নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকি

নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকি
————————————
যখন হাত পেতে রাখি
শূন্য করতলে রেখাচিহ্ন চোখে পড়ে।
যখন মুঠো করি হাত
ভাগ্যরেখা পুরোটাই ঢেকে যায়, এবং
তাদের জন্য করুণার অস্ফুট শব্দ ভাষা পায়।
কে জানে কেন, যতবার যাই, ফিরে আসি যতবার
ওই পুরোনো ধারার কাছে অজস্র কথা রেখে আসি
রেখে আসি দু’ফোঁটা চোখের জল।
হতে পারে সে জল কান্নার
হতে পারে আনন্দের অশ্রু
জানি না, তবুও রেখে আসি।
যতবার রেখে আসি, ততবার বোঝাতে চাই
সিঁড়ি, চৌকাঠ, চৌকাঠ পেরোনো ঘর
ফুলদানিতে শুকনো গোলাপের ঝরে পড়া পাঁপড়ি
এসব একসময় আমার ছিল।
আজও আছে, তবু যেন নেই।
তবু যেন পায়ের নিচের মৃত্তিকা
কোনো চিহ্ন না রেখে কোথাও না কোথাও
দু’টো ভাগ হয়ে গেছে।
দু’ভাগেই আমি দাঁড়াই, দাঁড়িয়েই থাকি, নিঃশব্দে।

মোট পড়েছেনঃ ৮৫৯জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৫টি মন্তব্য

  1. ভাগ্য কখনো কখনো বিড়ম্বিত হলেও বিধির বিধানেই সেই একই ধারার কাছে ফিরতে হয় আমাদের। এটাই নিয়তি। কখনো আসে সুখ কখনো আসে দুঃখ এটাকে মেনে নিয়েই সংসারে বিচরণ আমাদের।

    দারুণ লিখলেন আপু। শুভকামনা রইলো।

  2. ওই ফুলদানির নিচে ঝরে পড়া শুকনো ফুলগুলো আমার।
    মুঠোবন্দি হাতের রেখাও আমার।
    সবকিছুতেই আমি আছি……..
    আমার শুধু আমিই থাকি!
    কেবল মাত্র আমিই থাকি……
    আমার যা সব শেষাবধি আমারই থাকে
    থাকি, আমিও আমার হয়েই আমি।

    দারুন লিখেছেন। মন ছুয়েছে।

  3. যখন হাত পেতে রাখি
    শূন্য করতলে রেখাচিহ্ন চোখে পড়ে।
    যখন মুঠো করি হাত
    ভাগ্যরেখা পুরোটাই ঢেকে যায়, এবং
    তাদের জন্য করুণার অস্ফুট শব্দ ভাষা পায়।

    আপনার লেখা কবিতাটি পড়ি যতবার। অবাক হয়ে ভাবি ততবার। ভাবনা শুধু নিজেকে নিয়ে।

  4. “যখন হাত পেতে রাখি
    শূন্য করতলে রেখাচিহ্ন চোখে পড়ে।
    যখন মুঠো করি হাত
    ভাগ্যরেখা পুরোটাই ঢেকে যায়, এবং
    তাদের জন্য করুণার অস্ফুট শব্দ ভাষা পায়।”

    “তবু যেন পায়ের নিচের মৃত্তিকা
    কোনো চিহ্ন না রেখে কোথাও না কোথাও
    দু’টো ভাগ হয়ে গেছে।
    দু’ভাগেই আমি দাঁড়াই, দাঁড়িয়েই থাকি, নিঃশব্দে।”

    কি চমৎকার শুরু, শেষ!

    সুস্থ থাকুন। শুভকামনা আপনার জন্য।

  5. বাপ্রে, এতো অন্য রকম একটি লেখা পড়লাম।
    আপনি সব সময়-ই ভাল লেখেন, তারপর ও বলি।
    থাকা আর না থাকার এই টানাপোড়েন আমাদের আজন্ম সঙ্গী।

  6. আশায় মানুষ বাঁচে, আশা বুকে বেঁধে বেঁচে থাকতে হয়।
    তবে অমূলক আশাকে এবয়েট করা উচিত।
    নিয়তির সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
    আপনার মনের অশান্ত ব্যকুলতায় শান্তি ফিরে আসুক।
    আপনার জন্য শুভ কামনা।

    1. না ভাই, আমি আমার মনের ব্যাকুলতাকে তুলে ধরিনি। আর, বুদ্ধিমান মাত্রেরই মাত্রাজ্ঞান থাকে। কখনোই কোনও অলীকত্বে তাদের আকর্ষণ নেই। দুঃখিত, তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি, কবিতার মূলভাবটি অনুভব করতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। আপনি, আমি সবাই, আমরা সর্বদাই দু’ভাগে বাস করি, করতে হয়। কোনও ভাগকেই আমরা উপেক্ষা করতে পারি না, পারা সম্ভবও নয়।

      1. লেখক যা লেখে পাঠক অনেক সময় তা বুঝতে না পারলেও নিজের মত করে বুঝে নেয়। আমি তাই করেছি। ইচ্ছে হচ্ছিলো আপনার লেখায় মন্তব্য করি। কয়েকবার পড়েও ফেরত গেছি মন্তব্য না করে। শেষে একরকম করেই ফেললাম, যা করে আল্লাহ!

  7. যতবার রেখে আসি, ততবার বোঝাতে চাই
    সিঁড়ি, চৌকাঠ, চৌকাঠ পেরোনো ঘর
    ফুলদানিতে শুকনো গোলাপের ঝরে পড়া পাঁপড়ি
    এসব একসময় আমার ছিল।

    অধিকার হারিয় ফেলার কষ্ট টা তো ভেতর জ্বালিয়ে /পুড়িয়ে নিজ সত্তা শেষ করে দেয়।

  8. দু’ভাগেই আমি দাঁড়াই, দাঁড়িয়েই থাকি, নিঃশব্দে।

    চিহ্ন হয়ত থেকেই যায়,
    কোথাও না কোথাও স্পষ্ট বা অস্পষ্ট অস্তিত্ব।
    নইলে দুরন্ত সাহসীকতায়, দু’ভাগে দাড়ায় কি করে কেউ !!

    এ যেন প্রতিটি জীবনের নিরেট বাস্তবতা।

    শুভাশীষ রইলো ।

মন্তব্য করুন