শৈশবের স্মৃতি

গাঁয়ে এখনো সন্ধ্যা নামেনি।
পুরনো প্রাচীরের দেওয়াল জুড়ে ঘিরে আছে শতবর্ষের  অজস্র বিটপী।

বোরো ধানের কচি পাতা উন্মুক্ত দক্ষিণার বিলাসী হাওয়ায় উড়ছে।
পাখিরা সবুজাভ ধানের পাতা থেকে ছোট ছোট  ঘাসফড়িং গুলো ধরে ধরে খাচ্ছে।
ঐ দূরের খোলা মাঠে রাখাল ছেলে গো পৃষ্ঠে বসে ঘুড়ি উড়িয়ে ঘরে ফিরছে।

ধীরে ধীরে বসছে সূর্য পাটে।
আবাসনে ফিরছে পাখিরা।
পড়ন্ত বিকেলে গোধূলির আরক্তিম আলো জলেশ্বরীতে রঙ মাখছে।

সন্ধ্যার আলো গাঢ় হলে বিন্দু পিসির হাতে বানানো নারিকেলের নাড়ু খেয়ে ঠাকুমার মুখে ভূতের গল্প শোনা।
আর আলোকিত পূর্ণিমার চাঁদ দেখে হলুদ গাঁদার  পুলকিত প্রেমে পড়া।
এসবে লুকিয়ে আছে আমার শৈশবের কত স্মৃতি।

শীতের এ কুয়াশারণ্য সন্ধ্যায় সে স্মৃতি গুলো যখন মনে পড়ে তখন অনুভবে ফিরে যাই পুরনো অতীতে!
আর এ পুরনো অতীত মানে কত স্মৃতি।
কত পড়ন্ত বিকেলে ধূলোবালি উড়িয়ে ঘরে ফেরা।
কিন্তু বাস্তবতায় এসবে নিজেকে অবগাহন করতে পারিনা।

আজকাল সে স্মৃতি গুলো যখন মনে পড়ে তখন ব্যস্ততা আঁকড়ে ধরে!
আর এ ব্যস্ততায় প্রিয় মানুষ গুলো একে একে চলে যায় অজানায়, অদেখায়।

ছবিঃ সংগৃহীত।

মোট পড়েছেনঃ ১৬১জন আজ পড়েছেনঃ ০জন

১১টি মন্তব্য

  1. শীতকালটা আমার খুব প্রিয় স্মৃতিময়।টাটকা শাখসবজির বাহার,পিঠানন্দ,উৎসবের একটা ব্যাপার স্যাপার পুরো শীত জুরে। খুব ভাল লাগল লেখাটা অতীতকে মনে করিয়ে দিলেন।

  2. খণ্ড খণ্ড শব্দের দ্যোতনায় শৈশবের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে বিচরন করা ফেলে আসা স্মৃতীর ভূবণে। এ যেনো নষ্টালিজক হয়ে শৈশব খুঁজে ফেরা……

  3. আহা! শৈশব মনে করিয়ে দিলেন দাদা। এখনো মাঝেমধ্যে মনে হয় আবার যদি ফিরে পেতাম সোনালি সেসব দিন।

    চমৎকার অনুভাবী লেখা। শুভকামনা রইলো।

  4. শৈশবের সৌন্দর্য, দূরন্তপনা ভোলার নয়। ব্যস্ততার জাঁতাকলে সম্পর্কগুলো দূরত্বে বাঁধা পড়ে , সময়ের ফাঁকে কে যে কখন চলে যায়, হারিয়ে যায় তখন কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিইবা করার আছে!! অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো

মন্তব্য করুন