মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী অনেক মূল্যবান বই, তথ্য, প্রবন্ধ, ছবি লাইব্রেরী আকারে সংগ্রহ করা আছে। এসব বই, প্রবন্ধ, ছবির বহুল প্রচারের জন্য এখন থেকে নিয়মিত সোনেলার পাঠকদের জন্য এখানে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশাকরি এসমস্ত মূল্যবান দলিলাদি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, দেশ সম্পর্কে সবার জ্ঞান সমৃদ্ধ করবে। লেখাটি মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ [বিস্তারিত মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা বিতর্কঃ একটি সহজ হিসাব – অধ্যাপক ডঃ রহমতুল্লাহ ইমন]
ক্যাটাগরি এদেশ
আমরা রওয়ানা হয়ে চলে এলাম সাইকেল, মাইক্রোফোন, হর্ন , কাগজপত্র নিয়ে। জেলা লীগ আমাদের সাথে সহযোগিতা করবে। আমরা প্রত্যেক থানায় ও মহকুমায় একটা করে কর্মী শিবির খুলব। আমাকে কলেজ ছেড়ে চলে আসতে হল ফরিদপুরে। ফরিদপুর শহরে মিটিং করতে এসেছি মাঝে মাঝে, কিন্তু কোনোদিন থাকি নাই। আমাকে ভার দেওয়ার জন্য মোহন মিয়া সাহেব ক্ষেপে যান। সকলকে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৬) “আমাকে ভার দেওয়ার জন্য মোহন মিয়া সাহেব ক্ষেপে যান। সকলকে সাবধান করে দেন, কেউ যেন আমাকে বাড়ি ভাড়া না দেয়।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোট গণনা হয়ে গেল। শহীদ সাহেবের দলের পাঁচজনই জিতলেন। আমি ফুলের মালা জোগাড় করেই রেখেছিলাম, আরও অনেকেই মালা জোগাড় করে রেখেছিল। আমি যখন শহীদ সাহেবের গলায় মালা দিলাম, শহীদ সাহেব আমাকে আদর করে বললেন, তুমি ঠিক বলেছিলে। লাল মিয়া সাহেবকে নিয়ে আমাদের ভয় ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেককে অনুরোধ করেছিলাম, তাঁকে একটা ভোট দিতে। [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৫) “এই অপূর্ব খেলা আমরা দেখেছি জীবনভর! রাতেরবেলা দুই ভাই এক, নিজেদের স্বার্থের বেলায় মুহূর্তের মধ্যেই এক হয়ে যান।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
শহীদ সাহেব ও হাশিম সাহেব পরামর্শ করে পাঁচজনের নাম ঠিক করলেন: ১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারদী ২. আবুল হাশিম ৩. মওলানা রাগীব আহসান ৪. আহমদ হোসেন এবং ৫. লাল মিয়া আমাদের পক্ষের, অন্য পক্ষ থেকে নাজিমুদ্দীন সাহেবও পাঁচজনের নাম দিলেন। এই সময় ফজলুল কাদের চৌধুরী সাহেব পার্লামেন্টারি বোরডের সদস্য হবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন ও ভীষণ [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৪) “শহীদ সাহেব রাতেই খবর পেলেন এবং বললেন, “কিছুতেই ওকে নমিনেশন দেওয়া হবে না, কারণ এই বয়সেই ওর এত লোভ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
এক সময় ডিভি লটারি নিয়ে এদেশের মানুষ লুটোপুটি খেতো। হুড়োহুড়িতে ফটোস্ট্যাট মেশিনের দোকান আর ফটো ল্যাবগুলো সবসময় বুদ হয়ে থাকতো। তখন আমি পড়াশুনা করছি। সবাইকে দেখতাম প্রতিবছর আবেদনের তারিখ ঘোষনা হলেই হুমড়ি খেয়ে পড়তো আবেদন করার জন্য। হায়রে, কি অবস্থা চারদিকে! আজকাল মনে হয় সেরকম নেশা কাজ করে না মানুষের মধ্যে। যাহোক, আমার ছিলো এ [বিস্তারিত দেশাত্মবোধ ও ডিভি লটারি!]
দিন তারিখ আমার মনে নাই, তবে ঘটনাটা মনে আছে। বিকালে কলকাতা এসেম্বলি পার্টি রুমে এমএলএ, এমএলসি ও লীগ নেতাদের বৈঠক হবে, সেখানে আপোস হবে। আমরাও খবর পেলাম। বেকার হোস্টেল ও অন্যান্য হোস্টেলে খবর দিয়ে দুই তিনশত ছাত্র নিয়ে আমিও উপস্থিত হলাম। দরজা বন্ধ করে সভা হচ্ছিল। আমি দরজায় যেয়ে বললাম, ” আমাদের কথা আছে, শুনতে [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩৩) “আমি টেলিফোন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, “বলে দেন খাজা সাহেবকে ইলেকশন হবে।” শহীদ সাহেব নাজিমুদ্দীন সাহেবকে টেলিফোন করে বললেন, “ইলেকশনই হবে। ।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
নাজিমুদ্দীন সাহেব পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা ছিলেন, এমএলএ ও এমএলসিরা তাঁরই ভক্ত বেশি ছিল। শহীদ সাহেব ডেপুটি লিডার হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রতিনিধি না করে নাজিমুদ্দীন সাহেব ফজলুর রহমান সাহেবকে পাঠালেন। শহীদ সাহেবকে বললেন, আপনাকে নির্বাচিত করে লাভ কি? আপনি তো কাউন্সিল থেকে ইলেকশন করে বোর্ডের মেম্বার হতে পারবেন। ফজলুর রহমান সাহেব পারবেন না, তাই তাঁকেই সদস্য [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩২) “আমরা প্রতিবাদ করলাম এবং বললাম, শহীদ সাহেবকে এমএলএদের পক্ষ থেকে কেন নেওয়া হবে না? তাঁকে অপমান করা হয়েছে।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
আমরা দুইজন একদিন সময় ঠিক করে তাঁর সাথে দেখা করতে যাই এবং বুঝিয়ে বলি বেশি টাকা লাগবে না, কারণ সাপ্তাহিক কাগজ। আমাদের মধ্যে ভাল ভাল লেখার হাত আছে, যারা সামান্য হাত খরচ পেলেই কাজ করবে। অনেককে কিছু না দিলেও চলবে। আরও দু’একবার দেখা করার পরে শহীদ সাহেব রাজী হলেন। মুসলিম লীগ অফিসের নিচের তলায় অনেক [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩১) ” আমরা অনেক কর্মীই রাস্তায় হকারী করে কাগজ বিক্রি করতে শুরু করলাম।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
যে জেলার তাঁর জীবন বাঁচিয়েছিলেন, সেই জেলারকে বঙ্গবন্ধু কখনো ভোলেননি। ১৯৭৪ সালের জুন মাসে ভূট্টো সাহেব যখন ঢাকায় আসেন, বঙ্গবন্ধু ঐ জেলারকে তাঁর ব্যক্তিগত অতিথি হিসেবে দাওয়াত করেছিলেন। দেশের জনগনকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও সেনা ছাউনির তলে বসে ক্ষমতা দখলের কুচিন্তায় বঙ্গবন্ধুর নামে তারা কুৎসা রটাতে শুরু করে এই বলে যে, বঙ্গবন্ধু দেশকে দেশকে ভারতের [বিস্তারিত নতুন প্রজন্মের চোখে “ভয়াবহ আগস্ট” পর্ব -৩]
“মুজিব শব্দটি একটি যাদু” “মুজিব একটি আলৌকিক নাম” পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর দলের নেতা ও জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার প্রদেশের বৃহত্তর স্বায়ত্বশাসনের যে ন্যায্য দাবী জানিয়েছিল তা ঐ পাকিস্তানি শাষক গোষ্ঠি না মেনে বঙ্গবন্ধুকে জেলে দেয়। তখনকার বঙ্গবন্ধুর সেই দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বাস্তব রুপলাভ করে। কারামুক্তির পর বঙ্গবন্ধু [বিস্তারিত নতুন প্রজন্মের চোখে ভয়াবহ আগস্ট -২]
“দেশের জন্য আমি যা করছি, ও করতে চাচ্ছি, তা কেউ অনুধাবন করল না ” — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার যে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল, সেই নরখাদক, কলঙ্কময় নামটি হচ্ছে, মেজর ফারুক। মেজর ফারুক তার এই নারকীয় চিন্তাটি প্রথমে তার বৌ এর বড় বোন জোবায়দার স্বামী মেজর খন্দকার আব্দুর রশিদকে জানিয়েছিল। ফারুকের বিবাহ [বিস্তারিত নতুন প্রজন্মের চোখে “ভয়াবহ আগস্ট” – পর্ব ১]
এই সময় আমি বাধ্য হয়ে কিছুদিনের জন্য ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হই। অনেক চেষ্টা করেও দুই গ্রুপের মধ্যে আপোষ করতে পারলাম না। দুই গ্রুপই অনুরোধ করল, আমাকে সাধারণ সম্পাদক হতে, নতুবা তাদের ইলেকশন করতে দেওয়া হোক। পূর্বের দুই বৎসর নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করেছি। ইলেকশন আবার শুরু হলে আর বন্ধ [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-৩০) ” আমি তিন মাসের মধ্যেই পদত্যাগপত্র দিয়ে আরেকজনকে সাধারণ সম্পাদক করে দেই।” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
চিত্রকলার আলাদা একটি মাত্রা বলা যায়। রিকশার যাবতীয় শিল্পকর্ম যা চিত্রিত পশ্চাদ্ফলক ও পশ্চাতের পার্শ্বফলক থেকে খাঁজকাটা কারুকার্যখচিত হুড এবং প্লাস্টিক ও কাগজশোভিত পিতলের ফুলদানি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। মূলত রিকশাচিত্র বলতে উজ্জ্বল রঙে আঁকা কিছু চিত্রকে বোঝায়, যা খুব সাবলিল ভঙিতে বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করতে সক্ষম। সাধারণত ভারত এবং বাংলাদেশের রিকশার পিছনে, হুডে এবং [বিস্তারিত রিক্সা নামটার সাথে আমার হাজার বছরের আত্মার মিল।]
এদিকে মুসলিম লীগ অফিসে ও শহীদ সাহেবের কানে পৌঁছে গিয়েছে আমরা শেরে বাংলার বাড়িতে যাওয়া-আসা করি। তাঁর দলে চলে যেতে পারি। কয়েকদিন পরে যখন আমি শহীদ সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে যাই তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ” কি হে, আজকাল খুব হক সাহেবের বাড়িতে যাও, খানাপিনা কর?” বললাম, “একবার গিয়েছি জীবনে।” তাঁকে সমস্ত ঘটনা বললাম। তিনি [বিস্তারিত বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী (পর্ব-২৯) ” আমাকে যে কাজ দেওয়া হত আমি নিষ্ঠার সাথে সে কাজ করতাম। কোনোদিন ফাঁকি দিতাম না। ” ——শেখ মুজিবুর রহমান।]
।”এদিকে ধোনা মোনা মোম মধু ঘরেতে আনিল তামাম শহরে তার খবরও হইল।। কইল সকলকে ডাকিয়া, বাঘের পেটেতে দুখে গেছে গো হারিয়া।। এই কথা শুনে, দুখের মা বারে বারে মুর্ছা যায়। “এইরূপ কান্দে বুড়ি ফেরে বাড়ি বাড়ি। কানে কালা চক্ষু অন্ধ ক্ষীণ হইল নাড়ী।। মনে মনে বনবিবিকে ডাকতে লাগল দুখের মা। “অন্তর যামিনী মাতা জানিতে পারিল। [বিস্তারিত সুন্দরবনের লোকসংস্কৃতি ( পীর-দেব-দেবী)-৪]