ই মেইলের যুগে চিঠি! তাও আবার হলুদ খামে। ডাকবিভাগ থেকে পাঠানো। ঠিকানাবিহীন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। শর্মিলী, রাশভারী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ব্রান্ড ম্যানেজার চিঠি না খুলে ড্রয়ারে রেখে দেন । নিশ্চয় বন্ধুদের পাগলামি। চিঠি পড়ে যদি ওদের উপর রাগ জন্মায়।
বছর পাঁচেক পর, কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে, জ্যামে আটকে; বিরক্তিকর মুড নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে লাগলো শর্মিলী। ব্যস্ততা আর ঝিমিয়ে পরা মনটাকে একটু বাতাসে উড়িয়ে দিলে কি হালকা হওয়া যায়?
ভাবনার আকাশে পাল তুলে, দেখতে পেলো ; এক পাগল ইট ঘষে ঘষে দেয়ালে কি যেনো লিখছে! কৌতূহলবশত: পড়ে দেখলো ; নির্মলেন্দুর কবিতা। মনটা প্রজাপতির ডানায় ভর করলো।
বাসায় ফিরে জমানো ৬০ টি চিঠির চৌম্বক আকর্ষণে তারিখ মিলিয়ে পড়তে গিয়ে দেখলো, কুশল বিনিময় নেই। ভাববাচ্যে লিখা। কখনো আকাশ, কখনো নদী, কখনো পদ্মফোটা দিঘীর গল্প। মনে হলো উপন্যাস লিখার টুকরো টুকরো থিম।
৫৯ নং চিঠিতে লিখা, ” সবই দিয়েছি তোমায়, আমার আবেগ, অভিমানী প্রেম, মনকেমনের চিঠি, একমুঠো নীল, প্রেমের পরশকাঠি।”
ষাট নং এবং শেষ চিঠি : প্রথম শব্দ পড়ে, চোখে পাথর বিদ্ধ হলো। চার লাইনের, নির্মলেন্দুর কবিতা!
” পোড়াতে পোড়াতে চৌচির নদী
চন্দনবনে অগ্নির মতো জ্বলে
ভূকম্পনের শিখরে তোমার মুখ
হঠাৎ স্মৃতির পরশনে গেছে গলে।”
কেনো জানি কান্না পাচ্ছে শর্মিলীর। শূন্যতা, পূর্ণতা, নির্ভরতা নাকি নিঃসঙ্গতার জন্য , জানেনা। শুধু বুঝতে পারছে, বুকের ভিতর কোথায় যেনো লুকানো জায়গা থেকে একঝাঁক অভিমান প্রচণ্ডবেগে কান্না হয়ে দু চোখ ফেটে বেরোতে চাচ্ছে।
অকস্মাৎ, অবহেলে ফেলে রাখা ফেলে যাওয়া
ভালোবাসা সামনে এসে দাঁড়ালে এমনি হওয়ার কথা।
আপনি নিয়মিত লিখতে শুরু করুন।
ধন্যবাদ ভাই। চেষ্টা করবো।
সাজানো গোছানো লেখাটি ।আমার ভীষণ ভালো লেগেছে ।
কৃতজ্ঞতা।
কতদিনের জমানো অবহেলা হঠাৎ করে হৃদয় টাকে তোলপাড় করে দেয় এটাই বাস্তবতা। হায়রে অভিমান, ভালোবাসা! চিঠিগুলো এভাবেই আবেগকে নাড়া দিয়ে যায়। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন শুভ কামনা রইলো
আপনিও ভালো থাকবেন।
আপনাদের সুন্দর সুন্দর কমেন্ট অনুপ্রেরণায় যোগায়।
অপার্থিব পরশে নিত্য নতুন আবিস্কার
চিঠির ভাষায় কবিতা
আবেগ ভরা সবিতা।
ভালইতো লাগলো। শুভ কামনা।
শুভকামনা জানবেন।
চমৎকার অনুগল্প পড়লাম মুক্তা আপু অনেক শুভ কামনা রইল————-
ধন্যবাদ ভাই।
ভাবনাগুলো খুবই কষ্টের।
ভাল লিখেছেন আপু।
একদম।
ধন্যবাদ ভাই।
মনে পড়ে গেল সেই চিঠির যুগ। কত চিঠি লিখলাম,অনেকদিন আর চিঠি লেখা হয় না,গুছিয়ে লিখেছেন, শুভকামনা ভালো থাকবেন সবসময়।
ধন্যবাদ বোন।
আপনিও ভালো থাকবেন।
৫৯ নং চিঠিতে লিখা, ” সবই দিয়েছি তোমায়, আমার আবেগ, অভিমানী প্রেম, মনকেমনের চিঠি, একমুঠো নীল, প্রেমের পরশকাঠি।”***
আহা! কি চমৎকার কথা।আর এজন্যই বোধহয় এত খারাপ লেগেছিল।
শুভ কামনা আপু।
সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
শুভকামনা
চিঠির পরে চিঠি আসে, মনের কথা শুনতে না পাওয়ার যন্ত্রণায় দগ্ধ প্রেমিকার আজ বাধ ভেঙেছে।
দারুণ লিখলেন কিন্তু!
অনুগল্প লেখা কঠিন। চেষ্টা করলাম। আপনাদের ভালোলাগাই আমার লেখার সার্থকতা।
ধন্যবাদ ভাই
একদিন অবহেলায় যা ফেলে রেখেছিল
আজ সেটাই তোলপাড় করা মন কেমনের কারণ হয়ে গেলো/যায়। চমৎকার লিখেছেন আপু
ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়
একদম, ভালো বলছেন।
শুভেচ্ছা অবিরাম।
অণুগল্প লেখা সত্যিই কঠিন।
ভালো লাগলো। এই শব্দটা একটু দেখবেন-
কর্মচাঞ্চল্যতাকে – কর্মচাঞ্চল্যকে।
ধন্যবাদ আপু। ঐটা আসলে বাক্যের ব্যবহারের উপর নির্ভর। বানান ওকে।
লেখা টা পড়ে পুরনো স্মৃতি মনে পরে গেল । কত চিঠি লিখেছে। তরুণ তুরুনি দের ক্ষেত্রে চিঠি আদান প্রদানে ভয়টা বেশি থাকে কখন কার হাতে পড়ে যায়।
হা হা। সেইসব এখন স্মৃতি। মনে করায় দিলাম।
শুভকামনা ভাই।
” পোড়াতে পোড়াতে চৌচির নদী
চন্দনবনে অগ্নির মতো জ্বলে
ভূকম্পনের শিখরে তোমার মুখ
হঠাৎ স্মৃতির পরশনে গেছে গলে।”
চমৎকার লিখেছেন আপু ….
ধন্যবাদ ভাই। মন্তব্য পেয়ে অনেক ভালো লাগলো
হলুদ খামের চিঠি ! অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এর সাথে । ভাল লাগলো।
আপনাদের ভালো লাগলেই লিখা সার্থক হয়।
ভালো থাকবেন সবসময়।
৫৯নং চিঠি না খুলে, না পড়ে ৫টা বছর যে জমিয়ে রাখতে পারে! আজ তো তাঁর কষ্ট পাবারই কথা না! অথবা জমানোরই কথা না। তবুও উঁকি দিলো খুব গোপনে লুকিয়ে থাকা একটা প্রজাপতি মন।
অপার্থিব পরশে চোখ ভেজে স্মৃতীর মেঘে। আপনার অণুগল্পের মাত্রিক উপস্থাপনা দুর্দান্ত। জারি রাখেন নিত্যনতুন অণুগল্প। আমিও ঝালাই করি নিজেকে আপনাদের লেখা পড়ে পড়ে। ভালবাসা অনেক ফু’ম্মা💜💜💝💝
এগুলো আগের যুগের ভালোবাসা। কেউ কেউ ভালোবাসা এভাবে বুকের গহীনে রেখে দেয়।
কিন্তু অনুগল্প লেখা কঠিন। আমার বুদ্ধি আমার কম। একসঙ্গে অল্প কথায় থিম আনা কঠিন।
আপনাদের ভালোবাসায় সিক্ত আমি।
ভালোবাসা অবিরাম