ন হতে পারেনা, আপনিও পারবেন না। মনের মধ্যে আলো ঠিকই জ্বলে থাকবে। মিস করেছি আপনাকে খুব করেই। আর মিলনমেলার কথা কী বলবো? কিভাবে কৃতজ্ঞ জানাতে হয় জানা নেই যে।
    পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠুন শিঘ্রই, চেষ্টার ত্রুটি থাকবেনা জানি তবে আশা করবো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে তবেই শতভাগ একটিভ হন সোনেলায়। uveitis আবারো যেকোন সময়ে ঝামেলা করতে পারে।
    লেখা আর ছবি অসাধারন হলে আপনার কষ্টের কথা কী আর মনে থাকবে? আলোর জন্য ছুটুন, আলোতেই থাকুন সবসময়। -{@

    1. আলোর জন্য কষ্টের কিছুই আসলে প্রকাশ করা যায় না, সামান্যই প্রকাশের চেষ্টা মাত্র।
      বকতে বাকী রেখেছন বুঝি? 🙂
      আপনার আন্তরিক ইচ্ছেতেই মিলনমেলার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে আসলে। এই সময়ে আপনি না এলে এটি অনুষ্ঠিত হত না,
      ধন্যবাদ আপনারই প্রাপ্য।
      uveitis রোগের কথা আগে জানতামই না, শতর্ক থাকতে হবে।
      ভাল থাকুন প্রবাসে সারাক্ষন -{@

    1. দিদি ভাই, প্রতিক্ষণ অনুভব করেছি আমার প্রিয় মানুষদের কথা, যারা প্রায় সবাই সোনেলার।
      আর তর সইছে না, তাই চলে এসেছি।
      ধন্যবাদ দিদি ভাই।

  5. আলোকের এই ঝর্ণা ধারায় চক্ষুষ্মান হয়েছেন দেখে আনন্দিত আমারা সোনেলার সোনারা,
    আপনাকেও বলিহারি চোখেরও খাওয়া-দাওয়া বিশ্রাম লাগে, তা দিতেও হয়।
    চোখ থাকারও অনেক বিপদ!
    বুড়িমার দিকে চোখ পেতে কী সব যাচ্ছেতাই অবস্থা, অতএব সামালকে!

  6. আহা! ফিরেছে, লিখছেন দেখেই আনন্দে ভরে উঠলো মনটা। একটা শুন্যতা বিরাজমান ছিলো সোনেলায়।
    তবে ৮০% যেনো শীঘ্রই ১০০% হয় সেজন্যে অনুরোধ রইলো খুব খুব কম আসবেন ১০০% ভালো না হওয়া পর্যন্ত।
    দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

    1. আপনাদের হতে দূরে থেকে আমিও ভাল থাকতে পারিনা, আমার মাঝেও শূন্যতা বিরাজ করে সোনেলায় আসতে না পেরে,
      ধন্যবাদ আপনাকে।

  7. কেমন একটা পুর্নতা পেয়েছে ব্লগটা, খুব ভাল লাগছে প্রিয় জিসান ভাইকে এখেনে দেখে,আমারো সেই কথা সম্পুর্ন ভাল না হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্লগিং হোক,সম্পুর্ন সুস্থতা কামনা রইল।

  8. যখন চোখ ভালো ছিল, তখন দেখতাম মানুষ চশমা পড়ে কত ফ্যাশন করে, মাঝে মাঝে মনে সখ জাগিত চশমা পড়ার, কিন্তু যখন সেই চশমাই পথ চলার সর্ব সময়ের সঙ্গি হলো, তখন শুধুই আফসোস হয় যদি একবার চশমা ছাড়া দুনিয়াটা দেখতে পেতাম।
    মাঝে মাঝে চশমাটা খুলে তাকাই চারিপাশে, যখন সব কিছুই অস্পষ্ট হয়ে যায় তখন আবার পড়ে নেই, আর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি শুধু। চোখ থাকিতে চোখের মর্ম বুঝলে না আনিছ।

    লেখা পড়া শুরু করার পর এই অনুভুতিটাই মনে হচ্ছিল বারবার।

    আপনার চোখের সর্বশেষ অবস্থা তাহলে এই, আলহামদুল্লিাহ। আশা করব দ্রুত সব ঠিক হয়ে যাবে, আর আমরাও আমাদের অভিবাবক ফিরে পাব। শুভ কামনা ভাইয়া।

    1. চোখ ভাল অবস্থায় আসলে বুঝাই যায় না, এটি না থাকলে কি হবে,
      কত যে কষ্ট আর হতাশা তা কেবল ভুক্তভোগীই বুঝতে পারবে।
      অনেক অনেক ধন্যবাদ আনিস, সোনাদের মিলন মেলা নিয়ে লিখবো পরবর্তিতে।

  9. নানাআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআআ কত্তোদিন পর তুমি সোনেলায় এসেছো! আজ দেখছি সোনেলার অঙ্গনে চাঁদের হাট বসেছে! তুমি এসেছো, শুন্য আপুও বহুদিন পর!
    শোনো পুরোপুরি ঠিক না হলে ল্যাপটপ/সেলফোন বেশী ব্যবহার করোনা। এতো বেশী চোখের উপর প্রেশার দিয়েছো তুমি। :@

    নানা নিজের খেয়াল নিও। -{@

    1. অনেক দিন পরেই আসলাম, ভেবেছিলাম ডিসেম্বরের মাঝা মাঝি সময়ে আসবো, এর পূর্বেই চলে এলাম।
      নিজকে আর থামিয়ে রাখতে পারছিলাম না।
      সম্পুর্ন ভাল না হওয়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্লগিং চলবে।
      ভাল থাকিস নাতনী।

      1. নানা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি আসার চিন্তা-ভাবনা কেন? এবার জন্মদিনের কোনো গিফট আমি কিন্তু দেবো না। বুঝেছো? 😀

        শোনো বেশী স্ক্রিনের সামনে বসো না।
        সুস্থ করো নিজেকে তাড়াতাড়ি। বুঝেছো নানা? -{@

      2. চোখের ঔষধ ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত দেয়া, ডোজ কমপ্লিট করে আসবো ভেবেছিলাম।
        যাক একবাঁচা বেঁচেছি 🙂 গিফট দেবো না লিখেছো, গিফট নেবো না লিখোনি 🙂

        স্ক্রিনের সামনে কমকমই আসছি। অন্যের লেখায় মন্তব্য করছি না আসার পর থেকে, আড্ডা পোষ্ট গুলোতে করেছি কেবল।
        ধীরে ধীরে সবার লেখায় যাবো।
        ভাল থাকিস।

  10. সোনেলার সোনাদের চোখ নিয়ে একটা গবেষণা করবো ভাবছি। কয়েকদিন আগেইতো জানলাম অন্য একজনের (ছাইরাছ হেলাল) চোখের কাটাকাটি কাহিনী। এখন আপনার। আর কে কে আছেন এখানে যাহার চক্ষুরা বেশ ক্ষিপ্ত অতিরিক্ত চাপের জন্য!!!!

    এলেখার ভাব একেবারে আলো জ্বল জ্বল। আলোর প্রতিফলন থাকুক প্রতি মুহূর্তের জন্য শুধু এমন লেখার জন্য হলেও।

    1. গবেষনা শুরু করুন, আমরা অপেক্ষা করবো আপনার গবেষনা লব্ধ মূল্যবান লেখার জন্য।
      আপনি গবেষনা করুন বা না করুন, আমি চে চোখ নিয়ে কিছু লিখবো, আর তাতে যে আপনি থাকবেন, এটি নিশ্চিত।
      আলোর মাঝে বাঁচিবারে চাই।

  11. আপনার আগমনে সোনেলার মাঠ ফুলেফলে পুরন হবে, আপনার পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি।
    তবে সুস্থ না হয়া পর্যন্ত সাবধানে চলার পক্ষে আমার মত।
    ভাল থাকুন । -{@

মন্তব্য করুন