জিসানের খণ্ড কালীন চিন্তা ভাবনাঃ  খেরো খাতা-২

একটি সময়ে প্রচুর লিখতাম, সারাদিনই বলতে গেলে লেখালেখির উপর থাকতাম। যদিও তা লেখির পর্যায়ে থাকতো, লেখার নয়। ভাবছি পুরাতন লেখালেখি গুলো সবার মাঝে প্রকাশ করি, যদি পাঠকরা এগুলোকে লেখা বলেন তো খুশির ঠেলায় খুশিত হতেও পারি।
আশা নিয়েই বেঁচে থাকি আমরা, যদি একদিন লেখক হয়েই যাই, তো…………
==============================================
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
প্রথমেই বলে নেই আমি ২০১২ সনের ২৩ সেপ্টেম্বর আপনাদের সোনেলা ব্লগে মাইনাস বেতনে জব আরম্ভ করি। কবে যে বেতন প্লাস হবে তার উত্তর জানাবেন কি মডারেটর এবং এডমিনগন?

আসুন এবার আমার লেখালেখি পড়াশুনা আরম্ভ করি।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
——————–
কিছু বিষয় পুরানো হয় না ,
রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা এর অন্যতম,
এই ঘৃণা সবসময়ই নতুন ঝক্‌ঝকে থাকে
এবং থাকবে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪
———————

দুই বছর হয়ে গেলো ! একটি ব্লগে লিখি আমি। আর এটা সবার জানা যে আমি মৌলিক লেখা লিখতে পারিনা। তাই যৌগিক কিছু লেখার অপচেষ্টা করি। ভালোই লাগে লিখতে। পরিবেশটা খারাপনা ছোট ব্লগটার। ভেংচি, গালাগালি, চাপাচাপি, কুটনামি নাই। দুষ্টদের কোন সুযোগ না দিয়েই ব্যান। তাই দুষ্ট শূন্য ব্লগ।
প্রচার নেই তেমন এটির। যারা লেখালেখি করি ওখানে, বলা যায় সবাই ওটাকে রাফ খাতা বানিয়ে ফেলেছি।
আপনি ইচ্ছে করলে রাফ খাতা বানাতে পারেন সোনেলা ব্লগ কে ।

‘ আমাদের অহংকার নেই, চাকচিক্য নেই, উজ্জ্বলতা নেই এমনটা ভাবি না আমরা ।
সোনেলার ব্লগারগন আমাদের অহংকার, ব্লগারদের আন্তরিকতা আমাদের চাকচিক্য
তাঁদের ভালোবাসা আমাদের উজ্জ্বলতা।’ – এমনটা ভাবে সোনেলা।

অনেকেই এই ছোট ব্লগটাকে ভেঙ্গা্য, কিন্তু সোনেলা কাউকে ভেঙ্গা্য না। ভ্যাংচি খেতে ভালো লাগে আমাদের, দিতে নয়।
সোনেলা বিশ্বাস করে ”ভেঙ্গালে ব্যাং খায়/গরু মরা ঠ্যাং খায় ”

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
———————

অতঃপর তাহারা আবার পশুত্বকে নয় পশু কোরবানির দিকে মনোনিবেশ করিল
ইতিপূর্বেও তাহারা এমনই করিত-
এবং মানুষ কুপিয়ে,পুড়িয়ে হত্যা করিত, ধর্ষন করিত, ঘুষ খাইত, জমি দখল করিত, দুর্বলদের চাপিয়া মারিত, ব্যংকের টাকা-শেয়ারের টাকা আত্মসাত করিত, ওজনে কম দিত, প্রতারণা করিত, সংকট সৃষ্টি করিয়া খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করিত, প্রশ্ন পত্র আউট করিত, মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করিত, হেরোইন-ইয়াবার ব্যাবসা করিত, মানুষ পাচার করিত, খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রিত করিত, টিস্যু পেপার দিয়ে মিষ্টি বানাত, জীবনের সর্বক্ষেত্রে অপরকে বঞ্চিত করিয়া নিজ স্বার্থ দেখিত, আবার নামাজও পড়িত।
এবং ভবিষ্যতেও করিবে
তারপর আবার পশু কুরবানি দিবে,পশুত্বকে নয়
ইহাই নিয়ম, ইহা হইতে মুক্তি পাইবে না তাহারা,

যে সব ভাবনায় আকন্ঠ নিমজ্জিত আমি। খেরো খাতা-১

মোট পড়েছেনঃ ১,০৬৮জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৩২টি মন্তব্য

  1. আপনার লেখাটি মন দিয়ে পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম সেইসব সময়ের কথা, আপনারা যখন ব্লগিং করছিলেন তখন মৌলবাদীদের কট্টর চিন্তাভাবনার নিস্ফল আক্রোশে একে একে খুন হচ্ছিলো বেশ কয়েকজন ব্লগার, এমনই সময় কিভাবে অবিচল থেকে একটা নতুন ব্লগকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন?
    হয়ত উত্তরটা কিছুটা আন্দাজ করতে পারি বলেই প্রতিবারই আপনাকে স্যালুট জানাতে ইচ্ছে হয়, ভাইজান আপনাকে স্যালুট শতবার, বারবার। 😊

    1. হ্যা ভাই, চরম প্রতিকুলতা আর উদ্বেগ নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে প্রতিটি দিন,
      রিভলবারটা সাথেই রাখতাম, সাথে দুই তিনজন থাকতো বাইরে বের হলেই।
      ড্রাইভার সহ চারজন।
      চেষ্টা করেছি সারাক্ষণ একটি ভালো মানের ব্লগ তৈরী করার। আপনাদের প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝতে পারি, কিছুটা হলেও সফল হয়েছি।
      শুভ কামনা ভাইজান।

    2. রাজাকার কাম্রুজ্জামানের ছেলের মদ খাওয়া ছবি ফেবুতে পোস্ট দিলাম তারমাঝে ভয় অনেক করেছে। কিন্তু আমি কোন ব্লগার তখন ছিলাম না কারন আমি ব্লগিং কি জান্তামই না। শুধু বিডিব্লগে পড়তাম লিখতাম ব্লগ অরথ জান্তামই না।
      জিসান ভাইয়েরা প্রথম শ্রেনীর ব্লগার ঈ যোদ্ধা।
      আমি পক্ষে ছিলাম। এই যা।

      1. মজিবর ভাই।
        আমরা তখন হয়ত কেউ কাউকে চিনতাম না,
        তবে আমাদের উদ্দেশ্য একই ছিলো, রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা।
        আমরা সহযোদ্ধা ছিলাম ভাই, পরে আমরা সোনেলায় একত্রিত হয়েছি।

        শুভ কামনা।

      2. তা ঠিক তবে আমি খুব নগন্য। কারন মানাওম্মত লেখা খুব মেধার প্রয়জন তবে আপনাদের ওই যুদ্ধের পক্ষে ছিলাম। আছি।

    1. ২৪ শে সেপ্টেম্বর ২০১৩ তে কিছুই লেখা হয়নি,
      হয়ত কোনো কাজে ব্যাস্ত ছিলাম খুব,

      বাজ পাখির চোখে কিছুই এড়ায় না 🙂

    2. এতো শ্রম এতো ভালোবাসা দিয়ে সোনেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
      এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য দাদা।
      আপনার প্রতিটি কথা ও আপনার প্রতি রইলো অগাধ শ্রদ্ধা।
      স্যালুট নিবেন।

      1. অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রদীপ তোমাকে,
        আমার সাথে থেকে, আস্থায় নিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছো তুমি এবং তোমরা।
        শুভ কামনা।

  2. আপনারা যে সময় ব্লগিং করতেন তখন ব্লগিং করার অন্যরকম একটা আমেজ ছিলো। তবে ব্লগার সম্পর্কে কিছু মানুষকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ব্লগিং নিয়ে লেখকদের মাঝে একটি ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যেও সোনেলাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন বিনা পারিশ্রমিকে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য ভাইজান।

    1. শাহাবাগ আন্দোলনের পরেই বিএনপি জামায়াত হেফাজত শাহাবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে চলে যায়।
      এরা সবাই ব্লগারদের নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে দেয়,
      বেশ কয়েকজন ব্লগারকে হত্যা করে এরা,
      আর বোকা জনগন এটি বিশ্বাস করে ফেলে যে ব্লগার মানেই নাস্তিক।
      অনেক মাষ্টার ডিগ্রীর লোকজনও এটি বলেছে আমাকে। তাঁদের জিজ্ঞেস করেছি কোনো ব্লগ পড়েছেন কিনা। উত্তর টা একদম ছাগলের মত ” না কোনো ব্লগ পড়িনি এখনো, তবে হাফেজ্জি হুজুর বলেছেন তাই বিশ্বাস করেছি ”। বুঝুন অবস্থা।

      সোনেলাকে নিয়ে আপনাদের ভালোবাসা থেকে বুঝতে পারছি যে কিছুটা সফল হয়েছি মনের মত একটি ব্লগ নির্মানে।
      শুভ কামনা।

    2. ব্লগার মানেই নাস্তিক নয় এমন একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম যতটা মনে পরে সোনেলায়,
      ধর্ম ভীরু বাঙ্গালীদের এদেশের হুজুররা ব্রেইন ওয়াশ করে দিয়েছে।
      ব্রেইন ঠিক হতে কয়েকশত বছর লাগবে নিশ্চিত।

  3. রাজাকারদের নিয়ে আমার ধারাবাহিক প্রজন্মের ঋণশোধ পোষ্ট দেয়ার সাহস পেয়েছিলাম আপনার অসীম সাহসিকতায় রাজাকার বিরোধী বিভিন্ন পোষ্টে মনোভাব দেখে। সর্বোপরি আপনার সাথে সহমত জ্ঞাপন করছি
    ‘ আমাদের অহংকার নেই, চাকচিক্য নেই, উজ্জ্বলতা নেই এমনটা ভাবি না আমরা ।
    সোনেলার ব্লগারগন আমাদের অহংকার, ব্লগারদের আন্তরিকতা আমাদের চাকচিক্য
    তাঁদের ভালোবাসা আমাদের উজ্জ্বলতা।’ – এমনটা ভাবে সোনেলা।
    এ জন্যই সোনেলা আজও মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে এবং থাকবে।
    খুব ভাল লাগল।

    1. রাজাকারদের প্রতি ঘৃণা চালু থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

      আমাদের ভালোবাসার সোনেলা এমনই মনির ভাই,
      ভালো থাকবেন,
      শুভ কামনা।

  4. আমাদের বড় পরিচয় আমার মানুস। মনুস্যবোধ নিয়েই থাকতে চাই।
    কারো সাথে ঝগড়া বিবাদে নই। তবে মুক্তিজুদ্ধ দেশ ও ধরম নিয়া বাড়াবাড়ি করা পছন্দ করিনা।

  5. ব্লগ নিয়ে আগ্রহের চাইতে ভীতি বেশি জনমনে। তার যথেষ্ট কারণও আছে। কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে সেই সময়টা, ভেবেই শিউরে উঠতে হয়।
    ভালো থাকুন ভাইয়া, ভালো থাকুক সোনেলা।

    1. চমর একটি বৈরী সময় গিয়েছে তখন,
      এখন সে বৈরী সময়টা নেই আর।
      তবে ব্লগ শুনলে মানুষের মনে এখনো কিছুটা আতঙ্ক কাজ করে।

      সোনেলা এসবকে অগ্রাহ্য করেই এগিয়েছে।
      শুভেচ্ছা আপনাকে।

  6. তারপর আবার পশু কুরবানি দিবে,পশুত্বকে নয়
    ইহাই নিয়ম, ইহা হইতে মুক্তি পাইবে না তাহারা,

    যথার্থই বলিয়াছেন শ্রদ্ধেয় দাদা। এইরূপ বলিয়া আমার হৃদয়টা কাড়িয়া নিলেন। আছি সোনেলার সকলের সাথে।

মন্তব্য করুন