করোনালাপ……(৯)

 

অপেক্ষা হেম পেয়ালার

 

হেম-পেয়ালা হাতে অপেক্ষায় আছি

কখন হুকুম হবে, ‘পান করো আকণ্ঠ’,

তথাস্তু বলে বিনা বাক্য ব্যয়ে শুষে নেব সবটুকু,

এরপর অপেক্ষা সামান্য-মত,

ক্রম-নিস্তেজতার, পা থেকে উর্ধাঙ্গে;

 

সামাজিক শীত শেষে এখনের জল-বিছানা,

রেশমী চুলের নক্সাদার ডাইনী, ধোয়া ওঠা

বাঘের দুধের চা, ঘাই হরিণী শিকারের গল্প,

একটু একটি করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের সাক্ষী,

আর গোধূলীতে উড়ে যাওয়া ঝাঁক ঝাঁক বক পক্ষি,

আহ্লাদিত সারারাতের হেঁয়ালি ঝড়,

ঘড়ির নগ্নতায় অজগর সমুদ্রে ভেসে যাবে।

 

ধুপছায়ার পেন্সিলে আঁকা দৈব বাণীর অপেক্ষা করি,

‘এবারের মত ছেড়ে দিচ্ছি, সাবধান করে’।

 

মোট পড়েছেনঃ ৭১৫জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

২৮টি মন্তব্য

  1. “ধুপছায়ার পেন্সিলে আঁকা দৈব বাণীর অপেক্ষা করি,
    ‘এবারের মত ছেড়ে দিচ্ছি, সাবধান করে’। “

    হেম পেয়ালাকে ছেড়ে দিলেও
    করোনা কি ছাড়বে কাউকে ?
    শুভ কামনা।

  2. না চাইলেও হেম নামক করোনা হাতে নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছি সবাই। কখন ডাক আসবে? আর ডাক এলে বিনা বাক্যে সবটুকু হেম পান করতে হবে। আর তারপর অনিচ্ছা সত্ত্বেও মৃত্যু কোলে মাথা রাখতে হবে।

    এই তো জীবন,ক্ষ
    তবুও কেনো করি মোরা
    নির্বোধের মতো বৃথাই আস্ফালন

    1. কতটা অনিশ্চিত এ জীবন, অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে আছে ঘাতক।
      তবুও এ সামান্য জীবন নিয়েই আমাদের বড়াই, অহংকার!
      ভাল থাকবেন আপনি।

  3. রেশমী চুলের নক্সাদার ডাইনী, বাঘের দুধের চা, সামাজিক শীত শেষে জল-বিছানা, ঘড়ির নগ্নতায় অজগর ভেসে যাবে -অন্যরকম বর্ণনায় হারিয়ে গেলাম এই আতংকের মধ্যে ও। সত্যিই কি এবারের মতো ছেড়ে দেবে করোনা? দৈববাণী কবে আসবে সেই অপেক্ষায় আছি। ধন্যবাদ ভাইয়া শুভ কামনা রইলো

    1. আপনার কবি চোখ/মন বলেই সব কিছু সৌন্সর্যে থাকে।
      দৈব বাণীর জন্য শুধুই অপেক্ষা। আর তাঁর ক্ষমা প্রার্থনাই আমাদের কাজ।
      আপনি ভাল থাকবেন।

  4. “ধুপছায়ার পেন্সিলে আঁকা দৈব বাণীর অপেক্ষ করি,
    ‘এবারের মত ছেড়ে দিচ্ছি, সাবধান করে’।”
    ————-বিধাতা যেন কবির এই আর্তি শোনে।

  5. জন্মের পর মূহুর্ত থেকেই হেমলক ধরিয়ে দেয়া হয় নাগালের মধ্যে। তারপর প্রত্যেক চাঁদের হিসেবে বিন্দু-বিন্দু ঢালা হতে থাকে কন্ঠের সরুগলিতে। ভাব নিয়ে থাকি, এইতো গিলছি-গিলে নিবো। এক সময় ধরা পড়ে যাই নির্জলা প্রতারণায়। সব জোর করে গিলিয়ে দেবার পর ঘোষণা আসে মুক্তি অথবা শান্তির। অপেক্ষা ফুরোয় প্রতারকের।

    যেভাবে আলাপ শুরু করেছেন, শান্তিতে মরার ফুরসৎ পাচ্ছিনা মহারাজ 🙁

    1. লুকিয়ে বলা কথাটি আপনি সুন্দর/কঠিন করে তুলে এনে দক্ষতা/সক্ষমতার পরিচয় আবার দিলেন। ধন্যবাদ, জ্বি।
      মুক্তি আমরা চাই এবং তা হয়ত পাই বা পাবো- ও। কিন্তু যন্ত্রণাটুকু শুধুই আমাদের, একান্ত-ই নিজের নিজের।
      মরা! তা শান্তিতে বা অশান্তিতে, যাতেই হোক না কেন, মরার অনুমতি তো আপনাকে দেয়া হয়নি, হবেও- না।
      নিরাপদে থাকুন,
      হ্যাঁ, কি যেন বলেছিলাম! লেখা কৈ!

মন্তব্য করুন