শিশির কণার বিয়ের কথকথা……শেষ

ছাইরাছ হেলাল ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫, মঙ্গলবার, ০৭:৫৩:০৩পূর্বাহ্ন ভ্রমণ ২২ মন্তব্য

তিন ভাই বোন, কণা, পিউ, সোহেব। মা অন্ত প্রাণ, ছেলে মেয়েরা মায়ের বন্ধু হয়, শুনেছি, দেখেছি, এ মাত্রায় এই ই প্রথম দেখলাম। বাবা ও মা ছেলে মেয়েদের সাথে ‘আপনি’ করে কথা বলে। বোনেরা অত্যন্ত মেধাবী এই আক্রার বাজারেও, তাদের মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কথাচ্ছলে, সদ্য জে এস সি দেয়া ছেলে লেখা পড়ায় কেমন, সে জানাল আল্লাহ ইচ্ছায় আমার মেয়েদের থকেও সে অনেক ভাল। মনে মনে স্রষ্টার কাছে সবার আরও সাফল্য চাইলাম। এ যে রত্নগর্ভা মা!!
দুপুরে কণার বিয়েনুষ্ঠান, আগে ভাগেই পৌঁছে গেলাম। ফুল আর ফুল, খুব ভাল লাগল এত্তো ফুলের কাছে বসে থাকতে। প্রথানুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা সেরে অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন স্টেজে সমাসীন বর।
ছেলের বাড়ী থেকে আনা হয় দই মিষ্টি, ছোট ছোট হাড়িতে দই, গাড়ী থেকে দোতলা পর্যন্ত ছেলেরা দাঁড়াল, হাতে হাতে দইয়ের হাঁড়ি দোতলায় পৌঁছে গেল, দেখে খুব ভাল লাগল। প্রায় হাজার দেড়েক মানুষের খাবার আয়োজন, ভালই সব কিছু,বাস পাঠিয়ে গ্রাম থেকে আত্মীয়দের নিয়ে আসা হয়েছে। পার্লার থেকে বধূ আসেই না, আসেই না। উফ্, বিস্তর সাজুগুজু নিয়ে শেষে এল কণা, ভালই লাগল। কণার এলিয়েন কে দেখে।
বিকেলে কণা কে বিদায় জানালাম তার শ্বশুর বাড়ীর পথে, ঝাপসা চোখে।

একটু ঘুরতে বের হলাম, কী যেন একটি মিশন স্কুল আরও কী কী যেন দেখালাম,
ধুর, মনে থাকে না কিছুই!!

কাল সকালে কণাদের বাসায় নাস্তা করে ১২ টার ট্রেনে খুলনা ফিরে যাব এমন ঠিক হল। স্টেশনে পৌঁছে টিকেট কেটে অপেক্ষা, ট্রেন এল প্রায় ঘণ্টা খানেক দেরীতে, তা নয় হয় এল, বসার কোন জায়গা নেই, সুয়ারেজ থেকে তাজা পুরীষ গড়াচ্ছে। উফ এই আমাদের স্টেশন, খুলনায় পৌঁছে এই দেরির কারণে বাস মিস, পরের বাসের অপেক্ষা, নো ওয়েটিং রুম। অগত্যা এক অফিসের বারান্দা ই হোল শেষ ভরসা।

একটি গল্প বলে এ যাত্রা শেষ করব,
একটি পাবলিক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, তার ক্লাসে মোট ছাত্র সংখ্যা ধরা যাক পঞ্চাশ, ছাত্রী সাত জন, তিন জন বাসায় থাকেন আর চার জন হোস্টেলের একই রুমে থাকেন। অবশ্য এর আগে এই ছাত্রীদের গণরুম পেরিয়ে আসতে হয়েছে। সবাই ই মেধাবী, সবার সাথেই সৌহার্দ, এর মধ্যে বেশি মেধাবী হিসাবে কেউ কেউ শিক্ষক সহ সহপাঠীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন, এরা ছাত্র। কিন্তু পরীক্ষা শেষে মেধা তালিকায় একেবারে উপরের দিকে চলে এল সেই ছাত্রীদের দল। প্রথম ও দ্বিতীয় সহ আরও আরও। যে ছাত্রটির প্রথম হওয়ার কথা ছিল সে হলো সপ্তম। প্রথম হওয়া মেয়েটির আনন্দে জল ঢেলে তার সহপাঠী ছাত্র বন্ধুরা আড়ি ঘোষণা করে কথা বলা বন্ধ করে দিল।
ব্যাপার না পিউ, প্রথম প্রথম ই,
পিউ’র জন্য একরাশ প্রার্থনা, অব্যাহত অগ্রযাত্রার।

শিশির কণার বিয়ের কথকথা……১

শিশির কণার বিয়ের কথকথা……২

৬৩৯জন ৬৩৯জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ