নারী ও বৃক্ষ আখ্যান

একটা গল্প ছিল, পাখির।

অথবা নারীর পাখি হবার, মেঘের মত আদুরে

ইচ্ছেদের মত স্বাধীন আর প্রকৃতির মত উদাসীন

তোমার মত ইচ্ছে খুশির ঝলক ছিল অধরে

একটা গল্প ছিল, বৃক্ষের।

বৃক্ষ অথবা মানব, একলা প্রাণ

এক ঠায় দাড়িয়ে সয়ে যাওয়া ঝড় জল

খর তাপে চৌচির,কুয়াশার হিমে জমা,

উষ্ণ আদরে গলতে না জানা, অচঞ্চল

ধীর কিন্ত নিশ্চিত বেড়ে ওঠা, পাতায়, ডালে, শিকড়ে, মায়ায়

নিত্য কর্মের অবসরে, পাখি এসে মানবের প্রাণে দহন বাড়ায়।

একটা গল্প ছিল, প্রেমের।

নারীর পাখি হবার অথবা বৃক্ষের মানব হয়ে ওঠার।

রোদের ছায়া হয়ে, বর্ষণের মায়া হয়ে, পত্র পল্লবে

স্থির বৃক্ষ নারীকে সাজায় অন্তরতমা সাজে।

মানবের আদরে, মায়ায়, তুমুল প্রেমে

পাখীর প্রাণে আগুন, ডানায় ঝড়ের সুর বাজে।

এইবার শেষ গল্পটি, বিশ্বাসের।

অথবা আগাছা এবং পড়োপড়ো দেয়ালের।

নারী আর বৃক্ষের প্রেমে ফুটছিল নিভৃত যতনে

স্বর্গের আলো আর মানবিক সুবাসের ফুল, বিশ্বাস।

ভালোবাসার আলো জলে বেড়ে ওঠে আনমনে

মানবের আদরে পাখিটির ঘুম পায়, পায় ঈর্ষার নীলবিষে

দেয়ালের ফাঁকের আগাছারা পায়, লাল কৃষ্ণচুরা, ভাঁট ফুলেরা

আর পায়, বৃহন্নলাদের নেই নেই চিৎকার, আধ ঘুমে জাগরণে

একটা একটা ইট খুলে পড়ে, গাঁথুনি,

পলেস্তারা, পড়োপড়ো দেয়াল, বিশ্বাস

ঘুমঘোরে পাশ ফিরে শোয় নারী,

জানেনা নিশ্চিত পাহারা দেয়

বৃক্ষের হাহাকার দীর্ঘনিঃশ্বাস।

মোট পড়েছেনঃ ৯৬৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. আগের লেখাটিতে ম্যাজিক ভালোবাসা দেখলাম ,
    কিন্তু এবারে কি হাহাকার দেখতে পাচ্ছি ? লেখাটির অবয়বে যে নারীর ছাপ দেখছি ।
    পাখি আর গাছেদের এ যন্ত্রণা আমরা মেনে নিচ্ছি না ।

        1. ভাই,
          অনেক আগে লিখছিলাম

          মুলতঃ
          শিমুল বিফল এক ফুল; শাপগ্রস্ত আগুন
          ছায়াহীন বৃক্ষে সর্বাঙ্গে কন্টক অভিশাপ।
          ধূলোয় গড়িয়ে শোধরানো কেবল গতজন্মের পাপ।

          মালা হওয়া নেই, পূজোয় ব্রাত্য
          সঙ্গী কেবল গাঙের বাউড়ি বাতাস;
          ভাগ্য তারে বানিয়েছে এক পরিযায়ী বুনোহাঁস।

          কিন্ত শিমুল আর বিফল ফুল নয়।
          পরিযায়ী বুনোহাঁস তার শান্ত দিঘীর জল খুঁজে পেয়েছে 🙂

    1. হ্যাঁ আপু পরিযায়ী বুনোহাঁস তার শান্ত দিঘীর জল খুঁজে পেলে জন্ম হয় নতুন পৃথিবীর ,
      যে পৃথিবীর কিং অফ দ্যা কিংস ইজ শিমুল 🙂

  2. কবিতা লেখার সময় কবির মুখের অভিব্যাক্তি গুলো দেখে যে অভ্যস্ত, তার মন্তব্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু না হলেও বলি-

    প্রচন্ড ট্র্যাজেডী, সৌন্দর্যের বর্ণনা কিংবা শারীরিক প্রেমের আবেদন ছাড়াও যে সার্থক কবিতা হয় তা আগে জানা ছিল না।

  3. খুব সুন্দর আবেদন মাখা,নারীর বাস্তবিক রূপ কাব্যিক ভাবে ফুটে উঠেছে–লেখার যথাযথ ভাষা পেয়েছে কবিতা–ভাব বিভোর কবির সঠিক উচ্চারণ এখানে ধরা পড়ে–ধন্যবাদ কবি !

মন্তব্য করুন