ছুটিপুর-২

শুন্য শুন্যালয় ২৭ জুলাই ২০১৫, সোমবার, ০৯:৫৬:২৯পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪৪ মন্তব্য

এই শুনছো? আমার খুব ভয় করছে।
কি নাম তোমার? এই?
পাশে তাকাতেই ভেতরে একটা বালুঝড় বয়ে গেলো। কেউ নেই পাশে। গ্রীন আইস আমাকে কোথায় যেন ফেলে রেখে চলে গেছে। কোথায় আমি, কে আমি কিছুই যে মালুম হচ্ছেনা। ছুটিপুরের দরজায় আমার মস্তিষ্কের কডেট নিউক্লিয়াস টা রেখে দিয়েছে ঠিক। তবে যে সবাই বলে কেউ চলে গেলে তার আত্মা ঠিক রয়ে যায়। আমি চিরতরে চলে গেলে দেখতে পাবো কে কি করছে, কে আমার জন্য কাঁদছে এই প্রলোভোনে কতবার যে ভেবেছি ইশ মরে গেলে বেশ হবে!! আজ যে দেখছি সব মিথ্যে। আমি কাউকে দেখতে পাচ্ছিনা। একটা গাছ, পুকুর, কোন জীব, কোন একটা পিপীলিকা কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছিনা। আমার জন্য কেউ কাঁদছে কিনা জানিনা, তবে আমি কাঁদতে শুরু করলাম। নিজেকে শোনানো ছাড়া এ কান্না শোনবার কেউ নেই। মা এর কাছে যাব, আমি ভোরের কাছে যাব । কান্নার প্রতিধ্বনি ফিরে আসবার মতো কোন দেয়ালও নেই এখানে। আমি আর অনন্ত শূন্যতা ছাড়া এখানে কিচ্ছু নেই। ফিরে যাবার পথ???? নেই……
************************************************************************
লেখক কিছু একটা লেখার চেস্টা করছে। মধ্যরাত হলেই সবদিক দিয়ে মানানসই হয়। চারিদিক অন্ধকার হলেই সম্ভবত: দিমাগ কি বাত্তি জ্বলে ওঠে। দিনের আলোতে গল্পের চরিত্রগুলো কে দিয়ে লেখক মনেহয় ঘরের ফাইফরমায়েশ খাটিয়ে নেয়। লেখার বিভাগটা গল্প না রেখে একান্ত অনুভূতি করে দিলো, এতে একটা অনুভূতির ব্যাপার কাজ করে, যদিও সব লেখাই একান্ত অনুভূতি বিভাগে হওয়া উচিৎ। নায়িকার চরিত্রের নাম দিলো শুন্য। হঠাৎ পূর্ন পুর্নিমার রাতে হারিকেন টাইফুনের মতো ঝড় শুরু হলো। লেখক সে, ঝড় সে আনতেই পারে যখন খুশি, তা ভরা পূর্নিমা কিংবা অমাবশ্যাই হোক না কেন। ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে আজকেই তার দামী আইপিএস টা কিছুতেই কাজ করছেনা। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে মোমবাতি খুঁজে বেড়াচ্ছে সে। ঠিক তখুনি গায়ের উপর লাফ দিয়ে পরলো কিছু একটা। চিৎকার দিয়ে উঠলো দুজনই, সে আর তার প্রিয় বেড়াল টুসি। কএক সেকেন্ডের বিজলির ঝলকানিতে টুসির চোখে ভয়ংকর জ্বলজ্বলে আগুন দেখতে পেলো সে। ধুপধাপ ঘরের মধ্যে আরো কিছু ভেঙ্গে পরার শব্দ। কি এক ভয়ের হিমহিম অনুভূতি হচ্ছে। তবে কি পুরুষের চাইতেও অন্ধকার ভয়ংকর? ইলেকট্রিসিটি ফিরে এলে সে দেখলো তার ফোরার্মে টুসির ফালাফালা করে কাঁটা আচর। রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে পরছে। ভেঙ্গেচুরে পরে আছে তার দেয়ালের প্রিয় পেইন্টিং টা আর প্রিয় একজনের উপহার দেয়া চিনামাটির মগটা। অথচ দরজা, জানালাগুলো সবই লকড? নিজেকে ধাতস্থ করতে সময় নিলো সে। টুসি, পেইন্টিং, মগ সবকিছু সেই চলে যাওয়া মানুষটির খুব প্রিয় ছিলো। লেখায় আর মন দেবার চেষ্টা করা বৃথা, কাগজগলো সব গুছিয়ে রাখতে গিয়ে তার নজর পরে গেলো। একি!!!! লেখার কোথাও শুন্যের নামটি নেই কেন? জায়গাগুলো ফাঁকা। লেখক থরথর করে কাঁপছে, ভয়ে নয়, কান্নায়। শুন্য হারিয়ে গেছে।
যে হারায় সে কখনো আর ফিরে আসেনা, শালিখের বেশে কিংবা ভূত হয়েও নয়…
ছুটিপুর-১

৪১৮জন ৪১৮জন
0 Shares

৪৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ