আকাশলিখনী (স্কাই রাইটিং)

20160326_164321 (2) []
সজোরে ডাক শুনে বারান্দায় গিয়ে দেখি চমৎকার একটি দৃশ্য, পুরো আকাশময় একটি হৃদয় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘাড় ১৮০ থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে বিল্ডিং এর ফাঁক দিয়ে আরেকটি ইকুয়াল (=) চিহ্নও চোখে পড়লো যদিও সেটা ক্যাপচার করতে পারিনি। কএকদিন পর নেটে আরেকটি ছবি চোখে পড়তে কৌতূহল বাড়লো। টেকনিকটির নাম আকাশলিখনী (স্কাইরাইটিং), যাতে ছোট এয়ারক্রাফটের সাহায্যে আকাশে/শুন্যে কিছু লেখা হয়।

স্কাইরাইটিং এর কিছু খুচরা আলাপ—–
স্কাইরাইটিং এর এই টেকনিক মূলত বিজ্ঞাপনের কাজের জন্য উদ্ভাবন হয়েছিল।
ছোট ছোট এয়ারক্রাফট দিয়ে প্যারাফিন ওয়েল কাজে লাগিয়ে স্মোক তৈরি করে বিভিন্ন শব্দ আকাশময় লিখে দেয়া হয়। একটি এয়ারক্রাফট মাত্র ৬টি অক্ষর লিখতে পারে, তাই ৬ এর অধিক শব্দের জন্য একাধিক এয়ারক্রাফট ইউজ হয়।
উদ্ভাবকদের ব্যখ্যা হলো, এভাবে কোন পন্যের নাম আকাশে লিখলে একই সাথে প্রায় ১৫ মাইল পর্যন্ত মানুষ দেখতে পাবে, আবার এভাবে লিখলে বিজ্ঞাপন ছাড়াই নামটি মানুষের মনে একটি স্থায়ী আসন গড়তে সহায়ক হয়। কথাটি আমার কাছে বেশ যুক্তিযুক্তই মনে হয়েছে। এটি সত্যিই একটি অন্যতম সুন্দর দৃশ্য।
১৯২২ সালে সর্বপ্রথম এটি উদ্ভাবন হলেও বড় কোম্পানি পেপসিকোলা ১৯৩১-১৯৫৩ প্রায় ২২ বছর এটি ব্যবহার করে।
মজার তথ্য হলো, নিউইয়র্কের একটি কোম্পানি নাকি এক বছরে প্রায় ৫০ টি ম্যারেজ প্রপোজাল দিয়েছিল এই স্কাইরাইটিং ব্যবহার করে 🙂

IMG_6462 []
আচ্ছা এইবার আসল কথা বলি। খোঁজ নিয়েছি একটা মেসেজ লিখতে অস্ট্রেলিয়ান মাত্র $১২০০ লাগে। ছোট্ট একটা খায়েশ হইছে, সোনেলা ব্লগের ১২ জনে মিইল্যা যদি আমারে $১০০ ধার দেয় (অফেরতযোগ্য) তাইলে আমিও আমার ইয়ের নামটা আকাশে লিখ্যা দিতে পারতাম!! 🙁

মোট পড়েছেনঃ ৭২৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩৯টি মন্তব্য

  1. আকাশলিখনী (স্কাই রাইটিং) নিয়ে জানতাম না। খুবই ভাল দৃশ্য 🙂 প্রচারের অভিনব এবং কার্যকর পদ্ধতি। আপনার ইয়ের নাম জানার জন্য একাই দিতে চাই $১২০০ 🙂 কিভাবে পাঠাব বলুন। শর্ত হচ্ছে, আপনি আপনার সে নাম যখন আকাশে দেখবেন, তার ফটো তুলে সোনেলায় পোষ্ট দিবেন 😀

    1. আমার ইয়ের নাম জানার জন্যে আপনার এত হাউশ কেন সজু ভাউ? ;? অবশ্যই সোনেলায় ফটুক দেব, পারলে দুইন্যার সবাইরে ডাইক্কা দেখামু। আমি লীলাবতীর ইনবক্সের মিউ মিউ বিড়াল নাকি? আমি বাঘিনী। আমারে আমার ইয়েও ডরায় :p
      আপনার আইডিটা দেন, তারপরে বলতেছি কিভাবে টাকা পাঠাবেন 😀

  2. জাতীয় কুচকাওয়াজে এয়ার ক্রাফট দিয়ে ধোঁয়া তৈরী করে জাতীয় পতাকা বা জাতীয় কোন প্রতীক তুলে ধরার কথা শুনেছিলাম কিন্ত এই কাজ যে বাণিজ্যিক ভাবেও করা যায় সেটা জানা ছিল না। ব্লগের মডুর প্রতি অতিস্বত্তর দান বাক্স খোলার দাবী জানালাম।

      1. ভুল হয়ে গেছে , সরি। বিকাশ নাম্বারটা তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন। উপহার বাক্সটা ব্লগে পার্মানেন্টলি ঝুলতে থাকুক , বলা যায় না আরো অনেকের দিলে এই খায়েশ জাগতে পারে!!!

      2. হ্যাঁ পার্মানেন্টলি ঝোলানোর ব্যবস্থা করতে পারলে সবচাইতে ভালো হয়, বলা যায়না, অপার্থিবের দিলেও এই খায়েশ জাগতে পারে 🙂

  3. স্কাই রাইটিং টিভিতে কয়েকবার দেখেছি , তবে এ ব্যাপারে একদমই জানতাম না । আকাশের ঠিকানার চিঠি থুককু নাম লিখার আমি ১০০ ডলার দিলাম 🙂

  4. আহা ! ক্যা দিমু ;( মুই লিখুম। মুই চাই।
    এবার ধন্যবাদ জানাই এতো সুন্দর মজার তথ্য দেবার জন্য।
    ছাদে উঠেও লেখা যায়, শুধু কয়ডা বাঁশ লাগব, তয় কয়ডা লাগব জানিনা। :D) :D)

    1. আইছে হিংসুইট্টা। 🙁 বাঁশ দিয়া নাম লিখবেন? নাকি মাথায় বাড়ি দেবেন? গুইন্যা কন, কয়ডা বাঁশ লাগবে, এরপর বাঁশ জোগাড় করার দায়িত্বও আপনার, সুন্দরবনের মাইয়া বইলা কথা 😀

  5. ব্যাতিক্রমী প্রচারণার জন্য মানুষের মনে একটা স্থায়ী অবস্থান দখল করে বিদায় বিজ্ঞাপন হিসাবে এর ব্যবহার হওয়া স্বাভাবিক যুক্তি।

    তথ্যটা জানা ছিল না, অনলাইনে মাঝে মাঝে এই ধরণের ছবি দেখলেও এর পিছনের কাহীনি প্রথম জানলাম। ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য।

  6. মানুষের কত ভাগ্য, অষ্ট্রেলিয়া থাকার বদৌলতে হার্ট দেখেন আকাশে।
    আকাশে হার্ট দেখার সৌভাগ্য মনে হয় এগিবনে পূর্ন হবে না আমার,
    আপনি বাংলাদেশে এসে যদি আপনার ইয়ের নামটা লেখাতে পারতেন তো দুটো ইচ্ছে পূর্ন হতো। আকাশলিখন দেখা আর আপনার ইয়ের নামটা জানা। $ ১২০০ এর চেয়ে না হয় কিছু বেশি খরচ হইত 🙂 আমরা সোনেলাবাসী এই খরচ বহন কর্তে রাজী আছি 🙂

    প্রচারের অভিনব আইডিয়া, খুবই সুন্দর।
    হার্ট কাউকে দেখালেন নাকি? ( একটি সরল প্রশ্ন ) 🙂

    1. ঘটনা কি? সবাই দেখি আমার ইয়ের নাম জানতে নাম যখন লিখুম তখন সব্বাই দেখবেন। হ, ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের আকাশেই নাম লিখুম, আমার ইয়ে আবার বাংগালী কিনা। 🙂
      হ, ১২০০ ডলার প্রজেক্ট বাদ। এখন আরেকটু বাড়ছে চিন্তাভাবনা, একবারে বিয়ের প্রপোজাল দিমু 😀
      সরল প্রশ্নের সরল উত্তর, হ দেখাইলাম তো। কেউ তো আমারে জিগাইলোই না, অই হার্ট আমি আকাশে লিখলাম কিনা।

  7. এ ধরণের শো কম বেশি দেখেছি, তবে এমন খুটিনাটি আপনার কল্যানে
    এই ই প্রথম, আপনার মঙ্গল কামনা করি,
    দেখুন টেকাটুকা কুন ব্যাপার না, সজীব তো বিনা বাক্যে পা ছাড়াই দাঁড়িয়ে গেছে।
    অন্যদের কথা বাদই দিলাম,
    তবে কথা হলো, আপনার কোন ইয়েই নাই!! তায় আবার নাম,
    এগুলো সবার হয় না, থাকেও না। আপনি কিছুতেই এতটা ভাগ্যবতী নন!!
    তবে চেষ্টায় ত্রুটি রাখা ঠিক না, চোখ বুজে, খুলে বা আধচোখে নিয়মিত ট্রাই মাড়ুন,
    মেওয়ার ছায়া পেলে আওয়াজ দিয়েন,

    খুব চাল্লু হইছেন? তাই না?
    ফাঁকিবাজ ছেড়ে লাইনে আসুন, লেখাললুখা ছুড়ুন।

    1. আমার ইয়ে নাই কি বলছেন? ভাগ্য কি আপনার একারই রেজিট্রেশন করা নাকি? প্রাণ প্রুন বন্ধক দিয়া কি সব আহ্বান জানাইলেন।
      ট্রাই ট্রুই না, নাম লিখবো যখন তখন চোখ বুজে, খুলে আধচোখে কিংবা ড্যাব ড্যাব করে যেভাবে খুশি দেইখ্যেন।
      আমিতো অনেক্ষন টাইপ কইরাই এইটা লিখলাম, আবার কি ছাড়তে বলছেন? সবাই কি আপনি নাকি? রাত, দিন, দুপুর একটা করে নাযিল হবে!!

      1. এভাবে আমাদের বঞ্চিত করা ঠিক না ঠিক না,
        আল্লাহ নারাজ হবে।

        কিচ্ছু নাই, শুধুই আওয়াজ,
        আচ্ছা, আছে, নামিয়ে ফেলুন তো একখানা লুতুশপুতুশ।

      2. সে আবার কি জিনিস? আমি তো লুতুশপুতুশ লিখতে পারিনা, ফাটাইন্যা পারি, দিবোনে ভাউ রয়ে সয়ে, এখন আপনাদের টা পড়ে পড়ে নিজেরে একটু ঝালাইয়া নেই।

  8. আপনার নিজের বিজ্ঞাপনটা বাজার পাওয়া উচিৎ ভালো মনে করছি। এমন বিজ্ঞাপনে আশা করি ১২ জন নয়, সোনেলার সব্বাই সাড়া দেবে আমার মতো।

    এরকম কিছু বিজ্ঞাপন দেখার সুযোগ হয়েছিলো বলে সামান্য কিছু জানতাম। আপনার কল্যানে খুঁটিনাটি আরো অনেক কিছু জানলাম, বিশেষ করে জরিমানার হার!
    এমন সব আইডিয়া যে কেমন করে আসে!!!!!

    1. হা হা জরিমানার হার? বেশ বলেছেন! কি দিনকাল আইলো তাইনা? ভালোবাসার সাক্ষি হইয়া চক্ষু রগড়াইলেও পানিশমেন্ট :p
      আইডিয়া আসে আই দিয়া? চোখ খুললেই আসে, চার চোখে আপনাদের কিঞ্চিত সমস্যা হইলেও তইতে পারে, তবে আপনার লেখার বহর দেখে আপনারে এখন ডরই লাগতেছে। 🙂

  9. হলিউড মুভির কল্যাণে স্কাই রাইটিং এর ব্যাপারটা অনেকবারই দেখা হয়েছে, তবে সত্যিকারে সরাসরি দেখা হয়নি। তবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আকাশে রং দিয়ে রেখা তৈরি করা সম্ভবত দেখেছিলাম। তবে আপনার পোষ্টে বিস্তারিত জানলাম। আরও একটা বিজ্ঞাপন পদ্ধতি প্রচলিত আছে। সেখানে খুব বড় একটা কাপড়ে বিজ্ঞাপন লিখে এয়ারক্রাফট এর পেছনে ছুলিয়ে দেয়া হয়। সেই কাপড় সমেত এয়ারক্রাফটটি আকাশে উড়ে বিজ্ঞাপন প্রচারণা করতে থাকে।

    পোষ্টের জন্যে ধন্যবাদ।
    আশা করি আপনার ইচ্ছে খুব দ্রুতই পূরণ হবে।

    1. আরে আপনি বলার পরে মনে পড়েছে, আরেকদিন আরেকটা ছবি ক্যাপচার করেছিলাম, বিশাল সাইজের একটা বেলুন সদৃশ কিছু উড়ছে, এটাও একটা পন্যের বিজ্ঞাপন ছিল, আগে মনে পড়লে অইটাও এড করে দেয়া যেত। কত সব আইডিয়া মানুষের মাথায়। হ্যাঁ কাপড় সমেত এয়ারক্রাফট উড়ে যাওয়া এটাও দেখেছিলাম, বোধ হয় মুভিতেই।
      হ্যাঁ দোয়া করুন তো বেশি করে 🙂

  10. $১২০০ মাত্র??? তাহলে আমারে নামটা বলে দাও আপু, কানাডার আকাশেই নামটা ভাসুক। 😀
    টাকা আমি কারো কাছে চাইবো না। ঠিক আছে? রাজি হলে শীঘ্রই কন্ট্রাক্ট করো। ফোন নাম্বার বদল হইছে, যদি নামখানা পাঠাও,
    নতূন নাম্বার কনফার্ম দেবো। 😀

    ভাবছি আমিও তোমার “ইয়ে”র :p নাম আকাশে লেখার পর আমার “ইয়ে”রও নাম ১২০০ ডলার দিয়ে লিখবো। কথা হইলো ওইসময় আমারে কে কে টাকা দেবেন? ;?

    ওই মাইয়া পোষ্ট দিয়া কই গেলা? :@

      1. আমার বাড়িঘর এইটাই নীলাপু, কোথায় যাব আর? আমার আর কোথাও কোন শাখা নেই।
        তোমার কাছে ১২০০$ থাকলে কানাডার আকাশে তোমার ইয়ের নামই লেখো। আমার ইয়ের নাম আমি যমুনার আকাশে লিখতে চাই, যে শুকাবে তবু কারো পাড় ভাংবে না। ভালো থেকো।

মন্তব্য করুন