ব্লগার সজীব মাঝে মাঝেই নাই হয়ে যায়। সে কই যায়? এই প্রশ্ন ঝাতি মাঝে মাঝেই জানতে চায়। আমিও ভেবে পাই না সে
কেনো ঠিক মত ক্লাসে আসে না। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সে কি করে? গোপন সূত্রে কিছু খবর পেয়ে কোন স্থানে গেলেই দেখি সে জায়গা বদল করেছে! এক দিনের কথা আমি প্রথমেই গেলাম এই স্থানে—

13817036_854988064606273_371172347_n
খবর পেয়েছিলাম যারা নাকি মাড়ির ব্যথায় সত্য কথা বলতে পারে না আমাদের সজীব তাদের দাঁত তোলে। গিয়ে রিসিপশনে বসা সুন্দরী মত মেয়েটাকে প্রশ্ন করলাম ঘটনা কি সত্যি? সেই মেয়ে প্রথমে কিছুতেই গুরুত্ব দিচ্ছিলো না। যেই টেবিল বাজায়ে কড়া করে বললাম “আমি সজীবের ওস্তাদ “। সেই মেয়ে গলে গেল। বললো জি আজ্ঞে ঘটনা সত্যি। আমি বললাম সজীব কই? সে বললো সরি ম্যাম উনি একটু আগেই বেরিয়ে গেলেন।
=========================================================
এবার গেলাম এই স্থানে।

13819437_854988434606236_238207250_n

গিয়ে তো আমি পুরাই “থ”। জন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে, শাহ সিমেন্ট এর উপরে যে মরচে ধরা পুরাতন বিলবোর্ড “সজীব একাডেমী” সেটার ভিতরে বিরাট কারবার। এসি অফিস। একটা থাই লাগানো ওয়েটিংরুম। শতশত কর্মচারী যে যার কাজে ব্যস্ত। কেউ কারোর দিকে তাকাবার নেই। আমি ঠিক  বুঝতেছিলাম না কি একাডেমী। ভয়ে ভয়ে ভিতরে ঢুকে দেখলাম প্রচুর মেশিনারি জিনিসপত্র। কিসের যেনো বড় বড় মেশিন ঘুটুর ঘুটুর করে চলছে। পরে বুঝলাম এটা গাড়ি তৈরীর কারখানা। আর সাথে সাথে বুঝলাম সজীব কোথা থেকে সবার জন্য এতো দামী গাড়ি উপহার দেয়। সেখানেও সজীব নেই।
=========================================================
এবার গেলাম এই খানে।
13820668_854988764606203_1086429929_n
এই ছাত্রাবাসে সজীব থাকে নাকি নিজে গরীব ছেলেপুলেদের জন্য এই ছাত্রাবাস খুলে বসেছে সে আমার ঠিক জানা নেই। “যে যত বেশি লুকায়িত তার মন তত বেশি বিস্তৃত”। এই বাক্য সত্য প্রমাণ করতেই মনে হয় সজীবের এই উদ্যোগ। সজীব কে এখানেও পাওয়া গেলো না।
=========================================================
মন খারাপ করে আমি বসে আছি। ভাবছি কি করা যায়। এমন সময় একটা বাগান চোখে পড়ল। আমি গিয়ে সেখানে বসতেই বুঝলাম আমি ভুল সময়ে ভুল স্থানে উপস্থিত। আমার উপস্থিতি বুলবুলি পাখি দ্বয়ের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উঠে এলাম সেই বাগান থেকে। কিন্তু তখনই চোখে পড়লো বাগানের নাম।
13814429_854988874606192_995493694_n
বুঝলাম সজীব আমার শিষ্য পথিকের শান্তির কথা ভেবে এই বাগান বানিয়েছে। কিন্তু আফসোস দেশে ক্লান্ত পথিকের চেয়ে বুলবুলির সংখ্যা অনেক বেশি।
সব বাদ দিয়ে আমি সোনেলায় এলাম। এসেই দেখি সজীব জমায়ে মন্তব্য করছে। মানে আমাদের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছে। আর কিছুর দরকার নেই।

বি:দ্র: আইডিয়া পুরোপুরি ব্লগার সজীবের কাছ থেকে নিজের ভেবে নিয়ে নেওয়া। সজীব তুমি ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে মজার ছবি পাও। আর আমি নওগাঁ ঘুরতে ঘুরতে এই সব ছবি পাইছি।

৭৭৮জন ৭৭৮জন
0 Shares

৭৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ