এক সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর উপরে অধ্যয়ণরত প্রতিটি ছাত্রেরই লজিং অথবা বোডিং -এ থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে নিজেস্ব ট্রাঙ্ক থাকতো। তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। তাই — ক’দিন থেকেই চলতে ফিরতে মনে হচ্ছিল সব সময় কে যেন আমাকে ফলো করে। কখনো ডানে কখনো বামে আবার কখনো পিছে ধুপধাপ শব্দ, ফিরে তাকালে কিছুই নেই যেন নিজের স্যান্ডেলই [বিস্তারিত জ্বীনের খিটমিটে হাসি]
কিছু কিছু ব্যথা মেঘ হয়ে জমে ডাকলে বাজের মতো, তবু তা পারে না অন্যের মনে জাগাতে ক্ষণিক ক্ষত। অতল পিয়াসে কুলু কুলু রবে চলা এ নিশুতি নদী, কে বা পায় তার ক্রন্দন ধ্বনি যাচলেও নিরবধি! পাশাপাশি থেকে আজীবন দেখা পায় না কখনও চোখ, পারে কি করতে এ’ কানের দুখে ও’ কান আড়ালে শোক? ছবিঃ সোনেলা [বিস্তারিত কিছু কিছু ব্যথা]
মিথ্যা মেকি পা’য় দলে আয় রে জোয়ান আয় চলে করিস নে আর যোগ্য সময় ক্ষয় – হবেই হবে মানবতার জয়! হাতের পরে হাত রেখে চল রে তোরা পথ দেখে ছিন্ন করে ঘুণ জরা সংশয় – হবেই হবে মানবতার জয়! ঘিরলে তবু শীত খরা সাজ রে কালের হরকরা ভাব এ’ ধরা চিরস্থায়ী নয় – হবেই হবে [বিস্তারিত হবেই হবে মানবতার জয়!]
আষাঢ়ে বাদলা দিনে ফুটো চালা বেয়ে সফেদ পাড়নে পড়া ফোঁটা ফোঁটা জল, চৈত্রের দুপুরে সবে ভাত ঘুম পেয়ে তখনই কর্কশে আসা কিশোরের গল। চুপিসারে ছুটে চলা নিশাচরী মনে নীরদের আড়ে জেগে উঁকি দেয়া চাঁদ, উপহারে পাওয়া সোনা পোড়ানের ক্ষণে ভরি থেকে উড়ে যাওয়া তেরো আনা খাদ। জীবনের পথে তুলে মুসিবত বালা প্রবাহের বুকে তবু সঁপে [বিস্তারিত অবাঞ্ছিত জীবন (সনেট)]
অকূল গাঙের নাইয়া আমি উজান গাঙের নাইয়া – দিন কেটে যায় আশার তরী বাইয়া! সেঁচতে গেলে তলার পানি রয় না সোজা হাল, মাতাল বাতাস নেয় গো কেড়ে সোনালী বিকাল। খুঁজলে ওকূল হারায় একূল রাগ করলে যায় দূরে দু’কূল বোধ হারা মন হাসে তবু চাইয়া – দিন কেটে যায় আশার তরী বাইয়া! ঢেউ কি বুঝে মনের [বিস্তারিত আমি অকূল গাঙের নাইয়া! (গীতিকাব্য)]
নামাজ শেষ – বাড়িতে না ফিরে বাজারে চলেছি উদ্দেশ্য চা সিগারেট আর বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ জমিয়ে আড্ডা, ঘটনাটা এক ঈদের দিনের। স্কুল পেরোতেই নজরে পড়লো ভাঙা বারন্দার থামে হেলান দিয়ে পা দু’টি ছড়িয়ে বসে আছে এক পাগল, মলিন বদনে তার রাজ্যের বিরক্তি। কারণটা খুঁজলাম না পাগল বলে কথা – বাজারের সামনে দেখা হলো এক বড় [বিস্তারিত পলিথিনের কালো একটা ব্যাগ]
যেভাবে থাকি না আমি হে মোর হৃদয় যামী রোদন র’লেও জেগে পাঁজরের দোরে – তোমাকেই যাবো তবু স্মরে! কাঁদনে সিক্ত হলে অভাবী কাঁকাল, ভাববো নিজেকে এক রঙিলা মাকাল! অসুখী হোক এক মতি তাতেও নেই গো ক্ষতি না হয় থাকবো বেঁচে আজীবন মরে – তোমাকেই যাবো তবু স্মরে! সতেজ করতে যতো তিয়াসীর ভূমি, নীর হারা মেঘে [বিস্তারিত তোমাকেই যাবো তবু স্মরে! (গীতিকাব্য)]
ও ছলনী মেঘের বেটি যাস ধেয়ে তুই কোন দূরে! ওই রূপে যে নাচন জাগে কদম কেয়ার গা জুড়ে! ঝির ঝিরে বায় চিরল পাতা করছে যদি আরজি পেশ, দোল খেয়ে ঘাস ক্ষেতের ফসল গড়ছে এ কার সজীব রেশ! দ্যাখ না রোদের রাঙা অধর ছড়ায় রে আজ সেই হাসি! হয়নি কি ঢেউ নদীর বুকে সিঁধেল প্রেমে উচ্ছ্বাসী! [বিস্তারিত ও ছলনী মেঘের বেটি!]
সেই যে ছিলো ছোট্ট আলিফ অনেকটাই আজ বড়, ট্রাক দিয়ে সে বাটুল বয়ে করতে পারে জড়ো। পা দিয়ে বল খেলতে পারে কাটতে পারে ছড়া, ভাত নিজ হাতে খেতে পারে ভেঙে ডালের বড়া। না দিলে কেউ ক্যান্ডি বা জুস ছুঁড়তে পারে আড়ি, গাছ খেলে ছাগ ঝাড়তে পারে পিঠের উপর বাড়ি। গড়তে পারে ধুল দিয়ে আজ হরেক [বিস্তারিত সেই আলিফ]
ও গাঁয়ের শ্যামা মেয়ে ছটফটে নূরী, সকলে চিনতো তারে উড়াতাে যে ঘুড়ি! আজ গেলে ওই বাটে কাল ধু ধু মাঠে, কখনও লাটাই হাতে ছুটতো সে পাটে। একদিন ঝড়ো বাও কেটে নিলো সুতো, ছিলো যে অদূরে ষাঁড়? সেও দিলো গুঁতো। মানলো সে ব্যথা পেয়ে আর নেই কাম, তারচেয়ে ঢের ভালো গৃহে ফেলি ঘাম। তক্খনি বাড়ি ফিরে [বিস্তারিত ঘুড়ি লাটাইয়ের বাড়ি]
একটা পুকুর চেয়েছিলাম আমি – যার বুকে প্রাচুর্যের ঝলকানি না থাকলেও জ্বলবে না অভাবের বহ্নিমান শ্বাসে ঝরা ভীরু বাতাসের কার্পণ্য। শ্যামলা ষোড়শীর হাস্যজ্জ্বল বদনের মতো স্বচ্ছ টলটলে জলের উপর ভাসবে লকলকে কিছু কলমি ফুলের খলবলে আশা। দূর্বা ঘাসের সবুজ আস্তরণে জাগা বিশ্বাসী পাড়ে থাকবে মায়ের আঁচলের মতো গভীর মমতা মাখা ছায়া দানকারী ক’টা বৃক্ষ। ঘর্মাক্ত [বিস্তারিত একটা পুকুর চেয়েছিলাম!]
ছোট বেলায় জামা প্যান্ট চেয়ে ঈদের আগে না পেলে ভীষণ রাগ করতাম বাবার উপর, ভাবতাম পকেটে অগণিত টাকা রেখেও বুঝি দিলো না। পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলে রকমারি দাবির অন্ত থাকতো না, শুনতে শুনতেই হাঁপিয়ে উঠতেন তিনি। তারচে’ বেশী জ্বালাতন করতাম মাকে – ”আর ক’টা দিন বাদেই জাম গ্রামের মেলা এবার কিন্তু তুই আঠারো [বিস্তারিত সবচে’ নিকটতম দরদী!]
প্রণয়ে মেতেছে যতো আবডালে পাখি মাতাল লহরি হাসে লাজে রাঙা ঘাটে, মেঘের আঁচল তলে মেলে দু’টি আঁখি শ্রাবণ এসেছে শুনে এ গাঁয়ের বাটে। সোহাগে কাঁকালে চেপে ফুলে ভরা ডালা নাচনে জেগেছে শ্যামা তটিনীর কূল, সবুজ ফসল গেঁথে বরিষণে মালা খোপায় জড়াতে সেও করেছে কি ভুল! নাইওরে এসেছে আজি মেয়ে তার বাড়ি প্রবাহ এমনই এক জননীর [বিস্তারিত শ্রাবণের বুকে (সনেট)]
জ্বালিস মা তুই কুপির আলো তাতেই আমি থাকবো ভালো যতোই আঁধার হোক জমে নির্দয় – করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়! স্নিগ্ধ ধারা যায় যদি আজ অনেক দূরে চলে, উঠবে জানি ভ্যাপসা গরম ভীষণ দাপে জ্বলে। তালপাখা তুই দিস এনে মা রুখবো ওদের দাপ দামামা চক্রহারে ছুঁড়তে বাতাস হোক কিছু বল ক্ষয় – করবো না [বিস্তারিত করবো না আর লোড-শেডিং এর ভয়!]
স্মার্ট ফোন হাতে বললো খোকা বসে মায়ের কাছে, তোমায় নিয়ে দূর যে যাবো দিন কি তেমন আছে! যায় কি দেখা চাইলে মাগো আস্তাবলে ঘোড়া! থাকতো যে ধুল রাস্তা ঘাটে আজ তা কালের জরা। ডাকুর যে দল বলতো রাতে হারে রে রে বামে? ওরা তো মা চ্যাটিং করে এমবি কিনে চামে। বলছি কি তাই নাও না [বিস্তারিত আজকের খোকা (ব্যঙ্গ)]