ইচ্ছে পোড়া ছাই

 

আমি ফিরে পেতে চাই হারানো উৎফুল্ল দিন,
ফিরে দেখতে চাই চরকা কাটা রঙিন ঘুড়ির উড়ান।
আমি আকাশের নীল গায়ে মাখতে চাই,
আমি আঁকা বাঁকা মেঠো পথ ধরে বিনুনি দোলাতে চাই।
আমি পুকুর জলে আনমনে ডিল ছুঁড়তে চাই,
কদম পাড়ার ব্যর্থতায় বারবার বিষন্ন হতে  চাই।
আমি কুমড়া ফুলের বড়া বানিয়ে বনভোজনে মাততে চাই।
আমি খেয়ালি মনের হেঁয়ালির সুরে হারাতে চাই,
হেমন্তের ধানের ক্ষেতের মিষ্টি হাসির সাথী হতে চাই।
খেজুর রসওয়ালার হাঁড়ি ফুটো করে পালাতে চাই,
কৃষ্ণচূড়ার ডাল ভেঙে লাল-সবুজের খেলাঘর বাঁধতে চাই।
আমি রান্না বাটি খেলায় পুতুলের বিয়ে দিতে চাই,
আমি বন্ধুর সাথে ঝাঁক বেঁধে স্কুল যেতে চাই।
বদমায়েশির শাস্তি ভোগ,
কানে ধরা ভারি মজা বলে হেসে উড়িয়ে দিতে চাই,
আমি  দূরন্ত ডানা মেলে গাঙচিলের সঙ্গী হতে চাই।

আমার ইচ্ছে গুলোকে __
তোর/তোদের কামনার আগুনে পুড়িয়ে দিসনারে!
একটু খানি মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই!
মায়ের চোখের ভাষায় পড়েছি তোদের শিকারি চাহনী!
সেই শৈশব থেকেই।
আমি ষোড়শীর কপালে  সমাজ খোদাই করে লিখে দিবে “ইচ্ছে পোড়া ছাই”।
ওরে পাপিষ্ঠ সীমার তো তুই,
অথচ পৃথিবীর নারকীয়তা স্পর্শ করবে প্রতিনিয়ত আমাকেই।
একটি বার মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই।

মোট পড়েছেনঃ ১,১৫৩জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩০টি মন্তব্য

  1. ইচ্ছে পোড়া ছাই হয়েই ভেসে বেড়াচ্ছি এই ধরনীর বাতাসে। এই আকুতি করতে করতেই পৃথিবী একদিন শেষ হয়ে যাবে, তবু মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজা শেষ হবে না।

    1. হ্যাঁ আপু একদম ঠিক বলেছেন। আমাদের কন্যা শিশুরা আর কখনো অবাধে বিচরণ করতে পারবেনা।
      ইচ্ছে গুলো ছাই চাপাই থেকে যাবে।
      ভালোবাসা রইলো আপু

  2. আমি আবারো কৈশরে ফিরে যেতে চাই। ফিরে পেতে চাই হারানো শৈশব।

    ছেলেবেলা মনে করিয়ে দিলেন আপু। আপনার স্বপ্ন পূরণ হোক এটাই চাই।

    1. আমাদের কন্যা সন্তানের চাওয়া গুলো তুলে ধরেছি ভাই।
      আমার আর কোন ইচ্ছে নেই।
      শুধু দেখে যেতে চাই কখন কি হয়।
      ছেলেবেলা মনে করিয়ে দিতে পেরে ভালো লাগলো।
      অনেক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা রইল

  3. ওরে পাপিষ্ঠ সীমার তো তুই,
    অথচ পৃথিবীর নারকীয়তা স্পর্শ করবে প্রতিনিয়ত আমাকেই।
    একটি বার মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই।
    –সুন্দর উপস্থাপন I মুগ্ধতা অপার।

  4. আহারে! আসুক ফিরে এমন কল্পিত দিন বাস্তবতা হয়ে। নৃশংস নর পশুদের থাকা কবলিত থেকে মুক্ত সুন্দর শান্তির দিন আসুক ফিরে। চমৎকার লিখেছেন আপু

    1. নারী পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ হতে পারলে আর বেজন্মাদের পুরুষত্ব কলঙ্কিত হবেনা।
      আমাদের মেয়েরা নির্ভয়ে বেড়ে উঠুক হেসে খেলে এইতো চাই আপু।
      ভালোবাসা অনিঃশেষ।

    1. আপু শুনলাম চমৎকার গান। ঠিক তাই মহিলা নয় মানুষ হতে হবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে অনন্য উচ্চতায়।
      ভালোবাসা রইলো আপু

    1. আমাদের ছেলে বেলার সাথে নতুন প্রজন্মের কোন মিল নেই। আমরা বাচ্চাকে বেড টাচ শেখাই। মনের অজান্তে ভয় ঢুকিয়ে রাখি। এটা কোন জীবন হলো।
      সেই কষ্ট থেকেই লেখা।
      ভালোবাসা নেবেন ছোট আপু

  5. চমৎকার চাওয়া আর চাওয়াগুলোর কাব্য গাঁথুনি অসাধারণ লেগেছে। আমিও এমন একটি কবিতা লিখেছি পুরানো স্মৃতির চাওয়া নিয়ে। অসংখ্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো। শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা আপু

    1. দিদি ভাই আপনি সুন্দর বললে আমি নির্ভার। আপনার কবিতাটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। পুজো কেমন কাটছে আশা করছি খুব ভালো হচ্ছে।
      ভালোবাসা রইলো

  6. মানুষের মাঝে মানুষ হয়ে বাঁচার স্বপ্ন যেনো বাস্তব হয়ে আসে এটাই চাই। পৃথিবী থেকে যেমন করে নরখেঁকোরা কমে গেছে/ যাচ্ছে, এমনি করেই বিলুপ্ত হোক নরপশু গুলো।
    অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম। ভালো লাগলো। বানান গুলো আরেকবার চেক করে নিন প্লিজ।
    ভালো থাকুন, শুভ কামনা নিরন্তর 🌹🌹

    1. আপু বানান ঠিক করে দিয়েছি।
      আমাদের মেয়ে শিশুকে বাধ্য হয়ে বেড টাচ শেখাই। মনের অজান্তে ভয় ঢুকিয়ে রাখি। এটা আমাকে কষ্ট দেয়। কেন?
      কতোগুলো জানোয়ারের জন্য মেয়ে গুলো নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারবেনা।
      আমি অসুস্থ আপু সেকারণেই নিয়মিত হতে পারি না।
      তবু চেষ্টা করি।
      ভালোবাসা রইলো আপু

  7. তোর/তোদের কামনার আগুনে পুড়িয়ে দিসনারে!
    একটু খানি মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই!
    মায়ের চোখের ভাষায় পড়েছি তোদের শিকারী চাহনী!
    সেই শৈশব থেকেই।
    আমি ষোড়শীর কপালে সমাজ খোদাই করে লিখে দিবে “ইচ্ছে পোড়া ছাই”।****
    পুরো কবিতাই ভীষন ভালো লাগলো। এইটুকু বেশি ভালো লেগেছে। শুভ কামনা রইলো।

    1. রুকু আপনার ভালো লেগেছে জেনে আপ্লূত হলাম।
      আসলে মনের কষ্ট থেকেই লিখেছি। মেয়েটাকে নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়।
      ভালোবাসা রইলো আপু

  8. আমাদের ইচ্ছে গুলো কোন না কোন ভাবে বন্দী হয়ে যায় সামাজিক নারকীয়তার জালে,
    জ্বলে জ্বলে হাঁসফাঁস ই নিয়তি।
    তবুও ইচ্ছেরা থেকে যায় হৃয়ের গভীর গহিনে।

    1. আমাদের সময় এতো নৃশংসতা ছিলোনা।আমরা কতো খেলা ধূলা করেছি। ঠিক মতো রাস্তা ঘাট ছিলোনা। দলবেঁধে ছেলে মেয়ে সবাই স্কুলে যেতাম।
      ভয় কি জানতাম না।
      এখন মেয়ে বাচ্চা একা ছাড়ার কথা কল্পনা করা যায় না।
      কষ্টটা সেখানেই।
      ভালো থাকবেন ভাইয়া।

মন্তব্য করুন