The lunchbox (মুভি রিভিউ) …

অসম কিন্তু স্বাভাবিক একটি সম্পর্ক, যদিও সম্পর্কের ব্যাপারে অসম বলে কোন কথা আছে বলে আমার মনে হয়না। ভুল করে ট্রেনে চেপে লাঞ্চবক্স চলে যায় একটি ভুল ঠিকানায়, আসলে হয়তো এটাই সঠিক ঠিকানা ।

এই মুভিটি নিয়ে লিখতে গেলে আমার লেখার শেষ হবেনা, প্রত্যেকটি সিকোয়েন্স অসাধারন।।

প্রথমে গল্পটির একটু সারমর্ম বলি…

সময়ে দুরত্বে সরে যাওয়া স্বামীর মনোযোগ ফিরে পাবার আশায়  নতুন রেসিপি রান্না করে পাঠায় ইলা, কিন্তু ডাব্বাওয়ালা ভুল করে লাঞ্চবক্স নিয়ে যায় আরেক অফিসে সাজান এর কাছে। সাজান একজন বিপত্নিক বয়সী পুরুষ, যার কাছে সে রান্না স্বর্গ তুল্য। কিন্তু রাতে স্বামী ফিরে আসার পরেই ইলা বুঝতে পারে লাঞ্চবক্স তার কাছে পৌঁছায়নি। পরদিন লাঞ্চের সাথে সে একটি চিঠি পাঠায় যাতে সে পুরোটা খাবার শেষ করার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানায়, আর বলে আজকের খাবারটি তার হাজব্যান্ডের প্রিয় খাবার। উত্তরে সাজান কোন ধন্যবাদ না জানিয়ে  শুধু লেখে খাবার অনেক সল্টি। ইলা আর সাজান এর এভাবে চিঠি দেয়া নেয়া চলে, সাথে অনুভবের আদান প্রদান । দুজনের একসাথে দেখা করার কথা থাকলেও সাজান দেখা করেনা, কারন সে বুঝতে পারে বয়স তার অনেক পেড়িয়ে গেছে।। দূর থেকে ইলা কে দেখে তার মনে হয় ইলা অনেক সুন্দর এবং সে একদমই বেমানান বয়স্ক একজন পুরুষ।। ইলা আর সাজান শেষ পর্যন্ত একজন আরেকজনকে দেখবে কিনা, কিংবা দুজন দুজনকে খুজে বেড়াবে কিনা তা একটু মুভি টা ঘুরে দেখে আসলেই ভালো লাগবে মনে হয়। …

মুভিটির কয়েকটা পছন্দের সিকোয়েন্স বলি…

সাজান (ইরফান খান/ আমার অনেক পছন্দের একজন অভিনেতা), ইলার ইনাডাইরেক্ট কথায় সিগারেট ছাড়তে গিয়ে যেই কস্টটা ফুটিয়ে তোলে…

হাজব্যান্ডের অন্য মেয়ের সাথে এফেয়ার চলছে এটা জানার পর সে সাজান কে লেখে, সাহস ও হচ্ছেনা তাকে জিজ্ঞেস করি, আর যাবোই বা কোথায়… একটি মেয়ের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে সুন্দর করে…

বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাকে বলে তার বাবাকে যে কতোটা ঘৃনা করতো, এটা সত্যটা ইলাকে তার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে…

সাজান চলে যাবার সময় ট্রেনে একজন অনেক বৃদ্ধ লোক কে দেখে, যার আঙ্গুল গুলো তখনও আনন্দে খেলা করে, সাজান তার ভুল বুঝতে পারে…বয়স কোন কিছুতে বাঁধা হয়না …

মুভিটির সবচেয়ে পছন্দের লাইন, মাঝে মাঝে ভুল ট্রেন ও নাকি কাওকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয়, দেখি কি হয়…  🙂

 

মুভিটির অনলাইন স্ট্রিমিং লিঙ্ক এখানে … 

starring:

Irrfan khan as saajan

Nimrat Kaur as Ila

Director: Ritesh Batra

বিঃদ্রঃ মুভি রিভিউ হইছে কিনা আমি কিন্তু জানিনা,  না হইলে সব দোষ ছাইরাছ ভাইয়ার… 🙂  

 

মোট পড়েছেনঃ ২০০জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

৬০টি মন্তব্য

    1. এইটা লেখা না প্যাচাল হইছে, তবে যাই হোক আমরা আমরাই তো ।। 🙂
      হিন্দি ভালো কোন মুভির জন্য আপনাকে বছর পাঁচেক অপেক্ষা করতে হবে 🙂

  1. আমি হিন্দি ছবি দেখি না , বা দেখার কথা ভাবি না ,
    কী মনে করে যেন ছবিটি দেখে ফেললাম । এক কথায় অসাধারন একটি ছবি ।
    আপনাকে আর একটি ছবির কথা বলতেই হবে ।

    অবশ্য আগে খুঁজে দেখতে হবে ।

        1. হেমলক সোসাইটি , বিষয়টি ব্যক্তিগত এ দুটি দেখে ফেলুন ।
          আরও আছে না দেখে বলতে পারব না ।
          পরিচালক ঋতুপর্ণের সব ছবি ।

        1. বেশ কয়েকটা দেখলাম তবে ভীষন ভালো লাগা টাইপ অবশ্য পাইনি ।
          care of sir, ন হন্যতে ভালো লেগেছে। গয়নার বাক্স, ফালতু, মাছ মিষ্টি এন্ড মোর, বাইশে শ্রাবন, আরো কয়েকটা এখন মনে নেই ।। 🙂

  2. ব্যস্ততার কারনে মুভি দেখার সময় করে উঠতে পারিনা ।
    আপনার সুন্দর রিভিউ পড়ে বসে গেলাম মুভিটি দেখতে ।

    ” মাঝে মাঝে ভুল ট্রেন ও নাকি কাওকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয় ‘ — আমারো মনে দাগ কেটে গেলো ।

    ধন্যবাদ এমন রিভিউ লেখার জন্য ।

  3. এ ছবির মাধ্যমেই আমি প্রথম ডাব্বাওয়ালাদের সম্বন্ধে জানতে পারি ।
    নিখুঁত ভাবেই তুলে ধরা হয়েছে । আমি ভুলেই যাচ্ছিলাম এটি মুভি , মনে হচ্ছিল ডকুমেন্টরি দেখছি ।

    ছবি শেষ হয়েছে বেশ নাটকীয় ভাবে , যে যার মত করে ভাবতে থাকবে ।

    আপনি নিয়মিত লিখলে অনেক সুন্দর করে লিখতে পারবেন । ছবির সঠিক জায়গায় আপনি চোখ রাখতে পারেন
    সহজেই , এটি কিন্তু সহজ নয় ।

    1. অনেক পুরনো হিন্দি মুভিতে কিছুটা দেখেছিলাম, তবে হ্যা এতো সুন্দর করে নয়, আসলেই ডকুমেন্টারির মতো লেগেছে। হেমলোক সোসাইটির গানগুলো আগে থেকেই প্রিয় ছিলো তাই ওটাই আগে দেখেছি, আর সময় করতে পারিনি। বাকিটা ব্যক্তিগত খানিকটা দেখেছি, অনেক মজার মনে হলো… my life is ha ha ha 😀

        1. আমার লাইফের কথা কইমু না :p লাইফ কি এটার উত্তর দিতে গিয়ে এক শ্রমিক টাইপের লোক বলে my life is ha ha ha … মনে ধরছে 🙂

        2. সরি কেনো? 🙁 আমার কাছেও লাইফ সেরকম, হাসিটুকু যতোদিন আছে ততোটুকুই লাইফ। হেমলোক সোসাইটি, একটা অসাধারন ছবি। নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছে করায় তাই না? আপনাকে আর কতো ধন্যবাদ যে দেব? নাহ আর দেবোনা।। শুভ কামনা ভাইয়া ।। ভালো থাকুন।

        1. কম জানা থাকলেই আনন্দ বেশি কিন্তু, আর কোথায় যে কার আনন্দ লুকিয়ে আছে তা যদি সে নিজেই জানতো 🙂

  4. এত সহজ করে লেখা মুভি রিভিউ এই প্রথম পড়লাম । আপনাকে ধন্যবাদ একটি ভালো মুভি দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য । অবশ্যই দেখবো ।

  5. থাক রিভিউ টিভিউ নিয়া দোষা-দোষীতে মারামারি করে কারো মাথা ফাটানোর দরকার নেই। ভালই হয়েছে অনেক ভালো হয়েছে সুপার হয়েছে। এবার খুশি?

    যাইহোক মুভি দেখা হয়নি আসলে আমার এটা। এমন ভাবে বললাম যেন অনেক মুভি আমি দেখছি !না দেখিনি আমি তেমন কোনো মুভি।

    ****বাবার মৃত্যুর পর তার মা তাকে বলে তার বাবাকে যে কতোটা ঘৃনা করতো, এটা সত্যটা ইলাকে তার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে…***

    আমিতো দেখিনি আসলে মুভিটা তাই জানতে চাচ্ছিলাম কি সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিলো তার বাবার প্রতি তার মায়ের ঘৃনা দেখে?

    ***মুভিটির সবচেয়ে পছন্দের লাইন, মাঝে মাঝে ভুল ট্রেন ও নাকি কাওকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয়, দেখি কি হয়… :)***

    আমারও অনেক ভালো লাগলো লাইনটি অসাধারণ বলেছেন লেখক। কখনো কখনো অজ্ঞাত স্টেশন থেকে চড়া ট্রেনে সঠিক জায়গায় নিয়ে যায় আবার অনেক সময় কিন্তু সঠিক ট্রেন ধরে ভুল পথে চলে যায়। কিছুটা বাস্তব অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে এই ক্ষেত্রে।

    হেলাল ভাইয়ার সাথে একমত চালিয়ে যান মুভি রিভিউ।

    1. আমাকে খুশি করানোর দরকার নাই, আমি এমনিতেই ম্যালা খুশি, এই দেখুন 😀
      অপছন্দের একজন মানুষকে সারাজীবন ঘৃণা না করে, তার জীবন থেকে চলে যাওয়া টাই শ্রেয়. ইলাও সেই সিদ্ধান্তটা নেয়. সাজানের খোঁজে সে তার অফিসে চলে যায়.

        1. আপনি প্রচন্ড মারমুখী লোক, ঢিল মারতে চান, এখন দেখি আবার ডান্ডাও ধরেছেন। ২০০ হাত দূরে থাকুন ।

    1. ভালো লাগবে মুভিটি, সময় করে দেখে ফেলুন। লিখলাম, মানে লেখার চেস্টা করলাম আর কি। সত্যি সত্যি লেখাগুলো পড়ছেন দেখে ভালো লাগছে কিন্তু 🙂

মন্তব্য করুন