নিশুতি নিবন্ধন

নদী তুমি আমায় ভুলেছো? -কই! নাতো, তুমিই ভুলে গেছো সত্যি?  তোমার চোখ ছুঁয়ে বলো – কাব্যিকতা ছাড়, চোখ ছোঁয়া যাবে না। কেন এসেছো ঝটপট বলে ফেলো। আজ আবেদন নিয়ে এসেছি, একটা নির্ঘুম আলাপন চাই -কিন্তু..আজ ভীষণ ক্লান্ত দেখো, রাতেরও নিবেদন থাকে, ক্লান্তি ছেড়ে উঠে বসো। প্রিয় কোন গান শুনে নিতে পারো, চুমুক দিতে পারো চায়ের [বিস্তারিত নিশুতি নিবন্ধন]

ভূখা অক্ষর

শুধু নির্বোধ কিছু অক্ষর থেকে বিচ্ছুরিত হতেই থাকে অস্ফুট ছুটে চলার নিঃশর্ত দাবি-দাওয়া। নিঘুম  মন;  রাত চড়ে বেড়ায় আরশোলা পায়ের ছাপে। স্বপ্নভূখ  অমাবশ্যার পেট কেটে নেমে আসে ভোরের জীবন; যে জীবনে হতচ্ছারা সব সময়ের কাটাকুটি চলতেই থাকে, ভাগ-গুণ-আর ঐকিক নিয়মের ভুলে ভরা ফলাফল। বাস্পীয় জলের রূপ  জমে থাকে ঘাসের শরীরে । সেও যেন প্রাচীন সেইসব [বিস্তারিত ভূখা অক্ষর]

বৃষ্টি বন্দনা

  ছুটির দিন। ঘুমটা বেশ আয়েশে হয়। প্রতিদিনের মতো তাড়া থাকে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশ কালো হয়ে আছে। আকাশের মুখ ভার তাতে আমার কি। আজ তো ছুটি। অবশ্য ছুটির দিন না হলে আকাশের মুখ ভার দেখে খুব কষ্ট পেতাম। বৃষ্টি কাদা মাড়িয়ে অফিসে যাওয়া। বৃষ্টির দিনে আগুন ছোঁয়া রিকশা ভাড়া। ওসকল ভোগান্তি [বিস্তারিত বৃষ্টি বন্দনা]

কথোপকথোন ২

মেয়েঃ এত দেরী হলো কেন? সেই কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি তোমার জন্য। ছেলেঃ আর বলো না। এত জ্যাম রাস্তায়…. মেয়েঃ থাক, হয়েছে। সবসময় অজুহাত দেয়াটাই তোমার কাজ। তোমার মাঝে বিন্দুমাত্র সময়ানুবর্তিতা নেই। ছেলেঃ দুঃখিত বলা ছাড়া আমার আর কোন কিছু বলার নেই। মেয়েঃ আর কি বলার আছে শুনি? যুগ যুগ ধরে মেয়েরাই তো অপেক্ষায় থাকে। [বিস্তারিত কথোপকথোন ২]

হাসি মুখ স্বপ্ন

  আমার অ-ঘুমন্ত হৃদয়-মন টানটান এখানে নৈশ-কালীন পরিপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে, কেড়ে নেয়া ঘুম-চোখ মেতে আছে রং-উল্লাসের তীব্রতায়; মৃত সন্ধ্যা ক্রমশ গাঢ় হতে হতে গোপন আস্তানা ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছে; আমি শুধু একটু নিঃসঙ্গ পাখির ছবি হাসতে হাসতে এঁকে দিতে চাই, গভীর কালো আকাশের গায়ে; এই রাত্তিরটা কেটে গেলে ভোর হবে, ভোর আসবে, কলি ফোঁটার শব্দ নিয়ে, [বিস্তারিত হাসি মুখ স্বপ্ন]

আক্ষেপহীন

  আজকাল আমাকে খুব করে খুঁজি, খুঁজছি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছি অবসর কাগজে প্রতি পাতায় পাতায় শিরোনামসহ দগদগে লাল অক্ষরে, তবু কারো চোখে পড়ে না। আমার পাওয়ারই চশমাও আজকাল ঝাঁপসা বড়, নেই, আমার কোনো হদিস নেই কোথাও। শুধু টের পাই, দিন শেষে এক রাত্রি নামে উদ্দেশ্যহীন, গন্তব্যহীন। দীর্ঘ সন্ধ্যাজুড়ে যে কুমারি মুহূর্ত তাতেও আমার হৃদস্পন্দনের কোনো [বিস্তারিত আক্ষেপহীন]

বিস্মরণের তিন

  রোদ্দুর ছুঁতে চেয়ে/ একটা অনাড়ম্বর দিন জেগে উঠেছিলো দোয়েলের ঠোঁটে শিষ দিয়ে। জানালার কার্নিশে ভর করা রোদ্দুর ছুঁয়ে নেমে এসে বলে গিয়েছিলো….গতকাল বিদায় নিয়ে চলে গ্যাছে…… আজকের আলোটুকু ধার করে নিয়ে এসে বলে যাই…. আগামীকাল ও এমনি করে আসব কিনা জানি না; আজ তুমি ধার করা আলোয় হয়ে ওঠো ঋনী…. এটুকুই তোমার জন্য দামী। [বিস্তারিত বিস্মরণের তিন]

আলাপন

  অনুকথনঃ মস্তপাহাড় ক্ষয়ে ক্ষয়ে পড়ে আছে এক পাথরখণ্ড,, তা এখন অবাঞ্ছিত অপ্রয়োজনীয় নিদর্শন চিন্হিত অতি ক্ষৃদ্র ভাষ্কর্য মোহোকালের এক ভারি বস্তু যেনো। তাতে অপলক দৃষ্টি ফেলে যে অবয়ব ফোটে তা নিজেরই প্রতিচ্ছবি। যে দৃষ্টিতে পলক নেই,, নির্বাক স্থির ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা। তার মতো আমার অন্তরআত্মার সকল আবেগ ক্ষয়ে গেছে একটু একটু। পার্থক্য শুধু আমায় [বিস্তারিত আলাপন]

এই পথ যদি আর শেষ না হয়

  গন্তব্য এক চলার পথ না হয় হলো ভিন্ন কোন কালে দুজনার দেখা প্রিয় তখন গাইবে– এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো। ভিন্ন পথের যাত্রী যখন চলেছো হাজার মাইল একসাথে একসময় দুজনেই যাবে দুজনাকে ছেড়ে। তখন গাইবে– আজ দুজনের দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে। কোন এক মেঘলা রাতে পিছনে ফেলে অতীত গন্তব্য সোনালী ভোরের [বিস্তারিত এই পথ যদি আর শেষ না হয়]

শব্দ স্মরণের দিনে

  অনেক অনেকানেক-দিন আমার সাথে আমার দেখা হয়-না, ঝুঁকে পড়ে স্থির চোখে তাকিয়ে-ও ভাবনাগুলোর দেখা পাওয়া যায়-ই-না; আলোয় সাঁতরে বেড়ানো ঝক্‌ঝকে কারুকাজময় শব্দগুলো রূপ-রঙের ডানায় ভর করে পাল্টে যাচ্ছে কী না কে জানে! অপ্রতিরোধ্য ভাবে ভয়ানক চুপচাপ/চুপিসারে অন্য কোথাও উঁকিঝুঁকি দিয়ে কী না কী ভাবছে! স্থির আবেগের মালভূমিতে, কিরণ সূর্যের লালচে আভায়, জানি না, জানতেও [বিস্তারিত শব্দ স্মরণের দিনে]

নিমজ্জনের আমন্ত্রণ চিঠির চিঠিতে

  কল্পনা-ক্লান্ততায় ভর করে আছে কসমিক কান্না, কাঁপতে থাকা খর-তাপ চলছে এঁকে-বেঁকে, পথে ঘাটে, বাজারে, লঞ্চে, নৌকায়, গলি পথে, শুধুই মানুশ আর মানুশ! কিছু কী ঘটেছে? চিঠিকে চিঠি দেয়ার কথা ভাবছি চিঠি নেয়ার-ও; কোন মহাজাগতিক প্রশান্ত/প্রশস্ত অপরাধ উত্তাল-উল্লাস ফুসফুসে! মৌনী হয়ে ভাবতে বসি, ক্যামনে কী? আদিগন্ত জুড়ে হুল্লোড়-মাতম! চিঠি চাই; পা টিপে টিপে ফোঁটা কয়েক [বিস্তারিত নিমজ্জনের আমন্ত্রণ চিঠির চিঠিতে]

ছুটি ছুটে ছুটে যায়

  কর্মব্যস্ত জীবনে ছুটি যেন সোনার হরিণ প্রতি সপ্তাহে হিসেব গোনা, শুক্রবার কত দূরে লাগামহীন গতিতে চলা জীবন ছুটির প্রতীক্ষায় কান পেতে রই। শুক্র-শনির সাথে যদি বাড়তি ছুটি জুটে যায় তখন মনে হয় প্রজাপতির রঙিন ডানায় ভর করে ছুটে যাই কোন অজানার প্রান্তে। ছুটির দিন নিয়ে কত পরিকল্পনা ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে তাই ছুটির হিসাব [বিস্তারিত ছুটি ছুটে ছুটে যায়]

বাতাসের ঘ্রাণে ঘ্রাণে

  পিলপিল করে ধেয়ে আসছে দুর্যোগ-দুর্বিপাক দলে দলে, চিনচিনে স্যাঁতসেঁতে ভয়ের সর্বস্বতায়, বিফল যখন নির্জন অশ্রুপাত, নির্বিকার সূত্রহীন ভ্যাবাচ্যাকা অন্তরের অভ্যন্তরে শুধুই স্মৃতির যন্ত্রণা; নিরেট ইউরেকা ইউরেকা শুধুই ধড়ফড়ে দুঃস্বপ্ন, ক্ষতযুক্ত ম্লান প্রাণে শুধুই খুঁজে ফেরা একটুখানি উদ্ধার চিহ্ন; অন্তহীন হিবিজিবি হৃৎপিণ্ডে দিনের পর দিন স্পন্দমান হৃদয়ের খোঁজ,সামান্যের উত্তাল প্রশান্তিতে, হইহুল্লোড়ের সাক্ষী-সাবুদ লুকিয়ে; যেখানে এখন [বিস্তারিত বাতাসের ঘ্রাণে ঘ্রাণে]

-:সমাপ্ত:-

চশমাওলা সিরিজের বাকি বাণীগুলো আর দেবো না। থার্ড আই বলে একটা কথা আছে। সেই সিরিজের বেশীরভাগ বাণীতেই বাইরে প্রাপ্তমনস্ক কিংবা হার্ডকোর শব্দ থাকলেও, ভেতরে ছিল আড়াল করে রাখা গুমট গল্প বা ডার্ক স্টোরী। ফলে অনেকের মনে হয়েছে অশ্লীল, কারো মনে হয়েছে মজার, কারো কাছে সিরিয়াস। তবে প্রাপ্তমনস্ক ঢেউয়ের বুননে বাণীগুলো নির্মিত হওয়ায় হয়ত কতৃপক্ষের মনে [বিস্তারিত -:সমাপ্ত:-]

আর্ত প্রতিধ্বনি

  ঐ কার কান্না শুনতে পাচ্ছি মুহুর্মুহু ? চূর্ণ হৃদয়ের কম্প তুলে, ছিন্নমূল বৃক্ষ নাকি দেব শিশু! পুড়তে থাকা উত্তাল উন্মাদনায় সূর্যাস্তের তাপ জুড়ালেও ক্রুশবিদ্ধতার হাহাকার মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে-ই গড়ায়। আগুন এখন মরন্ত, তবুও নির্নিমেষ বুকফাটা আর্ত-প্রতিধ্বনি লাগামহীন অশ্বারোহী; বৈধব্যের কয়লা রাঙা দিগন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে, কষ্ট এখন অর্থহীনের বাঙময়তায় শুধুই উচ্ছিষ্টের জটলা, নালায় বয়ে যাওয়া [বিস্তারিত আর্ত প্রতিধ্বনি]