চিঠি

প্রিয়তমা 💘
মান বা অভিমান কোনটাই না আমার।
আর মান অভিমানে আমি কাতর নই, সেটা ভাল করেই জানো । ব্যপারটা বিশ্বাসের , অস্থি মজ্জা জুড়ে যে বিশ্বাস টা ছিল, পুরোটাই তুমি ধ্বংস করে দিয়েছো। তোমার এবং সন্তানদের প্রতি অগাদ ভালবাসার দরুণ আমি দিকবিদিক ছুটেছি, । তোমাদের সুখ শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্যই নিজেকে কর্মমুখর ও ব্যস্ত করে তুলেছি ।
তোমাদের রসনা বিলাস, ভোগ বিলাস, সোসাইটি মেইন্টেইন, আরাম আয়েশের জন্য ই আমার ক্লান্তিহীন ছুটে চলা।
সংসারে, সন্তানের উপর তোমার ও শ্রম আছে নির্দিধায় স্বীকার করি। তাই বলে প্রতিদান এমন হবে, ভাবতেও পারিনি ।
কি অপূর্ণতায় রেখেছি তোমায়, যে তুমি পর পুরুষের পরকিয়ায় মত্ত হতে হবে?
বারো বছরের সংসার জীবনে এক দিন ও তো বলোনি, ” দুদিনের ছুটি নাও, বিশ্রাম করো, একান্তীয় সময় কাটাও আমার সাথে “।
দামি শাড়ি, উপলক্ষ্যগুলোতে গহনা, সব চাইতে পেরেছো, সব দিতে পেরেছি, দু’চার দিনের অবকাশের সময়টা কি দিতে পারতাম না,?
তাহলে কোন অপূর্ণতায় তুমি এমনটি করলে ?
বিশ্বাস কে চার দেয়ালে নিরাপদ রেখে এসেছিলাম, সেখানে বেলকনি বেয়ে ছোট্ট জানালায় যে দুস্ট বাতাস বয়ে যাবে, ভাবিনি কখনো ।
তুমি হয়তো নতুন প্রেমিকের স্বপ্নে বিভোর, আমার আকাশে বিবর্ণ মহামারীর আলপনা ।
সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে আমিও হয়তো পৌছাবো দিগন্তের কোন এক সীমানায় ।
কোন এক মনিষি বলেছিলেন ” যে চলে যায়, সে হয়তো তোমার ছিল না “।
হয়তো তাই, তুমি কখনো আমার ছিলে না।।
ভাল থেকো, যেখানে বিশ্বাস জন্ম দিবে, সেখানে তার লালন করো । তাহলেই প্রকৃত সুখ পাবে ।
ইতি
তোমার
এক্স

মোট পড়েছেনঃ ৮৮৬জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২০টি মন্তব্য

  1. ভাই
    চরম পোষ্ট-

    বিশ্বাস কে চার দেয়ালে নিরাপদ রেখে এসেছিলাম, সেখানে বেলকনি বেয়ে ছোট্ট জানালায় যে দুস্ট বাতাস বয়ে যাবে, ভাবিনি কখনো ।

    মনে ধরে গেল- প্রতিটি পুরুষ এমন সহজ সরল বিশ্বাসেই ঘরের আলোর প্রয়োজনে ঘর ছাড়ে।
    –
    হয়তো তাই, তুমি কখনো আমার ছিলে না।।
    এই কথায় আমি ভিন্নমত রাখি-
    আমি বলবো “সংসার ছেড়ে বীনা কারণে যে চলে যায়,
    সে কখনোই কারো ছিল না-
    এদের কোনদিন কারো একার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না।”

    চমৎকার ভিন্নধর্মী চিঠি-
    অসাধারণ

  2. বাস্তব কথা….. “যে চলে যায়, সে হয়তো তোমার ছিলো না”যে থেকে যায়,সে সবকিছু মেনে নিয়েই রয়ে*যায় শুধু।
    বিরহ চিঠি ভালো লেগেছে।
    শুভ কামনা।

  3. পরকীয়া একটা রোগ এটাকে নির্মুল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে যখন সে পরকীয়ায় পড়ে।স্বামী স্ত্রী এক খাটে প্রতিরাতে শুয়েও পরকীয়ায় পড়ে যত ধন সম্পদ এর পাহাড় থাক না কেন।খুব ভাল লেখা ভাইয়া।

  4. এটাকে কি পরকীয়া বলবো? জীবনে একজনের উপস্থিতিতে আর একজনে যাদের ভালো লাগে তারা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি। এরা স্বার্থপর।

    যদি তাই হয় তাহলে বলবো গল্পটি স্বার্থক। ভালো লিখেছেন দাদা।

  5. অস্থি মজ্জা জুড়ে যে বিশ্বাস টা ছিল, পুরোটাই তুমি ধ্বংস করে দিয়েছো।
    এই বিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে গেলে ভেতরটাই শেষ হয়ে যায়।

    খুব ভালো লাগলো,
    কতোটা সহজে একটা জীবনের অর্থহীন হয়ে যাওয়াকে তুলে ধরলেন।
    শুভ কামনা আপনার জন্য

মন্তব্য করুন