মন্দ ভালো দু’জন মিলেই ভাবনা বয়, তাই বলে সীন তারচে’ ভালো কিংবা রাজের মনটা কালো এমন কথা বক্ষে পুষে রাখতে হয়? চলতে হবে সবার সাথেই মটকা রেখে ঠিক। হাসছো শুনেই ফিক? ধিক তোমাকে ধিক! ভাবো দেখি হুঁশ যদি হয় নিদ্রাতে বা অজান্তে ক্ষয় মাঙতো না কি মনুষ্য সার ভেদের দ্বারে ভিক? করছে কারা ভেদ? ওরা [বিস্তারিত মানুষ নামের প্রেত]
রাত জেগে রোজ মশক মেরেছি পরহিতে দিনে মাছি, এরই মাঝে এলে পতঙ্গ কভু সজোরে ফেলেছি হাঁচি। দেখে তা আড়ালে অনেকে জ্বলেছে ব্যঙ্গ কথার ক্ষেতে, একজন শুধু দূর থেকে চেয়ে আশায় উঠেছে মেতে। কতদিন হলো দেখিনি যে তারে হাসে না বলে স্বদেশী! খোঁজ নিতে শুনি আজ সে মারছে মশা-মাছি বেশী বেশী। ছবিঃ সোনেলা গ্যালারী থেকে।
স্বরূপ বন্ধুরে আমি এতো ভালোবাসি কক্খনো নয় তা জলে জলধির তুল, যদি ভাবো অবারিত ফসলের হাসি জেনো তা কিঞ্চিত নয় পূরো হবে ভুল। বলছি না আন্দাজে তা এমনই জবান বিস্তর বিশ্বাসে জাগা নীলিমার মতো, কিংবা আস্থায় আছে সামান্য লোবান দানিছে পুষ্পিত বাগ হেসে রোজ যতো। অটুট বন্ধনে জাগে প্রকৃতির সারি জানি সেথা ঋতু করে পালাক্রম [বিস্তারিত স্বরূপের প্রতি ভালোবাসা (সনেট)]
অনন্তকাল মহাসুখে আমি কাটাবো বলেই ক্ষণ, হোক মোহ দিয়ে সাজাবো জীবন করেছিনু মনে পণ। দিবা-নিশি করে অনেক কষ্ট গড়েছি তাই এ ধর, আজ দেখি ভেবে দুনিয়াটা হলো দু’দিনের খেলাঘর। ছবিঃ সোনেলা গ্যালারী থেকে।
যার মাঝে রোজ মিথ্যা জেগে কর্মে রাখে লয়, তার কাছে কি সত্য ঘুরে খুঁজতে ক্ষণিক জয়? থাকলে বরং আস্থা যেচে ওরাও ভাবে মান দি’ বেচে আর তা শুনেই মিথ্যা বলে ‘আমিই কালের হয়!’ তখন কি তার সঙ্গী-সাথী আর করে কেউ ভয়? ভাবছো শুনে ’মিথ্যা সে নয় চিরস্থায়ী বীর?’ কও তো তবে একটুখানি বুদ্ধি রেখে স্থির! [বিস্তারিত মিথ্যা যখন স্বাধীন!]
মানুষের অন্তর – চেনা কি সহজতর? চারিদিকে বহু রূপে ঘুরছে, কেউ পুষে বুকে ক্রোধ – কেউ রেখে আড়ে বোধ তবুও সুযোগে কাদা ছুঁড়েছে! সভ্যের শত শনি – হয়ে আজ শিরোমণি সমাজটা দিবা-নিশি চুষছে, দেখে কারো ভীরু মন – দিনে সেজে মহাজন আফসোসে রাতে শুয়ে ফুঁসছে! হারিয়ে ছিন্ন ছাতা – বেহালে কালের দাতা তবুও বাদল রোদে [বিস্তারিত ডলছে!]
কেমনে ভুলবে তুমি, যে স্মৃতি যতনে অন্তরে চলে জাগ্রত নিদে চুমি! রাখালী বাঁশির ডাকাতিয়া সুর বাজতো যখন মাঠে, গাগরী ভরতে চঞ্চলা মন ছুটে যেতো রোজ ঘাটে। আজ সে আবেগ কালের গর্ভে তবে কি গিয়েছে ভুলে! বারে বারে যদি ফিরে সে ব্যাকুলে প্রিয় তটিনীর কুলে! স্মৃতির তাড়নে যদি কাঁদে মন ভাবো বসে নিরজনে! বৃক্ষকে লতা বক্ষে [বিস্তারিত স্মৃতির তাড়ন]
চিন্তা আমার বুদ্ধু মনের নিত্য সেজে সাথী, থাকলে জেগেই রাত দিবসে খেলে চড়ুইভাতি। করলে কভু শাসন বারণ দর্পে খুঁজে তাতেও কারণ রাগ করে তাই দেয় নিভিয়ে বিজন ঘরের বাতি, ভাবখানা তার ঠিক যেন সে লাট সাহেবের নাতি! রোজ যে চলা যায় কি ক্ষণিক ক্লান্তি এলে হেরে! পারলে আরও চঞ্চলা হয় তৃষ্ণা আহার কেড়ে। নিদ্রা যদি [বিস্তারিত চিন্তার চক্রে]
’কার ঘরে রোজ বসত করি দেয় কে মুখের খাবার!’ ভাবনা গড়ে পাহাড়? কও তো তবু ক’জন করে খোঁজ সে মহান দাতার? পারলে আড়ে বুদ্ধু সেও গর্বে সাজে তাতার! আকাশ পাতাল চন্দ্র তারা বিশ্বজগত জুড়ে, এমনি ভাবো ঘুরে? চাইলে কি কেউ ছুটতে পারে প্রান্ত কভু পুড়ে? সব প্রাণিই তো অনুগত মেনে আপন সীমা, ভুল কি করে [বিস্তারিত সীমা]
বল না রে সখা তুই! আজও কি প্রভাতে খুঁজে ফিরে হিম সুজল গাঁয়ের ভুঁই? সেই যে বিশাল পাকুড়ের গাছ শীতল ছায়ার তাড়া, দেয় কি সে আর পত্র দুলায়ে পথিকের হৃদে নাড়া? আষাঢ়ে হঠাৎ খাল বিলে এসে নব বরষার জল, ঢেলে দিতে প্রেম ধরে কি জড়ায়ে বিরহী বাটের গল? ভাদুরে নিশীথে জ্যোৎস্নার ধারে তাল কুড়ানোর আশে, [বিস্তারিত বল না রে সখা!]
আমি, ছন্দ তালের চাষী! পিঞ্জরে মোর হয় বলে ভাব তাল লয়ে উচ্ছ্বাসী, আমি, ছন্দ তালের চাষী! ছন্দ আমার প্রাণের সাড়া হৃদয় বীণার সুর, ছন্দ দিয়েই রোজ করি তাই বহ্নি ব্যথা দূর। কয় যদি কেউ চোখ করে আড় তাল কভু কি ভুখার খাবার? ছন্দ বাণেই দিই রুখে তার বাঁকা ঠোঁটের হাসি। আমি, ছন্দ তালের চাষী! গাই [বিস্তারিত আমি ছন্দ তালের চাষী]
উজার করে ঢেলে বুকের আশা, কয় না তবু মেঘের ধারা কে প্রকৃত চাষা, কৃতজ্ঞতায় বীথি, গায় জেনেও হিম ছায়ে রোজ তারই সুনাম গীতি। নিশির বুকে একলা জেগে চান, সেও করে তার সুখের ছটা পরের তরে দান। প্রেম পিয়াসী যতো, বিশ্বাসে তাই মুখ বুজে সয় দিনের দেয়া ক্ষত। বুঝে যে কেউ মাগনা খেয়ে ভাঙ, ভাবলে বসে [বিস্তারিত দানেই বাঁচে প্রাণ]
খুব সকালে ঝরছে তখন হিম, ছাগ গরু মোষ উঠেও জেগে পারছে শুয়ে ঝিম। সিক্ত বায়ুর ধার, ক্ষেত খামার আর গাছ গাছালির খুঁজছে ধেয়ে হাড়। দেখছে শিশির উচ্চ করে শির, ডাক দিয়ে পাখ ভাঙছে অলস নীরবতার তীর। ক্ষুব্ধ হিমেল জল, আড় নয়নে করছে পরখ কুহেলিকার ছল। ঝাপসা দোরে পাক প্রকৃতির মুখ, ভাবছে নিশি শেষ তো হলো [বিস্তারিত হিম ঝরা ভোর]
নিভে গেলে প্রাণ, তবু কি গাইবে স্মৃতি এ চলনে গান? ভাবতেই মন কাঁদে হারায়ে সোপান! সেই যে পথের ধারে পাকুড়ের শ্বাস! ক্ষণিকও করেনি কারো স্বপ্ন বিনাশ। নিজেরে তুচ্ছ করি সয়ে শত বিভাবরী জীবনই করলো শেষে পরহিতে দান! ক’দিনই বা হলো গত, আছে কি সে তান? বহু তো সুজন ছিল প্রবাহের ধারে, কেউ গেছে উঁকি দিয়ে [বিস্তারিত ব্যথাতুর ভাবনা]
নেংটা সুখের সার, এ যে ভীষণ বুঝা ভার! নিঃস্ব যেজন তার বুকেও দেয় এনে আবদার। এদের সঙ্গ পেতে দেল, যাদের মালিশ করে তেল, রুক্ষ হলে তাদের মাথেই ভাঙে আবার বেল। তবু এরাই থাকে বেঁচে, হলেও শক্তি বা ছল যেচে, মরণ এলে মনটারে শেষ দিতে বারেক ছেঁচে। ছবিঃ সোনেলা গ্যালারী থেকে।